কামাল পাশা / কাজী নজরুল ইসলাম

[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আশমানের আঙিনা তখন কারবালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রিক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইয়া গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল পাশা মহাহর্ষে রণস্থল হইতে তাম্বুতে ফিরিতেছেন। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদল মহাকল্লোলে অম্বর ধরণি কাঁপাইয়া তুলিতেছে। তাহাদের প্রত্যেকের বুকে পিঠে দুইজন করিয়া নিহত সৈনিক বাঁধা। যাহারা ফিরিতেছে তাহাদেরও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোলাগুলির আঘাতে, বেয়নেটের খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত, পোশাক-পরিচ্ছদ ছিন্নভিন্ন, পা হইতে মাথা পর্যন্ত রক্ত-রঞ্জিত। তাহাদের সেদিকে ভ্রূক্ষেপও নাই। উদ্দাম বিজয়োন্মাদনার নেশায় মৃত্যু-কাতর রণক্লান্তি ভুলিয়া গিয়া তাহারা যেন খেপিয়া উঠিয়াছে। ভাঙা সঙিনের আগায় রক্ত-ফেজ উড়াইয়া, ভাঙা খাটিয়া আদি দ্বারা নির্মিত এক অভিনব চৌদোলে কামালকে বসাইয়া বিষম হল্লা করিতে করিতে তাহারা মার্চ করিতেছে। ভূমিকম্পের সময় সাগর-কল্লোলের মতো তাহাদের বিপুল বিজয়ধ্বনি আকাশে-বাতাসে যেন কেমন একটা ভীতি-কম্পনের সৃজন করিতেছে। বহু দূর হইতে সে রণতাণ্ডব নৃত্যের ও প্রবল ভেরিতূরীর ঘন রোল শোনা যাইতেছে। অত্যধিক আনন্দে অনেকেরই ঘন ঘন রোমাঞ্চ হইতেছিল। অনেকেরই চোখ দিয়া অশ্রু গড়াইয়া পড়িতেছিল।]
সৈন্যবাহিনী দাঁড়াইয়া। হাবিলদার-মেজর তাহাদের মার্চ করাইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছিল। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যগণ গাহিতেছিল,–

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই,
কামাল! তু নে
কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর মার্চের হুকুম করিল : কুইক মার্চ!
লেফট! রাইট! লেফট!!
লেফট! রাইট! লেফট!!
সৈন্যগণ গাহিতে গাহিতে মার্চ করিতে লাগিল]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই,
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[হাবিলদার-মেজর : লেফট! রাইট!]

সাব্বাস ভাই! সাব্বাস দিই, সাব্বাস তোর শম্‌শেরে।
পাঠিয়ে দিলি দুশমনে সব যম-ঘর একদম-সে রে!
বল দেখি ভাই, বল হাঁ রে,
দুনিয়ায় কে ডর্ করে না তুর্কির তেজ তলোয়ারে?

[লেফট! রাইট! লেফট!]

খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!
বুজদিল ওই দুশমন সব বিলকুল সাফ হো গিয়া!
খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!
হুররো হো!
হুররো হো!

দস্যুগুলোয় সামলাতে যে এম্‌নি দামাল কামাল চাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!]

শির হতে এই পাঁও-তক্ ভাই লাল-লালে-লাল খুন মেখে
রণ-ভীতুদের শান্তি-বাণী শুনবে কে?
পিণ্ডারিদের খুন-রঙিন
নখ-ভাঙা এই নীল সঙিন
তৈয়ার হ্যায় হর্দম ভাই ফাড়তে জিগর শত্রুদের।
হিংসুক-দল! জোর তুলেছি শোধ তোদের!
সাবাস জোয়ান! সাবাস!
ক্ষীণজীবী ওই জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্ –
এম্‌নি করে রে–
এম্‌নি জোরে রে–
ক্ষীণজীবী ওই জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্!
সাবাস জোয়ান! সাবাস!

[লেফট! রাইট! লেফট!]

হিংসুটে ওই জীবগুলো ভাই নাম ডুবালে সৈনিকের,
তাই তারা আজ নেস্ত-নাবুদ, আমরা মোটেই হই নি জের!
পরের মুলুক লুট করে খায়, ডাকাত তারা ডাকাত!

