‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ / আহসান হাবীব

সোনামুখী নারকেলের শাখায় শাখায়
আর দুধ-সুপুরির বনে
এখনো কি হাওয়া বয় বঙ্গোপসাগর থেকে
বিকেলে? সোনালী রোদ

এখনো কি মুখ দেখে জোয়ারের জলে?
বিকেলে ঢেঁকির পাড়ে ক্লান্তি এলে
ঘুম পেলে
পা নামিয়ে-
হেলির পাতায় বোনা নরম পাখায়
কিছু হাওয়া খেয়ে,
তার পরে,
পুকুরে ঘাটের শেষে
গলাজলে বুক রেখে
এখনো কি দুই চোখ ছল ছল করে
আর জল ঝরে?

এখনো কি মাঝে মাঝে
বিকেলে ঘুঘুর ডাকে বুক ভরে কান্না পায়
মনে হয়-
সুমুখের মাঠ-বন
পেরিয়ে যে নদী বয় তার বুকে
শপ্ শপ্ বৈঠার আওয়াজ;
আর পাখির ডানায় মন ভর দিয়ে
ভরা গাঙে উড়ে গিয়ে
এখনো কি সেই মুখ খোঁজ করে,
ঘরে ফেরা দিনের আবেগ
যার সারা মুখে টলোমলো আর
আঠারো বৈশাখ পার,
দেখেনি যে মুখ?

এখনো কি শেষ বেলা
মুগের ক্ষেতের পাশে পথ ভেঙে
ঘরে ফিরে যেতে যেতে
কালো চোখ তুলে কোন জেলে-বৌ
প্রশ্ন করে:
এলো না কি?
এখনো কি ম্লান মুখে মাথা নাড়ো
আর বলো:
যে গেছে সে গেছে।

সে গেছে সে ভুলে গেছে,
ভুলেছে মোরগ-ভোর
দুপুরে ধানের ছড়া কুড়োবার দিন;
এখন এ-হাটে তার মন নেই
পৃথিবীর হাটে হাটে
এখন হাটুরে তার মন।

এখনো কি মনে পড়ে সেই নাম
যে নামের মানুষের মন জুড়ে
তুমি নেই
এবং হাটের শেষে ঘরে ফিরে যেতে যেতে
প্রশ্ন নেই:
কত হলো?
কত এলো?
এই এক সুর!
এখনো কি সেই নাম মনে পড়ে
যে নামের মানুষ এখন কোনো
বারবণিতার ঘরে ঘর করে;
এখনো কি তার নামে হাওয়া বয়;
এখনো কি তার নামে
মৌসুমী হাওয়ায় বুক থরোথরো
তোমার দেশের?

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান