মুজিবনামা / সায়ীদ আবুবকর

নবম সর্গ

রাওয়ালপিন্ডি থেকে পৌঁছলেন তিনি
হিথ্রো বিমানবন্দরে। এডোয়ার্ড হিথ,
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, জানালেন ঊষ্ণ
অভ্যর্থনা। বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবকে নিয়ে পৌঁছোলো যখন
১০ ডাউনিং স্ট্রিটে, দিলেন নিজের
হাতে খুলে গাড়ির দরোজা তাঁর; হায়,
যার পদতলে সভয়ে নুয়ায়েছিল
শির সমগ্র পৃথিবী একদিন; আজও
যে সদম্ভে বেড়ায় সিংহের মতো সারা
বিশ্বে, পরাশক্তি অন্যতম, জাতিসংঘে
স্থায়ী পদাধিকারী, ভেটোর নটরাজ;
তারই প্রধানমন্ত্রী স্বহস্তে দিলো খুলে
গাড়ির দরোজা তাঁর- বিস্ময়ে মুজিব
হারিয়ে ফ্যালেন ভাষা; নিরব ভাষায়
বলে যান যেন হিথ, ‘হে মহান নেতা,
ইংল্যান্ডবাসীর পক্ষ থেকে এ সম্মান
স্বাধীন বাংলার মহানায়কের প্রতি।’
সঙ্গে কামাল হোসেন; তিনিও নয়টি
মাস ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দী;
তাঁর চোখও ছানাবড়া প্রাণের নেতার
এ হেন সম্মানে। দেখতে এক নজর
স্বাধীনতার জাদুকর শেখ মুজিবকে,
পড়েছে হুমড়ি খেয়ে গোটা ইউরোপ;
তুলতেছে কেউ ছবি, বলতেছে কেউ
কথা, যে-ছবি যে-কথা মুহূর্তে ছড়িয়ে
পড়ছে সারা বিশ্বে। মহানায়ক মুজিব
ঘোরে ফেরে মানুষের মুখে মুখে এক
প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৃথিবীর, যেন
বাতাসের আগে আগে কস্তুরির ঘ্রাণ।

আইঢাই করে তাঁর বুক, বাংলার
মুখ কখন দেখতে পাবে! কত হলো
দেখা, কত হলো ঘোরা, পড়ে না বাংলার
মতো কিছু আর দুই চোখে। কোন্ দেশ,
আছে সে কোথায়, সুন্দর, বাংলার চেয়ে?
জননীর চেয়ে হয় শ্রেষ্ঠ কোন্ নারী?
সেরা কোন্ ভূমি জন্মভূমির অধিক?
ভাবেন ব্যাকুল হয়ে তিনি। স্বদেশের
কথা ভেবে চক্ষু তাঁর ভরে যায় জলে।
যেভাবে ঘুমন্ত শিশু ঘুম ভেঙে গেলে
খোঁজে তার মাকে, সেইভাবে খোঁজে তাঁর
চক্ষু দুটি, চারদিকে, কেবলি বাংলাকে।
সয় না যে তর, দেখবেন প্রাণ ভরে
প্রিয় তাঁর বাংলার মুখ একবার;
তবু তিনি বহু ভেবে নিলেন সিদ্ধান্ত,
যাবেন দিল্লিতে আগে, তারপর তাঁর
প্রাণের বাংলায়। অস্ত্র দিয়ে, সৈন্য দিয়ে,
খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে কঠিন দুর্দিনে
যে-সাহায্য করেছে ভারত, তার কথা
পারবে না কোনোদিন ভুলতে বাঙালী।
আর তাঁর মুক্তিহেতু ভারতসম্রাজ্ঞী
শ্রীমতি ইন্দিরা করেছেন যে-লড়াই
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পৃথিবীর দ্বারে-
দ্বারে, করবেন শোধ সে-ঋণ কী দিয়ে
এ-জীবনে! সাত কোটি বাঙালীর পক্ষ
থেকে, জানাতে দিল্লিকে চির-কৃতজ্ঞতা,
বাঙালীর প্রতিনিধি তিনি, সশরীরে
যাবেন ভারত সংক্ষিপ্ত সফরে। দশ
জানুয়ারি, সাল ঊনিশ শ বাহাত্তর,
সোমবার ভোর বেলা বৃটিশ বিমান
রয়্যাল ইয়ার ফোর্সে দিলেন উড়াল
বঙ্গের সম্রাট মুজিবুর রহমান
নয়াদিল্লির উদ্দেশে। ভারতাধিপতি
ভি ভি গিরি আর শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী
জানালেন তাঁকে রাজকীয় সংবর্ধনা।
দেওয়া হলো তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে
গার্ড অব অনার রাষ্ট্রীয় মর্য়াদায়।
সৃষ্টি হলো এক আবেগঘন মুহূর্ত
মহামিলনের, ভারত ও বাংলার;
মহাকাল গেল যেন থেমে, অনন্তের
মাঝে আছড়ে পড়লো দিল্লির সময়
মহানায়কের আগমনে। ইন্দিরার
স্মিতানন হয়ে উঠলো স্বর্গের বাগান;
মুজিবের কণ্ঠ আর ইন্দিরার হাসি
মাতালো জগত এক মহামায়াজালে।