তাই তাদের তরে বরাদ্দ ভাই আঘাত শুধু আঘাত!
কি বল ভাই স্যাঙাত ?
হুররো হো!
হুররো হো!
দনুজ-দলে দলতে দাদা এমনি দামাল কামাল চাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[হাবিলদার-মেজর : রাইট হুইল! লেফট! রাইট! লেফট!
সৈন্যগণ ডানদিকে মোড় ফিরিল!]

আজাদ মানুষ বন্দি করে, অধীন করে স্বাধীন দেশ,
কুল মুলুকের কুষ্ঠি করে জোর দেখালে ক-দিন বেশ,
মোদের হাতে তুর্কি নাচন নাচলে তাধিন তাধিন শেষ!
হুররো হো!
হুররো হো!
বদ-নসিবের বরাত খারাব বরাদ্দ তাই করলে কিনা আল্লায়,
পিশাচগুলো পড়ল এসে পেল্লায় ওই পাগলাদেরই পাল্লায়!
এই পাগলাদেরই পাল্লায়
হুররো হো!
হুররো হো!
ওদের কল্লা দেখে আল্লা ডরায়, হল্লা শুধু হল্লা,
ওদের হল্লা শুধু হল্লা,
এক মুর্গির জোর গায়ে নেই, ধরতে আসেন তুর্কি তাজি,
মর্দ গাজি মোল্লা!–
হাঃ! হাঃ হাঃ!
হেসে নাড়িই ছেঁড়ে বা!
হা হা হাঃ! হাঃ! হাঃ!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!
সাবাস সিপাই। ফের বল ভাই!]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : লেফট হুইল! য়্যাজ য়ু ওয়্যার! – রাইট হুইল! –
লেফট! রাইট! লেফট!
সৈন্যদের আঁখির সামনে অস্ত-রবির আশ্চর্য রঙের খেলা ভাসিয়া উঠিল।]

দেখচ কী দোস্ত অমন করে? হউ হউ হউ!
সত্যি তো ভাই! সন্ধেটা আজ দেখতে যেন সৈনিকেরই বউ!
শহিদ সেনার টুকটুকে বউ লাল-পিরাহন -পরা,
স্বামীর খুনের ছোপ-দেওয়া, তায় ডগডগে আনকোরা! –
না না না, – কলজে যেন টুকরো-করে কাটা
হাজার তরুণ শহিদ বীরের, – শিউরে ওঠে গা-টা!
আশমানের ওই সিংদরজায় টাঙিয়েছে কোন্ কসাই
দেখতে পেলে একখুনি গ্যে এই ছোরাটা কলজেতে তার বসাই!
মুণ্ডুটা তার খসাই!
গোস্বাতে আর পাই নে ভেবে কী যে করি দশাই!
[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! লেফট! রাইট! লেফট!
ঢালু পার্বত্য পথ, সৈন্যগণ বুকের পিঠের নিহত সৈন্যদের ধরিয়া সন্তর্পণে নামিল।]

আহা কচি ভাইরা আমার রে!
এমন কাঁচা জানগুলো খান খান করেছে কোন সে চামার রে?
আহা কচি ভাইরা আমার রে!!

[সামনে উপত্যকা। হাবিলদার-মেজর : লেফট ফর্ম।
সৈন্যবাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল! হাবিলদার-মেজর :ফরওয়ার্ড!
লেফট! রাইট! লেফট!]

আশমানের ওই আংরাখা
খুন-খারাবির রং-মাখা,
কী খুবসুরৎ বাঃ রে বা!
জোর বাজা ভাই কাহার্‌বা!
হোক না ভাই এ কারবালা ময়দান –
আমরা যে গাই সাচ্চারই জয়গান!
হোক না এ তোর কারবালা ময়দান!!
হুররো হো
হুররো হো!!
[সামনে পার্বত্য পথ – হঠাৎ যেন পথ হারাইয়া ফেলিয়াছে। হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিতে লাগিল।
হুকুম দিয়া গেল : ‘মার্ক টাইম!’ সৈন্যগণ এক স্থানেই দাঁড়াইয়া পা আছড়াইতে লাগিল, –
দ্রাম! দ্রাম! দ্রাম!
লেফট! রাইট! লেফট!
দ্রাম! দ্রাম! দ্রাম!]

