খোকন সোনা দোলে / শামসুর রাহমান

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে,
দোলে নদীর জল।
দোলে আমার খোকন সোনা,
দোলে হীরের ফল।

সোনার গাছে ডাকছে ব’সে
কোন সে পাখি বল?
হীরামনের মিতা বুঝি
নামায় সুরের ঢল।

চাঁদ দোলে সুয্যি দোলে
দোলে ফুলের দল।
জোছনা-দড়ির দোলনা দোলে,
দেখবি সবাই চল।

Advertisements

ফতুর / শামসুর রাহমান

ও-পাড়ার ঐ লতু বেজায় চতুর,
হাজার কয়েক কড়ি ছিল লতুর।
অষ্টপ্রহর লেগেই আছে ভোজ যে,
গপ্ গপা গপ্ গিলত গজা রোজ সে,
গজা খেয়েই লতু হ’ল ফতুর।

আঁটুল বাঁটুল ছড়া / শামসুর রাহমান

আঁটুল বাঁটুল শামলা সাঁটুল, শামলা গেছে হাটে।
কুঁচবরণ কন্যা যিনি, তিনি ঘুমান খাটে।
খাট নিয়েছে বোয়াল মাছে, কন্যে বসে কাঁদে,
ঘটি বাটি সব নিয়েছে, কিসে তবে রাঁধে?
আর কেঁদো না, আর কেঁদো না, ছোলা ভাজা খেয়ো,
মাটির ওপর মাদুর পেতে ঘুমের বাড়ি যেয়ো।

চরকাবুড়ি / শামসুর রাহমান

চরকাবুড়ি চরকাবুড়ি চাঁদের ঘরে ব’সে
মেঘের পেঁজা তুলো নিয়ে চরকা ঘোরাও কষে।
নেই পাজামা, নেইকো জামা গোটা শহরটায়,
চাঁদের ঘরে কী করে যাই আজকে আদুল গায়?
চরকাবুড়ি টুকটুকে লাল একটা জামা দিয়ো,
তার বদলে শুকনো গালে হাজার চুমো নিয়ো।

জটিবুড়ির ছড়া / শামসুর রাহমান

থেনা থেনা থেনা ওমা বট পাকুড়ের থেনা,
আদ্যিকালের বটের কুড়ি জটিবুড়ির চেনা।
জটিবুড়ি জটিবুড়ি দোহাই ফিরে চাও,
ভরদুপুরে তোমার জটের ছায়া দিয়ে যাও।
জটের ছায়া হোক পুরানো, হোক-না কিছু ফিকে,
ভয় পেয়ো না, দামটি পাবে পুরো আড়াই সিকে।

খোকন গেছে ক্ষীরসাগরে / শামসুর রাহমান

আলুর পাতা আলুথালু বেগুন পাতায় দই,
সাতটা কাকে খেয়ে গেল, খোকন গেল কই?
খোকন গেছে পাঠশালাতে লাল গামছা গায়,
বইগুলো সব রইল পড়ে বুড়ো বটের ছায়,
খোকন গেছে ক্ষীরসাগরে ময়ূরপঙ্খি নায়।।

জল-টুপটুপ / শামসুর রাহমান

জল-টুপটুপ দিঘির পাড়ে ডালিম গাছের ডাল,
ডালিম গাছে জল ঢেলেছে খুকুমণি কাল।
তোতাপাখি লেজ নাচাল, ডালিম গাছে মৌ,
হঠাৎ দেখি ডুব দিয়েছে লাল শালুকের বৌ।
লাল শালুকের বৌ-এর মাথায় মুক্তো জমে ঐ,
মুক্তো নিল হাওয়ার রাজা, আমরা চেয়ে রই।

ছড়ার এ-বই / শামসুর রাহমান

আমার ছড়ার এ-বই পড়তে দেব কাদের?
এ-বই পড়ার মতো সময় আছে যাদের,
তাদের, তাদের, তাদের।

যারা জোছনা-রাতে দেখে পরীর নাচ,
যারা জানলা দিয়ে দেখে সোনার গাছ,
যারা হয়রে মাঝি নায়ের মতো চাঁদের,
চাঁদের, চাঁদের, চাদের,
আমার ছড়ার এ-বই হাতে দেব তাদের,
তাদের, তাদের, তাদের।

আমার ছড়ার এ-বই পড়তে দেব কাদের?
মিঠে দুষ্টুমিতে চক্ষু ভরা যাদের,
তাদের, তাদের, তাদের।

যারা বেড়ায় উড়ে পক্ষিরাজের পিঠে,
যারা জিরোয় ব’সে স্বপ্নবাড়ির ভিটে,
যারা ভেলকি বোঝে হঠাৎ মিলের ফাঁদের,
ফাঁদের, ফাঁদের, ফাঁদের।
আমার ছড়ার এ-বই হাতে দেব তাদের,
তাদের, তাদের, তাদের।