• বিবেক বিক্রি হতে দেখে / সাইফ আলি

    তুমি যা বিক্রি করে দিলে তা আমার কবিতার খাতা তুমি যাকে বোমা-বাজি ভাবো সে আমার সখের কবিতা।


  • আহা! তুমি সব বোঝো!

    অনেক অন্ধকার মিশে থাকে আলোর শরীরে অনেক গানের সুর হয়ে যায় কান্নার বর; কবিতা গাছের পাতা, কবি হলো সে গাছের নিচে কবিতা কুড়োনো সেই কিশোরের মতো কেউ যার রাখে না খবর; অভিমানি, মুখচোরা, কখনো যুবক; কখনো নিজেই বুড়ো বট… আনমনে শিকড় গেড়েছে যে বা মাটির ভিতর ইচ্ছের ডালপালা মেলে লেখেছে অন্য এক ছায়ার রচনা; আহা!…


  • দাড়ি হত্যাকারী

    বন্ধুবর কবি আহমদ বাসিরের দাড়ি হত্যার প্রতিবাদে তোমার ফোন আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে- শুনলাম এই মাত্র তুমি লালন করা দাড়িগুলোকে হত্যা করেছ হত্যা করেছ- বিদেশী ব্লেডের নিষ্ঠুরতায়। আহ! কি কষ্ট নিয়েই না চলে গেলো তারা ফিলিস্তিনিদের মতো উদ্বাস্তু হয়ে নিজেদের জমি থেকে। হে নিষ্ঠুর দাড়ি-হত্যাকারী তুমি কি জানো? যার একটুকরো জমি নেই সে কতোটা অসহায় তুমি…


  • When my love

    Walking across the broken heart of mine when my love touched your eyes, your indifferent hair started flying in the Spring-air like withered leaves and drops of happy dew started gathering on your eye-grass.   Sayeed Abubakar


  • আলোকচিত্র: ১, ২ ও ৩

    আলোকচিত্র: ১ ঘর : একটি আয়োতন, ঘর : নিবিড় আশ্রয়, দীর্ঘশ্বাস জমা রাখা যায়, ঘর : সে তো সময়ের সবুজ পালক ঘেরা নীল অবসর নিজেকে বিস্তার ক’রে দেখা যায়, শরীর ও হৃদয়ের খুচরা খুঁটিনাটি পার্টস। আলোকচিত্র: ২ সারা বছর ঘুমায় এ মাঠ শান্ত ছেলের মতো পায়ের তলা শিশির পেলেই শিরশিরিয়ে ওঠে ॥ তামাক পাতায় তাহের…


  • পদ্মা বলছি… / সাইফ আলি

    আমি সেই পাড় ভাঙা নদী আমি সেই ক্ষরস্রোতা নদী নিরবধি মনে পড়ে বঙ্কিম রচনার কথা উত্তাল ঢেউয়ের শরীর আজ বড়ো বুড়িয়ে গিয়েছি এখন আর জোয়ার নেই কোনো মরণে মজেছি… ঐখানে জমিদার ভিটে ছিলো ভয়ে তার কাঁপতো সবাই, এক রাতে ভেঙেছি প্রতাপ; হাট-ঘাট-বটতলা-বিশাল বিরাণভূমি মুহূর্তে হাওয়া; আজ খুব সংক্ষেপে আসা আর যাওয়া। শুধুকি নিয়েছি, তার চেয়ে…


  • শুধু নেই পাত্র আমার

    পড়ন্ত বিকেলের কাছে বললাম- একটু আলো দেবে, যে আলো পোঁড়ায় না কিন্তু পথ দেখায়? সে আমাকে বলে, তার সব আলো নাকি আমারি জন্য; অথচ, সে আলো পুষে রাখার পাত্র পেলাম না… সন্ধ্যাকে বললাম, দিতে পারো মায়া; যার টানে পাখি ফেরে নীড়ে? সে আমাকে বলে, তার সব মায়া নাকি আমার জন্যই! অথচ সে মায়া হায় অধরাই…


