প্রফেসর ডঃ খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

প্রফেসর ডঃ খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

প্রফেসর ডঃ খোন্দকার আ. ন. ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

জন্ম: ঝিনাইদহ জেলায় ১৯৫৮ সালে। মৃত্যু: ১১ই মে ২০১৬, সড়ক দুর্ঘটনায়।

পিতা মরহুম খোন্দকার আনোয়ারুজ্জামান। মাতা বেগম লুৎফুন্নাহার। ঝিনাইদহ আলিয়া মাদ্রাসায় ফাজিল পর্যন্ত অধ্যয়নের পর ১৯৭৯ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম শ্রেণীতে অষ্টম স্থান অধিকার করে হাদিস বিষয়ে কামিল পাশ করেন। সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬, ১৯৯২ ও ১৯৯৮ সালে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পি-এইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

দেশ ও বিদেশে যে সকল প্রসিদ্ধ আলিমের কাছে তিনি পড়াশোনা ও সাহচার্য গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন খতীব মাওলানা ওবাইদুল হক (রাহ), মাওলানা মিয়া মোহাম্মাদ কাসিমী (রাহ), মাওলানা আনোয়ারুল হক কাসিমী (রাহ), মাওলানা আব্দুল বারী সিলেটী (রাহ), মাওলানা ড: আইউব আলী (রাহ), মাওলানা আব্দুর রহীম (রাহ), আল্লামা শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল আযীয ইবন বায (রাহ), আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন (রাহ), আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (রাহ), শাইখ সালিহ ইবন আব্দুল আযীয আল শাইখ, শাইখ সালিহ ইবন ফাওযান ইবন আব্দুল্লাহ আল ফাওযান।

কর্ম জীবনে তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদীস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন ১৯৯৮ সালে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সালের ১১ই মে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত তিনি উক্ত বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন।

দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বাংলা ইংরেজী ও আরবি ভাষায় তাঁর প্রায় অর্ধশত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত গবেষণামূলক গ্রন্থের সংখ্যা তিরিশের অধিক। গ্রন্থগুলো হচ্ছে:

১. A Woman from Desert (১৯৯৫)
২. সিয়াম নির্দেশিকা (বঙ্গানুবাদ, ১৯৭৭)
৩. ইসলামের তিন মূলনীতি: একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা (বঙ্গানুবাদ, ১৯৭৭)
৪. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা (২০০০)
৫. ইসলামে পর্দা (২০০০)
৬. একজন জাপানী মহিলার দৃষ্টিতে পর্দা (বঙ্গানুবাদ, ২০০০)
৭. এহইয়াউস সুনান: সুন্নাতের পুনরুজ্জীবন ও বিদাতের বিসর্জন (২০০২)
৮. রাহে বেলায়াত: রাসুলুল্লাহ-এর যিকির ও দোয়া (২০০২)
৯. মুসলমানী নেসাব: আরাকানে ইসলাম ও ওযীফায়ে রাসুল (সা.), ২০০৩
১০. সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতুল ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর (২০০৩)
১১. বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ (২০০৩)
১২. আল্লাহর পথে দাওয়াত (২০০৪)
১৩. হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা (২০০৫)
১৪. নামায ও মুনাজাত (২০০৫)
১৫. ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ (২০০৬)
১৬. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহসজ্জা (২০০৭)
১৭. বুহুসুন ফী উলূমিল হাদীস: আরবি ভাষায় রচিত (২০০৭)
১৮. সহীহ মাসনুন ওযীফা (২০০৭)
১৯. রাসুলুল্লাহ (সা.)- এর পোশাক ও ইসলামী পোশাকের বিধান (২০০৮)
২০. খুতবাতুল ইসলাম (২০০৮)
২১. ইযহারুল হক বা সত্যের বিজয় (বঙ্গানুবাদ, ২০০৮)
২২. মুসনাদ আহমাদ (বঙ্গানুবাদ, আংশিক ২০০৮)
২৩. কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত: ফযীলত ও আমল (২০০৯)
২৪. ফুরফুরার পীর আবু জাফর সিদ্দিকী রচিত আল-মাউযূআত: একটি বিশ্লেষনাত্মক পর্যালোচনা (২০০৯)
২৫. তাওরাত, যাবূর, ইঞ্জিল ও কুরআনের আলোকে কুরবানি ও জাবীহুল্লাহ (২০১০)
২৬. ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার: হাদীস ভিত্তিক ফিকহ (বঙ্গানুবাদ, ২০১২)
২৭. কিতাবুল মোকাদ্দস, ইঞ্জিল শরীফ ঈসায়ী ধর্ম (২০১৩)
২৮. ইমাম আবু হানিফা (রাহ) রচিত আল ফিকহুল আকবার: বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা (২০১৩)
২৯. বাইবেল ও কুরআন (২০১৩)
৩০. সালাতের মধ্যে হাত বাঁধার বিধান (২০১৪)

