-
সুযোগ হলো না / সাইফ আলি
জীবনে আমার সুযোগ হলো না সে সুখ দেখার যে সুখ দেখেছে উড়তে উড়তে একটা ফড়িং যে সুখ দেখেছে পর্দা বিহীন চোখ দিয়ে মাছ নদীর তলার নরম পেটের পলি ঘেঁটে ঘেঁটে…
-
-
কথাদের পেছনেও কথার বসতভিটে থাকে / সাইফ আলি
কথাদের পেছনেও কথার বসতভিটে থাকে দৃষ্টির ঘোলাজলে যেমন বসত করে অসংখ্য জলজ আকুতি পাখিদের নীড়ে ফেরা এমন কি কবিতার খোরাক বলোতো তার চেয়ে ঢের বেশি কবিতারা বাস করে না বলা কথায় তার চেয়ে ঢের বেশি গল্পের পটভূমি খুঁজে পাবে চোখের চাওয়ায়… এমন অনেক কথা আছে- মুখ বলে- না না; চোখ বলে- বুঝলে না? তুমি কি…
-
দিগ্বিজয়ের ধ্বনি / আল মাহমুদ
আমাকে বিদীর্ণ করে মাটি ও রক্ত ফুঁড়ে বেরিয়েছে এই নিশান। তারপর আর ‘আমি’ বলে কিছু নেই। আমি আমি আমি। না, আমরা অর্থাৎ এই সবগুলো নদী, এই সবগুলো মানুষ, এই সবগুলো পাখি পতঙ্গ পরিবেশ। এই তো আমরা। আমাদের অস্তিত্বের ভেতর থেকে লক্ষ লক্ষ মসজিদের মিনার। কলরবমুখর হয়ে উঠেছে এই নীলিমা, চন্দ্র সূর্য তারকারাজি আমাদের আযানই তো…
-
কী গেলাম তন্ময় হয়ে লিখে / সায়ীদ আবুবকর
কী দেখলাম এ চোখে, কী শুনলাম এ কানে, কী ভাবলাম এখানে এই কদম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে অস্থির মনে একা, আর কী সমস্ত ছাইভস্ম গেলাম তন্ময় হয়ে লিখে কালের পৃষ্ঠায়! রেক্টর স্কেলের ন মাত্রার ভূমিকম্পের পর কী কাব্য অবশিষ্ট থাকে পৃথিবীতে? যখন ধ্বংসের স্তুপ থেকে অঙ্কুরিত হয়ে ফের জেগে ওঠবে হুরের সভ্যতা, যখন রাষ্ট্র ও ভাষার…
-
যদি বুঝতেই চাও / সাইফ আলি
মানুষ ভাতের হাড়ি নয় হৃদয়ের সব কথা বুঝে নেবে একবার টিপে, মানুষ বুঝতে হলে হতে হয় সমান মানুষ… মানুষ এমন কোনো তরকারি নয় যার মশলার ঘ্রাণে বুঝে নেবে জীবনের সমস্ত আয়োজন তার, রাধুনী আমার যদি বুঝতেই চাও বুকের অন্তরালে তালাশি লাগাও…
-
আমাকে বিভক্ত করে / সাইফ আলি
আমাকে বিভক্ত করে তুমি কোন সুখ পাও প্রিয় পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া সমগ্র পৃথিবী নিয়ে বাড়ালাম হাত অথচ তোমার খুব কাটাতার ভালো লাগে তাই টুকরো টুকরো করে গড়ে তোলো রাষ্ট্রের মায়া মানুষ শাষনপ্রিয় খুব- আমাকে বিভক্ত করে শাসন করতে চাও যদি আমিও স্বাধীনচেতা কাটাতার মানবো না জেনো যুদ্ধ চালিয়ে যাবো যতদিন বাঁচবো এখানে একটাই পৃথিবী আমার…
-
না, আমি শোকাহত নই / সাইফ আলি
১. না, আমি শোকাহত নই- শোক মানুষকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়- যদি শোকের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন দিন হয় তবে হাজার বছর ধরে জমা হওয়া শোকের পাহাড় কেনো আমি পিঠে তুলে নেবো? ২ কালো নয়, টকটকে লাল রং চাই প্রিয়ার আলতা নয়, বিশুদ্ধ রক্তের লাল… রাতের অন্ধকার ছিঁড়ে ফেলে চাই আমার পৃথিবী জুড়ে সূর্য-সকাল।।
-
একান্ত বাক্যেরা- ০৩ / সাইফ আলি
সব কথা বলা হয়ে গেলে একটু সুযোগ দিও , মুহূর্তে বলে দেবো তোমার জন্য লেখা সমস্ত কবিতা আমার… সবচিঠি পড়া হয়ে গেলে, অলিখিত চিঠি এক পড়ে নিও নিভৃতে একা…
-
ঘৃণার কবিতা / সাইফ আলি
হাতটা গুটিয়ে নাও কথা বলো অন্য কোনো সুরে কাটাতার গজিয়েছে খন্ডিত বিবেকের ‘পর, পৃথিবী তোমার নয়, মানুষ তোমার নয় ভালোবাসা রেখে দাও দাগটানা মাটির ভিতর…
-
উৎসর্গ কবিতা, আজকে কেমন বৃষ্টি / সাইফ আলি
অকাট্য যুক্তিতে সাজিয়েছো যে প্রেমের ডালি সে প্রেম কি কোনোদিন হৃদয়ের কাশফুল ছোঁবে, গোধুলির সূর্য কি কোনোদিন বেদনার নীলচে আকাশ আওরোবে? শাদা মেঘ বললেই শরতের মেঘ কেনো ভাবো আষাঢ়ের ভরা বুক কার্পাস মেঘেই সাজাবো…
-
ধরা যাক, কেউ আর নেই / সাইফ আলি
ধরা যাক, কেউ আর নেই পেছনে ডাকার মতো ইতিহাস লেখা নেই কোনো আষাঢ়ের মেঘে, ছেয়ে গেছে রূপালী রোদ্দুর… সেদিনের কথা, বিকেলের ধানী ক্ষেত মাড়িয়ে দিয়েছে কেউ এসে মই দিয়ে কি দারুণ আবার নতুন বীজ ছড়িয়ে দিয়েছে সারা মাঠে নতুন বৌয়েরা সব বুড়িয়ে গিয়েছে যেনো কাখের কলসিগুলো রেখে কাঁপা কাঁপা পায়ে, লুটায়ে সফেদ শাড়ি, আনমনে পান…
-
অমরত্বে নেই, সুখে ও সফলতায় নেই / সায়ীদ আবুবকর
মরে গিয়ে মর্ত্যরে মানুষগুলো কত দিন বেঁচে আছে? কত দিন বেঁচে আছে সফোক্লিস, হোমার, এরিস্টোটল, প্লেটো, দান্তে ও মিল্টন? কত দিন হলো ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে আওরঙ্গজেব, জুলিয়াস সিজার, অশোক, আকবর, চেঙ্গিজ খান, মাও সেতুং ও আব্রাহাম লিংকন? কোন্ অমরত্বের অহংকার করে মানুষ নশ্বর পৃথিবীতে, যখন রহস্যময় অনন্তের একদিন = দুনিয়ার এক হাজার বছর? আমার…
-
দেবদারু / আল মাহমুদ
এবার বোশেখের আগে এই গাঁয়ের উঁচু মাথাঅলা বনস্পতিরা মড় মড় শব্দ তুলে হেলে পড়েছে। সব একদিকে কাত হয়ে যাওয়া গাছের সারি। আম, জাম, কাঁঠাল। এমনকি এই গাঁয়ের বুড়ো-অশ্বথ তিনদিকে তিন বাহু মেলে চিৎপটাং শুধু বটের ঝুড়ি কান্ডটা বাঁচিয়ে দরবেশের দাড়ি হয়ে গেছে। সব একদিকে একমুখী হয়ে বুদ্ধি-বিবেচনাহীনভাবে চলতি বাতাসের ধাক্কায় এক কাতারে দাঁড়ানো। তখন পাতার…
-
হঠাৎ কবে যে / সাইফ আলি
এখানে কোথাও এসেছিলে তুমি মনে কি পড়ে হেলায় ফেলায় ভেলায় ভাসিয়ে সবুজ গাঁয় মাঠের ফসলে, পিঠার হাঁড়িতে, গাছের ছায় এসেছিলে তুমি সবার বাড়িতে কাটাতে দিন। হঠাৎ কবে যে উধাও হয়েছো পাইনি ঠিক এখন শুধুই ফাঁকা মনে হয় চতুর্দিক- এখানে কোথাও এসেছিলে তুমি মনে কি পড়ে এই নদীটার বুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছোটা বাতাস তোমাকে এনেছে; তুমি…
