পথে যেতে দেখি আমি যারে / আবু হেনা মোস্তফা কামাল

পথে যেতে দেখি আমি যারে
কপালে টিপের যাদু
কপোলে ফাগুন
কুন্তলে অমানিশা
হৃদয়ে আগুন
আমি মনের মানুষ বলি তারে।।

মনে হয় ফুল হই
কুঞ্জবনে,
তার একটু পরশ নেই
খুব গোপনে
যদি খোঁপায় সে পরে আমারে।।

বুকে তার কত ঢেউ
আমি মুখ দেখে পারি না যে বলিতে
কেন সে আমারে চায় ছলিতে।

মনে হয় মধুমাসে
হই মধুকর,
শুধু গুঞ্জনে ভরি তার
অলস প্রহর;
রাখি একটু পরশ তার শাড়ীর পাড়ে।।

সুর: আনোয়ার উদ্দিন খান

কথা / ফররুখ আহমদ

মোর গোপন কাহিনী জানো
যে কথা জানে না
নিশুত রাতের তারা
যে কথা জানে না
সাগরের বারিধারা।।

যে কথা ঘুমায় আকাশের গায়
ঘন অরণ্য নীল-প্রচ্ছায়
যে কথা হারায়ে সাহারা হ’য়েছে
হুতাশ শান্তিহারা।।

যে কথার লোভে মৌমাছি দিন
গোধূলী মধুতে হয় রংগিন
যে কথায় জ্বলে নিশিথ-স্বপ্ন
বহ্নি মেঘের পাড়া।।

[গানটি “আহমদ আবদুল্লাহ” ছদ্মনামে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় আষাঢ় ১৩৫২ সনে প্রকাশিত হয়। ]

আমি সাগরের নীল নয়নে মেখেছি / আবু হেনা মোস্তফা কামাল

আমি সাগরের নীল নয়নে মেখেছি এই চৈতালি রাতে
ফুলকঙ্কণ পরেছি দখিন হাতে।।

বনলতা দিয়ে দোলনা বেঁধেছি আর
কণ্ঠে পরেছি গানের অলঙ্কার
অঙ্গ ভরেছি তোমার প্রেমের
অপরূপ তন্দ্রাতে।।

এ মধু প্রহরে আকাশ বাসরে
দুটি নীল তারা জ্বলছে
হয়তো বা তারা তোমার আমার
স্বপনের কথা বলছে।

তাই ভেবে আমি প্রদীপ জ্বালিনি আর
ছড়ায়ে দিয়েছি মায়াবী অন্ধকার
তোমার আমার এই সুরভিত
বেদনার মোহনাতে।।

সুর : আব্দুল আহাদ

সকল কিছুর দাতা / ফররুখ আহমদ

সকল কিছু দেন যিনি আর
সকল কিছুর দাতা যিনি,
“রহমান” নাম আল্লাহ পাকের
জানি “সর্বদাতা” তিনি।।

ঈমান আলো-নূর তিনি দেন,
পাখির গলায় সুর তিনি দেন,
ফুলের বুকে রঙের লহর
ফলে যোগান মিষ্টি চিনি।।

সংখ্যাবিহীন সৃষ্টি যে দেন,
আলো, বাতাস, বৃষ্টি যে দেন,
চাওয়ার আগে সবকিছু পাই,
নাই কাছে তাঁর বিকি কিনি।।

বুদ্ধি বিচার-শক্তিও দেন,
ভালবাসা, ভক্তিও দেন
ইজ্জত আর দেন দৌলত-
মুক্তা মাণিক, সোনা গিনি।।

তোমার দয়া আছে খোদা / ফররুখ আহমদ

তোমার দয়া আছে খোদা জানি সকল দিকে
তোমার দয়া দাও ছড়িয়ে মাগরিবে মাশরিকে।।

স্রষ্টা তুমি সৃষ্টি করো
মহান- কৃপা দৃষ্টি করো
দাও সাজিয়ে আলোর ফুলে
আকাশ পৃথিবীকে।।

মহিমা আর শক্তি তোমার কেউ জানে না কত
তোমার দয়ার প্রকাশ দেখি আমরা অবিরত।

প্রভু তুমি লালন করো
স্নেহের নীড়ে পালন করো
ফুল, পাখি আর পতঙ্গ, কীট
সকল প্রাণীকে।।

সুর: আবদুল লতিফ

ও চোখের কাজল নিতে / সাইফ আলি

ও চোখের কাজল নিতে মেঘের কাছে গিয়েছিলাম
ও কাতর ফুলদানিতে হৃদয় জমা দিয়েছিলাম,
আমি ওর সরলতার বর্ণনা দিই কোন ভাষাতে
কতিপয় শব্দ ছাড়া আর কি আছে আমার হাতে!

আমি এক শব্দচাষী ভালোবাসি বাসতে ভালো
ও ঠোঁটের গোলাপ হাসি আজ এ রাতের ঘুম তাড়ালো।।
আমি এক বন্দী এখন ঐ দুচোখের জেলখানাতে!

বলেছি হৃদয় ভেঙে কি সুখ পাবে, সন্ধি করো
না হলে হাতকড়া নাও, আমায় তুমি বন্দী করো।।
যদি খুব বৃষ্টি নামে ভিজবে বলো আমার সাথে?