সংবর্ধনা সভায় দাঁড়ালেন উঠে
যেন হিমালয়, সহাস্য বদনে। দীপ্ত
শ্লোগান ও করতালি দিয়ে হৃদয়ের
উচ্ছ্বাস জানালো ভারতবাসী। উল্লাসে
পড়েছে সবাই ফেটে মহানায়কের
আকস্মিক আগমনে। খুললেন তিনি
মুখ এই বলে: “প্রাইম মিনিস্টার
ইন্দিরা গান্ধী, লেডিস এন্ড জেন্টলমেন-”;
বলতে না বলতেই জুড়লো চীৎকার
উন্মত্ত জনতা “বাংলায় বলুন” বলে।
মুজিব মানেই তো সাতই মার্চের সেই
অগ্নিবর্ষী অমর বক্তৃতা, কে শোনেনি
সারা বিশ্বে? মুজিব মানেই বাংলা ভাষা,
অমর কাব্য হয়ে যা বাতাসে ছড়ায়
অরফিয়ুসের সুর; মুজিব মানেই
একটি গানের পাখি, যার ভাষা সব
ভাষার মানুষ বুঝে ফ্যালে একভাবে;
সে-মুজিব যদি ইংলিশে কথা কয়,
মুজিব তাহলে থাকে না মুজিব আর,
যেমন কোকিল মানুষের গান গেলে
থাকে না কোকিল। কী বলে ভারতবাসী!
হিন্দিভাষী দিল্লির মানুষ কী আবদার
জানায় এভাবে “বাংলায় বলুন” বলে!
অবাক মুজিব হাসেন বিস্ময়ে। শেষ-
মেশ উৎফুল্ল জনতার চাপে আর
ভারতসম্রাজ্ঞী ইন্দিরার অনুরোধে
মহামতি মুজিব স্বভাবসিদ্ধ তাঁর
বজ্রকণ্ঠে বলে উঠলেন বাংলায়:

