• তুমি ঘন হও / সাইফ আলি

    আহা মেঘ! কতোদিন পর তুমি এলে আমাদের ‍বিস্তৃত তৃষ্ণার ভুঁই চৌচির ফেটে নদীর পকেটে নেই মাছের বিস্তার পদ্মার তিস্তার পেটে বালির সংসার; চলছে ড্রেজিং… তুমি ঘন হও, গাঢ় হও কালো হও তবু নামুক বৃষ্টির ফোটা গোটা গোটা যৌবন সুধায় ভিজুক এ চোখ।


  • কলমের ঘোরাফেরা / সাইফ আলি

    কলমের ঘোরাফেরা বাড়াচ্ছে পরিসর উত্তর দক্ষিণ পূর্ব বা পশ্চিম ভুলে উপর নিচের যত খবরাখবর টেনে তুলে রাখছে সে এমন খাতায় পাতায় পাতায় যার জীবন মৃত্যু আঁকে ছবি শোনো কবি, কলমের ঘোরাফেরা থামিওনা বুদ্ধির প্যাচে যখন হৃদয় তার গন্ডির অনুভুতি স্যাচে।


  • ডানে সমুদ্র বায়ে বৃষ্টি / সাইফ আলি

    বাপাশে একটা ঘন মেরুন দুঃখ জমলে ডানপাশে নীল সমুদ্র বিছাবো মাথার ভীতরে চক্কর কাটা চিলটাকে একবার শান্ত হয়ে বসতে বললাম। বললাম- ভাবিসনে, এই নীল সমুদ্র যেই আকাশের প্রতিবিম্ব সেই আকাশ পুরোটাই তোর। রাডার ফাঁকি দিয়ে চিল তবু সেই নীল জলে আছড়ে পড়ে; মেরুন দুঃখগুলো মেঘ হয়, বৃষ্টি আনে; ডানে সমুদ্র বায়ে বৃষ্টি!!


  • অনুকবিতা ০৩ / সাইফ আলি

    হাওয়ায় দুলে দুলে প্রথম পালোকের পতনের পর একে একে সবকটি পালকের শৈল্পীক পতন দৃশ্য এতটাই মজালো তোমাকে!! হে পাখি… পালোকবিহীন তুমি উড়বে কিভাবে!? তোমার পতন তুমি ঠেকাবে কিভাবে??


  • অনুকবিতা ০২ / সাইফ আলি

    চেতনার ফেরীওয়ালা চেতনার বীজ করো ফেরী আমি সেই বীজ এনে ভেজে ভেজে খাই ভুলে যাই বপনের কথা…


  • সিরিয়ার শিশুটা / সাইফ আলি

    সিরিয়ার শিশুটার চোখ নেই, কাঁদে না মুখ নেই, হাসে না বোধ নেই, নির্বোধ! বোঝেনা এ যুদ্ধের সার কি মরছে মানুষ তাতে কার কি!? সিরিয়ার শিশুরা কি নিষ্পাপ!? সভ্যরা কথা বল, মুখ খোল; মুখ পোড়া জানোয়ার মুখ খোল। যুদ্ধের মাঠ কেনো শিশুদের দোলনা পুড়ছে কি? সিরিয়ার মায়েদের কোল না?? সিরিয়ার শিশুটার ভাষা নেই, চোখে চোখ রাখ,…


  • একান্ত বাক্যেরা-২৪ / সাইফ আলি

    ভাবছো তুমি ভাবছে না মন তোমার কথা কেনো এমন ভাবনা তোমার আমার নিয়ে আমার যে আর অন্য কাজে বসছেনা মন তোমার নিয়ে হর-হামেশা ভাবতে গিয়ে।


  • যদি উড়াতেই চাও / সাইফ আলি

    তুমি ফিরে যাও শোনো হাওয়া আমার সরল অংকে পাওয়া এই পাতাদের সংসারে আর করোনাকো গরমিল। তুমি ফিরে যাও খুব ধীরে আমার জমে ওঠা স্মৃতিধুলো আর উড়ায়োনা তুমি শোনো যাও, এসোনা এখানে ফিরে। আর যদি উড়াতেই চাও আমার ধুলোবালি পাতা সব আমি কান পেতে যেনো শুনি ফের নতুনের কলরব আমি শুন্যতা মানবো না কোনো মৌনতা মানবো…


  • একান্ত বাক্যেরা-২৩ / সাইফ আলি

    হাজার গল্প এক কবিতার উপমায় মেলে যেখানে সেখানে তোমার চোখ আমি উপন্যাসের ডায়রিতে লেখি ছড়া তুমি পড়ো, তুমি কি পড়ো?


  • কি নাম যে তার / সাইফ আলি

    কে ছিলো হাতের মুঠোয় অন্য হাতে জাদুর কাঠি চোখে কে কাব্য ছিলো ঠোঁটের আফিম কার ছিলো তা কে ছিলো সরল সুখে এবং সরল বিষণ্নতায়। কে ছিলো হৃদয় গলে হুড়মুড়িয়ে ক্লান্ত সময় পায়রার ঢং নিয়ে কে ঘাঁড় বাঁকিয়ে, কি নাম যে তার!!?