আশমানে ওই ভাসমান যে মস্ত দুটো রং-এর তাল,
একটা নিবিড় নীল-সীয়া আর একটা খুবই গভীর লাল,–
বুঝলে ভাই! ওই নীল-সিয়াটা শত্রুদের
দেখতে নারে কারুর ভালো,
তাইতে কালো রক্ত-ধারার বইছে শিরায় স্রোত ওদের!
হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল!
গৃধ্নু ওরা, লুব্ধ ওদের লক্ষ অসুর বল –
হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল।
জালিম ওরা অত্যাচারী!
সার জেনেছে সত্য যাহা হত্যা তারই!
জালিম ওরা অত্যাচারী!

সৈনিকের ওই গৈরিকে ভাই –
জোর অপমান করলে ওরাই,
তাই তো ওদের মুখ কালো আজ, খুন যেন নীল-জল!–
ওরা হিংস্র পশুর দল!
ওরা হিংস্র পশুর দল!
[হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিয়া ফিরিয়া অর্ডার দিল : ফরওয়ার্ড! লেফট হুইল –
সৈন্যগণ আবার চলিতে লাগিল – লেফট! রাইট! লেফট!]

সাচ্চা ছিল সৈন্য যারা শহিদ হল মরে।
তোদের মতন পিঠ ফেরেনি প্রাণটা হাতে করে –
ওরা শহিদ হল মরে।
পিটনি খেয়ে পিঠ যে তোদের ঢিট হয়েছে! কেমন!
পৃষ্ঠে তোদের বর্শা বেঁধা, বীর সে তোরা এমন!
আওরত সব যুদ্ধে আসিস! যা যা!
খুন দেখেছিস বীরের? হাঁ, দেখ টকটকে লাল কেমন গরম তাজা!
আওরত সব যা যা!
এরাই বলেন হবেন রাজা!
আরে যা যা! উচিত সাজা
তাই দিয়েছে শক্ত ছেলে কামাল ভাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই!]

এই তো চাই! এই তো চাই!
থাকলে স্বাধীন সবাই আছি, নেই তো নাই, নেই তো নাই!
এই তো চাই!!

[কতকগুলি লোক অশ্রুপূর্ণ নয়নে এই দৃশ্য দেখিবার জন্য ছুটিয়া আসিতেছিল, তাহাদের
দেখিয়া সৈন্যগণ আরও উত্তেজিত হইয়া উঠিল!]

মার দিয়া ভাই মার দিয়া
দুশমন সব হার গিয়া!
কিল্লা ফতে হো গিয়া!
পরওয়া নেহি, যানে দো ভাই যো গিয়া
কিল্লা ফতে হো গিয়া!
হুররো হো!
হুররো হো!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস জোয়ান! লেফট! রাইট!]

জোর সে চলো পা মিলিয়ে,
গা হেলিয়ে,
এমনি করে হাত দুলিয়ে!
দাদরা তালে ‘এক দুই তিন’ পা মিলিয়ে
ঢেউ-এর মতন যাই!
আজ স্বাধীন এ দেশ! আজাদ মোরা বেহেশ্‌তও না চাই!
আর বেহেশ্‌তও না চাই!

[হাবিলদার-মেজর : সাবাস সিপাই! ফের বল ভাই!]

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই!
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
[সৈন্যদল এক নগরের পার্শ্ব দিয়া চলিতে লাগিল। নগরবাসিনীরা ঝরকা হইতে মুখ বাড়াইয়া এই মহান দৃশ্য দেখিতেছিল; তাহাদের চোখ-মুখ আনন্দাশ্রুতে আপ্লুত। আজ বধূদের মুখের বোরখা খসিয়া পড়িয়াছে। ফুল ছড়াইয়া হাত দুলাইয়া তাহারা বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতেছিল। সৈন্যগণ চিৎকার করিয়া উঠিল!]

ওই শুনেছিস্? ঝরকাতে সব বলছে ডেকে বউ-দলে –
‘কে বীর তুমি! কে চলেছ চৌদোলে?’
চিনিস নে কি? এমন বোকা বোনগুলি সব? – কামাল এ যে কামাল!
পাগলি মায়ের দামাল ছেলে! ভাই যে তোদের!
তা না হলে কার হবে আর রৌশনএমন জামাল?
কামাল এ যে কামাল!
উড়িয়ে দেব পুড়িয়ে দেব ঘর-বাড়ি সব সামাল।
ঘর-বাড়ি সব সামাল!!
আজ আমাদের খুন ছুটেছে, হোশ টুটেছে,
ডগমগিয়ে জোশ উঠেছে!
সামনে থেকে পালাও।
শোহরত দাও, নওরাতি আজ! হর ঘরে দীপ জ্বালাও!
সামনে থেকে পালাও!
যাও ঘরে দীপ জ্বালাও!!