-
বিকেলের সব কথা / সায়ীদ আবুবকর
জানাযায় দাঁড়িয়ে তাদের আত্মাগুলো বটের পাতার মতো কাঁপছিল। তাদের চোখের মণির উপর শেওলার মতো ভাসছিল গোরস্থানের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। পাপদগ্ধ দেহকারাগার থেকে লাফিয়ে পড়তে চাচ্ছিল তাদের বন্দী আত্মাগুলো বিকেলের রুপোলি রোদ্দুরে। মুনকার নাকিরের ভয়ে তারা যেন তাদের স্কন্ধের দু’পাশে তাকাতে পারবে না কোনোদিন, এরকমই ভাবছিল তারা। আর তাদের মনে হচ্ছিল, এরপর থেকে তারা ধোওয়া তুলশিপাতা হয়ে…
-
বসন্তবৈরী / আল মাহমুদ
এবারই প্রথম। ব্যর্থ কোকিলের ঝাঁক বাংলার বিমর্ষ সবুজকে বিদীর্ণ করে দিয়ে ভাঙা গলায় কুহু ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে প্রান্তরে মিলিয়ে গেল। তুমি যখন উঠোন পেরুলে তখন কোনো সম্ভাষণ নেই। না-প্রকৃতির না-ঋতুচক্রের। আমি ইচ্ছে করলে আমার ক্যাসেটে বন্দি নকল পাখির ডাক তোমাকে শুনিয়ে দিতে পারি। একেবারে নির্ভুল কুহুধ্বনি। যদিও গাছে কোনো ফুল ফোটাতে আমি পারব না।…
-
সংলাপ / সাইফ আলি
দুঃখ এসে একদিন সম্মুখে বসল আমার সমস্ত শরীর জুড়ে ফেলে নিঃশ্বাস বলল- মানুষ, আজ থেকে তোমার আমার নিত্য বসবাস। সে আমার বোধের প্রথম ভোর- এরপর থেকে বিরতিহীন দুঃখের ছায়া আশীর্বাদ হয়ে থাকে মাথার উপর। সুখ-পাখি, এসেছিলো সেও জানালায় বসে তার মিষ্টি মিহি সুরে বলেছিলো- শোনো, আমাকে দেখতে পাবে ভোরের মিষ্টি রোদে, আলোর দুপুরে, বিকালে, গোধূলিবেলা,…
-
মূর্তির শহর / সায়ীদ আবুবকর
এত মূর্তি চারদিকে-ঘরের ভেতর, অন্তরের ভেতর, নগরদ্বারে, সিংদরোজায়, অফিসে অফিসে, দেয়ালে দেয়ালে, টেবিলে ও বুকসেলফে, উত্তরে-দক্ষিণে, পূর্ব ও পশ্চিমে, মাটিতে ও শূন্যের উপর-যেন মূর্তির বন্যায় ডুবে গেছে সারা দেশ। নমরুদের উপাসনালয়ের যে-মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলেছিলেন হজরত ইব্রাহিম, কারা যেন মেরামত করে তা বসিয়ে রেখে গেছে এই শহরের অলিতে গলিতে। কাবাশরিফের ভেঙে ফেলা মূর্তিগুলো বুকের ভেতরে নিয়ে…
-
জনশূন্য আমার বিবেক / আল মাহমুদ
ধানের বাতিকগ্রস্ত ভূমিহীন কৃষাণ যেমন বসে থাকে ধান কাটা শূন্য মাঠে ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তেমনি আমিও চেয়ে দেখি আকাশের নীল প্লেটে একগুচ্ছ মেঘের কুন্তল। যেন-বা আমার মায়ের হাতে বেড়ে দেওয়া ঈদের পোলাও। আর- ঝালের রেকাবী থেকে গুঞ্জরিত হিংয়ের গন্ধের মতো কিছু তাপ ঢুকে যায় আমার দেহেও। অতীত কিছুই নেই; সবি বর্তমান। আজ নেই, কালও বুঝি…