“আমার ভাই ও বোনেরা, আপনাদের
প্রধানমন্ত্রী, আপনাদের সরকার,
সৈন্যবাহিনী, আপনাদের জনসাধারণ
যে-সাহায্য এবং সহানুভূতি আমার
দুখী মানুষকে দেখিয়েছে, কোনোদিন
বাংলার মানুষ তা ভুলতে পারবে না।
ব্যক্তিগতভাবে, আপনারা জানেন, আমি
পশ্চিম পাকিস্তানের অন্ধকার সেলের
মধ্যে বন্দী ছিলাম দুদিন আগেও।
শ্রীমতি গান্ধী আমার জন্য দুনিয়ার
এমন জায়গা নাই যেখানে তিনি চেষ্টা
করেন নাই আমাকে রক্ষা করার জন্য।
আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
আমার প্রায় সাত কোটি মানুষ তাঁর
কাছে এবং তাঁর সরকারের কাছে
কৃতজ্ঞ। আমার জনসাধারণ ভারত-
বর্ষের জনসাধারণের কাছে কৃতজ্ঞ।
আর যেভাবে এক কোটি লোকের
খাওয়ার বন্দোবস্ত ও জায়গার
বন্দোবস্ত আপনারা করেছেন, আমি
জানি ভারতবর্ষের মানুষও দুঃখে
আছে সেখানে, তারাও কষ্ট পাচ্ছে,
তাদেরও অভাব-অভিযোগ আছে,
তা থাকতেও তারা সর্বস্ব দিয়েছে
আমার লোকদের সাহায্য করার জন্য,
চিরদিন আমরা তা ভুলতে পারবো না।
আপনারা জানেন বাংলাদেশ শেষ
হয়ে গেছে। আমি আশা করি, দুনিয়ার
শান্তিপ্রিয় গণতাস্ত্রিক যে-মানুষ
আছে, তারা এগিয়ে আসবে আমার
মানুষকে সাহায্য করার জন্য। আমি
বিশ্বাস করি সেকুলারিজমে, আমি বিশ্বাস
করি গণতন্ত্রে, আমি বিশ্বাস করি
ফেডারালিজমে। আমাকে প্রশ্ন করা
হয় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে
আপনার এত মিল কেন? আমি বলি,
এটা আদর্শের মিল, এটা নীতির মিল,
এটা মনুষ্যত্বের মিল, এটা বিশ্বশান্তির
মিল।” হয়ে উঠলো মুখর মুহুর্মুহু
করতালিতে দিল্লির ময়দান; মুখে-
মুখে উঠলো ফুটে যেন কৃষ্ণচূড়া লাল,
প্রেমের সুবাসে। হৃদয়ে রচিত হলো
অনশ্বর মধুস্মৃতি। মহামিলনের
পুষ্প-সাঁকো বেঁধে দিলো ভারতের সাথে
স্বাধীন বাংলাকে। “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!”
“শেখ মুজিব জিন্দাবাদ!” “বাংলাদেশ
ও ভারতমৈত্রী জিন্দাবাদ!” বলে বলে
মাতালো বাতাস ইন্দিরার দিল্লিবাসী,
বাংলার নেতা দেখলো তা মুগ্ধচোখে।

আসতে লাগলো ঘনিয়ে সময় ঘরে
ফিরবার। নয় মাস পর, দুগ্ধ-শিশু
যেন, আসতেছে ফিরে জননীর কোলে!
ভীষণ উতলা মন, করে ছটফট
খাঁচার বিহঙ্গ যেন নীলাকাশ দেখে।
তিনি আসবেন বলে সমস্ত বাঙালী
মেলে আছে চোখ পশ্চিম আকাশে; উড়ে
আসবেন তিনি আলোর ডানায় এই
বঙ্গে; ধৈর্যের সমস্ত বাঁধ ভেঙে বুঝি
যায় এইবার, এইবার বুঝি বন্ধ হয়ে
যায় দম, দেখা বুঝি তাঁর জুটলো না
আর এ কপালে, যাঁর ডাকে সবকিছু
ফেলে ছুটে গেছে রণাঙ্গনে সব আর
মৃত্যুপণ করেছে লড়াই! হায় নেতা,
প্রিয় নেতা, প্রাণের মুজিবভাই, দ্যাখো
তোমার সাধের স্বাধীনতা এসে গেছে,
তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ
হয়েছে স্বাধীন, কেমন পত্পত্ করে
উড়ছে আকাশে ত্রিশ লক্ষ জীবনের
বিনিময়ে অর্জিত পতাকা, দেখে যাও!
“জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!” বলে থেকে-
থেকে করছে চীৎকার অতিষ্ঠ জনতা।

হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে তাজউদ্দিন,
সৈয়দ নজরুল, ক্যাপ্টেন মনসুর
আলী অগণিত জনতার সাথে; তীব্র
উৎকণ্ঠার সাথে গুনছেন প্রহর
প্রতীক্ষার: তিনি আসবেন, আসবেন
তিনি, আসবেনই। নয় মাস ধরে চেয়ে
আছে পথ গোটা জাতি: তিনি আসবেন,
স্বপ্নের স্বাধীনতার মতো আসবেন
ফিরে এই বাংলায় চিরোন্নত শির,
যেভাবে ভাটার শেষে কলকল রবে
ফিরে আসে জোয়ারের পানি, আর আসে
প্রচন্ড শীতের শেষে ফুলের বসন্ত।

অবশেষে আসলেন তিনি। ভাসলেন
দুচোখের জলে, পরম শান্তিতে। কত
সুখ তোমার মুখদর্শনে, মাতা; কত
তৃপ্তি তোমার ভাষায়! ফিরেছে মুজিব,
সাতকোটি বাঙালীর দুচোখের মণি,
মুক্তির নায়ক; তাঁকে ঘিরে মেতে ওঠে
বিজয়ী বাঙালী মহোল্লাসে; নাচে তারা,
যেন মেঘনার ঢেউ; হাসে, যেন মাঘি-
পূর্ণিমার চাঁদ; আর কাঁদে, যেন কত-
কাল পর ফিরে পাওয়া পুত্রের জনক
ও জননী; নাচে আর হাসে আর কাঁদে
একসাথে গোটা জাতি স্বাধীনতার
স্থপতির আবির্ভাবে। এই সেই রেস-
কোর্স ময়দান, আজ থেকে নয় মাস
আগে, তারিখ সাতই মার্চ, উঠেছিল
কেঁপে থরথর বজ্রের হুঙ্কারে; সেই
প্রলয় হুঙ্কার দিয়েছে দুহাতে এনে
সতের শ সাতান্নোয় হারিয়ে হাওয়া
বাংলার স্বাধীনতা, গুঁড়িয়ে ধুলায়
ইয়াহিয়ার মসনদ। এই সেই অগ্নি-
গর্ভা ময়দান, যেখানে সাতই মার্চে
জুটেছিল যত সূর্য-সন্তান বাংলার,
বক্ষে নিয়ে স্বাধীনতার দীপ্ত শপথ।
তাঁদের ক’জন আজ এই ময়দানে,
বিজয়মেলায়? কত যে সোনার ছেলে
ফিরবে না আর, গিয়েছে হারিয়ে তারা
চিরতরে, রণাঙ্গনে! কত মার বুক
করতেছে খাঁ খাঁ! হায়, কত যে কৃষক
কৃষিকাজ ভুলে, তুলে নিয়েছিল কাঁধে
অস্ত্র; তারা আর ফিরবে না কোনোদিন!
স্বদেশের স্বাধীনতা খুঁজতে গিয়ে, কত
বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া যুবক হয়ে
গেল নিরুদ্দেশ, তারা আর কোনোদিন
জমাবে না আড্ডা মধুর কেন্টিনে! হায়,
কত লোক, কত নারী- এই বাংলার
হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ- ত্রিশ
লক্ষ নিরীহ বাঙালী হয়েছে শহীদ
হানাদারদের হাতে! সেই কথা মনে
করে, সমবেত লক্ষ লক্ষ জনতার
সামনে, দিলেন দুচোখের পানি ছেড়ে
মহামানব, মহানায়ক যিনি মহা-
যুদ্ধের, বঙ্গের বন্ধু, শেখ মুজিবুর
রহমান। ‘জয় বাংলা!’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু!’
শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হলো ফের
রেসকোর্স ময়দান। তিনি বললেন:

