-
নিয়তির রাত / আফসার নিজাম
নিয়তির রাতজুড়ে ছুটে যায় ছয় ঘোড়া মন তখন শংকায় জড়সড় মায়ের মতোন ঐ বুঝি ছুটে আসে দস্যুর দল লুটেপুটে নিয়ে যাবে ক্ষেতের ফসল। পাহারায় কে আছে? ডেকে যায় মায়ের জবান ভয় তার চোখে-মুখে- চৈত্রের পুড়ে যাওয়া ক্ষেতের লাহান আর হাহাকার উড়ে এসে জুড়ে বসে হোগলা পেতে মা তখন ডাক দেয়- বিডিআর বিডিআর নাড়ি ছেঁড়া ধন…
-
হে নিশান-বাহী / ফররুখ আহমদ
নিশান কি ঝড়ে প’ড়ে গেছে আজ মাটির ‘পরে? আধো চাঁদ-আঁকা সেই শাশ্বত জয়-নিশান? বহু মৃত্যুর প্রলয়-আঘাতে, প্রবল ঝড়ে নুয়ে গেছে সেই প্রথম দিনের জয়-নিশান? হামাগুড়ি দিয়ে কারা চলে ঐ পতাকীদল? কার ক্রন্দনে ভরছে শূন্য জলস্থল? নিশান কি আজ প’ড়ে গেছে ভূঁয়ে, নিশান-বাহী কি চলে মাটি ছুঁয়ে শিয়রে কি তার কঠিন বাধার জগদ্দল? বুক চাপা দেওয়া…
-
নীলিমা / জীবনানন্দ দাশ
রৌদ্র ঝিলমিল, ঊষার আকাশ, মধ্যনিশীথের নীল, অপার ঐশ্বর্যবেশে দেখা তুমি দাও বারেবারে নিঃসহায় নগরীর কারাগার-প্রাচীরের পারে! – উদ্বেলিছে হেথা গাঢ় ধূম্রের কুন্ডলী, উগ্র চুল্লিবহ্নি হেথা অনিবার উঠিতেছে জ্বলি, আরক্ত কঙ্করগুলি মরুভূর তপ্তশ্বাস মাখা, – মরীচিকা-ঢাকা! অগণন যাত্রিকের প্রাণ খুঁজে মরে অনিবার , -পায় নাকো পথের সন্ধান; চরণে জড়ায়ে গেছে শাসনের কঠিন শৃঙ্খল,- হে নীলিমা নিষ্পলক,…
-
ধ্যানমান সময়ের কবিতা / আফসার নিজাম
পাহাড়ের ঘুম ভেঙে জেগে উঠে পাথর-মিনার সিঁড়ি ভেঙে উঠে আসে সময়পুরুষ মিনারের চূড়াদেশে আসন পেতে দীর্ঘ রজনী কেটে যায় ধ্যানে ধ্যান ভাঙে সুললিত কণ্ঠের সুরে ধ্যান ভেঙে চেয়ে দেখে অচল দিনার কতো সময় কেটে গেছে ক্ষয়ে গেছে পাথরের ইট কতো রাজা এসেছিলো কতো রাজা চলে গেছে সময়ের ঘুমে এসেছিলো আরো কী ধ্যানমান সময়প্রফেট আজ তার…
-
ভালোই হতো রাতের মতো / সাইফ আলি
ভালোই হতো রাতের মতো হতাম যদি অন্ধ মনের ভিতর থাকতো না আর সাক্ষ্যি হওয়ার দন্দ্ব। সব খেয়ে ফের আমার ভাগের- বলতে কিছু খাইনি। আক্ষেপে তো দিন যেতো না- ‘আমিই শুধু পাইনি।’ কারোর চোখের নীলাভ শোকের থাকতো ভাষা অজানা; জেনেই এখন ভুল করেছি কাটছে না তাই দোটানা। তোমরা যারা আপন তারা ভাতের হাড়ি ভাগ করো সামান্যতে…
-
আমজনতার পাল্লা / সাইফ আলি
“ঘোলা করি পানি বানাই কাহিনী এরপর মারি তেশটা, খেলাতো এখনো শুরুই হয়নি পড়ে আছে গোটা শেষটা।” টাকা টাকা টাকা নেই টাকা; ফাঁকা রাজকোষ… আহ কি সততা মহান সে তোতা ভোতা মুখে বলে- তার দোষ। কে যে সেই তিনি এখনো দেখিনি, না দেখে বুঝেছি বেশটা; এভাবেই বুঝি লুটে পুটে খাবে হারামীরা গোটা দেশটা। যেতে নাই যেতে…
-
অবাক লাগে / সাইফ আলি
আমার মায়ের জায়নামাজের প্রান্ত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকিয়ে আছি সবুজ শ্যামল মাঠের দিকে; ঘাটের দিকে এখন তো আর নৌকা বোঝায় সুখ আসে না আগের মতো মূক হয়ে যায় ইচ্ছেগুলো, ঘাসের কাছে বিকেল হলেই; কষ্ট আসে ঠোঙায় ভরে বিভৎস এক লাশের শরীর; শরীর টা কার জানতে বড় ইচ্ছে করে, চোখ বুজে যায়; বিকাল বেলার ফুলের মতো…
-
উল্টোকথা / সাইফ আলি
যখন বাঘেরা তার ধারালো নখ আর দাঁতের কার্যকারিতা পরখ করলো তুমি তাদের নির্মমতার বিরুদ্ধে কি দারুণ লেখে গেলে সুপেয় রচনা হায়েনার নির্ধারিত রিজিকে দেখলে চরম হিংস্রতা অথচ, একদল হরীণ যখন কচকচ চাবিয়ে গেল ঘাসের শরীর সবুজ লতাগুল্মের লকলকে ডগা…. তোমরাই উল্টোকথা শুনিয়ে দিলে খুব মুখে তুলে তোমরাই খাইয়ে দিলে প্রেমফল বাদামের ভ্রুণ…!!!!
