তামসিক একটি মুহূর্ত / আহসান হাবীব

একদা হঠাৎ এক অপরাহ্নে মনে হলো
মৃত্যুও কঠিন হতে পারে।

যেহেতু অনন্তকাল বাঁচবে না জানি
মৃত্যুর দর্শনে বহু কবিতার শরীরে স্বাস্থের
অতীন্দ্রিয় উজ্জ্বলতা রেখেছি; ভেবেছি
জীবন এবং এই জগৎকে দুদিনের পান্থশালা;
সহজে পেয়েছি
নির্মল আনন্দ যার ব্যাখ্যা নেই পৃথিবীর ফুলের পাপড়িতে
কিম্বা হীরকে পান্নায়।
আহারে-বিহারে শুধু কালক্ষেপ,
প্রতীক্ষায় হৃদয় রেখেছি উম্মুখ, কখন কবে
অনাদি অনন্তকাল সমুদ্রের ঢেউ হয়ে
বয়ে যাবে জীবন, এবং
জায়াপুত্রপরিবার যথারীতি একদা দু’চোখ
মুছে নিয়ে মন দেবে উত্তরাধিকারসূত্রে কবে-
আমি হবো চৈতন্যের লীলার আশ্রয়ে
সদানন্দ শিশুর মহিমা;
লোভের ক্ষোভের আর ক্ষুদ্র্রতার কালি মুছে নিয়ে
জ্বালিয়ে আত্মার শিখা ব্যাপ্ত হবো অনন্তে
ভেবেছি।
ভেবেছি এবং নিত্য যথারীতি জমিয়েছি কড়ি
পাড়ের, এবং কিছু অনিত্য কড়িও
রেখেছি সঞ্চয় করে ভবিষ্যৎ পথিকের প্রয়োজন ভেবে,
যেহেতু তারাও কিছু আশা করে। অতএব কোনো
অনুতাপ কিম্বা কোনো মনোবেদনার
কারণ ছিলো না কিছু।

অথচ একদা
অপরাহ্নে যখন-
(যেমন প্রত্যহ যাই)
দক্ষিণের আমের বাগানে
বেড়িয়ে, দু’একটি কঁড়ি হাতে নিয়ে ফিরেছি
হঠাৎ
পাতার আড়ালে ডাক শোনা গেলো
এবং অক্লান্ত স্বরে ডেকে গেলো একটি ঘুঘু নিজের মনেই।
মনে হলো এ পৃথিবী আরো
অনেক অনেক দিন বেঁচে রবে
মৃত্যু হবে আমার এবং
যদিও অক্লান্ত স্বরে অপরাহ্নে ঘুঘুদের ডাক
শোনা যাবে
আমি তা শুনবো না। ঘরে ফিরে এখন যেমন
দেখা গেলেঅ একটি মেয়ে বিকেলের ছায়ায় মিশিয়ে
শরীর, আপন মনে ব’সে আছে জানালার র’কে
ভাবছে কিছু
অথবা কিছুই ভাবছে না সে-
তার সঙ্গে এখানে এমন ক’রে আর কোনোদিন
আমার হবে না দেখা।

আর এই সামান্য কারণে
হঠাৎ সেদিন এক অপরাহ্নে মনে হলো
মৃত্যুও কঠিন হতে পারে
এবং নির্মম।