“আমার বাংলাদেশের ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক
বুদ্ধিজীবী-সেপাই-পুলিশ-জনগণকে
হিন্দু-মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে।
তাঁদের আত্মার মঙ্গল কামনা করে
এবং তাদের ’পরে শ্রদ্ধা নিবেদন
করে আমি আপনাদের কাছে কয়েক
কথা বলতে চাই। আমার বাংলাদেশ
আজ স্বাধীন হয়েছে; আমার জীবনের
সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে; আমার বাংলার
মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে। আমি আজ
বক্তৃতা করতে পারবো না। বাংলার
ছেলেরা, বাংলার মায়েরা, বাংলার কৃষক,
বাংলার শ্রমিক, বাংলার বুদ্ধিজীবী
যেভাবে সংগ্রাম করেছে: আমি এখানে
বন্দী ছিলাম, ফাঁসির কাষ্ঠে যাবার জন্য
প্রস্তুত ছিলাম; কিন্তু আমি জানতাম
আমার বাঙালীকে কেউ দমায়ে রাখতে
পারবে না। আমার বাংলার মানুষকে
কেউ দমায়ে রাখতে পারবে না। প্রায়
তিরিশ লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলে দেয়া
হয়েছে বাংলার। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও
এবং প্রথম মহাযুদ্ধেও এত লোক, এত
সাধারণ নাগরিক মৃত্যুবরণ করে নাই,
শহীদ হয় নাই, যারা আমার এই
স্বাধীন বাংলাদেশে হয়েছে।

“আমি জানতাম না আপনাদের কাছে
আমি ফিরে আসবো। আমি খালি
একটা কথা বলেছিলাম: তোমরা যদি
আমাকে মেরে ফেলে দাও, আমার
আপত্তি নাই ; মৃত্যুর পরে আমার
লাশটা আমার বাঙালীর কাছে দিয়ে
দিও-এই একটা অনুরোধ তোমাদের
কাছে আমার রইলো।

“তবে বলে রাখা উচিত, বাংলাদেশ
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র; বাংলাদেশ
স্বাধীন থাকবে; বাংলাদেশকে কেউ
দমাতে পারবে না।

“কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন:
‘সাতকোটি বাঙালীরে, হে বঙ্গজননী,
রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করোনি।’
কবিগুরু, মিথ্যাকথা প্রমাণ হয়ে
গেছে, আমার বাঙালী আজ মানুষ।

“জানতাম না আমার ফাঁসির হুকুম
হয়ে গেছে। আমার সেলের পাশে
আমার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল।
আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম। বলেছিলাম:
আমি বাঙালী, আমি মানুষ, আমি
মুসলমান-একবার মরে, দুইবার
মরে না। আমি বলেছিলাম: আমার
মৃত্যু আজ থাকে যদি, আমি হাসতে
হাসতে যাবো, আমার বাঙালী জাতকে
অপমানিত করে যবো না, তোমাদের
কাছে ক্ষমা চাইবো না, এবং যাবার
সময় বলে যাবো-‘জয় বাংলা! স্বাধীন
বাংলা! বাঙালী আমার জাতি, বাংলা
আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার
স্থান।’ ”

এ যেন বক্তৃতা নয়, অবিনাশী কাব্য
কোনো মহান কবির। স্বাধীনতার যে-
মহাকবি বজ্রকণ্ঠে দিয়েছিল ডাক
যুদ্ধের, তারিখ সাতই মার্চ, রেসকোর্স
ময়দানে, আজ দশ জানুয়ারি সেই
পুণ্য ময়দানে তাঁর কণ্ঠ দিয়ে ঝরে
বিজয়ের কান্না, অজর অমিয় বাণী।
মহাসুখে ফিরলো মানুষজন ঘরে
স্বদেশ গড়ার ব্রত নিয়ে; বুকে তৃপ্তি,
চোখে সুখজল, মুখে বেহেস্তের হাসি;
বঙ্গবন্ধু, মহান মুজিব, পরাধীনতার
জাল ছিঁড়ে দেয়া প্রাণপ্রিয় জাদুকর,
ফিরেছে তাদের মাঝে-এর চেয়ে বড়
কী পাওয়ার আছে সাত কোটি বাঙালীর!

মুজিবনামা মহাকাব্যের ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্ব’; নাম ‘নবম সর্গ’।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s