[হাবিলদার-মেজর : লেফট ফর্ম! লেফট! রাইট! লেফট! ফরোয়ার্ড!]

[বাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল। পার্শ্বেই পরিখার সারি। পরিখাভর্তি নিহত সৈন্যের দল পচিতেছে।]

ইস! দেখেছিস! ওই কারা ভাই সামলে চলেন পা,
ফসকে মরা আধ-মরাদের মাড়িয়ে ফেলেন বা!

ও তাই শিউরে ওঠে গা!
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ!
মরল যে সে মরেই গেছে!
বাঁচল যারা রইল বেঁচে
এই তো জানি সোজা হিসাব! দুঃখ কি তার? আঁ:?
মরায় দেখে ডরায় এরা! ভয় কি মরায়! বাঃ
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ!
[সম্মুখে সংকীর্ণ ভগ্ন সেতু! হাবিলদার-মেজর অর্ডার দিল : ‘ফর্ম ইনটু সিঙ্গল লাইন।’ এক একজন করিয়া বুকের পিঠের নিহত ভাইদের চাপিয়া ধরিয়া অতি সন্তর্পণে ‘স্লো মার্চ’ করিয়া পার হইতে লাগিল।]
সত্যি কিন্তু ভাই!
যখন মোদের বক্ষে বাঁধা ভাইগুলির এই মুখের পানে চাই –
কেমন সে এক ব্যথায় তখন প্রাণটা কাঁদে যে সে!
কে যেন দুই বজ্র-হাতে চেপে ধরে কলজেখানা পেষে!
নিজের হাজার ঘায়েল জখম ভুলে তখন ডুকরে কেন কেঁদেও ফেলি শেষে!
কে যেন ভাই কলজেখানা পেষে!!
ঘুমোও পিঠে, ঘুমোও বুকে, ভাইটি আমার, আহা!
বুক যে ভরে হাহাকারে যতই তোরে সাব্বাস দিই,
যতই বলি বাহা!
লক্ষ্মীমণি ভাইটি আমার, আহা!!
ঘুমোও ঘুমোও মরণ-পারের ভাইটি আমার, আহা!!
অস্ত-পারের দেশ পারায়ে বহুৎ সে দূর তোদের ঘরের রাহা,
ঘুমোও এখন ঘুমোও ঘুমোও ভাইটি ছোটো আহা!
মরণ-বধূর লাল রাঙা বর! ঘুমো!
আহা, এমন চাঁদমুখে তোর কেউ দিল না চুমো!
হতভাগা রে!
মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে
না জানি কোন্ ফুটতে-চাওয়া মানুষ-কুঁড়ির হিয়ায়!
তরুণ জীবন এমনি গেল, একটি রাতও পেলিনে রে বুকে কোনো প্রিয়ায়!
অরুণ খুনের তরুণ শহিদ! হতভাগা রে!
মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে!
তাই যত আজ লিখনেওয়ালা তোদের মরণ স্ফূর্তি-সে জোর লেখে
এক লাইনে দশ হাজারে মৃত্যু-কথা! হাসি রকম দেখে,
মরলে কুকুর ওদের, ওরা শহিদ-গাথার বই লেখে!
খবর বেরোয় দৈনিকে,
আর একটি কথায় দুঃখ জানান, ‘জোর মরেছে দশটা হাজার সৈনিকে!’
আঁখির পাতা ভিজল কিনা কোনো কালো চোখের
জানল না হায় এ জীবনে ওই সে তরুণ দশটি হাজার লোকের!
পচে মরিস পরিখাতে, মা-বোনেরাও শুনে বলে ‘বাহা’!
সৈনিকেরই সত্যিকারের ব্যথার ব্যথী কেউ কি রে নেই? আহা! –
আয় ভাই তোর বউ এল ওই সন্ধ্যা মেয়ে রক্তচেলি পরে,
আঁধার-শাড়ি পরবে এখন পশবে যে তোর গোরের বাসর-ঘরে! –
ভাবতে নারি, গোরের মাটি করবে মাটি এ মুখ কেমন করে –
সোনা মানিক ভাইটি আমার ওরে!
বিদায়-বেলায় আরেকটি বার দিয়ে যা ভাই চুমো!
অনাদরের ভাইটি আমার! মাটির মায়ের কোলে এবার ঘুমো!

