-
হেমন্ত আজ কোন সুখে যে…/ সাইফ আলি
হেমন্ত আজ কোন সুখে যে কাঁদলো সারাবেলা হয়তো ভেজা গাছের পাতা জানে, হেমন্ত আজ কোন সুখে যে ভিজলো সারাবেলা হয়তো ভেজা কাক বোঝে তার মানে; জল ভরা ঐ মেঘের শরীর বৃষ্টি করে ফেরি হয়তো ওসব খেয়াল-খুশি কালচে আকাশেরই, কিন্তু তোমার কালচে আকাশ পছন্দ নয় মোটে পছন্দ নয় বৃষ্টি ফোটা সবুজ পাতার ঠোঁটে তুমি তো নও…
-
ভালোবাসা বিন্দু শিশির… / সাইফ আলি
চাঁদ হয়ে সূর্যের বিপরীতে দাঁড়াতে হবে না প্রিয়তমা তুমি যদি জোনাকিও হও- আমার অন্ধকার রাত তোমার জন্য রেখে দেবো। আকাশ ঘোলাটে করে বৃষ্টি না আনলেও হবে দু’ফোটা চোখের জলে প্রেমের নৌকা যদি ভাসে সে বেলা শ্রাবন-ঢলে কাকভেজা না ভিজেও আমি দাঁড়কাক হয়ে যাবো নগরীর নিসঙ্গ দেয়ালের ভীড়ে ভালোবাসা প্রাচুর্য বোঝেনা, ভালোবাসা বিন্দু শিশির…
-
প্রেম অপ্রেমের ব্যাবধানে / জাহিদুল ইসলাম
আমার মলিন চুল নিয়ে তুমিও হেসেছো শুকনো ঠোঁট দেখে উপহাস করেছো কতই চোখের নিচে কালি পরেছে তুমি তাকে সানিলীয়নের আশীর্বাদ বলে আখ্যা দিলে না বন্ধু না এভাবে বলো না পৃথিবী সবাইকেই উজাড় করে দিয়েছে শুধু সময়ের ব্যাবধানে তুমিও তো এক নদী সব নদী সাগরের সন্ধান পায় না, জানো-তো তা! এ আমার অভিশাপ নয় বোতাম আটা…
-
ইচ্ছে / জাহিদুল ইসলাম
যদি বা নদী হতাম আমার বুকে তোমার সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে সাঁতার কাটতে আর গা কছলে কছলে গোসল করতে আমার চঞ্চলতায় ভেসে যেতো তোমার আঁচল নাটোরী কাঁচা গোল্লার মত তোমার শরীরে আমার পুরুষী স্পর্শে ঠোঁট টিপে টিপে হাসতে লজ্জায় দুচোখ ঢাকতে তুমি আর…… আমি….. পুংখানু পুংখ বিশ্লেষণ করে জানতাম তোমাকে তুমি কত অপরূপ
-
একটি পাতার কাহিনী / সায়ীদ আবুবকর
পাতাটি গাছের মগডালে জন্মেছিল। যখন সে কচি শিশুটি ছিলো, তাকে দেখলেই যে-কারোর দুচোখ জুড়িয়ে যেতো। যখন সে যৌবনে পা দিলো, বাতাসরা এসে তাকে প্রণয় নিবেদন করতো। সে বাতাসদের মৃদুস্পর্শে থরথর করে কাঁপতো সারাদিন। একটি কোকিল এসে তার পাশে চুপটি করে বসে থাকতো; তারপর কণ্ঠ ছেড়ে একসময় জুড়ে দিতো বসন্তের গান। প্রকৃতির নিয়মে পাতাটি একদিন হলুদ…
-
পাথর সময় শেষে / সাইফ আলি
স্থানু হয়ে থাকা পাথর সময় শেষে প্রেমিক দাঁড়াবে প্রেমিকার কাছে এসে বাতাসে বাতাসে গুমোট দীর্ঘশ্বাস তখনো বেড়াবে ভেসে। কারণ প্রেমিক প্রেম কি তা জানবে না… শীত চলে যাবে ফাটা পায়ে হেঁটে হেঁটে শেষ হয়ে যাবে প্রেমিকার ভ্যাসলিন কুয়াশার জালে পথ ভুলে ভুল গেটে কেউ টোকা দিয়ে বলবে না ভালোবাসি কারণ প্রেমিকা কোনো ভুল মানবে না……
-
তুমিও তোমার পথ খুঁজে নাও / সাইফ আলি
কথাগুলো কথা স্বপ্নেরা কাড়ে ঘুম রাতগুলো রাত দিনগুলো পলিজমা পলিতে ব্যথার পুরোনো আবাদ মানেনি তো দাড়ি কমা- বেয়াড়া বাতাস ঘন নিঃশ্বাস বিশ্বাসে জমে ক্লেদ, তবুও জীবন কালের কলসে জমা করে রাখা জেদ। তুমি কি মাঠের গল্প পড়োনি হে পাঠক, শস্যের- তুমি কি পড়োনি কাব্য কখনো ক্রমাগত ভাঙনের? তবুও পাখিরা অবসর খুঁজলো না মাছেরা নয়তো অনুকূল…
-
ভূত-ভবিষ্যৎহীন এই অন্ধকার / আল মাহমুদ
