• হে গাড়ল / সায়ীদ আবুবকর

    কেবলি শরীর নিয়ে বেঁচে আছো তুমি। রমণী দেখলেই এঁড়ে গরুর মতো তেড়ে যাও হুট করে অথচ তোমাকে গরু বললেই ক্ষেপে যাও কি-ভীষণ। দুনিয়ার উচ্ছিষ্ট নিয়ে নেড়ে কুত্তার মতো মেতে আছো প্রতিদিন তুমুল কলহে অথচ তোমাকে কুত্তা বললেই তোমার চেহারা পাল্টে যায়। কারো ভালো দেখলেই কেউটের মতো ছোবল দিয়ে বসো আক্রোশে অথচ নিজেকে কেমন সাপের চেয়ে…


  • তারার প্রতি / সাইফ আলি

    তুমি কি এভাবে জ্বলতে জ্বলতে ম্লান হয়ে যাবে তারা তুমি কি এভাবে রাতের বাজারে বিলাবে তোমার আলো আমার শূন্য দৃষ্টি তোমাকে দেখতে দেখতে যদি না দেখে তখনো বিলাবে তোমার স্নিগ্ধ শীতল রূপ তুমি কি এভাবে পুড়তে পুড়তে নিজেকে পোড়াবে খুব? হায়- আমি যদি এক নাবিক হতাম উথাল সাগর জলে অথবা ভীষণ আকাশপ্রেমিক শূন্যের গবেষক হয়তো…


  • ব্যথার বাঁশি / সায়ীদ আবুবকর

    জানতে চাইলাম, সঙ্গীতকে কি হারাম করা হয়েছে? তিনি বললেন, যে-সঙ্গীতে শরীর নাচে, আমি তার কথা বলতে পারবো না; কিন্তু যে-সঙ্গীত হৃদয় নাচায়, আমি তার সম্বন্ধে দুএকটা কথা বলতে পারবো। তাহলে কি ধরে নেবো কিছু কিছু গান হারাম করা হয়নি? -যে সমস্ত গান শুনে হৃদয়ের অন্ধকার আনন্দে কেউটের ফণা তুলে নাচে, আমি তাদের কথা বলতে পারবো…


  • গোলক ধাঁধা / সায়ীদ আবুবকর

    জ্ঞানীরা বলেন মানুষের আত্মা মরে না। কিন্তু আমার আত্মা যে মরে গেছে! যেভাবে চৈত্রের দাবদাহে পুকুুরের পানি শুকাতে শুকাতে তলায় গিয়ে ঠেকে, তখন পুকুরের মাছগুলো কাঁদার ভেতর লুকিয়ে থেকেও যেমন বাঁচাতে পারে না নিজেদেরকে; আমার আত্মাও সেইভাবে আমারই অত্যাচারে মরতে মরতে নিঃসাড় হয়ে গেছে। হায়, আমার কী উপায় এখন? তিনি বললেন, যেভাবে মাটির নিচে পুতে…


  • তুমি কি জানবে জীবনের অর্থটা / সাইফ আলি

    তুমি কি জানবে জীবনের অর্থটা তুমি তো তোমার স্বপ্নকে ঢেকে রাখো অনাগত কোনো ক্লান্তির ভয়ে তুমি সারাটা সময় চাদর মুড়িয়ে থাকো। তুমি কি জানবে বৃক্ষের কারসাজি পাথরের ভাজে বীজের অঙ্কুরণ তুমি তো ভাবছো ক্ষয় হয়ে যাবে পা কাঁদার ভেতরে হাটলেই কিছুক্ষণ। পাখিরা ওড়েনা বাতাসের ধাক্কাতে পাখিরা ওড়েনা ঘুড়িদের মতো করে পাখিরা উড়ছে দু’ডানায় দিয়ে ভর…


  • দিব্য দর্শন / সায়ীদ আবুবকর

    তিনি প্রকাশিত হতে চাইলেন। ফলে সৃষ্টি হলো মহাবিশ্ব। সৃষ্টি হলো পাহাড়পর্বত, সাগর, নদী, অরণ্য, আকাশ। সৃষ্টি হলো চন্দ্র, সূর্য, নীহারিকা, ছায়াপথ, অন্ধকার, আলো। বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, গরু, ভেড়া, ছাগল, কুকুর। এমনকি আরশোলা, সাপ, কেঁচো। বিদ্যুৎগতি ফেরেস্তা, জিন। আদম, হাওয়া। মানুষ বললো, আমরা তোমাকে দেখতে পাবো না চোখে? তিনি বললেন, চক্ষুষ্মানরা দেখতে পাবে। আমাকে শুনতে…


