যাবনা তোমার সাথে, হে দেশজননী / আল মাহমুদ

আমি আর যাবনা তোমার সাথে, হে আমার দেশজননী, আর না।
কারণ তোমার যাত্রা উদ্দেশ্যবিহীন কিন্তু আমার কলম আমার
নিশান হয়ে দুলে উঠে লিখছে, না না না।
ও রক্তাম্বর পরিহিতা স্বৈরিণী স্বদেশ, তোমার দিগ্বলয়ে কেবল
হা হুতাশ আর স্বজন হারানোর বিলাপ। তোমার স্তনাগ্রচূড়ায়
মানবশিশুর জন্যে তিক্ত নিম মাখানো প্রত্যাখ্যানের কৃষ্ণবলয়।

আমি আর না। ছেড়ে দাও আমার হাত। আমি দেশহীন
শেষ দশার কবির মত আকাশের দিকে আজান হেঁকে
বাতাসে বিলীন হয়ে যাই।

কে বলে কবির একটা দেশ না হলে চলে না? বলো, কে বলে?
কে বলে কবির একটা অন্তত নদী চাই, পাশে থাকবে তার শৈশব
আর জন্মগ্রাম, কে বলে?
কারা বলে মাছ, পাখি, নাও, নারী আর তরঙ্গের দোলার কথা,
কারা বলে? ও জোনাকজ্বলা বর্ষার রাত্রি, কারা বলে?

তোমার আঙুল দেখে ছ’টি দশক হাঁটার স্মৃতি মুছে যাক
অথচ লক্ষ লক্ষ গুলির শব্দে আমি কানে আঙুল দিয়ে আছি।
আমি কি শুনেছি কোনো পাখির গান? দেখেছি কি
পাল দোলানো নাওয়ের পৈঠায় মাছের চোখ। লবনবতী
নারীরা গাঁয়ের গৃহস্থালী ছেড়ে এখন উধাও। তারা তোমার
প্রতিটি রাজনৈতিক ঠমকের মূল্য শোধ করবে দেহ বিকিয়ে
আর সীমান্ত পাচারের লেনদেনে? কে বলে কবিদের একটা
দেশ না হলে চলে না? তার মুখে চপেটাঘাত!

না আর যাবনা তোমার সাথে। যাবনা, যতক্ষণ ঐ রক্তাম্বর
তোমার অঙ্গশোভা। পেছনে গুলির শব্দ ও হত্যার গুঞ্জন।
আমি আকাশে আজান হেঁকে বাতাসে বিলীন হয়ে যাওয়া
একটা পংক্তি মাত্র।
হোক দেশ, কাল ও সমসাময়িক তোমার নামাঙ্কিত মানচিত্রের
কাছে তা দুর্বোধ্য।