• প্রতিদান / জসীমউদ্দিন

    আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী, – পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি। দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ; আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর। আমার এ কুল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার…


  • পারো যদি একবার / সাইফ আলি

    পারো যদি একবার শুধু একবার তুমি সাঙ্গুর মতো উথাল পাথাল করো পাথুরে এ বুক… অথবা এ পাহাড়ের চাঁদগলা রাত হয়ে যাও, আমি এক জুমচাষী হই- পাথরের ভাজে ভাজে ভালোবাসা করে যাই চাষ। পারো যদি একবার, শুধু একবার তুমি হও সেই মেঘ- যে মেঘ জড়িয়ে রাখে প্রেমিকের সবুজ হৃদয়…!


  • নিষিদ্ধ পঙক্তি / আলি মেসবাহ

    পাছায় লাত্থি দিয়া প্রতিদিন যমের বাড়ি আমাগো পাঠাও বানচোদ মানুষেরা রাজনীতি রাজনীতি খেলে আর যারা বেঁচে আছি- তাড়া খাওয়া মাছের লাহান ছটফট করি… অক্সিজেনের লগে গিজগিজ করে খালি পশ্চিমা কিট। সভ্যতা !! তুমি কোন চুদির ছাওয়াল ? ০৬.১০.১৬


  • একান্ত বাক্যেরা… / সাইফ আলি

    ঘোলা জল- আমি মাছের দৃষ্টিতে দেখছি তোমার হাত আমাকে স্পর্শ করুক… জ্বর এলে- তীব্র কল্পনা আমাকে তাড়া করে আমি চিৎকার করি তুমি শুনতে পাও না; হাতে ছাই মাখাও আমাকে ধরো আমি বার বার পিছলে যাই… আমাকে ধরো, শানানো বটিতে রেখে ছিঁড়ে ফেলো স্বপ্নের ফুলকো… মানবী হে- শরীর আমাকে জ্বর দিলো না; তোমাকে দেখবো বলে পৃথিবীর…


  • মানুষ / সাইফ আলি

    সত্যি করে একবার বল দেখি মন মানুষ মানুষ হয় আসলে কখন হাসি নাকি কান্না কোনটাতে তাকে অধিক মানুষ লাগে বল তো আমাকে। মন বলে- দুইটারই হলে মিশ্রণ মানুষ আদতে হয় মানুষ তখন…


  • নোনতা পানির হিসেব / সাইফ আলি

    তুমি তো আমার নোনতা পানির হিসেব দিলেনা বাহে তুমি তো আমার শ্রাবণ ঢলের সংবাদ শোনালে না তবে কি বস্তি উজাড় হয়েছে গ্রিষ্মের তাপদাহে তবে কি হতাশ নদীর কপালে লাগেনি আশার ঢেউ… কথা ছিলো এক কাক-জোছনার রাতে পুরোনো মাচাঙে সোনাঝরা স্মৃতি আওড়াতে আওড়াতে ফিরে যাবো ফের, কিন্তু ফেরার ফুসরত মিললো না; তুমি তো আমাকে শোনালে না…


  • নক্সী কাঁথার মাঠ / জসীমউদ্দিন

    এক বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে ক্ষীর নদী, উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি | — রাখালী গান এই এক গাঁও, ওই এক গাঁও — মধ্যে ধু ধু মাঠ, ধান কাউনের লিখন লিখি করছে নিতুই পাঠ | এ-গাঁও যেন ফাঁকা ফাঁকা, হেথায় হোথায় গাছ ; গেঁয়ো চাষীর ঘরগুলি সব দাঁড়ায় তারি পাছ |…


  • উড়ন্ত স্বাধীনতা / সাইফ আলি

    এখনো সে ফুল ফুটবে ফুটবে ফুটতে পারেনি এখনো সে ছানা মুক্ত বাতাসে ছুটতে পারেনি- আমি ফুল খুটি সেই আধো ফোটা ফুল ছানার ডানায় ভেজা অক্ষরে লেখি নির্ভুল- ‘উড়ন্ত স্বাধীনতা’ বলি, যে ফুল এখনো ফুটতে পারেনি ফুটুক সে যে ছানা এখনো আকাশ দেখেনি মুক্ত বাতাসে ছুটুক সে।


  • কবর / জসীমউদ্দিন

    এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক। এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা, সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা! সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি লাঙল লইয়া খেতে…


  • যখন মধ্যরাত / সাইফ আলি

    কিছু কথা মধ্যরাত রাখে ঢেকে নিজে হয় দোষী অথচ সে দোষ ছিলো যার তাকে দেখি আলোতে গোসল- আমিও এখন তাই মধ্যরাতে জাগি রাতের রুমাল জুড়ে মুছে ফেলি দিনের কালিমা অতঃপর নিজেকে নিজেই অন্যভাবে চিনি। আমার দুঃখগুলো অন্ধকারে থাকে আমার কষ্টগুলো অন্ধকারে থাকে দিনে দিনে বড়ো হয় বেড়ে ওঠা বৃক্ষের মতো সবার অলক্ষ্যে আমি যখন মধ্যরাত…


  • মানুষ / কাজী নজরুল ইসলাম

    গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান! নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।–- ‘পূজারী, দুয়ার খোল, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’ স্বপন দেখিয়ে আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়, দেবতার বরে রাজা-টাজা আজ হয়ে যাবো নিশ্চয়!— জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ ডাকিল…


  • দুই বিঘা জমি / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।” কহিলাম আমি, “তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই। চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো‐জোর মরিবার মতো ঠাঁই।” শুনি রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা— ওটা দিতে হবে।” কহিলাম…


  • ফিরে যাও বুনোপাখি / সাইফ আলি

    ফিরে যাও বুনোপাখি তুমি কিসের অহংকারে এই শহরের জানালাতে করো নিষ্ফল ডাকাডাকি…!! এই শহরে থাকে না খড়কুটো নেই পথে প্রান্তরে ঘাসফুল তবু মিথ্যেই কেনো ঝাপটাও দুটো পাখনা… তুমি ফিরে যাও গ্রাম-গঞ্জে এরা যাচ্ছে যেখানে যাকনা। এই যান্ত্রিক গোলোযোগে এই ধুলোর আস্তরণে যদি মেঘমালা এসে থেমে যায় কাকের কপাল ঘেমে যায় তবু দিনতো যাচ্ছে যাকনা- তুমি…


  • আদতে সবাই এই / সাইফ আলি

    পোঁড়া কোনো গন্ধ পাও পুঁড়ে পুঁড়ে সভ্য হয় মাটি আমি এক অসভ্য কৃষকের মাঠ নরম কাদায় ভরা বুকের জমিন… জলে ভিজি রোদে পুড়ি লাঙলের ফলা দিয়ে যে কৃষক চিরে দেয় বুক তাকে দিই স্বপ্নের সোনালি ফসল… ওসব ব্যথার দান গোলা ভরা ধান, পাট; তারপরও অভাব মেটেনা। অথচ তোমরা যারা সভ্যতা চাষ করো আদালতে, অফিসে-ফাইলে; এসি…


  • চোখের অন্তরালে থাকে এক চোখ / সাইফ আলি

    চোখের অন্তরালে থাকে এক চোখ সেই চোখ আঁকে কিছু ছবি, সেই চোখে থাকে কিছু কথা গল্পের মতো, পরিপাটি; সাজানো গোছানো… চোখের জানালা থাকে, কিন্তু সে জানালায় চোখ রাখে অধিকার কার? একবার তুমি যদি অনুমতি দাও তোমার গল্পটাকে সাজাবো এমন মনে হবে কোনোদিন পড়োনি নিজেকে, তোমার হৃদয়টাকে বাজাবো এমন মনে হবে কোনোদিন শোনোনি নিজেকে…


  • পাখিটার চালচুলো ঠিক নেই / সাইফ আলি

    : পাখিটার নাম কি? ধাম কি?? পাখিটাকি উড়ে যায়, গজিয়েছে পাখনা? থাক না, উড়ে যায় যাক না… : পাখিটার আসমান নীল কি? নীল না? আমাদের সাথে তবে মিল কি!! হায় হায় মিল নেই কস কি… : হোক না অমিল তাতে দোষ কি? পাখিটার চালচুলো ঠিক নেই ধরাবাধা দিক নেই আছে শুধু তাল-লয়-ছন্দ দুটো পাখনার নেই…


  • তোমাকে ভাবতেই / সাইফ আলি

    তোমাকে ভাবতেই কাশফুল ভাবি ভেবে ফেলি জোনাকির রাত, সবুজ স্যাওলার ঘাটে বসে বসে নদীর সাথে হয় প্রিয় সাক্ষাত। তোমাকে ভাবতেই শাদা ক্যানভাসে আঁকতে ভালো লাগে আলুথালু চুল অথচ কি দারূণ খোঁপা করে তাতে ঝোলাও প্রতিদিন শিউলি বকুল। তোমাকে ভাবতেই ভাববো না ভেবে দুচোখ বুজে ফেলি যেই, রাতের নেকাবের জানালাতে শুধু তোমার চোখ ছাড়া আর কিছু…


  • হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে / সাইফ আলি

    হৃৎপিন্ডের কোলাহল গেলে থেমে ঝাপসা হবে কি জমাট মেঘের দৃষ্টি, নীল আকাশের চৌকাঠ থেকে নেমে ভেজাবে জমিন অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি? ভীষণ খরায় চৌচির হওয়া ঠোঁটটা ফিরে পাবে ফের ভরা বর্ষার চুম্বন, নাকি হবে সেই ছেঁড়া কাগজের নোটটা অচলাবর্তে কেটে যেতো যার দিনক্ষন। ধুলো জমে যাওয়া এক জীবনের মূল্য কতই বা হবে; রক্তের সেই স্রোত নেই, তুমি…


  • আমি এক পিপীলিকা / সাইফ আলি

    তোমার ঠোঁটের উঠোনে আমি এক পিপীলিকা হাটি আর হাটি… চোখের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাবি এই সমুদ্রে দেবো নাকি ডুব।। তারপর তুলতুলে গালে ভোরের রোদ এসে শুয়ে পড়ে যেই, ছুটে যেয়ে সেরে ফেলি আলোর গোসল… প্রতিদিন ভোরে এভাবেই আমি এক পিপীলিকা হই।।


  • বিদ্রোহী / কাজী নজরুল ইসলাম

    বল বীর- বল উন্নত মম শির! শির নেহারি আমারি, নত – শির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর- বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া, খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির – বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর ! মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর! বল বীর- আমি চির-উন্নত শির। আমি…