• শিকড় / সাইফ আলি

    চোখ বুজে যে কাটছো শিকড়; শিকড়টা কার? পড়বে যখন নিজেই ধ্বসে তখন তোমার ফিরবে চেতন- বিজয় কেতন থাকবে তখন ধুলায় লুটায়।


  • ঘুরে ঘুরে খেলা করে / সায়ীদ আবুবকর

    কেবলি কোকিল আর কেবলি কুসুম যে-বনে; যে-মাঠে কেবলি শস্যের মেলা; যে-আকাশে কেবলি ষোড়শী চাঁদ আর তার নিজঝুম রূপের ঔজ্জ্বল্য; যে-জলে সাঁতার কাটে কেবলি চিতল মাছ; সেখানে আমার হৃদয়ের হোলি খেলা। আমার হৃদয় জোছনার মতো ঘুরে ঘুরে খেলা করে পৃথিবীর সব সুন্দরে সুন্দরে। ১১.৯.২০১৪ মিলন মোড়, সিরাজগঞ্জ


  • নদী ও নারী / ফজলুল হক তুহিন

    আমার সামনে দিয়ে বয়ে বয়ে যাচ্ছে কীর্তিনাশা; যেমন অনন্তকাল ধরে মানুষের রক্তে স্বপ্ন-আশা, তুমি কাশবনে আছ দাঁড়িয়ে, আমার পাশাপাশি; একদিকে নদী আর অন্য পাশে তুমি, মধ্যবর্তী আগন্তুক আমি শুনি দুজনের ভাষা। নদী আর নারী চিরকাল সভ্যতার সৃজনে চেতনে; আমরা মুগ্ধতা নিয়ে বের হই পৃথিবী ভ্রমণে, রোমাঞ্চিত, আনন্দিত, তৃপ্ত হয়ে ফিরি ঘরে, স্বাভাবিক জীবনযাপনে আবারো অভ্যস্ত…


  • তোমার সুঘ্রাণ / সায়ীদ আবুবকর

    হৃদয় ভরে আছে তোমার সুঘ্রাণে, কী হবে বলো আর ফুল দিয়ে; মিষ্টি মধুমতী বয়েছে দুই প্রাণে, কী হবে হেঁটে আর কূল দিয়ে! কী হবে চৈতালি চকোর পাখি দিয়ে যখন বুকে তুমি জুড়েছো গান; রেখেছো বুঁদ করে সজল আঁখি দিয়ে- কী হবে করে আর অমিয় পান! কিসের বসন্ত, কিসের মধুমাস যখন আছো তুমি বুক জুড়ে; মিথ্যে…


  • তবে চোখ বুজেছি / সাইফ আলি

    আমি ঘুমিয়ে গেলেই নাকি নামাও জোসনা উঠোন জুড়ে, তবে চোখ বুজেছি প্রিয় তুমি সাজাও আমার কুড়ে। আমি বলবো কথা ভেবে তুমি আড়াল খোঁজো যদি, জানি আকাশ-বাতাস বোঝো এবার একটু বোঝো নদী। আমি খাঁচার পাখি করে তোমায় রাখবো এমন ভয়? তবে চোখ বুজেছি নামো ভোলো মিথ্যে ও সংশয়।


  • শব্দ ছিলো জলের / সাইফ আলি

    শব্দ ছিলো জলের এবং গভীর তলের শব্দ ছিলো মিহি বাতাস চলাচলের। শব্দ ছিলো মেঘের বৃষ্টি ভেজা পাতার এবং কিছু কথা, কলম, খেরো-খাতার। হঠাৎ কিযে বিকট শব্দ; একি বোমার? সভ্যতা নও রানী; লজ্জা ঢাকো তোমার।


  • আপনারা আছেন বলেই / সাইফ আলি

    আসুন (এক টুকরো প্রশংসার রুটি ঝুলিয়ে দিয়ে) আপনারা আছেন বলেই… এই যে দেখুন, ভালো করে দেখুন এখানে; আপনাদের বদান্যতায় বেঁচে আছে কোনোমতে! (স্বপ্নেরা; মুমূর্ষু) দেশের মঙ্গল! ওটা নিয়ে আপনারা ভাবেন, আমাদের ছোটো মাথা- সেকি উঠলেন? চা না খেয়েই! (চারপায়ে) একটু দাঁড়ান; এর চেয়ে বেশি আর পারবো না। স্লামালেকুম স্যার (শুয়োরের বাচ্চা) আবার আসবেন।