  • আজকাল কিরকম / সাইফ আলি

    আজকাল স্বপ্নেরা উচ্ছেদ হয়ে যায় দেখার আগেই অক্ষর মন থেকে কোনখানে চলে যায় লেখার আগেই কুঁড়িগুলো ফুল হয়ে ফুটবে না বলেই কি বাগান মালিক কেটে কেটে ছাফ করে ফুলগাছ সব?? আজকাল কথাগুলো এলোমেলো হয়ে যায় বাক্য মেলে না গানগুলো কিরকম বেসুরোই বেজে উঠে কাঁপায় জীবন আমরা মানুষগুলো পশুদের সাথে সাথে বেড়ে উঠি আর মানবিক গুণ…


  • হৃদয় কখনো দ্বিধায় দোলেনা / সাইফ আলি

    আমার এ হাত ধরো গোলাম বানাবো না পাখিদের মতো বিচেলি কুড়োবো গিয়ে বানাবো ছোট্ট কুঁড়ে প্রাসাদ বানাবো না…. বিরক্তিকর চোখে বললে আমাকে- “শোনো, রাজার পূত্র চাই… চাই সে রাজ মহল, রাণীর মুকুট দেখে হবে মুগ্ধ পুষ্পদল।” পাশ থেকে হটকারি বললো- আহারে, রূপসী তোমাকে রাণী না বানিয়ে পারি!! দ্বিধায় দুলছো তুমি? হৃদয় কখনো দ্বিধায় দোলেনা, হয়…


  • উপক্রমণিকা / সায়ীদ আবুবকর

    অমর অক্ষয় এ কবিতাও জানি মরে যাবে একদিন, ধ্বংসস্তুপের মাঝখানে মুখ থুবড়ে পড়বে সব খ্যাতি ও অমরতা। পেঁয়াজের খোসার মতো উড়তে থাকবে কেওকারাডাং, হিমালয় পর্বতমালা, টুইন টাওয়ার ও চীনের প্রাচীর। নিউটন ও আইনস্টাইনের দুচোখ উল্টে যাবে; উল্টে যাওয়া সে চোখের উপর উড়ে এসে পড়তে থাকবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নক্ষত্ররাজির নীল ছাই। কোথায় হারিয়ে যাবে হাজার…


  • ইরাদা / সাইফ আলি

    তোমার বুকের গন্ধ আমায় মাতাল করে তোমার চোখের তারায় দেখি উচ্ছলতা তুমি আমার দশ আঙ্গুলের সবকটি নাও নিস্ব বানাও, ফকির বানাও… ঝর্ণা যেমন পাহাড় দাপায় তেমনি তুমি দাপিয়ে বেড়াও আমার সকল সবুজ ভূমি কেবল শুধু চাষ কোরো না অবিশ্বাসের ছোট্ট দানাও; এ নাও তুমি ভালোবাসার সবটুকু নাও, নিস্ব বানাও… শ্রাবণ যেমন বর্ষা আনে তেমন তুমি…


  • আয়নায় নিজেকে দেখে না / সাইফ আলি

    তুমি ভাবো- মাথা তুলে দাঁড়াবার কেউ আর নেই পৃথিবীর জরায়ুতে জন্ম নেবেনা কোনো বীর- বলবেনা কথা কেউ, মুখ বুজে সয়ে যাবে- সব অন্যায়-অবিচার; অধিকার শব্দটি দপ্তরে দপ্তরে ফাইলের নিচে চাপা পড়ে হারাবে জীবন!! কিন্তু তা হলো না এখনো…! আহা!! কিছু কিছু মানুষেরা অধিকার ভুলে যায় ঠিক কিন্তুু বুকের মাঝে কর্তব্যের দারুণ জ্বালায় পুঁড়ে পুঁড়ে খাক…


  • পৃথিবী ২০০৩ / সায়ীদ আবুবকর

    এখানে অন্ধকার বৈদ্যুতিক আলোয় মশা ধরে ধরে খাওয়া টিকটিকির মতো আলো ধরে ধরে খায়। এখানে সন্ত্রাস মানুষের হাড়গোড় কটমট করে খাওয়া রূপকথার রাক্ষসের মতো জীবন ধরে ধরে খায়। এখানে অবিশ্বাস শ্মশানের আপোড়া লাশ চেটেপুটে খেয়ে ফেলা শেয়ালের মতো হৃদয় ধরে ধরে খায়। এখানে মহেঞ্জোদারো আর ব্যবিলনি সভ্যতার সমস্ত কবর ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলে, এ্যাটোমের দীপ জ্বেলে জ্বেলে…


  • যেনো এক অন্ধকার তিল / সাইফ আলি

    যেনো এক অন্ধকার তিল হয়ে বেঁচে আছি তোমার ঐ আলোর শরীরে, তুমি যেই তিল আঁকো চিবুকের ’পরে সেই তীল মুছে যায় সহজেই… আমিতো মুছি না!! আমি কোনো আলো নই, নারী; কিন্তু তোমার ঐ আলোর শরীর আরো বেশি প্রাণবন্ত করে দিতে পারি।