  • শব্দের জন্য / সাইফ আলি

    তুমিও তোমার শব্দগুলো ফিরিয়ে নিলে কি হয় যদি থাকতো আমার পেরেক মারা বুকের খাঁজে; তুমিও তোমার শব্দগুলো ফিরিয়ে নিলে দেখছো এখন পানসে বাতাস বুকের মধ্যে কেমন বাজে! আমি কি আর ফেলবো গিলে একটু দিলে যত্নে ঢেকে খুব গোপনে আগলে রেখে করবো মানুষ, দেখো… মেঘের কাছে গাছের কাছে একটু না হয় শেখো। এই যে যারা সকাল-সন্ধ্যা…


  • হয়তো সেদিন শুধু

    আমার আলোকিত সন্ধ্যাবেলার এক টুকরো স্মৃতি হয়ে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবে কয়েকটি রাত কিন্তু মনে রেখো- আমার এ হাত, আরেকটি স্পর্শের বেদনায় যতোটুকু নীল তার চেয়ে নীল হবে তোমার সকাল; আমার এ চোখ, স্বচ্ছ কাচের মতো ঘিরে থাকা স্মৃতির আধার যতটুকু ঘোলা হবে তার চেয়ে ঘোলা হবে তোমার বিকাল; আমার এ মন, যতোবার ফিরে যাবে…


  • মাননীয় প্রফেট / আফসার নিজাম

    মাননীয় প্রফেট, দরুদ সালাম সহস্র সময়কে ধারণ করার জন্য এবঙ বাতাসকে ঘুরিয়ে নির্মল কক্ষপথে পরিচালনার জন্য কিন্তু বিস্মিত হবেন না মাননীয় আপনার অনুসারীরা ধারণ করতে পারেনি বাতাসের আর্দ্রতা- কোমলতায় মেখে নিতে পারেনি জাফরানি লোবান। কারণ- তারা হারিয়ে ফেলেছে নান্দনিক চৈতন্যের ইকরা বিসমি রাব্বি কাল্লাজি খালাক। মাননীয় প্রফেট এবার নেমে আসুন দেখুন আপনার উম্মত বাতলিয়ে দিন-…


  • দরিয়ার শেষ রাত্রি / ফররুখ আহমদ

    রাত্রে ঝড় উঠিয়াছিল; সুবেসাদিকের ম্লান রোশনিতে সমুদ্রের বুক এখন শান্ত। কয়েকজন বিমর্ষ মাল্লা সিন্দবাদকে ঘিরিয়া জাহাজের পাটাতনে আসিয়া দাঁড়াইল। ১ম মাল্লা কাল রাত জেগে আওয়াজ পেয়েছ, কোনো? জিঞ্জির আর দাঁড় উঠেছিল দুলে! ২য় মাল্লা বুঝি সী-মোরগ সাথীহারা তার দরিয়ার শেষ রাতে ঝড় বুকে পুরে বসেছিল মাস্তুলে! ৩য় মাল্লা যেন সুলেমান নবীর শিকলে বন্দী বিশাল জিন…


  • তোমার জন্য একটা কবিতা / সাইফ আলি

    তোমার জন্য আমার শখের মেঠো পথ দেবো ছেড়ে তুমি হেটো সেই পথে, তোমার জন্য এক থোকা ফুল রেখে যাবো এই ঘাসে তুমি বসো তার পাশে। এক মুঠো আলো বতলে বদ্ধ সাথে চিঠি নীল খামে রেখে যাবো এই ঘাসের চাদরে বন্ধু তোমার নামে; একটি বিকাল তোমার জন্য একটি সন্ধ্যা বেলা, পারলে তা নিও বুকের গভীরে না…


  • আমি তার তল খুঁজে পাইনি কখনো

    ক্যানভাস জুড়ে ছিলো কালির আঁচড় আর তাতে ছিলো দুটো চোখ, সে চোখে কি লেখা ছিলো বুঝিনি সেদিন এটুকুই মনে আছে পড়েনি পলক! সেই দুটো চোখে ছিলো রাজ্যের মায়া মায়ার গভীরে ছিলো সাগরের ঢেউ আমি তার তল খুঁজে পাইনি কখনো শুনিনি তা কোনোদিন পেয়েছিলো কেউ।