১৮/০১/২৩

তোমার দয়ায় জাহান সারা / ফররুখ আহমদ

তোমার দয়ায় জাহান সারা
আলোক পেল চাঁদ সিতারা
জাগলো নদী, ঝর্ণাধারা,
ইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।।

জীবন জাগে তোমার দয়ায়
জীবন বাঁচে তোমার মায়ায়
সবুজ ঘাসে, লতায় পাতায়
ফুল হেসে চায় পলকহারা
ইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।।

ফুলে মধু ভরাও তুমি
বিপদ থেকে তরাও তুমি
সকল বাধা সরাও তুমি,
মিটাও আঁধার পাষাণ কারা
ইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।।

তোমার দয়া আকাশ নীলে
তোমার দয়া এই নিখিলে
বুদ্ধি বিবেক তুমি দিলে
রাসূল দিলে প্রাণ পিয়ারা
ইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।।

সুর : আবদুল লতিফ

আমি এক ছোটো কবি / সাইফ আলি

কবিতার পাখি তুমি কি আমার হৃদয়ের গতি বোঝো,
তুমি কি আমার চোখের চাহনি বোঝো,
কি বোঝাই আমি ইশারায় ইঙ্গিতে?
হয়তো বোঝো না, বুঝলে কি আর খাঁচা ভাবো? থাকো দূরে?
তুমি গান গাও, আমি হারাই তোমার সুরে।

কবিতার পাখি, আমি এক ছোটো কবি,
শব্দের সাথে বোঝাপড়া বেশ ভালো;
তুমি যদি চাও তোমার জন্য কবিতা গাঁথতে রাজি
তোমার জন্য সহস্রবার নিজেকে ভাঙতে রাজি।

১২/০১/২৩

গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে তোমার গান / সাইফ আলি

গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে তোমার গান
তোমার নামের জিকির তুলে ঝর্ণা বহমান…

অসীম আকাশ তোমায় ডাকে
তোমায় ডাকে লক্ষ্য তারা
তোমার ডেকে ডেকে জানি
পাথর পাহাড় পাগলপারা।।
তবুও আমার ডাকে সাড়া
দিচ্ছ রহমান!

অপরাধের বসলে (করলে) বিচার
জানি সেদিন পাবো না পার,
সুপথ দেখাও ক্ষমা করো
চাইনা কিছু আর।
গাছের পাতা ফুল পাখিরা গাইছে গান তোমার…

মরুর ধুলো তোমায় ডাকে
তোমায় ডাকে শ্রাবণধারা,
যে মন কেবল সমর্পিত
সেই বোঝে সকল ইশারা।।
সমর্পণের সুযোগ কোরে দাওগো রহমান।

২০/০১/২৩

জানালার কাচ ঘেঁষে শহরটা ছুটছে / সাইফ আলি

জানালার কাচ ঘেঁষে শহরটা ছুটছে
পেপারের বুকে পিঠে নানা ফুল ফুটছে
কোনো ফুলে ঘ্রাণ নেই প্রাণ নেই কোনোটার
ডাস্টবিন ঘেঁটে চলে কাকেদের সংসার।

কোনো এক কালো কাক চুপচাপ নির্বাক
দেখে বন্ধুরা সব পোরে ময়ূর পোশাক
করে হৈ হুল্লোড়, কার কতোটুকু দৌড়
নখদর্পনে তার তবু কি চমৎকার
সেও মিথ্যে মায়ার জালে আটকে থাকে
নেই তাড়াহুড়া তার কোনো সত্যে ফেরার।

এই শহর ঢাকায় যারা পিষ্ট চাকায়
তারা ধুলোর পিঠেই নাকি স্বপ্ন আঁকায়
তারা স্বপ্ন আঁকায় কালো ধুসর শাদায়
আর জীবনটা পার করে গোলোক ধাঁধায়!
যেনো শামুকের শুঁড় ছুঁয়ে দেখতে আকাশ
চাঁদের আলোয় ভিজে চালায় প্রয়াস;
যেনো আকাশটা হতে হতে হচ্ছেনা তার!

শত সহস্র মোড় ঘুরে কাটছে না ঘোর
ঢাকা মায়ার শহর আলো ছায়ার শহর,
এই শহর ঢাকা মানে
জনতার জটলায় একলা থাকা;
মানে একলা খাঁচা
একলা খাঁচায় ঢুকে একলা বাঁচা;
একাকিত্বেই টানা উপসংহার।

এই শহর ঢাকায় ওড়ে রঙিন ধুলো,
পোড়ে স্বপ্নগুলো কালো উন্নয়নে
খুব সঙ্গোপনে কেউ সব গিলে খায়
কালো পিচের উপর লাল গোলাপ ফোটায়,
কেউ গোলাপ ফোটায়, কারো বজ্র স্বরে
ক্ষমতার মসনদে কাঁপন ধরে।
চলে এই শহরে ভালো থাকার লড়াই
কালো টাকার লড়াই, তবু সুখ অধরাই
থেকে যায় বার বার।

৩১/১২/২২