  • শান্তিবাদ / সায়ীদ আবুবকর

    বলো, ভালবাসা ছাড়া মুক্তি নেই আজ কারো। বলো, প্রণয়শরাব ছাড়া শান্তি কারো নেই পৃথিবীর। দেশ নয়, জাতি নয়, অর্থ বিত্ত বীরত্বও নয়, বলো, আজ মুক্তি শুধু, শান্তি শুধু ফুলেল নারীর বুকে আর ঠোঁটে। বলো, যুদ্ধের খিচুড়ি নয় আর, নারীর হৃদয়ে আজ রাঁধাবাড়া হবে প্রেমক্ষীর। বলো, যুদ্ধে জেতা নয়, প্রেমাঙ্গনে নারীর হৃদয় জয় করে নেবে যে-ই,…


  • আজ যেনো মুখোশের রাত / সাইফ আলি

    চিন্তার করিডোরে পরিচিত হাটাহাটি নেই, আজ যেনো মুখোশের রাত- সময়ের বালুচরে প্রিয় লাশ ঘুমায় অঘোরে আর তার সুর ধরে দল বেধে জমা হয় পিপিলিকা আশা; চিন্তার করিডোরে পরিচিত নেই আর কেউ আছে শুধু কতগুলো জমে থাকা নীল ভালোবাসা… মাঝে মাঝে মনে হয়- প্রান্তরে যে সূর্য ডুবে গেছে তাকে ফেরাবার কেউ নেই বাকি; তবু চেয়ে থাকি।…


  • মধ্য রাতে / সায়ীদ আবুবকর

    মধ্য রাতে যাই ঘুমাতে ঘুম আসে না ঘুম পাই বাতাসে শুনতে, কোথাও কাঁদতেছে মজলুম। কাঁদতেছে কেউ বোমা হামলায় কাঁদতেছে কেউ খিদেয় কী করি, হায়, তাদের জন্যে, কী দেই তাদের কী দেই? কলম বললো, আমায় ধরো লেখো এমন লেখা যে-লেখাতে হয় জালিমের উচিত শিক্ষা শেখা। অস্ত্র বললো, আমায় ধরো যুদ্ধ শুরু হোক বাঁচতে হলে মরতে হবে,…


  • পৃথিবীকে কেটে কেটে / সাইফ আলি

    তোমাদের পাহাড়ের পাদদেশে আমাদের সুখ করে বসবাস, তোমাদের ঝর্ণাটা নদী হয়ে বয়ে যায় আমাদের উঠোন মাড়িয়ে; তোমাদের পলি এসে জমা হয় আমাদের ধানক্ষেতে পাটক্ষেতে তবু- তোমাদের আমাদের বৈরিতা জনম জনম!! আমাদের সাগরের পানিগুলো মেঘে মেঘে তোমাদের দেশে বৃষ্টি ঝরায়, আমাদের বুক থেকে রস নিয়ে বেঁচে থাকে পাহাড় বনানী; অতঃপর বয়ে যায় ঝর্ণা সুপেয়… আসলে কি…


  • ঘৃণার কবিতা / সায়ীদ আবুবকর

    বিলকিস বললো, ‘হে পারিষদবর্গ, আমাকে একটি সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে। সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এই – অসীম দাতা, দয়ালু আল্লার নামে শুরু; আমার মোকাবেলায় শক্তি প্রদর্শন কোরো না এবং বশ্যতা স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’ বিলকিস বললো, ‘হে পরিষদবর্গ, আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোনো কাজে সিদ্ধান্ত…


  • অদ্বিতীয়া / সাইফ আলি

    আমাকে আমার কাছে বেচে দাও তুমি আত্মদ্বন্দে ভুগি সমস্ত রাত, হাসিমুখে কি দিয়েছো বুঝিনি তা আগে এখন দেখছি শুধু সাজানো আঘাত। চোখে রেখে চোখ আর হাতে রেখে হাত হৃদয় জমিনে যার করলে আবাদ, সে এখন পাকা ধান, কাটো দুই হাতে; মই দিয়ে করো কেনো সব বরবাদ!! রাত্রি গভীর হলে ভাবি শুধু এই, কিভাবে আবাদ হবে…


  • হে হুজুর / সায়ীদ আবুবকর

    তুমি বুঝি ভেবেছিলে, পৃথিবীর সমস্ত আরাম জালি দিয়ে পেড়ে পেড়ে, ভরে দেয়া হবে তোমার নফসের ঝুড়ি। অতঃপর ভীতির সাথেই গোলামের মতো এসে বলবেন কেউ- ‘শান্তিগাছটার সবগুলো আম এক বারে পেড়ে এনে, দিয়ে যাওয়া হলো এই ঝুড়ির ভেতর। হুজুর এখন জাগ দিয়ে মজা করে খান একা একা, পাকিয়ে পাকিয়ে।’ তুমি বুঝি ভেবেছিলে, যদি এই মন্ত্র পড়ো…