  • মুখোশ / সাইফ আলি

    মানুষের মুখে শুনি মানুষের নাম, গাছপালা হেসে বলে সালাম সালাম। ফুলগুলো চেয়ে থাকে পাখিগুলো চুপ মানুষ মুখোশ পরে অতঃপর বলে- এখানে কে জ্বালিয়েছে ছলনার ধূপ, এভাবে জীবনটা কি মিশে যাবে জলে! ফুলগুলো ছিড়ে ফেলো পাখিগুলো মারো গাছপালা কেটে কেটে লাকড়ি বানাও; অতঃপর মুখ থেকে মুখোশ সরিয়ে পৃথিবীকে শান্তির খবর জানাও। আমিও মানুষ তাই মানুষ মহৎ…


  • আমি কি অধম দ্যাখো

    পাখির শরীর থেকে পালকের সুখ তুললে যে নিষ্ঠুর হাতে সে হাত কেমন করে গোলাপে লাগাও, জোছনায় ভেজাও এ রাতে! একই হাতে কিভাবে এ পাঁজর ভেঙে হৃদয়ের রঙ নিয়ে তুলিতে লাগাও; তারপর সেই তুলি সাদা ক্যানভাসে নিষ্ঠুর ঘসে ঘসে রঙিন বানাও! আমি কি অধম দ্যাখো পারিনে কিছুই কিছু পথ যেয়ে একা ফিরছি পিছুই, তারপর একা একা…


  • যা কিছু কাঙ্ক্ষিত

    ভাবনাগুলো জট পাকালো সময় সুতোয় অল্পকিছু আবেগ ছিলো অনাহূতই, দিকটা শুধু ঠিক ছিলো না; নয়তো এমন অন্ধকারে হাতড়ে ফিরি কানাগলি? পাতার বাঁশি বাজাও তুমি কোথায় বসে বটতলাতে খুঁজে এসেই বলছি আমি, তোমার কথা ভাবতে গেলেই কেমন যেনো গুলিয়ে ফেলি দৈনন্দিন জীবন-যাপন। পালকবিহীন ছানার ডানায় বাতাস বাধে? ইচ্ছে হলেই সবাই কি আর উড়তে পারে? তুমি থাকো…


  • যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে / সাইফ আলি

    যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে যেটুকু বিষাদ ছিলো রাতের শরীরে সবটুকু তুলিতে মলিন; সারা ক্যানভাস ছিলো ভীষণ রঙিন! দৃষ্টিরা দেখেছিলো শুধু সেই রঙ পারেনি আঁধার ছুতে ঠোঁট; সারাটা রাতের ব্যথা এক নিমেষেই কিনে নিয়ে গেলো কিছু কাগজের নোট!


  • ভয় করে…

    : ভয় করে… : কিসে? : ঘুমোতে। : কেনো? : এই ঘুম শেষ ঘুম হলে… : হাহা, বলে কি পাগলে!!


  • আমার শিক্ষা; আমার মনোভাব / সাইফ আলি

    আজ সকালে যে শিশুটির জন্ম হলো তার কোনো ইচ্ছা নেই। তাকে বলা হলো, তুমি বড়ো হয়ে ডাক্তার হবা, না হলে ইঞ্জিনিয়ার; আর যদি নাই পারো তবে অন্তত একটা সরকারি চাকরি তোমাকে পেতেই হবে। কিন্তু সাবধান- কবিটবি হয়োনা কখনো। তোমাকে দিয়ে ব্যবসা হবে না, কারণ তোমার রক্তে নেই… মানুষকে কিভাবে ঠকাতে হয় সেটা তোমার চৌদ্দগুষ্ঠির কেউ…


  • অবান্তর অভিযোগ / সাইফ আলি

    রাতটাকে বোলো সে যেনো জাত বিচার না করে সে যেনো সবার জন্য ঘুমবান্ধব হয়, চাঁদকে বোলো সে যেনো কারো চোখে রূপোর থালা, আর কারো চোখে ঝলসানো রুটি না হয় কখনো; নদীকে বোলো, রাজার প্রমোদ তরী না ভাসিয়ে শুধু ছুয়ে দেখে কৃষকের খেতও। এবং সূর্য, তাকে বলে দিও একতরফা শ্রমিকের মাথার উপর চড়াও না হতে; ওদের…