  • শিশিরে আঁধার / সাইফ আলি

    শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে আলোরা মেতেছে ওপাড়ায়, মিছিল শিখেছে আপোষের সুর শ্লোগানে কাঁপেনা ধমনীর জমা খুন! নদীরা সরল, ঝরনা সরল এবং পাহাড় এখন কেমন অবকাশ প্রিয়, এখন কেমন আপোষের কারু বেয়াড়া ষাড়ের বাঁকানো সিঙেও! শিশিরে ভীষণ আঁধার জমেছে কলমে ওঠাও সকালের তরজমা, মিছিলে জাগুক দ্রোহের কবিতা শ্লোগানে কাঁপুক ধমনীর জমা খুন।


  • পথ ভুল হলে / সাইফ আলি

    পথ ভুল হলে আশ্রিত হবো আকাশ পাড়ায় আমার আবার হারাবার ভয়! শুধু ভয় হয় তুমি না আবার মেঘ হয়ে যাও বৃষ্টির মতো উপঢৌকনে ভিজলে উঠোন ফেরানোর কোনো অযুহাত থাকবে না! ফুল খুটে খুটে অবসরটুকু পার হয়ে গেলে ব্যস্ততা হয়ে সামনে দাড়াও, তড়িঘড়ি আমি ফুল ফেলে দিয়ে ব্যস্ততা ছুঁই তখন তুমিই প্রিয় অবসর, ফুল হয়ে যাও;…


  • একান্ত বাক্যেরা-১৭ / সাইফ আলি

    অনেক আলোর রঙ মেখে আমি আঁধারে ধুয়েছি মুখ; অনেক দিনের গন্ধে আমার ভিজেছে জোনাক রাত- তুমি আঁধার হয়ো গো রানী- আমি রাজ্য বিছাবো পায়।


  • বসন্ত / সায়ীদ আবুবকর

    বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, পলাশ আনন্দে ভাসছে বন; কৃষ্ণচূড়াগাছে আগুন লাগা দেখে রাধার মতো নাচে পাখির মন। পাখিরা গান গায়, নদীর ঢেউ নাচে, ফুলেরা উল্লাসে ছড়ায় বাস; নতুন পল্লবে ভরেছে ডালপালা- পড়েছে তার প্রেমে বুনো বাতাস। বাতাস ভিজে গেছে শিমুলসৌরভে, জোছনা তার ’পরে ছড়ায় রঙ; পড়েছে খসে সব জরা ও জীর্ণতা, শুকনো পাতা আর পুরনো…


  • সবুজের সম্মোহন থেকে / ফজলুল হক তুহিন

    ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’- আমি আর তুমি হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি ঘাসে ঘাসে, পায়ে পায়ে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে আনন্দে ভাসছে ঘাসফড়িং, আমার মন; বৃষ্টিভেজা মাটির সুবাস চেতনায় সারাক্ষণ! আমাদের সামনে-পেছনে-পূর্বে ও পশ্চিমে সবুজ প্রান্তর, তোমার চুলের আকর্ষণে মেঘপুঞ্জ নেমে এসেছে ঐ দেখ, কখন যে ভিজিয়ে দেয় সে, ভয়ে উদ্বিগ্ন অন্তর! তোমার শাড়িতে লুটোপুটি দিয়ে…


  • বৃষ্টির কোনো রঙ নেই / সাইফ আলি

    আমি যদি আকাশ হতাম- বুকের মধ্যে স্তরে স্তরে জমা হতো নানা রঙের মেঘ কিন্তু বৃষ্টির কোনো রঙ থাকতো না; সুখ সে যে রঙেরই হোক অনুভূতির কোনো রঙ থাকতে নেই, দুঃখ সে যে রঙেরই হোক কান্নার কোনো রঙ থাকতে নেই।


  • মৎস্যকন্যাদের কথা / সায়ীদ আবুবকর

    জোছনা ডুবে গেছে সমুদ্রের নিচে, কৃষ্ণ জলরাশি কাঁপছে থরথর- মৎস্যকন্যারা ঘুমায় সী-বীচে; আস্তে ফেলো পা, যাবে যে ভেঙে ঘুম। জোছনা ডুবে গেলে সী-বীচে আসে তারা, এলিয়ে দেয় দেহ মুক্ত হাওয়ায়; যখনি উঁকি মারে আকাশে শুকতারা, পালায় দল বেঁধে জলের হিমঘরে। আস্তে ফেলো পা, একটু আওয়াজেই আঁতকে ওঠে তারা, যেন বা ভীত মৃগ; একটু জোরে বয়…