[সেতু পার হইয়া আবার জোরে মার্চ করিতে করিতে তাহাদের রক্ত গরম হইয়া উঠিল।]

ঠিক বলেছ দোস্ত তুমি!
চোস্ত কথা! আয় দেখি তোর হস্ত চুমি!
মৃত্যু এরা জয় করেছে, কান্না কিসের?
আব্-জম্-জম্ আনলে এরা, আপনি পিয়ে কলশি বিষের!
কে মরেছে? কান্না কিসের?
বেশ করেছে!
দেশ বাঁচাতে আপনারই জান শেষ করেছে!
বেশ করেছে!!
শহিদ ওরাই শহিদ!
বীরের মতন প্রাণ দিয়েছে, খুন ওদেরই লোহিত!
শহিদ ওরাই শহিদ!!

[এইবার তাহাদের তাম্বু দেখা গেল। মহাবীর আনোয়ার পাশা বহু সৈন্য-সামন্ত ও সৈনিকের আত্মীয়স্বজন লইয়া বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতে আসিতেছেন দেখিয়া সৈন্যগণ আনন্দে আত্মহারা হইয়া ডবল মার্চ করিতে লাগিল।]

হুররো হো!
হুররো হো!
ভাই-বেরাদর পালাও এখন দূর রহো! দূর রহো!
হুররো হো! হুররো হো!

[কামাল পাশাকে কোলে লইয়া নাচিতে লাগিল।]

হউ হো হো! কামাল জিতা রও!
কামাল জিতা রও!
ও কে আসে! আনোয়ার ভাই? –
আনোয়ার ভাই! জানোয়ার সব সাফ!
জোর নাচো ভাই! হর্দম দাও লাফ
আজ জানোয়ার সব সাফ
হুররো হো! হুররো হো!!
সব-কুছ আব্ দূর রহো! – হুররো হো!! হুররো হো!
রণ জিতে জোর মন মেতেছে! – সালাম সবায় সালাম! –

নাচনা থামা রে!
জখমি-ঘায়েল ভাইকে আগে আস্তে নামা রে!
নাচনা থামা রে!
কে ভাই? হাঁ, হাঁ, সালাম।
– ওই শোন শোন সিপাহ-সালার কামাল ভাই-এর কালাম!

[সেনাপতির অর্ডার আসিল,
‘সাবাস! থামো! হো! হো!
সাবাস! হল্ট! এক! দো!!’]

এক নিমেষে সমস্ত কলরোল নিস্তব্ধ হইয়া গেল। তখনও কিন্তু তারায় তারায় যেন ওই বিজয়গীতির হারা-সুর বাজিয়া বাজিয়া ক্রমে ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইয়া মিশিয়া গেল।

ওই খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুরপুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

Advertisements

আনোয়ার / কাজী নজরুল ইসলাম

স্থান – প্রহরী-বেষ্টিত অন্ধকার কারাগৃহ, কনস্ট্যান্টিনোপল।
কাল – অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি।

চারিদিক নিস্তব্ধ নির্বাক। সেই মৌনা নিশীথিনীকে ব্যথা দিতেছিল শুধু কাফ্রি-সান্ত্রির পায়চারির বিশ্রী খটখট শব্দ। ওই জিন্দানখানায় মহাবাহু আনোয়ারের জাতীয় সৈন্যদলের সহকারী এক তরুণ সেনানী বন্দি। তাহার কুঞ্চিত দীর্ঘ কেশ, ডাগর চোখ, সুন্দর গঠন – সমস্ত কিছুতে যেন একটা ব্যথিত-বিদ্রোহের তিক্ত ক্রন্দন ছল-ছল করিতেছিল। তরুণ প্রদীপ্ত মুখমণ্ডলে চিন্তার রেখাপাতে তাহাকে তাহার বয়স অপেক্ষা অনেকটা বেশি বয়স্ক বোধ হইতেছিল।

সেইদিনই ধামা-ধরা সরকারের কোর্ট-মার্শালের বিচারে নির্ধারিত হইয়া গিয়াছে যে পরদিন নিশিভোরে তরুণ সেনানীকে তোপের মুখে উড়াইয়া দেওয়া হইবে।

আজ হতভাগ্যের সেই মুক্তি-নিশীথ জীবনের সেই শেষরাত্রি। তাহার হাতে, পায়ে, কটিদেশে, গর্দানে মস্ত মস্ত লৌহ-শৃঙ্খল। শৃঙ্খল-ভারাতুর তরুণ সেনানী স্বপ্নে তাহার মাকে দেখিতেছিল। সহসা ‘মা’ বলিয়া চিৎকার করিয়া জাগিয়া উঠিল। তাহার পর চারিদিকে কাতর নয়নে একবার চাহিয়া দেখিল, কোথাও কেহ নাই। শুধু হিমানী-সিক্ত বায়ু হা হা স্বরে কাঁদিয়া গেল, ‘হায় মাতৃহারা!’