-
গ্রামীণফোনের আলোর যাত্রা এবং আমাদের মুমূর্ষু বিবেক / সাইফ আলি
যখন আমি দেখলাম আমার চারপাশটা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে ধর্ষিতা সমাজ মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর ঠিত তখনই তুমি আমাকে গল্প শুনাতে চলে এলে কি নির্মম আমার শোকের চারপাশে দাউ দাউ জ্বলতে থাকলো নির্লজ্জ আগুন… যে আগুন জ্বলার কথা বুকের পাঁজরে যে আগুন জ্বলার কথা রক্তে, রন্ধ্রে সে আগুন জ্বাললে তুমি ক্ষণস্থায়ী মোমবাতিতে!! খুব সহজেই মোমবাতিতে সেলফি তুলে…
-
লজ্জা / সাইফ আলি
খুবই কষ্ট লাগে যখন এ ধরনের কোন বিষয় নিয়ে কবিতা লেখতে যাই। সামর্থ নেই বলে হাত দিয়ে বাধা দিতে পারছি না। মন থেকে ঘৃণা জানানোর মতো দুর্বল রাস্তাতেই পা বাড়ালাম। বোন তনুকে আল্লাহ জান্নাত দান করুন। তোমার জন্য চোখের কোণায় উপচে ওঠেনি পানি তার চেয়ে ঢের উত্তেজনায় কেটেছে ক্রিকেট রাত তোমার জন্য লজ্জাবাক্য সাজাতে হয়েছি…
-
সিল্কের নদে আগুন / আফসার নিজাম
শরতের পিচনীল রাতে প্রশান্ত সিল্কের নদে শুয়ে থাকে যুবতী চাঁদ লাল মাছ নীল মাছ সোনালি রূপালি মাছ উড়ে যায় শূন্যে- জোসনারা ঝরে পড়ে নীল মসজিদের মিনারে- চকচক নুর জ্বলে শূন্যে হুকুম বেজে উঠে উড়ে যায় বুধ শুক্র পৃথিবী বৃহস্পতি, নেপচুন, প্লটো পাহাড় পর্বত অট্টালিকা জ্বলে উঠে সমুদ্র আগুন আ… গু… ন আ… গু… ন…।
-
তুফান / ফররুখ আহমদ
দুর্বার তরঙ্গ এক ব’য়ে গেল তীর-তীব্র বেগে, বলে গেল: আমি আছি যে মুহুর্তে আমি গতিমান; যখনি হারাই গতি সে মুহুর্তে আমি আর নাই। – ইকবাল সে তুফান থেমে গেছে, সাইমুমের সে দুর্ধষ পাখা- সাহারার সূর্য-ঝড় লুপ্ত হিম-শর্বরী-অতলে, অন্ধ, মূক আঁধারের অজগর হিংস্র ফণা তলে দূরচারী বেদুইন-খর রশ্মি আজ মেঘে ঢাকা, আজ মরু-বালুকাতে লুপ্ত তার বিজয়ী…
-
মুসলিম / সাইফ আলি
এক দলা মাংসপিন্ড তোমাকে আকর্ষণ করে এক চুমুক মদ তোমাকে আকর্ষণ করে এক নারীর শরীর তোমাকে আকর্ষণ করে কারণ তুমি মানুষ; তুমি সে মাংসের কাছে বিক্রি হও না তুমি সে মদের নেশায় মাতাল হও না তুমি সে নারীর দিকে তাকাতে ভয় পাও কারণ তুমি মুসলিম। তুমি বিশ্বাস করো- সীমা নির্ধারণকারী স্রষ্টা তোমাকে দেখছেন; তুমি তাঁর…
-
চোখ ১,২ ও ৩ / আসাদ চৌধুরী
চোখ : ১ রাজনীতিবিদ শুধায় আমায় ‘কারে কয় প্রকারণা?’ জিভ শুধু দিলো তোমার চোখের অকপট বর্ণনা। চোখ : ২ যখন বিষাদ এসে ঢেকে দেয় সব বিনোদন, তখন তোমার চোখে আশ্বাসের দীপ্রদীপস জ্বলে। যখন আনন্দ এসে ঢেকে ফ্যালে মলিন ভুবন, তোমার চোখের তারা সিক্ত হয় স্নিগ্ধ ধারাজলে। চোখ : ৩ তোমার দু’চোখের জলের ভরসায় জুয়ার শেষ…
-
রাত্রি জাগরণের কাব্য / আফসার নিজাম