  • জীবনের মানে / ফজলুল হক তুহিন

    আমি পদ্মা আর তুমি স্বচ্ছ যমুনার ধারা দুটি স্রোত মিলিত হয়েছে প্রেমের বিন্দুতে, বর্ষায় ছাপিয়ে ওঠা দুই কূল আত্মহারা চলো ছুটে চলি পূর্ণতার বঙ্গোপসাগরে। মাঝপথে পার্থিব পলির চর কেনো তোলো? কেনো বাঁধতে চাইছো ঘর, ফসলের চাষ; গড়ে তুলতে কী আগামীর প্রজন্ম আবাস? নারী, তুমি বুঝি জীবনের পূর্ণতা চাও না? কী হবে এখন আর ঘর বেঁধে…


  • সুখী মানুষ / সাইফ আলি

    সুখী কাগজের ভূমিকায় তুমি নানা রঙে ওঠো সেজে, মৃদু বাতাসেই কণ্ঠ তোমার নানা সুরে ওঠে বেজে। সুখী মানুষের তকমাটা তবু কপালে জুটলো না; আহা! বসন্ত ফুটবে ফুটবে কিছুই ফুটলো না।। সুখী মানুষের দশ তলা বাড়ি, এসি গাড়ি নাকি থাকে কোলের ভেতরে জাপটিয়ে নাকি টাকার বালিশটাকে তারা ঘুমোয়; তাদের ঘুম হয়!? সেকি জেগেই উঠলো; না!? আহা!…


  • সর্ষেফুলনামা / সায়ীদ আবুবকর

    সর্ষে খেতগুলো হলদে শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে থরথর সর্ষেফুল হয়ে পোহায় রোদ্দুর আমার অন্তর আমার অন্তর পোহায় রোদ্দুর সর্ষেফুলে ফুলে যে-ফুল ঝিরঝিরে বাতাস লেগে ওঠে পুলকে দুলে দুলে মধুপ দল বেঁধে বেড়ায় উড়ে উড়ে, কুড়ায় অমৃত তার পরশ পেয়ে তনু ও অন্তর মিষ্টি, সুবাসিত অমরাবতী বুঝি এসেছে নেমে, ঘ্রাণে ভরেছে দশ দিক- কে গায় গান বনে?…


  • বনসাই / ফজলুল হক তুহিন

    তুমি যে সবুজ বনসাই আমাকে দিয়েছো, সেটা বনসাই হয়ে থাক, তা আমি চাই না। আমার বাগানে আমি সেটা লাগাব, ঢালব পানি রোজ যত্ন নেবো, ছোঁবো; কিছুতেই রাহাজানি হতে দেবো না; হোক না সৌন্দর্যের জানাজানি পরওয়া করি না কারো, ঝড়ের ভয় পাই না। সময়ের সঙ্গে বড় হবে বটের গাছটি সুখস্বপ্নসাধের পাখিরা নেচে যাবে ডালে ডালে, জীবন্ত…


  • কিসের আলো লেগে / সায়ীদ আবুবকর

    কিসের আলো লেগে উঠলো জেগে কায়া, উঠলো জেগে মন। জগত মনে হলো স্বপ্নশতদল, কুহককাঞ্চন।। দুচোখে লেগে আছে শুধুই সুন্দর, শুধুই অনাবিল। গদ্যকবিতারা ধরেছে বুকে ফের ছন্দ আর মিল।। রাত্রি হলো শেষ, প্রভাত চারদিকে এবং শুভ্রতা। ফুলেরা জেগে উঠে ছড়ায় সৌরভ, পাখিরা সুরকথা।। যে-আলো চোখে মেখে ত্রিকাল দেখেছিল হোমার-সফোক্লিস। সজিনাগাছে আজ সে-আলো পান করে দোয়েল দেয়…


  • স্বপ্নমাখা আলোয় / ফজলুল হক তুহিন

    জীবন কাটতো সাদামাটা বর্ণবিহীন, চালচুলোহীন, বাউন্ডুলে যেমন করে ঘুরে বেড়ায়, আমার তেমন পথে-ঘাটে-স্টেশনে অলস ধূসর সময় যেত অকারণে। নাই কোন কাজ, নাই কোন সাজ, ধুলো শুধু দুই চরণে। হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেলো জীবন আমার অঙ্গার হওয়া অন্তর এখন উর্বর সবুজ শ্যামল শুকনো বিলে জল থৈ থৈ মাছের আনাগোনা দীন ভিখেরির হঠাৎ রাজা হওয়া শূন্য…