অন্ধকারের মধ্যে আরো অন্ধকার। স্তব্ধতার মধ্যে যেমন আমি আমাকে খুঁজে বেড়াই। তেমনি অন্ধকারেরও একটা ওম আমাকে বোঝাতে চায় যে আমি কেউ নই। আমি কী সত্যিই কেউ নই? আমি কি আমি নই? তাহলে এই অনুভব কোত্থেকে আসে, আমি হাঁটছি। আমি কি করে বুঝি চতুর্দিকে খানাখন্দর, গহ্বর। চলতে হবে আমি জানি পা টিপে টিপে, মৃত্যুকে এড়িয়ে কিংবা…
-
আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম / আলি মেসবাহ
আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম বুকের ভেতর দুঃখ পুষি খেয়াল-খুশি কিংবা ভালোবাসার ছলে দুঃখ দিলে গ্রহন করি খুব সাদরে; আমি একটা জলজ্যান্ত এ্যাকুরিয়াম বুকের ভেতর দুঃখ পুষি খুব আদরে। দুঃখ সাদা, দুঃখ কালো, হলদে এবং দুঃখ লালও …রঙ বাহারি; নীল রঙেরই দুঃখ বেশি দুঃখ বেশি নীল রঙেরই। আমার কাছে সুখেই আছে এ তল্লাটের দুঃখ যতো তিলে…
-
আমার চলা / আল মাহমুদ
দেখো কীভাবে হাঁটে লোকটা। দেখলে মনে হবে দাঁড়িয়েই আছে। কিন্তু আমরা বুঝতে না পারলেও তার চলার মধ্যে একটা এগিয়ে যাওয়া আছে। ধীর লক্ষ্যভেদী যাত্রা। যেনো খরগোশদের কথোপকথন। সে পরিচিত কচ্ছপকে নিয়ে আদি মশকরা। আসলে আমি তো দাঁড়িয়ে নেই। ঘড়ির ঘন্টার কাঁটার মতো অস্থানু। অথচ দেখলে মনে হয় চলছে না। খুব মিহি আওয়াজের নিঃশব্দ হৃদপিন্ডের মতো।…
-
অথচ মিললো না / সাইফ আলি
বৃক্ষ মানবের সবুজ মৌনতা হয়তো ভালো লাগে হয়তো ভালো লাগে নদীর মতো কারো চলার গতিপথ, কারো আকাশ জুড়ে পাখির উড়াউড়ি দেখতে ভালো লাগে শুনতে ভালো লাগে মৃত পাতার দেহে পথের সংগীত। কিন্তু সবচেয়ে বুঝতে ভালো লাগে চোখের ভাষ্যটা… আমরা মানুষেরা শ্রেষ্ঠ গুণাগুণ তালাশে মত্ত অথচ লোপ পায় বিবেক বোধ আর মানবিকত্ব… পৃথিবী ঘুরেফিরে হয়তো এনে…
-
নাম তার কারিনা কাপুর / সায়ীদ আবুবকর
দুর্বল একটি কঙ্কালের উপর কিছু মাংস; মাংসের উপর কিছু রঙ; এইসব নিয়ে স্বল্পবসনা সে হাতপা দুলিয়ে টিভির পর্দায় নাচছিল। নাচার সময় তার মনে হচ্ছিল তাকে চমৎকার দেখাচ্ছে। লোকেরা দুনিয়ার কাজ ফেলে রেখে হাঁ-করে তাকিয়ে ছিলো তার দিকে। তাদেরও মনে হচ্ছিল তাকে চমৎকার দেখাচ্ছে। আমি লোকগুলোর দিকে একবার তাকাচ্ছিলাম আর একবার তার দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমি বুঝতে…
-
প্রত্যুষের উল্কিআঁকা হাত দু’টো / আল মুজাহিদী
সমুদ্রের সুনীল জোয়ার বুকে ক’রে আমি আবার ফিরে আসবো। সুপ্রাচীন টেরাকোটা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। আমি তলব করবো সভ্যতাকে তোমার উদ্দেশ্যে আমি গেথে তুলবো পার্থিব প্রাসাদ। এইা পৃথিবীর হৃৎপিন্ড ও হৃদয় জুড়ে তোমার শোণিত ধারা স্পন্দমান। হিরোশিমা, আমি তোমার একান্ত সন্নিকটে এ্যাডাম কোথায়? ঈভ? সেই মানবী কোথায়? এ্যাডামের বাম পাঁজরের হাড় দিয়ে যে মানবীর জন্ম…
-
বিপরীত উচ্চারণ / আল মাহমুদ
আমি নিসর্গের ভাষা বুঝি। নৈশব্দও আমার কাছে কখনো কখনো বাঙময়। শৈশবে গাছ, মাছ, পাখি ও পতঙ্গের সাথে কথা বলে আমি অভ্যস্ত কিন্তু অসুবিধে হচ্ছে মানুষকে নিয়ে। আমার ধারণা ছিল আমি যখন মানুষ। মানুষের ঘরেই জন্মেছি। তখন পৃথিবীর তাবৎ মানুষের ভাষা আমি বুঝব। কত অনায়াসে আমি প্লেনের জানালা দিয়ে মেঘের সাথে কথা বলতে বলতে আটলান্টিক পাড়ি…