স্বদেশবাসীর বিশ্বাসঘাতকতা স্মরণ করিয়া তরুণ সেনানী ব্যর্থ-রোষে নিজের বামবাহু নিজে দংশন করিয়া ক্ষত-বিক্ষত করিতে লাগিল। কারাগৃহের লৌহ-শলাকায় তাহার শৃঙ্খলিত দেহভার বারে বারে নিপতিত হইয়া কারাগৃহ কাঁপাইয়া তুলিতেছিল।

এখন তাহার অস্ত্র-গুরু আনোয়ারকে মনে পড়িল। তরুণ বন্দি চিৎকার করিয়া উঠিল – ‘আনোয়ার!’

আনোয়ার! আনোয়ার!
দিলওয়ার তুমি, জোর তলওয়ার হানো, আর
নেস্ত-ও-নাবুদ করো, মারো যত জানোয়ার!
আনোয়ার! আপশোশ!
বখতেরই সাফ দোষ,
রক্তেরই নাই ভাই আর সে যে তাপ জোশ,
ভেঙে গেছে শমশের – পড়ে আছে খাপ কোশ!
আনোয়ার! আপশোশ!

আনোয়ার! আনোয়ার!
সব যদি সুনসান, তুমি কেন কাঁদ আর?
দুনিয়াতে মুসলিম আজ পোষা জানোয়ার!
আনোয়ার! আর না! –
দিল কাঁপে কার না?
তলওয়ারে তেজ নাই! তুচ্ছ স্মার্না,
ওই কাঁপে থর থর মদিনার দ্বার না?
আনোয়ার! আর না!

আনোয়ার! আনোয়ার!
বুক ফেড়ে আমাদের কলিজাটা টানো, আর
খুন করো – খুন করো ভীরু যত জানোয়ার!
আনোয়ার! জিঞ্জির
পরা মোর খিঞ্জির
শৃঙ্খলে বাজে শোনো রোনা রিন-ঝিনকির,
নিবু-নিবু ফোয়ারা বহ্নির ফিনকির!
গর্দানে জিঞ্জির!

আনোয়ার! আনোয়ার!
দুর্বল এ গিদ্‌ধরে কেন তড়পানো আর?
জোরওয়ার শের কই?– জেরবার জানোয়ার।
আনোয়ার! মুশকিল
জাগা কঞ্জুস-দিল
ঘিরে আসে দাবানল তবু নাই হুঁশ তিল!
ভাই আজ শয়তান ভাই-এ মারে ঘুষ কিল!
আনোয়ার! মুশকিল!

আনোয়ার! আনোয়ার!
বেইমান মোরা, নাই জান আধ-খানও আর!
কোথা খোঁজ মুসলিম! – শুধু বুনো জানোয়ার!
আনোয়ার! সব শেষ!–
দেহে খুন অবশেষ! –
ঝুটা তেরি তলওয়ার ছিন লিয়া যব দেশ
আওরত সম ছি ছি ক্রন্দন-রব পেশ!!
আনোয়ার! সব শেষ!

আনোয়ার! আনোয়ার!
জনহীন এ বিয়াবানে মিছে পস্তানো আর।
আজও যারা বেঁচে আছে তারা খ্যাপা জানোয়ার।
আনোয়ার! – কেউ নাই।
হাথিয়ার? – সেও নাই!
দরিয়াও থমথম নাই তাতে ঢেউ, ছাই!
জিঞ্জির গলে আজ বেদুইন-দেও ভাই!
আনোয়ার! কেউ নাই!

আনোয়ার! আনোয়ার!
যে বলে সে মুসলিম – জিভ ধরে টানো তার!
বেইমান জানে শুধু জানটা বাঁচানো সার!
আনোয়ার! ধিক্কার!
কাঁধে ঝুলি ভিক্ষার –
তলওয়ারে শুধু যার স্বাধীনতা শিক্ষার!
যারা ছিল দুর্দম আজ তারা দিকদার
আনোয়ার! ধিক্কার!