কবি মতিউর রহমান মল্লিক যাঁর চোখের প্রিজমে জ্বলে হেরার প্রদীপ ১. বহু দূর ভ্রমণে রোদের মাখন জেগে ওঠে তাঁর সুরমা রঙ গালের গেলাফে চিকচিক দাড়ির বাগানে ফুটে ওঠে মুক্তা রাশি রাশি- রহম খোদার। ২. ভ্রমণে ক্লান্ত তাঁর কয়েদি পা শিকল ছিঁড়ে তাহাজ্জুদ রাত্রিতে কপাল চুম্বন করে ঐশ্বরিক পায় জেগে ওঠে হাত আর চোখের ফারাক্কা ভেঙ্গে…
-
লাশ / ফররুখ আহমদ
(তেরশো পঞ্চাশে) যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়, কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়, সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে জমিনের ‘পর; সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর। জানি মানুষের লাশ মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে ধরণীর ‘পর, ক্ষুধিত অসাড় তনু বত্রিশ নাড়ীর তাপে প’ড়ে আছে নিঁসাড় নিথর, পাশ দিয়ে চ’লে…
-
স্বর্ণ ঈগল / ফররুখ আহমদ
আল-বোরজের চূড়া পার হ’ল যে স্বর্ণ-ঈগল গতির বিদ্যুৎ নিয়ে, উদ্দাম ঝড়ের পাখা মেলে, ডানা-ভাঙা আজ সে ধুলায় যায় তারে পায় ঠেলে কঠিন হেলার কোটি গর্বোদ্ধত পিশাচের দল। মাটিতে লুটানো আজ সেই স্বর্ণপক্ষ, তনুতল! আলো, বাতাসের সাথী, তুফানের সওয়ার নির্ভীক অস্তিম লগ্নের ছায়া দেখে আজ সে মৃত্যু-যাত্রিক, অতল কূপের তীরে পাষাণ-সমাধি, জগদ্দল। সূর্য আজ ডুব দিল…
-
আমি কবি,- সেই কবি / জীবনানন্দ দাশ
আমি কবি,- সেই কবি,- আকাশে কাতর আঁখি তুলি হেরি ঝরা পালকের ছবি! আনমনা আমি চেয়ে থাকি দূর হিঙুল- মেঘের পানে! মৌন নীলের ইশারায় কোন কামনা জাগিছে প্রাণে! বুকের বাদল উথলি উঠিছে কোন কাজরীর গানে! দাদুরী কাঁদানো শাঙন-দরিয়া হৃদয়ে উঠিছে দ্রবি! স্বপন-সুরার ঘোরে আখের ভুলিয়া আপনারে আমি রেখেছি দেওয়ানা করে! জনম ভরিয়া সে কোন হেঁয়ালি হ’ল…
-
প্রেম: ৫,৬,৭ ও ৮ / আসাদ চৌধুরী
প্রেম : ৫ রে নির্বোধ, প্লাটফর্মে খুঁজে এলি বিশুদ্ধ আবেগ। -যেখানে মরণমৃত্যুর ছোটো মালা ছলছল ক’রে পালা করে। সেখানে প্রতিটি ফুসফুস বিশুদ্ধ বাতাসের কাঙাল। শনিবারের সুনীলবিকেলে গভীর তিয়াসায় হন্তদন্ত হ’য়ে ছুটে গেলি হৃদয়বতী হৃদের কাছে; পিপাসিত জিহ্বার ছায়া তোর সরল শরীর ছুঁতে না-ছুঁতেই হে প্রসন্ন জলাশয়, শুকিয়ে গেলি আঁখির আঁধারে। তোমার তৃষ্ণার জল, আসাদ, পেয়েও…
-
পাঞ্জেরী / ফররুখ আহমদ
রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে: অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরি। রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? দীঘল রাতের শ্রান্ত সফর শেষে কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা প’ড়েছি এসে? একী ঘন-সিয়া জিন্দিগানীর বা’ব তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব, অস্ফুট হ’য়ে…