তোমাকে যে মুক্তি দেব ভুলে যাবে তুমি
আমাকে, যেহেতু নেই পৃথিবীর এতবড় অরণ্যেও
এতটুকু নীড়; একটু আশ্রয় নেই
শুকনো কিছু ডালপালা দু’চারটি পাতার আড়াল
কিছু নেই-
মাঝে মাঝে দু’চারটি বুনো ফল ঝরবে না
ভুলেও এখানে; অতএব ভুলে যাব তোমাকে
আমাকে ভুলবে তুমি;
সে কথা ভাবতে গেলে মনে পড়ে একটি কাহিনী।
তখনো অনেক রাত অন্ধকারে কাঁপছে তখনো
সমুদ্রের কালো বুক; কী অশেষ আবেগে হঠাৎ
আলোড়িত একটি কামনা
চোখ মেলে উঠে এলো অরণ্যের ছায়ার আশ্রয়ে।
তারপরে আরো দূরে দৃষ্টি রেখে
অবাক হয়েছে। দিন তার
রাত্রি তার, আকাশ অরণ্য তার, তবু
তৃপ্তিহীন পিপাসায় জ্বলছে প্রাণ, তাই
পুরনো নির্মোক তার
পথে পথে অনেক ঝরেছে।
অতঃপর
বহু লক্ষ অন্ধকার রাতকে পেরিয়ে
নাইলের প্রান্তরে এসে ভোর হলো।
মনে হলো সকালের সূর্যের সোনায়
আরেকটি অপরূপ রঙ লেগে আছে।
এতদিনে মনে হলো এখানেই বাঁধতে হবে নীড়,
মাটি থেকে তুলতে হবে অশেষ সঞ্চয়
অনায়াস জীবনের; পৃথিবীকে ভালবাসতে হবে
অনেক গভীর করে, -সুন্দর সহজ করে
গড়ে নিতে হবে জীবনকে।
তারপর থেকে
আজকের এই পৃথিবীর পত্তনের ইতিহাস লেখে
পাহাড়ে অরণ্যে আর
মাটির কঠিন বুকে রেখে বহু অমর স্বাক্ষর
এসেছি অনেক দূরে।
তবে কেন ভুলব আজ, বলো-
এ সেই অমর পৃথ্বী সেই রাজ্য
তুমি যার রাজ্যশ্রী নায়িকা;
এ পৃথিবী এই মাঠ এই ফুল-ফসলের দিন
এই সূর্য-পরিক্রমা পথের গৌরব
সে কেবলি তোমার আমার।
তবে কেন
আজ তবে ভুলব কেন, বলো-
আমাদের বহু নীড় লালসার বে-আইনি হানায়
জ্বলে গেছে! আমরা উদ্বাস্তু তাই।
তবে কেন আজ
তোমার শ্রাবণ-চোখে
আর একবার সে আদিম সকালের সূর্যের সঙিন
তেমনি অসহ্য তেজে জ্বলে উঠে করবে না ঘোষণা:
যারা বলে,
আমাদের নীড় নেই
যে ইতিহাসের পাতা সাক্ষী তার
মুক্তি নেই তাদের, তোমাকে
মুক্তি কেন দেব বলো, ভুলব কেন, এসো
আমাদের পুরনো পৃথ্বীতে
গড়ে তুলি নতুন বসতি!
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান