• ফের তুমি ভেবে দেখো / সাইফ আলি

    ফের তুমি ভেবে দেখো ফের তুমি একবার ভেবে দেখো মা প্রসব বেদনা শেষে দেখতে হবে কি কোনো ধর্ষক আচলে তোমার- ফের তুমি একবার ভেবে দেখো মা; তোমার মেয়ের লাশ সবুজের বুকে এঁকে দেয় পতাকা তোমার। আমাদের চেতনারা উলঙ্গ নর্তকী, নাচে; টকশোর ফুটো দিয়ে চোখ রাখি হতাশার অসুস্থ বুকে। ধুকে ধুকে শেষমেশ আবার নতুন কোনো ধর্ষক…


  • মহুয়া সুন্দরী / ফজলুল হক তুহিন

    সেদিন বিকেলে দেবদারু গাছের ছায়ায় তুমি আর আমি হেঁটে গেছি বহুদূর; মনে কি আছে তোমার সেই বাতাসের সুর? সবুজ ছায়ার মায়া ছেড়ে ঘাসের সবুজে দুজন বসেছি মুখোমুখি; আকাশের আলোয় তোমার মুখখানি দেখেছি অনেক সুখি। হাতে হাত রেখে দুচোখের মায়াবী খাঁচায় আমার স্বপ্নের সব পাখিরা স্বেচ্ছায় বন্দিত্ব নিলো, সপ্রতিভ তোমার হাসিতে ওরা খাঁচাছেড়ে আগামীর দিগন্তে উড়াল…


  • হে হৃদয়হীনা / সায়ীদ আবুবকর

    যতই সাজো না কেন, ধরবে না মরাগাছে বসন্তের রঙ ভরবে না ডালপালা পুষ্পে পুষ্পে, ডালে বসে গাইবে না পিক; যতই ঘষো না কেন, মুছবে না কিছুতেই সর্বাঙ্গের জং, ব্যর্থ হয়ে যাবে সব সোনা-রূপা, লেহেঙ্গা ও রক লিপস্টিক। তোমার শরীরজুড়ে জগতের কামনারা করে কিলবিল, ক্লিওপেট্রা, হেলেন ও মেরিলিন মনরোর নেশা জাগে চোখে; তাই বলে মৃত ডালে…


  • ম্যানটিস প্রিয়তমা / সায়ীদ আবুবকর

    কি জাদুমন্ত্রে করেছিলে মন চুরি, অতঃপর তুমি দিয়েছিলে কাছে ডাক; নিঃশ্বাসে ছিলো কামনার কস্তুরি কাছে যেতে যেতে হয়ে যাই নির্বাক সম্ভোগসুখ কেড়ে নেয় শেষে হুঁশ, বৃষ্টির মতো ঝরছিল তবু কিস; মনে হয়েছিল নিজেকে অরফিয়ুস আর তোমাকে যে সোনালি ইউরিডিস তারপর, হায়, কিছু আর মনে নেই খুঁজে পেলো লোকে নিথর একটি লাশ জগত জানলো দুঃসংবাদ এই:…


  • গাছীর গান / সায়ীদ আবুবকর

    জিড়ন রসের মতো তোমার যৌবন, যুথিমালা; তোমার খেজুরগাছে আজ আমি দিনান্তের গাছী, কাটবো পৌরুষ দিয়ে তোমার দুচোখে যত জ্বালা, তারপর রস দিও, বসতে দেবো না কোনো মাছি ছ-কুড়োর মাঠে আজও ছোলার কি-চমৎকার চাষ, সেই ছোলাগাছ তুলে পুড়াবো উঠানে মাঝরাতে; তারপর তোমার ঘরে হালাকুর চলবে সন্ত্রাস, পৌষের পবন আর স্তব্ধ রাত্রি কেঁপে উঠবে তাতে জিড়ন রসের…


  • আহত / সাইফ আলি

    আহত চোখ তার দেখেনা নীলাকাশ যতই বড় হোক বুকের পাটাতন আহত হাত তার ছোঁয় না শাদাকাশ যতই অনাবিল হোক সে কাশবন। আহত ঠোঁট তার বলেনা কথা আর বুকের অন্দরে দ্বন্দ্ব সংঘাত, আহত আঙ্গুলে ব্যথার সংসার ফুলের পাপড়িও ছোঁয় না ভীরু হাত। আসলে আহত সে মনের হীনতায় তাইতো কেঁদে মরে অশেষ দীনতায়।


  • অনুকবিতা ০৪ / সাইফ আলি

    একটা গোলাপ তোমার হাতে মানাচ্ছে না ফুল ব্যাপারি, বালতি ভরা গোলাপ তোমার নিত্য দিনের খবর না? আজকে কেনো লাল গোলাপের ভিন্নরকম উপস্খাপন; আজকে চেনা গোলাপ কাটাও খোচাচ্ছে খুব যবর না?


  • বৃত্ত / সাইফ আলি

    নিজের পিঠে চুমু খাওয়ার উপায় তুমি জানবে সেদিন যেদিন তোমার কালের বৃত্ত পূর্ণ হবে।


  • স্বপ্নগুলো অন্যরকম / সাইফ আলি

    একটা বুনো পাখির পাখায় জড়িয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো হাওয়ায় হাওয়ায় ছন্দ আনে; সেও কি তোমার আমার মতো জীবনবোধের নামতা জানে? স্বপ্নগুলো অন্যরকম কেমন যেনো বাস্তবতার ধার ধারে না, বুনো পাখির লেজ ধরে সে গাছে গাছে বেড়ায় ঘুরে সংসারে না একটুও তার মন বসে না। আচ্ছা সে কি যোগ বিয়োগের বালাই জানে? জেনেই কি লাভ, তার চেয়ে…


  • ভালোবাসা মরে গেলে / সাইফ আলি

    ভালোবাসা মরে গেলে কিছুতেই হবেনা কিছুই ভালোবাসা ছাড়া কোনো মানবতাবাদ টিকবেনা। ভালোবাসা ছাড়া কোনো অবতার আনেনি কিতাব ভালোবাসা ছাড়া কোনো ধর্মের ভিত টিকবেনা।


  • অল্প / সাইফ আলি

    অল্প আমার অল্প হয়েই থেকো অল্পটা খুব টেস্টি হয়, ভরি ভরির চাইতে সে ঠিক বেস্টই হয়। সাত বেলা যার কোরমা পোলাও চলে তার কাছে ঝল-পান্তাটা টলটলে সাত তলাতে বাস করে যেই লোকে মাঝ রাতে ঘুম যায় ছুটে তার কুড়ে ঘরের শোকে। অল্প তুমি বেশির খাতায়? না না… পা রেখো না; মানা।


  • গল্পটা / সাইফ আলি

    গল্পটাতে হঠাৎ হঠাৎ মোড় ছিলো একটু বাদেই রাস্তা বাঁকা পূর্ণ এবং হঠাৎ ফাঁকা গল্পে গরু মেঘের উপর চড়ছিলো। গল্পটাতে রস ছিলো না তেতো তবুও শ্রোতা আরাম করেই খেতো, কিন্তু কড়া ঝাল ছিলো সেই কারণেই কানদুটো খুব লাল ছিলো। গল্পটাতে প্রেম ছিলো না তাই বলে খুব লেম ছিলো না প্রেম ছাড়াকি গল্প থাকার জো নেই গল্পটা…


  • যা দেখাও তাই দেখি / সাইফ আলি

    যা দেখাও তাই দেখি চোখ আছে তাই যা শোনাও তাই শুনি কানের বালাই নিজ থেকে বিচারিবো এতো জোর কই? মগজ ঘাড়েতে ছিলো! মাথা ভরা (মিডিয়ার) খই। নিজেরে চিনিনে শুধু ছোট ছোট লাগে, মিলেও মেলেনা তাই অভাগার ভাগে। আমরা করেছি ছোট নিজ সন্তান, ভেবে- ‘লাটের ব্যাটার ধড়ে দু’টো কোরে জান!’


  • তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন / সাইফ আলি

    তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন শুধু কথা মতো নাচবে তা ধিন, তুমি বলো তার মুক্ত ডানায় সোনার শিকল আহা চরম মানায়। তুমি বলো তার কণ্ঠ মধুর তবে তাল লয় ভুল ভুল ভুল, এই মাপকাঠি মানলে তবেই সব ঠিক আছে সব নির্ভুল। তুমি বলো পাখি থাকবে স্বাধীন শুধু এই দাগ পেরোতে মানা, সোনার খাঁচাটা ভেঙে বেরোতে…


  • নসিহত / সাইফ আলি

    কিছুদূর যেয়ে সোজা তারপর বাক নিও আলগা পিরিত ছেড়ে কিছু রাখঢাক নিও বেপোরোয়া চলনের অভ্যাস বদলিও প্রয়োজনে মাঝে মাঝে নাম ‘নির্বোধ’ নিও অকারণে দু’চারটা থাপ্পর খেলে খাবে তাতে যদি প্রেস্টিজ যায় কিছু যাক যাবে তবু তুমি প্রতিবাদ না না সেটা করবে না মুঠো কোরে কলারটা না না তুমি ধরবে না একটাই জীবনের মূল্য কি বুঝবে…


  • কবিতার ফিটনেস / সাইফ আলি

    ফিটনেস দেখে নিস কবিতার কলকাঠি জাগামতো আছে কিনা দুটো চড় ঘুষি খেলে বাঁচে কিনা ঠিকমতো খোঁজ নিস কবি তার কে বা করতে পারবে কিনা জনতার সেবা। হাত-পাও নাড়ে কিনা মাথা আছে ঘাড়ে কিনা টনটনে বুকে পিঠে চর্বি জমেছে কিনা, কোনোদিন কোনোখানে পিরিতে মজেছে কিনা দেখেশুনে নিস! তার আগে বল বেটা, কবিতা চিনিস?


  • মা / সাইফ আলি

    চোখের কারিসমা তোমার অল্পেই বুঝে ফেলো সব অনুভুতি প্রখর তোমার সহজেই করো অনুভব! যাকিছু মলিন ছিলো তোমার ছোঁয়ায় ওঠে হেসে তবু তুমি এভাবে আচলে কেনো ঢাকো মুখ? অবশেষে তোমাতেই তৃষ্ণা মিটাই; তুমিই জলধি মাগো তোমাতেই প্রান ফিরে পাই।


  • কৃষক / সাইফ আলি

    মন্ত্রমুগ্ধ আমি পাঠ করি তোমার কবিতা ওগো কবি, তোমার কপাল চুয়ে নেমে আসে কবিতার ঘাম তোমার পেশিতে খেলে যাদু মাঠে মাঠে কবিতার বীজ দাও বুনে সবুজের অঙ্কুরে আগামীর স্বপ্ন দেখাও তোমার দু’হাত ভরে সোনার কবিতা হাসে তুমি তাতে গোলা ভরো; আহা! আমরা কবিতা পড়ি, মুখে মুখে আওড়াই তুমি করো চাষ! তোমার কবিতা শুনে, দেখে, খেয়ে,…


  • এই কবিতা / সাইফ আলি

    এই কবিতার কণ্ঠ চাপুন কঠোর হাতে এই কবিতার কারখানাতে আগুন জ্বালান এই কবিতা বিষ্ফোরণে আগুন জ্বলে এই কবিতা বসত বাধে বুকের ভীতর অতল তলে। এই কবিতা বক্তৃতা দেয় মঞ্চে উঠে বেফাঁস কথা ফাঁস কোরে দেয় যখন তখন এই কবিতা মন বোঝে না এ সরকারের হর-হামেশা নানান ছুতোয় মগজ কলে আগুন লাগায়! এই কবিতা ঘুমিয়ে থাকা…


  • মৃত্যু / সাইফ আলি

    মৃত্যু ঘনিয়ে আসে সন্ধ্যার পাড়াগাঁর মতো ছোট পরিসরে, মৃত্যু ঘনিয়ে আসে চোখের নিমেষে। এমন অনেক নীড় থাকে কোনোদিন ফেরেনা পাখিরা এলোমেলো বাতাসের মোহে খুলে পড়ে কুটোর সেলাই মৃত্যু এমন এক বাতাসের ঢেউ হৃদয় আলগা কোরে খুলে ফেলে সমস্ত ফোঁড় পরিত্যক্ত হয় সখের কাঁথারা…।