তবুও তো জানি / আবুল হাসান

তবুও তো জানি সুরেসা তোমার
নীহার পালকে ঠোঁট গুঁজে একা
একটি ময়ূর কেঁদেছিল সেই রাতে!

ব্যথার তীরের ফলায় বিদ্ধ আর্ত হৃদয়
অধীর আকাশ, অবুঝ তারার রংছুট
যত ছিন্ন গোলাপ ঝরেছিল তাঁর সাথে।

তীক্ষ্ন পাঁজরে মৌ নেশা আর
উষ্ণ রক্ত ফুটিয়ে কেবলি দুরু যাতনার
দলিত প্রহরে তারা

ভীরু নির্বীজ অশ্রুর মতো
সুরেসা তবুও ঝড়ের হাওয়ায়
তোমার হাতেই সঁপেছিল স্মৃতি ঢেরা।

চোরাবালি তার সাগর লোনায়
শুক্তি প্রবালে ছড়িয়ে নীরব
জড় চিহ্নের গভীর দানের ক্ষত

ঢেউ তোলা দ্বীপ রোদের অমিলে
গাঙ্গচিল ডাকা নীলের নিঃসীমে
রেখেছিল তার বেদনা অবুঝ যত!

সুরেসা তোমাকে হালুম আশার
ব্যাঘ্রের নখে আহত না কোরে
হন্যে সুখের ভিন্ন সুরেই যারা

রেখে গেল এই বিদ্যুত-আলো
সংজ্ঞা হারানো তীব্র আঁধারে
জানো নাকি তুমি কেন ফিরে গেল তারা?

উজ্জ্বল সেই সূর্যের মতো
স্বচ্ছ হাসির ভিয়ানে ভিজিয়ে
ভীরু রং আর রং-এর মেদুর কণা

আপন করার নিবিড় ছায়ায়
স্বতঃসিদ্ধির উষ্ণীয় স্নেহে
শতদলে আঁকে উচ্ছল আল্পনা।

রোদের পিপাসা জড়িয়ে এখনো
সূর্যের আলো অনন্য সুরে
সঘন সবুজ তৃপ্তির ফুলে ফোটে;

আবেশে মুখর মৃন্ময়ী রাগে
নীল কমলের ঘুমেলা পাপড়ি
জলডুবু আর ডুবহারা জল সংখহৃদয়ে লোটে!

সুরেলা যখন ছড়িয়ে যাবার
রেনুর মতন পরম পরাগে হাঁ হাঁ স্বরে
শুনি গোলাপ পাপড়ি কাঁদে;

সুরেসা তখন রক্তের দামে
মুগ্ধ চোখের স্মৃতি নিঃশ্বাসে
ক্লান্ত ময়ূর আহত তোমার ফাঁদে!