কবিতার সক্রেটিস / সায়ীদ আবুবকর

নগরবাউল হয়ে অনেক হয়েছে হাঁটা। জমকালো বিদ্যুতের রোদে
ভাটশালিকের পায়ে সারারাত বেড়িয়েছি খুঁজে ঢের শিল্পের আহার। ক্রোধে,
ক্ষোভে ও ঘৃণায় পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মুখে অনেক মেরেছি থুতু। মানবতা-
মানবতা করে কাটিয়েছি কালো দিন রক্তলাল রাজপথে। কাগজের কুসুমের কথা

আর পাথরের প্যারাডাইসের কথা বলতে বলতে ক্লান্ত অবশেষে কণ্ঠ কোকিলের।
আজ মৃত্তিকা আমাকে ডাকে। সুনিবিড় সবুজের শীতলতা আর নিঃসীম নীলের
নৈঃশব্দ আমাকে ডাকে। আমাকে অনন্ত ডাক দিয়ে যায় কপোতাক্ষের দুই পাড়
আর তার পাড়ের পাকুড়গাছগুলো। যে-মাটিতে পূর্বপুরুষের রক্তমাংসহাড়

মাটি হয়ে মিশে আছে, আমি ফিরে যাবো দুধের সরের মতো তার গাছের ছায়ায়,
ঘাসের জঙ্গলে, মত্ত করা শেফালির ঘ্রাণে। একটি দোয়েল শিস দিয়ে যায়
অন্ধকারজড়ানো ভোরের বাতাসে শিশিরসিক্ত সজিনার ডালে প্রতিদিন; তার শিস
হেমলকের মতো পান করে, পড়ে রবো মহাকালবুকে চির কবিতার সক্রেটিস।

৯.৯.২০১৪ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