গবেষণা কর্মের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্যে ১৯৯৮ খৃষ্টাব্দে তিনি ‘আল-ফারুক একাডেমী’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞান ও মূল্যবোধ প্রচার ও মানব সেবার উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে ‘আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট’ নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১২ সালে Education and Charity Foundation Jhenidah নামে একটি শিক্ষা ও সমাজ সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ সকল প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রচার, ধর্ম প্রচার, দুস্থ নারী ও শিশুদের সেবা ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

Advertisements

লেখক পরিচিতি / আসাদ চৌধুরী

Asad20140724150559আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক। তিনি মনোগ্রাহী টেলিভিশন উপস্থাপনা ও আবৃত্তির জন্য জনপ্রিয়।তাঁর জন্ম হয় ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া নামক স্থানে। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী এবং মাতার নাম সৈয়দা মাহমুদা বেগম। আসাদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম সাহানা বেগম। তিনি উলানিয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা ১৯৬৩ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে যাওয়ার পর কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে আসাদ চৌধুরীর চাকুরিজীবন শুরু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ অবধি শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে ঢাকায় স্থিত হবার পর তিনি বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানীর বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকায় বাংলা একাডেমীতে দীর্ঘকাল চাকুরীর পর তিনি এর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

  • তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ হল –

তবক দেওয়া পান (১৯৭৫); বিত্ত নাই বেসাত নাই (১৯৭৬); প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় (১৯৭৬); জলের মধ্যে লেখাজোখা (১৯৮২); যে পারে পারুক (১৯৮৩); মধ্য মাঠ থেকে (১৯৮৪); মেঘের জুলুম পাখির জুলুম (১৯৮৫); আমার কবিতা (১৯৮৫); ভালোবাসার কবিতা (১৯৮৫); প্রেমের কবিতা (১৯৮৫); দুঃখীরা গল্প করে (১৯৮৭); নদীও বিবস্ত্র হয় (১৯৯২); টান ভালোবাসার কবিতা (১৯৯৭); বাতাস যেমন পরিচিত (১৯৯৮); বৃন্তির সংবাদে আমি কেউ নই (১৯৯৮); কবিতা-সমগ্র (২০০২); কিছু ফল আমি নিভিয়ে দিয়েছি (২০০৩); ঘরে ফেরা সোজা নয় (২০০৬)।

  • প্রবন্ধ-গবেষণা –

কোন অলকার ফুল (১৯৮২)

  • শিশুসাহিত্য –

রাজার নতুন জামা (রূপান্তর, ১৯৭৯); রাজা বাদশার গল্প (১৯৮০); গ্রাম বাংলার গল্প (১৯৮০); ছোট্ট রাজপুত্র (অনুবাদ : ১৯৮২); গর্ব আমার অনেক কিছুর (১৯৯৬); ভিন দেশের মজার লোককাহিনী (১৯৯৯); তিন রসরাজের আড্ডা (১৯৯৯); কেশবতী রাজকন্যা (২০০০); গ্রাম বাংলা আরো গল্প (২০০০); তোমাদের প্রিয় চার শিল্পী (জীবনী, ২০০০); জন হেনরি (আমেরিকার লোককাহিনী, ২০০১); মিকালেঞ্জেনো (জীবনী, ২০০১); ছোটদের মজার গল্প (২০০১); সোনার খড়ম (২০০৬); মুচি-ভ’তের গল্প (২০০৬)। : সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু (১৯৮৩); রজনীকান্ত সেন (১৯৮৯); স্মৃতিসত্তায় যুগলবন্দী (২০০১)।

  • ইতিহাস –

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৩)।

  • অনুবাদ –

বাড়ির কাছে আরশিনগর : বাংলাদেশের উর্দু কবিতা (২০০০); প্যালেস্টাইন ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিবাদী কবিতা (২০০৫)।

