খুড়োর কল / সুকুমার রায়

কল করেছেন আজব রকম চন্ডীদাসের খুড়ো-
সবাই শুনে সাবাস বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো।
খুড়োর যখন অল্প বয়স-বছর খানেক হবে-
উঠলো কেঁদে ‘গুংগা’ ব’লে ভীষণ অট্টরবে।
আরতো সবাই ‘মামা’ ‘গাগা’ আবোল তাবোল বকে;
খুড়োর মুখে ‘গুংগা’ শুনে চমকে গেল লোকে।
বললে সবাই, “এই ছেলেটা বাঁচলে পরে তবে,
বুদ্ধি জোরে এ সংসারে একটা কিছু হবে।”
সেই খুড়ো আজ কল করেছেন আপন বুদ্ধি বলে,
পাঁচ ঘন্টার রাস্তা যাবে দেড় ঘন্টায় চলে।
দেখে এলাম কলটি অতি সহজ এবং সোজা,
ঘন্টা পাঁচেক ঘাঁটলে পরে আপনি যাবে বোঝা।
বলব কি আর কলের ফিকির,বলতে না পাই ভাষা,
ঘাড়ের সঙ্গে যন্ত্র জুড়ে এক্কেবারে খাসা।

সামনে তাহার খাদ্য ঝোলে যার যে রকম রুচি-
মন্ডা মিঠাই চপ কাটলেট খাজা কিংবা লুচি।
মন বলে তায় ‘খাব খাব’, মুখ চলে যায় খেতে,
মুখের সঙ্গে খাবার ছোটে পাল্লা দিয়ে মেতে।
এমনি ক’রে লোভের টানে খাবার পানে চেয়ে,
উৎসাহেতে হুঁস রবে না চলবে কেবল ধেয়ে,
হেসে খেলে দুদশ যোজন চলবে বিনা ক্লেশে,
খাবার গন্ধে পাগল হ’য়ে জিভের জলে ভেসে।
সবাই বলে সমস্বরে ছেলে জোয়ান বুড়ো,
অতুল কীর্তি রাখল ভবে চন্ডীদাসের খুড়ো।

Advertisements

দুই দশ আট / আলি মেসবাহ

যেদিকেই যাই
যেখানে হারাই
থাকে সেই ডাকে সেই
চেনা পথ-ঘাট।
হাতছানি দিয়ে ডাকে
দুই-দশ-আট।
খোলা থাক খুলে রাখ
স্মৃতির কপাট।
চেতনায় ভাস্বর
দুই-দশ-আট।

২৮.১০.১৬

আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম / আলি মেসবাহ

আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম
বুকের ভেতর দুঃখ পুষি
খেয়াল-খুশি কিংবা ভালোবাসার ছলে দুঃখ দিলে
গ্রহন করি খুব সাদরে;
আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম
বুকের ভেতর দুঃখ পুষি খুব আদরে।

দুঃখ সাদা, দুঃখ কালো,
হলদে এবং দুঃখ লালও
…রঙ বাহারি;
নীল রঙেরই দুঃখ বেশি
দুঃখ বেশি নীল রঙেরই।
আমার কাছে সুখেই আছে এ তল্লাটের দুঃখ যতো
তিলে তিলে আমায় খেয়ে হচ্ছে বড়
…মাছের মতো।

আমি একটা এ্যাকুরিয়াম, উনপাঁজুরে, হতচ্ছাড়া
আর কিছু নেই, শুধুই পোষা দুঃখ ছাড়া।

পাখির মতো মন / আলি মেসবাহ

মনটা আমার এমন কেনো? পাখির মতো
উড়ু উড়ু , যখন তখন যায় সে উড়ে
দেশ হতে কোন দেশান্তরে,বন-বনানী,
তের নদী আরো যে সাত সমুদ্দুরে !

মনটা আমার এমন কেনো, বলতে পারো?
কচি ধানের চারার মতো সবুজ সবুজ-
হাত ছোঁয়ালেই শিশির কণা দেয় ভরিয়ে
মন কি কচি ঘাসের ঢগার মতোই অবুঝ?

মনটা আমার এমন কেনো, কেউ কি জানো?
আমার মতোই এমন কারো হয় কখনো?
মন যে আমার প্রবাহমান নদীর মতো
ভাসিয়ে রাখে ইচ্ছে এবং স্বপ্ন যতো।

নিষিদ্ধ পঙক্তি / আলি মেসবাহ

পাছায় লাত্থি দিয়া প্রতিদিন যমের বাড়ি
আমাগো পাঠাও
বানচোদ মানুষেরা রাজনীতি রাজনীতি খেলে
আর যারা বেঁচে আছি- তাড়া খাওয়া মাছের লাহান
ছটফট করি…
অক্সিজেনের লগে গিজগিজ করে খালি পশ্চিমা কিট।

সভ্যতা !!
তুমি কোন চুদির ছাওয়াল ?

০৬.১০.১৬

যখন আমার নাম ধরে ডাকবে তুমি / আলি মেসবাহ

যখন আমার নাম ধরে ডাকবে তুমি
প্রতীক্ষার খোলস ভেঙে বেড়িয়ে পড়বো তৎক্ষণাত
অনুভূতির সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করবো তোমাকেই
(আর আমার কন্ঠস্বরে প্রকম্পিত হবে সমস্ত আসমান)
: দেখা দাও প্রিয়তম
আড়ালে থেকো না আর
চেয়ে দেখ
অগনিত বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি এই আমি
অসংখ্য আঘাতের যন্ত্রনাকে অগ্রাহ্য করেছি কেবল
তোমাকেই ছুঁয়ে দেখবো বলে
চাই না এ সুপেয় শরাব
শুধু পর্দা সরাও একটিবার
পূর্ণ করো প্রেমিক হৃদয়
তারপর যেখানে ইচ্ছে নিক্ষেপ করো
আমিতো তোমাতেই বিলীন হয়েছি সেই কবে।

খোদার ইশারায় / আলি মেসবাহ

এইযে সবুজ
ঘাসের চাদর
মা’য়ের কোলে-
শিশুর আদর
পাখির কুহু তান,
খোদার সেরা দান।।

দূর আকাশে
চাঁদ যে হাসে
ফুল ভরিয়ে-
দেয় সুবাসে
যার হুকুমে তিনি,
রাব্বুল আলামিনই।।

নিত্য প্রাতে
সূর্য  ওঠে
সাগর পানে-
নদী ছোটে
পথ হারিয়ে যায়,
খোদার ইশারায়।।