আনোয়ার! আনোয়ার!
দুনিয়াটা খুনিয়ার, তবে কেন মান আর
রুধিরের লোহু আঁখি! – শয়তানি জান সার!
আনোয়ার! পঞ্জায়
বৃথা লোকে সমঝায়,
ব্যথাহত বিদ্রোহী-দিল নাচে ঝঞ্ঝায়,
খুন-খেকো তলওয়ার আজ শুধু রণ চায়,
আনোয়ার! পঞ্জায়!

আনোয়ার! আনোয়ার!
পাশা তুমি নাশা হও মুসলিম জানোয়ার,
ঘরে যত দুশমন, পরে কেন হান মার?
আনোয়ার! এসো ভাই!
আজ সব শেষও যাই –
ইসলামও ডুবে গেল, মুক্ত স্বদেশও নাই! –
ত্যজি বরিয়াছি ভিখারির বেশও তাই!
আনোয়ার! এসো ভাই!

সহসা কাফ্রি সান্ত্রির ভীম চ্যালেঞ্জ প্রলয়-ডম্বরু-ধ্বনির মতো হুংকার দিয়া উঠিল – ‘এ্যয় নৌজওয়ান, হুঁশিয়ার!’ অধীর ক্ষোভে তিক্তরোষে তরুণের দেহের রক্ত টগবগ করিয়া ফুটিয়া উঠিল। তাহার কটিদেশের, গর্দানের, পায়ের শৃঙ্খল খান খান হইয়া টুটিয়া গেল, শুধু হাতের শৃঙ্খল টুটিল না! সে সিংহ-শাবকের মতো গর্জন করিয়া উঠিল –

এ্যয় খোদা! এ্যয় আলি! লাও মেরি তলওয়ার!

সহসা তাহার ক্লান্ত আঁখির চাওয়ায় তুরস্কের বন্দিনী মাতৃ-মূর্তি ভাসিয়া উঠিল। সেই মাতৃ-মূর্তির পার্শ্বেই তাহার মায়েরও শৃঙ্খলিতা ভিখারিনি বেশ। তাঁহাদের দুইজনেরই চোখের কোণে দুই বিন্দু করিয়া করুণ অশ্রু। অভিমানী পুত্র অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া লইয়া কাঁদিয়া উঠিল –

ও কে? ও কে ছল আর?
না, – মা, মরা জানকে এ মিছে তরসানো আর!
আনোয়ার! আনোয়ার!

কাপুরষ প্রহরীর ভীম প্রহরণ বিনিদ্র বন্দি তরুণ সেনানীর পৃষ্ঠের উপর পড়িল। অন্ধ কারাগারে বন্ধ রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাহারই আর্ত প্রতিধ্বনি গুমরিয়া ফিরিতে লাগিল–’আঃ–আঃ–আঃ–!’

আজ নিখিল বন্দি-গৃহে ওই মাতৃ-মুক্তিকামী তরুণেরই অতৃপ্ত কাঁদন ফরিয়াদ করিয়া ফিরিতেছে। যেদিন এ ক্রন্দন থামিবে, সেদিন সে কোন্ অচিন দেশে থাকিয়া গভীর তৃপ্তির হাসি হাসিবে জানি না। তখন হয়তো হারা-মা আমার আমায় ‘তারার পানে চেয়ে চেয়ে’ ডাকিবেন। আমিও হয়তো আবার আসিব। মা কি আমায় তখন নূতন নামে ডাকিবেন? আমার প্রিয়জন কি আমায় নূতন বাহুর ডোরে বাঁধিবে? আমার চোখ জলে ভরিয়া উঠিতেছে, আর কেন যেন মনে হইতেছে, – ‘আসিবে সেদিন আসিবে।’