  • সম্পাদনা –

যাদের রক্তে মুক্ত এদেশ (১৯৯১ যুগ্মভাবে); ছয়টি রূপকথা (১৯৭৯)।

তাঁর পাওয়া পুরষ্কারগুলি হল –

পুরস্কার

  • আবুল হাসান স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫);
  • অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২);
  • বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৭);
  • শম্ভুগঞ্জ এনায়েতপুরী স্বর্ণপদক (১৯৯৯);
  • ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার,
  • বরিশাল বিভাগীয় স্বর্ণপদক,
  • অশ্বনী কুমার পদক (২০০১);
  • জীবনানন্দ দাশ পদক;
  • অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক;
  • জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (২০০৬)।

(তথ্যসূত্র : বাংলা উইকিপিডিয়া)

লেখক পরিচিতি / হোসেন এম জাকির

DSC_5290

হোসেন এম জাকির / স্থিরচিত্র: ই এইচ ইমন

জন্মঃ ১৭ই এপ্রিল ১৯৭৮, ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানায়। বেড়ে উঠার প্রথম পর্যায়টা গ্রামের রাখালদের সাথে খেলাধুলায় চমৎকার সময় কাটিয়েছেন। সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেনীতে ভর্তির মাধ্যমে শিক্ষা জীবনের শুরু। পঞ্চম শ্রেনী পাশ করার পর আবার দুই বছরের ছন্নছড়া জীবন। তারপর সপ্তম শ্রেনীতে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির মাধ্যমে অন্তত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়টা নিশ্চিত হয়েছিল। বোর্ডের পরীক্ষায় ডাবল স্টান্ড করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই স্বপ্নভঙ্গ। অনার্স পরীক্ষা দিয়ে চলে গেলেন এক শিপিং কোম্পানীর চাকুরীতে। সাত মাস পর ফিরে এসে কোন ক্লাশ এ্যাটেন্ডেন্স ছাড়াই মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার পর উপলব্ধি করেন যে চাকুরীর জন্য পড়তে হবে। সুযোগ এবং সম্ভাবনা থাকলেও অনার্সে ফার্স্ট ক্লাশ নেই বলে হীনমন্যতা থেকে কোনদিন রিসার্স লাইনে কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। সুতরাং ভর্তি হন IBA-এর MBA প্রোগ্রামে। ফার্স্ট সেমিস্টারে ১০০% ক্লাশ এ্যাটেন্ডেন্স দিয়ে নিজেকেই বিস্মিত করে দেন। বলতে গেলে সেই থেকে পড়াশুনার শুরু। MBA কোর্সের প্রথম সেমিস্টার শেষ করেই প্রাইম ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসাবে যোগদান। সেই অবস্থায় বিয়ে করে পড়াশুনা, সংসার আর চাকুরী করেছেন এক সাথে। MBA শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশুনা না করার অপরাধবোধ থেকে CFA প্রোগ্রাম শুরু করেছিলেন এবং নিজের দুই ছেলে-মেয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই তা শেষ করেছেন। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে CFA Society Singapore এর সদস্য। সদ্য গঠিত CFA Society Bangladesh-এরও একজন সদস্য। পেশাগত জীবনে বর্তমানে এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

মাঝে মাঝে ফেসবুকে নোট লিখতেন। বিরক্ত হয়ে একদিন ঘোষনা দিয়ে ফেসবুক নোট লেখা ছেড়ে দেন। অভ্যাস, অলস সময়ের অস্থিরতা আর নিতান্ত খেয়াল থেকে ডায়েরী লিখতে শুরু করেন কোন পরিকল্পনা ছাড়াই। কন্টেম্পোরারি বিষয়ের উপর লেখা অনেকদিন চলতে পারত। কিন্তু বিশ্বাস করেন লেখালেখি কোন হালকা বিষয় নয় আর একই সাথে স্বীকার করেন পরিবারও খুব সিরিয়াস বিষয়। দুইয়ের মাঝে টানাপোড়ন দেখা দিলে শুরু করার মাত্র দেড় বছরের মাথায় লেখায় ছেদ টানার সিদ্ধান্ত নেন। সেই কারনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এত তাড়াতাড়ি প্রথম বইয়ের আত্মপ্রকাশ।

