সম্প্রতি আমি একটি চরিতাভিধান রচনা করেছি
পৃথিবীতে যারা সুমহান শুধু তাদেরকে নিয়ে।
এই ধরুন চেঙ্গিস খান, হালাকু খান, হিটলার
মিলোসভিচ প্রমুখ। আর আপনি তো আছেনই।
একদম শুরুতেই-
কেননা আপনি আমাদের যুগের প্রধান অধিপতি
আপনাকে ছাড়া এক মুহূর্ত কি চলে পৃথিবীর গতি?
আপনার মহানুভবতা পৃথিবীতে প্রশান্তির
সুবাতাস এনেছে দারুণ। দেখুন না আপনার
অলৌকিক হাতের মায়ায় খরার মরা মরুভূমির
দেশ কি রকম রক্তসেচে হলো উর্বর আবাদী।
আবার আকাশ থেকে আপনার কৃপায় বিপুল
বোমাবৃষ্টিপাতে ঘরে ঘরে বারুদের উৎসব।
এই কী কম সৌভাগ্য হতচ্ছাড়া, লক্ষীছাড়াদের জন্য?
আপনি ভাববেন না মহান সম্রাট,আপনার
কৃতীগাঁথা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এ জন্য পৃথক
১ টা ভলিয়ুম হচ্ছে- শুধু আপনার জন্য।
একদম চিন্তা করবেন না মহান রাজা, আপনার
পূর্বপুরুষ ও পূর্বসূরি মানে সবারই বীরগাঁথা
আমি সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছি- ধরুন আপনার
পিতার মমত্বে দূর ভূ-মধ্যসাগর কূলে
ঘুমঘুম সুখে পাঁচ লাখ শিশু কেমন ঘুমিয়ে
পড়েছে এই তো ক বছরে। বোধহয় সুখের অসুখে তারা
জাগবে না কোনদিন। সত্যিই পিতৃরক্তের ধারা
আপনার ধমনীতে তোলপাড় করে বয়ে যায় রাতদিন।
এটা কিন্তু কম আশীর্বাদ নয় সভ্যতার জন্য।
যে যাই বলুক
সভ্যতার জন্য কী না করেছেন আপনার পূর্বসূরিরা
গত শতকের কথা স্মরণ করুন না ১ বার-
পরম শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে আশ্চর্য যাদুতে
হিরোশিমা নাগাসাকি হলো মুহূর্তেই জীবনবিহীন ।
সাথে সাথে এ্যাটমচাষের এক্সপেরিমেন্টেও দারুণ সফল।
বিশ্ববাসী একেবারে বিস্মৃতিপ্রবণ-
রক্তহাড়ের বাম্পার ফসল ফললো সেবার ভিয়েতনামে
নাপাম বীজের কারিসমাতে- কেউ আর মনেই রাখে নি।
সত্যিই আশ্চর্য হতে হয় এমন মহান কৃতীগাঁথা
ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকার পরও,
আপনি বিশ্বের রাজাধিরাজ হবার পরও
কোন্ দুঃসাহসে আপনার বিরুদ্ধাচারণ করে
কতিপয় শয়তানী চক্র? দৃঢ় বিশ্বাস আমার- আপনার ধারালো হাতেই
পৃথিবীর হাওয়ায় হাওয়ায় শান্তির ঈগল পারে উড়তে অবাধ।
আপনার উদ্ভাবিত রক্ত-তেলের থিওরি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে একদম
বিশ্বশান্তি আর কল্যাণের পথে ইহা আর একটি মাইল পাথর।
আর এ কী বিড়ম্বনা! আপনার শান্তিমিশনের পথে
বাধ সাধছে অথর্ব জাতিসংঘ! তাদের বিভ্রান্তি দূর করতেই
আমি চাই এ বিরল গ্রন্থের মোড়ক
আপনার পবিত্র হাতেই হোক উন্মোচন।
২২.১০.২০০২
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান