• হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে / সাইফ আলি

    নীল শাড়িতে আকাশ তুমি শাদায় মেঘের ফুল, মধ্যরাতে পাহাড়ি এক ঝরনা তুমি শীতল তোমার ঢেউ খেলানো চুল হাত ছোয়াবো, ছোয়াবো না- ভাবছি যখন এই; হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে ভিজিয়ে ছাড়লেই।


  • সবাই খুঁজেছে সার্থক উপসংহার… / সাইফ আলি

    কোথায় একটা তার ছিঁড়ে গেছে, কোথায় একটা সুর; কোথায় হঠাৎ ঘন বর্ষাতে মেঘছেঁড়া রোদ্দুর।।   কোথাও হয়তো আকাশ বতলে বন্দী কোথাও হয়তো পাখিরা ভুলেছে রাস্তা মানুষ থাকছে মানুষের সাথে ঠিকই হয়তো বিলেতি কুকুরে খুঁজছে আস্থা।   কোথায় একটা অংকে মানেনি সুত্র কোথায় একটা কিন্তু খুঁজেছে যুক্তি প্রশ্নবোধক চিহ্ন ঝুলেছে কণ্ঠে মেলেনি কেবল বিতর্ক থেকে মুক্তি।…


  • বেকারের রাত্রি যাপন / সাইফ আলি

    ঘুম ঘুম চোখ রাত কালো রাত এখন তো আর খোঁজে না ঘুমের মর্ম সবাই বুঝেছে শুধু এ শরীর বোঝে না বাপের হোটেলে সংকট বড় মামা খালুদের জোর নেই ঘুম ঘুম চোখ রাত শেষ রাত ঘড়ির কাঁটারা ঘোরছেই। বেকার বেলার দিন নেই, নেই রাত্রি ঘটক খোঁজে না পাত্রী নিজেকে আজব কি যে মনে হয় মহাশূন্যের যাত্রী……


  • সবাই বলুক আমি বলবো না… / সাইফ আলি

    শুনেছি তোমার সফল হওয়ার গল্প শুনেছি তুমিও কাদায় রেখেছো পা, কিন্তু যাদের নিয়তি করেছে ব্যর্থ উপসংহারে মিলেছে ব্যর্থতা। শুনেছি তোমার বংশের পরিচয় তোমাকে দিয়েছে আলাদা মূল্যমান, অথচ তুমিতো হাঁটতেই শিখলে না; দেখলাম শুধু অযাচিত উত্থান। সবাই বলুক তুমিই সফল তবু আমি বলে যাবো সে তোমার দৈন্যতা কোটায় তোমাকে বড় তো করেনি মোটে প্রকাশ করেছে প্রচন্ড…


  • একটি টাকার স্বপ্ন / সাইফ আলি

    একটি টাকার পিঠের উপর স্মৃতির ধুলো জমতে জমতে টাকাটা এখন অচল টাকা, আমি সে টাকার ধুলো-বালিগুলি আঁচড়ে তুলে বিস্ময়ে দেখি তাতে কত ঘাম-রক্ত মাখা। প্রতিটা ধুলোয় জড়ানো হাজার কথার মালা প্রতিটা ধুলোয় লেগে আছে যেন স্বপ্ন মমি, আমি সে কথার বুঝিনে কিছুই আগা কি মাথা দেখি শুধু তার ধুলি ধূসরিত ফসলী জমি। এ জমিন কতো…


  • জাহরা ভাদুগড়ী / আল মাহমুদ

    মাঝে মাঝে মেয়েটার কথা মনে পড়ে। এসেই বলতো, আমি জাহরা বানু। তিতাস পাড়ে বাড়ি। ঘন ঘন কলিংবেল চেপে সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিত। কেউ দরজা খুলে দিলে হাসত, আমি জাহরা। স্যারকে কবিতা শোনাতে এসেছি। আমি পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতাম। হাসতাম। মৃদু হাসতাম। হাতের ইঙ্গিতে বলতাম, ভেতরে এসো। লম্বায় তালগাছের মতো সটান। এলো খোঁপা বাঁধা। দেখতে শীর্ণকায়…


  • একটি কুকুরের দর্শন / সায়ীদ আবুবকর

    লোকগুলো একত্রিত হয়েছিল অডিটোরিয়ামে। একটি কুকুর রাস্তার পাশে শুয়ে অডিটোরিয়ামের প্রশস্ত দরজা দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল তাদের কাণ্ডকারখানা। লোকগুলো মাঝেমধ্যে করতালি দিচ্ছিল। কুকুরটি ভাবছিল, নিশ্চয়ই কোনো খানাপিনা হবে সব শেষে। বিরতি দিয়ে দিয়ে মাইকে কেউ ঘোষণা করছিল কারো নাম; তিনি স্টেজে উঠে গেলে মহামান্য কেউ তাঁর গলায় পরিয়ে দিচ্ছিল সোনার তকমা। কুকুরটির কানে কয়েকটি শব্দ…


  • যদি মাথা থাকে / সাইফ আলি

    যদি অমূলক কোনো শঙ্কায় কাঁপে মন গাঢ় আঁধারের মাঝে জোনাকির আয়োজন দেখে নিস যদি বিস্তৃত কোনো জনহীন প্রান্তর তবে অনাগত শত সম্ভাবনার স্বর মেখে নিস শীলা শঙ্কায় যদি বৃষ্টি ভাবিস ভুল ঝড়ো সন্ধ্যায় যদি মাথায় তুলিস জ্বর তবে নিজেকে নিজেই দেখ্- ছোটো কুঠুরির মাঝে সৌখিন কবুতর। যদি মাথা থাকে তবে উঁচু করে রাখ পাহাড়ের মতো…


  • মৎস্যগন্ধ্যা ঋতুর উপলব্ধি / আল মাহমুদ

    বিপর্যস্ত উন্দ্রিয়গুলোর উপর মাদুর বিছিয়ে সূর্যাস্ত দেখছি। অন্ধকার ছুটে আসছে পশ্চিম থেকে। আর ইবলিশের হাসির মতো গুমগুমিয়ে উঠছে বিদ্রুপ। কে এই হারামজাদাকে জানিয়ে দেবে এটা শরৎকাল। ওর কানে আমি পরগাছা গজিয়ে তুলেছি। ওর চোখে শেয়ালেরা হিসি করছে। ওকি জানে আমিই পুঁজির রাজা! ওকে কে বলে দেবে আমার নামই নতুন বিশ্ব নিয়ম? আমি ওর মগজে উঁইপোকা…


  • তোমার দৃষ্টি যাকে খোঁজে… / সাইফ আলি

    তোমাকে দেখলাম শাহবাগের মোড়ে ফুলের দোকানে কিন্তু তোমার হাতে কোনো ফুল দেখলাম না; কোনো ধরণের ফুলের সাথেই সম্পর্ক স্থাপন করতে দেখিনি তোমাকে তবু এই দুপুরের রোদে একগুচ্ছ ফুলের দিকে তাকিয়ে ঠাই তুমি দাঁড়িয়ে আছো !! আমি বড্ড অবাক হয়েছি জানো… পচন্ড রোদে পুড়ে যারা ঠান্ডা পানি বেচে তাদের আর তোমার মধ্যে তফাৎ ছিলো না কোনো।…


  • অমরতার আলেয়া / আল মাহমুদ

    সবাই বলে পার হয়ে যাও। আমি হন্তদন্ত হয়ে অতিক্রম করেছি নদী। পরামর্শ কিংবা বলা যায় অনুচ্চারিত দৈববাণীর ধমক আমার কর্ণকুহরে ক্রমাগত আছড়ে পড়তে থাকে, পার হয়ে যাও। আমি আমার ক্ষত-বিক্ষত হাঁটুর খটখটানি তুলে উল্লংঘন করি গৌরীশৃংগ। তবু সেই দৈবাদেশ এবার শ্রবণেন্দ্রিয় থেকে সরে গিয়ে হৃৎপিন্ডের দুলুনিতে বাজতে থাকে, পার হও! পার হও! কেন পার হবো?…


  • যদি মিথ্যেই হতো / সায়ীদ আবুবকর

    যদি মিথ্যেই হতো, সূর্য উঠতো না, সন্ধ্যা নামতো না দিন শেষে, ঘাসের ডগায় জমতো না রাতের শিশির, এ জীবন বিড়ির মতো পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যেতো। যদি কাল্পনিকই হতো, বাতাস বইতো না, নতুন পাতা ধরতো না গাছে, সবুজ পাতারা হলুদ হয়ে গিয়ে ঝরে ঝরে পড়তো না ধুলোয়, জীবনচক্র থেমে যেতো। যদি আজগুবি হতো, পিপাসা নিবারিত…


  • তারার পতন হলে / সাইফ আলি

    মাত্রই যে তারার পতন হলো আগামীকালের পত্রিকায় তাকে নিয়ে লেখা হতে পারে বেশকিছু তরতাজা নতুন কবিতা… অথবা গল্প এক ‘তারার পতন’। একুশের বইমেলায় তাকে নিয়ে মিলতে পারে গোটা দুই ঝাঁঝালো উপন্যাস। এছাড়াও সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল-মিটিং অথবা প্রেসক্লাব পাড়ায় বুদ্ধিজীবী মহলের নিরিহ মানববন্ধন!! তবে যাই হোক তারাটির আর কোনো উদয় হবে না। আজকাল এরকমই হয়, কবিরা…


  • স্বপ্নের উৎপাত / আল মাহমুদ

    সারা জীবন আমি উদ্ভট স্বপ্নের মধ্যেই পাশ ফিরে শুয়েছি। দুঃস্বপ্নের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে বালিশের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে সান্ত¦না খুঁজেছি। ভেবেছি, ওটা ছিল স্বপ্ন। সম্ভবত আমি ঘুমকাতুরে লোক বলে খোয়াবের জ্বীন আমার পিছু ছাড়তে চায় না, ঘুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক একটা শিরশিরানি আমার হৃৎপিন্ড থেকে নিঃসৃত হয়ে মস্তিষ্কের সব স্বপ্নের খুপড়িতে ফোকাস ফেলে। আমি দেখি গাছগুলো স্থান…


  • গরুর চোখ দিয়ে দেখো না জীবন / সায়ীদ আবুবকর

    যখন শরীর আত্মার উপর চড়ে বসে তখন মানুষ যদি সাপবিচ্ছু বাঘভাল্লুক গরু ও গাধার  মতো আচরণ করতে থাকে, অবাক হয়ো না। মানুষ পুলিশ দিয়ে বন্ধ করতে চায় চুরিডাকাতি খুনখারাবি স্মাগলিং ধর্ষণ; দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে প্রতিরোধ করতে চায় রাষ্ট্রের দুর্নীতি; তুমি ঘোড়াকে জোর করে নদীর কিনারে নিয়ে যেতে পারো, জোর করে তাকে খাওয়াতে পারবে না…


  • সেদিন তৃষ্ণার্ত আমি / সাইফ আলি

    সেদিন তৃষ্ণার্ত আমি নদীর কাছে গিয়েছিলাম তৃষ্ণা মেটাতে অতঃপর- শান্ত সে বুকে ঠোঁট রেখে আকণ্ঠ পান করেছিলাম তার সুমিষ্ট জল…. আজ তোমার কাছে এসেছি হে সমুদ্র ভেবেছিলাম- লক্ষ লক্ষ নদীর সুমিষ্ট জলের লহর আছড়ে পড়েছে যেই বুকে, সেই বুকে কতই না মধু…! অথচ- এ কেমন তিক্ত তোমার জল…! ( সমুদ্রের ভাষ্য- ) অবাক হয়ো না…


  • বাঁচার উপায় / সায়ীদ আবুবকর

    আমি তাঁকে বললাম, বাঁচার উপায় কী? তিনি বললেন, তুমি তো ফাঁদে পড়া কবুতরের মতো পড়ে গেছ রমণীর জালে। পালাও যেভাবে বিড়াল দেখে ইঁদুর পালায়, বাঘ দেখে হরিণ পালায় আর পানি দেখে জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর। বৎস, তোমার নফসের পায়ে শিকল লাগিয়ে দাও, দুচোখে লাগাও ঠুসি, ঠোঁটকে সংযত করো, দুহাতে পরাও বেড়ি। স্ত্রী, কন্যা, মাতা ও ভগ্নি…


  • সে ছিল / সাইফ আলি

    সে ছিল শুভ্র শরতের কাশ বাতাসে দুলতো কেশ, শহরের ছাদে জানালার ফ্রেমে তবুও মানাতো বেশ! সে ছিল খাঁচার ছোট্ট পাখিটা বাতাসে মেলেনি ডানা, বইয়ের পাতায় বন্দি দু’চোখে জোছনা বাঁধেনি দানা। সে ছিল অফিসে অথবা ফ্লাটের চারটি দেয়ালে বন্দি, কখনো সবুজ ঘাসের সঙ্গে হয়নি শিশির সন্ধি। তবুও সে ছিল শরতের কাশ বাতাসে দুলতো তার স্রোতহারা এক…


  • তখন হে বন্ধু যদি বেঁচে থাকো / সায়ীদ আবুবকর

    যখন ফুলের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে মানুষ, তার ড্রয়িং রুম ভরে ফেলবে কাগজফুলে; যখন কোকিলের চেয়ে কাকের সঙ্গীত জনপ্রিয়তা পাবে আর দুর্বৃত্তরা আসীন হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়; যখন ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, বেশ্যারা ঘাড় উঁচিয়ে হেঁটে বেড়াবে সমাজে, প্রেমিকপ্রেমিকারা লাঞ্ছিত হয়ে আত্মাহুতি দেবে নিরুপায়; যখন মানুষ মানুষের চেয়ে কুকুরকে বেশি ভালবাসবে, অসুখেবিসুখে ভুগে বিনি চিকিৎসায় মারা…


  • পাথর ও রক্তের বিবাদ / আল মাহমুদ

    কী আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবন। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিভে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিভে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২.…