• আহ্ আমি যদি পারতাম / ফজলুল হক তুহিন

    তাদের মতন আমি যদি ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম তিন শ বছর দূরের কোন গুহায় কিংবা নিজ বাসস্থানে। জেগে উঠে আমার শহর কতটা বিশ্বাসী আর কতটা মৃত পাথর হলো তা দেখতে পারতাম। আহ্ আমি যদি পারতাম- কী নিশ্চিন্তে, প্রশান্তিতে ঘুমের মধ্যেই বয়ে যেত এক একটি শতাব্দী দেখতে পেতাম আকাক্সক্ষার শান্তিগন্ধী সবুজ শহর, সুখময় গ্রাম আমার ভ্রমণ হতো…


  • উৎসর্গ কবিতা (আমার কোথাও যাওয়ার নেই) / সায়ীদ আবুবকর

    কেশবপুরবাসী শরীর শীতল করে, ভিতর শীতল করে এই ঘোলাপানি, এ পানিতে স্নান করে ভোরের দোয়েল আর আমার হৃদয়; পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ এখনও আগের মতো করে কানাকানি তখন এ নদ দেখে কত মধু মধুদেশে মহাকবি হয়! অন্য কোনোখানে গিয়ে বাঁচবো কি একদিনও এ জমিন থুয়ে? বিদেশবিভুঁই গিয়ে কী করে মানুষ বাঁচে, আমি ভেবে মরি; আমার কেশবপুর…


  • মুখ ও মুখোশ থেকে বেরিয়ে / আল মাহমুদ

    কতবার তোমাকে বলেছি যে দেখো আমার কোনো প্রতিযোগী নেই আমার পরাজয়ের সম্ভাবনা যেখানে ষোল আনা সেখানে আমি কার সাথে দৌড়াবো? তাছাড়া আমার গতি সুনির্দিষ্ট কিন্তু আমার গন্তব্য অনিশ্চিত কে জানে সেখানে কি আছে, পুরস্কার না তিরস্কার? তবে সকলেই জানে আমার আরম্ভের কথা। মায়ের ওম থেকে বেরিয়েই আমার শুরু। এ কোনো খেলা নয়, আমার পিতৃপুরুষেরাই আমাকে…


  • জাগরণ / কাজী নজরুল ইসলাম

    জেগে যারা ঘুমিয়ে আছে তাদের দ্বারে আসি ওরে পাগল, আর কতদিন বাজাবি তোর বাঁশি! ঘুমায় যারা মখমলের ওই কোমল শয়ন পাতি অনেক আগেই ভোর হয়েছে তাদের দুখের রাতি। আরাম-সুখের নিদ্রা তাদের; তোর এ জাগার গান ছোঁবে নাকো প্রাণ রে তাদের, যদিই বা ছোঁয় কান! নির্ভয়ের ওই সুখের কূলে বাঁধলযারা বাড়ি, আবার তারা দেবে না রে…


  • জীবন-বন্দনা / কাজী নজরুল ইসলাম

    গাহি তাহাদের গান – ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান। শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে। বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা। যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে। এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু – তারাই গাহিল…


  • যেখানেই দৃষ্টি রাখি / সাইফ আলি

    যেখানেই দৃষ্টি রাখি পুড়ে যায় ভেঙেচুড়ে খান খান হয়ে যায়, রোদেলা দুপুর হঠাৎ বিমর্ষ মেঘে ঢেকে যায়; অন্ধকারে ডুবে যায় সকালের মিঠে আলো। যেখানেই চোখ রাখি, যেখানেই রাখি এই স্বপ্নালু দৃষ্টি আমার- কবুতর ঘর ছেড়ে পাড়ি দেয় বহুদূর বনে, তছনছ হয়ে যায় ভিটেমাটি চিরায়ত শান্ত এ নদীর হঠাৎ ভাঙনে! ধানখেত পুড়ে যায়, ভেসে যায় হাওড়ের…


  • তার কথা ভাবলেই / ফজলুল হক তুহিন

    তার কথা ভাবলেই কেন যেন অসংখ্য নদীর স্রোত চোখের সুস্বচ্ছ ক্যানভাসে আকাঁ হয়ে যায়। সেই স্রোত বাংলাদেশের মানচিত্র করেছে প্লাবিত জীবন্ত, শোভিত- বিশ্বাসের পাল ওড়ে পদ্মা মেঘনা ও যমুনায়। দশ দিগন্তে, পদ্মার ঢেউয়ে যে নাম ধ্বনিত পিতৃপুরুষের জন্মভূমি যার প্রাণে আলোকিত সময়ের অন্ধকার রাত তার হাতে পরাজিত তিনি আমাদের আত্মার বাদক- শাহ্ মখদুম। তার বিশ্বাসের…


  • আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন / আবদুল মান্নান সৈয়দ

    [হযরত আলী রা. -এর বর্ণনানুসরণে] তিনি ছাড়া কেউ জ্ঞানী নয়, সকলেই জ্ঞানের অনুসন্ধানকারী। -রাহজুল বালাঘা: হযরত আলী রা. তাঁকে কেউ দেখেছে কি মরচক্ষে? দৃষ্টির নন্দনে? কেবল হৃদয়ে তাঁকে কেউ কেউ করে অনুভব। সমস্ত বস্তুর মধ্যে মিশে তিনি আছেন গোপনে- অথচ স্পর্শ তাঁকে করতে পারে না এইসব। সমস্ত দ্যাখেন তিনি- কিন্তু তাঁর দৃষ্টি নেই কোনো। নির্মাণ…


  • শুধু চোখ আর পায়ের পিস্টন / আল মাহমুদ

    যদি কবির কাজ হয় আশাকে জাগিয়ে তোলা তাহলে হে কীর্তিনাশিনী নদী পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নেমে এসো আমার স্রোতস্বিনী কররেখা হয়ে। আমার হাতের ভেতর নাচুক ইলিশের ঝাঁক। হৌমাছের দীর্ঘ নিঃশ্বাসে খুলে যাক আমার বাতায়ন। আর তুমি, ওগো অনন্তকালের তুমি, তুমি হয়ে যাও দিগন্তে দাঁড়ানো একটি নগ্ন তালগাছ। যার পাতায় দোলানো বাবুইয়ের বাসা তোমার কলরব পূর্ণ স্তনযুগল নেমে আসুক…


  • সকল প্রশংসা তাঁর / আবদুল মান্নান সৈয়দ

    সকল প্রশংসা তাঁর- যিনি ঊর্ধাকাশের মালিক; নক্ষত্রের চলাফেরা চলে যাঁর অঙ্গুলিহেলনে; আমরা আশ্রিত তাঁর করুণায়: জীবনে, মরণে; তাঁর আলো চন্দ্র-সূর্য-তারাদের আলোর অধিক। তাঁরই মুক্তা প্রজ্জ্বলিত ঘন-নীল রাত্রির ভিতরে; তাঁরই হীরা দীপ্যমান দিবসের পূর্ব ললাটে; যুক্ত করে দেন তিনি তুচ্ছতাকে- অসীমে, বিরাটে; সমস্ত সৌন্দর্য তাঁরই লোকোত্তর প্রতিভাস ধরে। বিপর্যয় দিয়ে তুমি রহমত দিয়েছো তোমার, দুঃখের দিনের…


  • নাবিকের চোখ / সাইফ আলি

    কিছু কোলাহল মুছে যেতে যেতে দাগ রেখে যায়, মোছে না সে দাগ; কিছু কিছু সুর ঘিরে থাকে কিছু মায়াবী সময়- মুছে ফেলা দায়। কিছু মানুষের দৃষ্টির কোনো হিসেব মেলে না কথার থাকে না অর্থ কখনো তবু সে দৃষ্টি অন্দরে কিছু হিসেব মিলায় বাহির তখনো অবুঝের মতো চেয়ে চেয়ে থাকে; এলোমেলো কথা পাশাপাশি বসে কি ছবি…


  • যাবনা তোমার সাথে, হে দেশজননী / আল মাহমুদ

    আমি আর যাবনা তোমার সাথে, হে আমার দেশজননী, আর না। কারণ তোমার যাত্রা উদ্দেশ্যবিহীন কিন্তু আমার কলম আমার নিশান হয়ে দুলে উঠে লিখছে, না না না। ও রক্তাম্বর পরিহিতা স্বৈরিণী স্বদেশ, তোমার দিগ্বলয়ে কেবল হা হুতাশ আর স্বজন হারানোর বিলাপ। তোমার স্তনাগ্রচূড়ায় মানবশিশুর জন্যে তিক্ত নিম মাখানো প্রত্যাখ্যানের কৃষ্ণবলয়। আমি আর না। ছেড়ে দাও আমার…


  • অদম্য চলার ইতিহাস / আল মাহমুদ

    যারা আমাকে এ অদম্য চলার পথে নিয়ে এসেছে তারা তো সবাই জানে আমার পা পাথর, দৃষ্টি শক্তি স্বপ্নের কুয়াশায় আচ্ছন্ন। তবু মানুষের মন বলে একটা কথা আছে। আছে না কি? হ্যাঁ, মন বলছে এখনও আমার দিগন্তে পৌছার খানিকটা পথ বাকি। মানুষের কান্না, শিশুর কলরব, নারীর হা-হুতাশ- আমি তো পার হয়ে এসেছি। কিন্তু কিছু মুখ আকাশের…


  • নব্যনেড়ে / সাইফ আলি

    :এমন কিছু বলুন জনাব খোরাক জোগায় ভাবার আবার অর্থ না হয় কোনো কক্খোনো। এমন কিছু বলুন যেটা বোঝার সাধ্য নেই কারো আরো উল্টোসিধা যেই কথাটা লাইনমাফিক নয়। এমনতর কথা দিয়েই জয় কবিতার জয়! কবিতাতো তাকেই বলে, পড়তে লাগে ভয়!! এমন কিছু লেখুন জনাব পিলিজ… ছন্দটন্দ ভুলুন ওসব পুরোন মেলা, ওসব রেখে আধুনিকের ছাঁচে আসুন এই…