  • রসের প্যাচাল ০২ / সাইফ আলি

    গতরে গতর পাও এর নাম ভালোবাসা ভাবো আমি বলি আংশিক সত্য তা বটে পুরোপুরি প্রেম শুধু হৃদয়েই ঘটে। হৃদয়ে তালাশ দাও সেখানে কে আসন পেতেছে দু’দেশে দু’জন তবু কি দারুণ প্রণয়ে মেতেছে!


  • রসের প্যাচাল ০১ / সাইফ আলি

    হৃদয়টা এক আন্ডা হলে কুশুম হতে তুমিই রানী, এমন কেনো প্যাচার মতো করছো নিজের সুরতখানি!? রাগলে তোমার ভাল্লাগে না সত্যি বলতে গাল লাগে না অভিমানের উঠলে কথা গোলাপ তুমি সত্যি মানি।


  • আমরা অপেক্ষায় আছি

    তারপর আমাদের ফেরার কোনো পথই খোলা থাকবে না আমরা আমাদের লোভের সাম্রাজ্যে প্রবেশ করছি আমরা তো জানতামনা এমন নয় আমরা তো বিবেককে নির্দয়ভাবে অস্বীকার করেছি! সূর্য উঠলেই অন্ধরা চোখে দেখবে না বাতাস শব্দকে বহন করলেই শুনবে না বধির- হৃদয়ের প্রতিটি শব্দকে অস্বীকার করে আমরা আজ মস্তিষ্কের দাসত্ব মেনে নিয়েছি! এক টুকরো চকচকে সভ্যতার ডিমে তা…


  • আমি গ্রহন করবো না আমাকে / সাইফ আলি

    তোমার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সূর্যকে পাহারাদার বানালাম রাত তোমাকে আশ্রয় দেবে ভেবে অন্ধকারের সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলো বাতাস তোমার শব্দ বহন করবে না নদীর জল তোমার দানব জাহাজকে ভাসিয়ে আনবে না আমাদের সবুজ গ্রামে অথচ কি নিষ্ঠুর তুমি  আমাকেই তোমার দূত বানিয়ে নিলে তারপর একের পর এক নিজ হাতে জ্বালিয়ে দিলাম আমার সব শস্যখেত… দেখো, আমার…


  • অনুকবিতা ০১ / সাইফ আলি

    পাতায় পাতায় চোখ পেতেছি ফাগুন তুমি আসলে না তোমায় পেলাম হলুদ শাড়ি তরুণিদের মাথায় মাথায়…


  • হাত ধরেছি অন্ধকারে / সাইফ আলি

    এবং তোমার দুঃখগুলো ধুইয়ে দিতেই হাত ধরেছি হাত ধরেছি অন্ধকারে; হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে অন্ধ হলাম অন্ধ এমন দুচোখ বুজে খুব সহজেই পেলাম তোমার হৃদয় হাতে হাতের মুঠোয় তোমার দু’হাত চোখের গভীর শীতল স্রোতে ভাসিয়ে দিলাম আমার ভেলা এবং তুমি সঙ্গে ছিলে!


  • খুড়িয়ে খুড়িয়ে আর কতদূর / সাইফ আলি

    খুড়িয়ে খুড়িয়ে আর কতদূর যাবে হে জননী? উল্টেছে পায়েসের থালা, দুধের বাটিটা আমাদের মুখে মুখে সোনার চামচ! শূন্য চামচ করে আয়নার কাজ, মলিন ঠোঁটের ছবি তিলহীন ঠোঁট কাপে কান্নায় ক্ষোভে তোমার ছেলেরা মাগো খাবারের লোভে তোমার আচল বেচে বনে গেছে বিরাট বণিক অথচ গোলায় তার তিনবেলা ব্যাঙের বিলাস!


  • তবুও প্রেম ছিলো / সাইফ আলি

    পাহাড় জানলো না মেঘের কোনোকথা ঝর্ণা শুনলো না সমুদ্রের গান তবুও প্রেম ছিলো; আকাশ ভিজে ছিলো প্রেমের বৃষ্টিতে- ফুলেরা বেঁচে ছিলো মাটির ঘ্রাণহীন পাখির বাসা ছিলো পুরোন খড়খড়ে, তবুও ফুল ঝরে মাটির বুক ছোঁয় গভীর প্রেম থাকে পাখির দৃষ্টিতে।


  • একান্ত বাক্যেরা-২২ / সাইফ আলি

    তোর আওলা চুলের চঞ্চলতায় ঝরুক রোদ আর বুকের ভিতর বকুল ফুলের ঘ্রাণ জমুক আমি পাখির মতোন ডানায় লুকোয় দুঃখ সব আর রাতের গভীর অন্ধসুখে পথ হারাই।।


  • একান্ত বাক্যেরা-২১ / সাইফ আলি

    কালো পাখি জানালায় কালো পাখি বাসা বাঁধে পরাণের ভাজে কালো পাখি গান গায় এবং লুকায় মুখ নিরবে সলাজে…