-
লোহার শেকল ছিঁড়ে ফেলে / আল মুজাহিদী
হিরোশিমা, এতো অন্ধকার ক’রে রেখেছিলে আমার গরাদ, কারাগার। একটু প্রতীক্ষা কোরো। আর বারবার কেঁদো অনুভূতি উজাড় ক’রে দিয়ে। আমি আবারও ফিরে আসবো তোমার উঠানে। লোহার শেকল ছিঁড়ে ফেলে ভোরের টোপরপরা পাখির মতন। অরণ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে। আমার দেহে সব ছাই ভস্ম ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুন মৃত্তিকাকণা নিয়ে আমি আবার আসবো। হিরোশিমা, সেই পালক পোড়ানো দিন সেই…
-
দেশ / জসীমউদ্দিন
খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ। সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক, চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কালো কালো কাক। সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা, শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায মানিক আলা। তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া, মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাব-হরা। সেই ফসলে…
-
ছবির মানুষ / সায়ীদ আবুবকর
হাঁটাহাঁটি করে, হাসাহাসি করে, কানাঘুষা করে রাতদিন শুধু ছবির মানুষ ছবির শহরে। খবরে কাগজে ছাপা ছবি যেন এ মানুষগুলো রাস্তা ও ঘাটে ওড়ায় কেবলি ধোয়া আর ধুলো। মানুষগুলোর ঠোঁটে যত কথা বাজে সারাদিন যেন তা পেপারে ছাপা মিছে কথা কাগুজে রঙিন। রাতদিন শুধু ছবির মানুষ ছবির শহরে ভূতদের পায়ে ভিলেনের মতো হাঁটে আর ঘোরে।
-
কারাগার বলতেই / সাইফ আলি
কারাগার বলতেই ভেসে ওঠে বন্ধুর চোখ ঐ চোখ কবিতার চোখ ছিলো জানো- ঐ চোখ ছিলো এক নিষিদ্ধ ঈগলের চোখ, কারাগার বলতেই ভেসে ওঠে বন্ধুর হাত পেশাদার হাতে তার শোভা পেত আলোর মশাল, উত্থিত মুষ্ঠিকে চমকাতো শপথের জ্যোতি- কারাগার বলতেই সেই দুটি পা-ই শুধু দেখি যে পায়ের ধুলো মেখে রাজপথ এবং মিছিল শিহরিত হয়ে যেত অসংখ্যবার……
-
মানুষ আমাকে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করে / সায়ীদ আবুবকর
মানুষ আমাকে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করে। আমি বুঝিই না গণতন্ত্র বলতে কী বুঝাতে চায় তারা। যা বোঝে না তাই নিয়ে খালি তর্ক করে চলে তারা পথেঘাটে। তারা সাপবিচ্ছুর মতো কিছু মানুষকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে চায়ের দোকানে বসে চা খায় আর তৃপ্তির হাসি ছড়াতে থাকে চারদিকে। নির্বাচিত সেই লোকগুলো যখন হায়েনার মতো তাদের হাড়মাংস চেটেপুটে খেয়ে…
-
কবিতার কথা / আল মাহমুদ
আমার মেয়ে খাঁচায় একটা ময়না পুষতো। আদরে আব্দারে কিভাবে যেন পাখিটার নাম দাঁড়িয়ে গেল কবিতা। বাইরে থেকে কেউ ঘরে এলেই ‘কবিতা, কবিতা’ বলে পাখিটাকে তোয়াজ করতো। এমন কি আমিও যে কিনা জন্তু-জানোয়ার পোষার ঘোর বিরোধী। মাঝে মধ্যে পাখিটার চকচকে কালো পালক ও হলদে ঝুটি দেখে হঠাৎ বলে ফেলেছি, কি রে কবিতা? আমার ডাকে পাখিটা সহসা…