  • তরুণ তাপস / কাজী নজরুল ইসলাম

    রাঙা পথের ভাঙন-ব্রতী অগ্রপথিক দল! নাম রে ধুলায়−বর্তমানের মর্তপানে চল।। ভবিষ্যতের স্বর্গ লাগি শূন্যে চেয়ে আছিস জাগি অতীতকালের রত্ন মাগি নামলি রসাতল। অন্ধ মাতাল! শূন্য পাতাল, হাতালি নিষ্ফল।। ভোল রে চির-পুরাতনের সনাতনের বোল। তরুণ তাপস! নতুন জগৎ সৃষ্টি করে তোল। আদিম যুগের পুথির বাণী আজও কি তুই চলবি মানি? কালের বুড়ো টানছে ঘানি তুই সে…


  • না–আসা দিনের কবির প্রতি / কাজী নজরুল ইসলাম

    জবা-কুসুম-সংকাশ রাঙা অরুণ রবি তোমরা উঠিছ; না-আসা দিনের তোমরা কবি। যে-রাঙা প্রভাত দেখিবার আশে আমরা জাগি তোমরা জাগিছ দলে দলে পাখি তারই-র লাগি। স্তব-গান গাই আমি তোমাদেরই আসার আশে, তোমরা উদিবে আমার রচিত নীল আকাশে। আমি রেখে যাই আমার নমস্কারের স্মৃতি – আমার বীণায় গাহিয়ো নতুন দিনের গীতি!


  • উৎসর্গ কবিতা (সকল প্রশংসা তাঁর) / আবদুল মান্নান সৈয়দ

    বহুদিন পরে দেখি: রাস্তা, গাছ, শহর ও ঘাস রৌদ্র-প্লাবিত দিনে জেগে ওঠে দীপ্ত কলস্বরে; তারকা-মুদ্রিত রাত্রি ঝুঁকে পড়ে মাথার উপরে, একটানা চলে গেছে দিগন্ত পর্যন্ত নীলাকাশ। এসব দৃশ্যেরও পারে দেখে চলে লুব্ধ দুটি চোখ: রাত্রির ভিতরে রাত্রি, দিনের ভিতরে অন্য বিভা, মাছের পোশাকে তারা, ফেরেশতার আলোর প্রতিভা: মুগ্ধ চক্ষে এসে পড়ে স্বপ্নে-দেখা স্বর্গের আলোক। কোথায়…


  • কেমনতর প্রেমিক তুমি / সাইফ আলি

    কেমনতর প্রেমিক তুমি পাতার বাঁশি বাজাও না স্বপ্নগুলো সুতোয় গেঁথে প্রিয়ার জন্য সাজাও না বাস্তবতার গুল্লি মেরে সাহস নিয়ে আগাও না; অনুভূতির শিকড়টাকে একটুখানি জাগাও না! খাম্বা তুমি, পাথর তুমি, স্বর্থটাকে খুব বোঝো; শকুন চোখে কেবল শুধু আমার চোখে প্রেম খোঁজো! নইলে সেদিন শপিংমলে হীরার ছোটো আংটিটা কিনতে গেলাম, বললে চেকের হয়নি আজো ভাংতি টা!…


  • এ কেমন দুলুনি? / আল মাহমুদ

    যখন কেউ বলে লেখো, আমার হাত কাঁপতে থাকে। বুঝতে পারি না এ কোনো অভিজ্ঞতার দুলুনি কি-না। তবে হলফ করে বলতে পারি এটা বয়সের ভারে কম্পমান অবস্থা নয়। অভিজ্ঞতা বলতে আমিতো বুঝি একটা যুদ্ধক্ষেত্র সামনে খোলারাখা চোখ, ট্রিগারে আঙুল তারপর শুধু ধাতব শব্দের একটানা ঝঙ্কার তবে কি সত্যিই আমার অভিজ্ঞতায় কেবল গুলির শব্দ? আমি ফিরে আসতে…


  • সেই নেই / আহসান হাবীব

    এখনো ভোরের রোদে সোনা ঝরে- কুড়িয়ে নেবার কিশোর ছেলেটি নেই। শীতের সকালে নিঃশেষ শিউলির ডাল, বোশেখে বকুল নাম ধ’রে ডাক দেয়; সাড়া নেই। যার নিজের খুশিতে রাত ভোর হতো কাক ভোরে তার এখন ভাঙে না ঘুম। সকালের সোনা অকারণে ছুঁয়ে ছেনে সাগরজোয়ার জাগাবার কেউ নেই, কেউ নেই তাকিয়ে দেখার চোখ মেলে। এখন ভোরের রোদে দুটি…