জবানবন্দি / সাইফ আলি

:সত্যি করে বলেন দেখি-
অন্ধকারে আর কে ছিলো,
ঝোপের আড়ে,
পুকুর পাড়ে;
অথবা যেই খড়ের গাদা, তার আড়ালে?
:আমি কি আর ওসব জানি,
আমি তখন ঘুমের ঘোরে…
:তা ঠিক, তা ঠিক, কিন্তু ভোরে….
:বলছি তো ভাই, ভোরের বেলা
যখন কেবল দোর খুলেছি…
:বলুন, বলুন, তারপরে কি?
:ঝলসে গেলো…
:কি ঝলসালো…
:চোখ দুটো ছাই, কি যে সোনা রোদের ঝিলিক
:ও তাই বলুন, আমি ভাবলাম…
:ভাবুন মশাই একটু পরে,
আমার ঘরে
জল ছিলো না
তাই গেছিলাম পুকুর পাড়ে,
যেয়েই দেখি…
:চোরটাকে কি?
:না রে মশাই, শান্ত পুকুর; ঢেউ ছিলো না।
:কেউ ছিলো না?
:ছিলো ছিলো.. পাশের বাড়ির…
:এই বুঝেছি, ছাগলা দাড়ির
ঐ বুঝি সে?
:বললো টা কে?
:এইতো কেবল…
:থামুন মশাই আবোল তাবোল
খুব বকেছেন…; দেবোই না আর জবানবন্দি….
:তাহলে তো হয়েই গেলো, চুটলো ল্যাঠা।
:থামেন মিয়া, আবার ফন্দি??
হার মানে কোন বাপের ব্যাটা!
বলছি শুনুন, পুকুর পাড়ে পাশের বাড়ির হাসের ছানা…
:লাগবে না আর জবানবন্দি,
(বিচারককে লক্ষ্য করে) স্যার ও ব্যাটা জম্নকানা…

বৃক্ষরোপন / সাইফ আলি

চরিত্র: খুকু, গাছ, পাখি

খুকু: উহ! কি যে রোদ, পুড়ছে গা
গাছপালা কই পাখির ছা-
(এদিক-ওদিক তাকিয়ে)
ঐতো দূরে গাছ দেখা যায়
একটু যদি প্রাণটা জুড়ায়।

(গাছের কাছে যেয়ে)
খুকু: ও গাছ বাবু, কোথায় তোমার পাতা,
ফুল পাখি কই; ফল ধরে নাই কোনো?
কি হলো ভাই, কও না কেনো কথা?
আমার কিন্তু ভাল্লাগে না এমন নিরবতা।
একটুখানি শোনো-
ও গাছ বাবু, ফুল পাখি নাই কোনো?

গাছ: কি আর বলি খুকু
পিপাশাতে বুক ফেটে যায়, নাই পানি একটুকু।

খুকু: কেনো?
কি হয়েছে পানি?
বর্ষা এখন জানি,
মেঘরা কোথায়; নেই কি নদী নালা?

গাছ: কি যে বলো
নদীর বুকে খরা
ঐযে দেখো বালি
আর, বর্ষা ঠিকই আসে;
বুক থাকে তার খালি।

খুকু: কেনো,
এমন কেনো হবে?

(পাখির আগমন)
পাখি: বলছি শোনো তবে-
অনেক আগের কথা,
এইখানে এক বাগান ছিলো বড়;
সেই বাগানে হাজার হাজার পাখি
সকাল বিকাল মধুর সুরে করতো ডাকাডাকি।
পাপড়ি মেলে ফুটতো অনেক ফুল,
দুঃখ তাদের ছিলো না এক চুল।
নদীর বুকে পানি,
তাতে মাছের খলখলানি।
সবাই ছিলো সুখে,
ছয়টা ঋতু আসতো ভরা বুকে।

খুকু: কি হলো তারপর?

পাখি: কোত্থেকে এক বনখেকোদের দল
আসলো সদলবলে,
সেই থেকে এই বাগান জুড়ে দুখের আগুন জ্বলে।

খুকু: কেনো,
কি করেছে তারা?

পাখি: গাছ কেটেছে, ফুল ছিড়েছে,
নদীর বুকে বাঁধ দিয়েছে,
পাখির বাসায় ঢিল ছুড়েছে,
কালো ধোঁয়ার কল গড়েছে;
শুনবে আরো কি?
তাদের হাতে অনেক বাগান পুড়তে দেখেছি।

খুকু: কই,
আশপাশে তো কারোর দেখা নাই?

পাখি: এখন তারা শহর গড়ে থাকে,
তাদের বাড়ির বেলকোনিতে
খাঁচার পাখি ডাকে।
তবুও তাদের মুখ দেখেছি কালো।

খুকু: কেনো?

পাখি: তারাও তো নেই ভালো।

খুকু: ও গাছ বাবু, উপায় কিছু বলো;
একটুখানি আবার না হয় বর্ষা আনি চলো।

গাছ: বর্ষা পাবে,
মেঘের বুকে পানির দেখাও পাবে;
এ নাও আমার চারা।
সবকিছুরই মিলবে দেখা
বৃক্ষরোপন দ্বারা।