সায়ীদ আবুবকর

03

Poet Sayeed Abubakar Media: Oil on canvas Size: 18″/24″

কবি, প্রাবন্ধিক, ছড়াকার, অনুবাদক। জন্ম ২১সেপ্টেম্বর ১৯৭২ যশোর জেলায়।
ছড়া দিয়েই লেখালেখি শুরু। দাদাভাই রোকনুজ্জামান খান প্রথম ছড়া ছাপেন ১৯৮৮ সালে ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসরে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প-গাথায় সংকলিত হয়েছে তাঁর মুক্তিযুদ্ধের ছড়া। তাঁর প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ ছড়াছড়ি (২০০৯) ও খোকার জামা বাঘের গায়ে (২০১৬)। সায়ীদ আবুবকর মূলত কবি। আধুনিক বাংলা কবিতার অঙ্গনে তাঁর প্রকৃত উত্থান ঘটে নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৬-এ প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রণয়ের প্রথম পাপ তাঁকে মৌলিক শক্তিশালী কবিরূপে প্রতিষ্ঠিত করে। সমালোচকদের বিচারে তিনি নব্বইয়ের দশকের প্রধান কবি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৯: প্রণয়ের প্রথম পাপ (১৯৯৬), জুলেখার শেষ জাল (২০০৪), সাদা অন্ধকারে কালো জ্যোৎস্নায় (২০০৬), মেসোপটেমিয়ার মেম (২০০৭), বঙ্গেতে বসতি (২০০৮), এবার একটিবার একসাথে (২০১০), কপোতাক্ষ পাড়ের রোদ্দুর (২০১২), কাগজ কুসুম (২০১৪) ও তুমি বলো তুমি বৃষ্টি ভালবাসো (২০১৫)। ২০১৫-এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বাছাই করা কবিতাসংকলন শ্রেষ্ঠ কবিতা। কবিতা কমল (২০০৬) ও কবিতার আধুনিকতা (২০১০) তাঁর দুটি বহুল পঠিত প্রবন্ধগ্রন্থ। আধুনিক বাংলা কবিতা (২০০৯) তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি অনন্য কবিতাসংকলন, যা বুদ্ধদেব বসুর আধুনিক বাংলা কবিতা ও হুমায়ুন আজাদের আধুনিক বাঙলা কবিতার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকলন। তিনি একজন সফল অনুবাদকও। বাংলাভাষায় তিনি মধুসূদনের ইংরেজি কবিতার প্রথম অনুবাদক। তাঁর অনূদিত মধূসূদনের ইংরেজি কবিতা (২০০৯) দুই বাংলায় ব্যাপক পঠিত। তিনি আল মাহমুদের সোনালি কাবিন ইংরেজিতে অনুবাদ করেন দ্য গোল্ডেন কাবিন নামে, যা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের আই.প্রক্লেইম প্রেস (২০১০ )। যুক্তরাষ্ট্রের আই.প্রক্লেইম প্রেস প্রকাশ করে সায়ীদ আবুবকর সম্পাদিত সুবিশাল গ্রন্থ এ্যান্থলোজি অব দ্য ওয়াল্ড পোয়েট্রি (২০১১)। যুক্তরাজ্যের বুবক প্রকাশনী প্রকাশ করেছে সায়ীদ আবুবকরের সিলেক্টেড পোয়েমস: ২০১০-২০১২ (২০১৩)। সায়ীদ আবুবকরের কবিতা অনূদিত হয়েছে স্প্যানিশ, গ্রিক ও ইংরেজি ভাষায়। ৪৩টি দেশের ৬৪ জন কবির কবিতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কবিতাসংকলন Poetry Against Terror যার প্রথম কবি হলেন সায়ীদ আবুবকর। তিনি বাংলা লিটারেচার নামে একটি ইংরেজি লিটল মাগাজিন সম্পাদনা করেন। কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে ২০০৮ সালের শব্দশীলন সাহিত্য পুরস্কার এবং সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য ২০০৯ সালের লালনপদক প্রদান করা হয়। অনুবাদের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় পাঁজিয়া সাহিত্য সম্মেলন সম্মাননা ২০১০। চল্লিশ বছর পূর্তিতে ২০১২ সালে উৎসঙ্গ সৃজন চিন্তন বিশেষ আয়োজনে ঢাকার কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কবি সায়ীদ আবুবকরকে প্রদান করে ৪০ বৎসর পূর্তি সংবর্ধনা। এছাড়া পেয়েছেন লেখকসংঘ পুরস্কার ২০১৪ ও ডিসিএল পুরস্কার ২০১৫। বিশ্ববিখ্যাত পোয়েম হান্টার-এর জরিপে সায়ীদ আবুবকর বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ কবির একজন।