• একটা গল্প বলো

    একটা গল্প বলো যাকে পালা যায় বুকের খুব কাছে লালন করা যায় বছরের পর বছর… আমাকে এমন একটা গল্প শোনাও যে কিনা প্রতিদিন বড়ো হয় উপন্যাস হয়ে যায় হঠাৎ কখনো! যে কিনা বেড়ে ওঠে বৃক্ষের মতো নদীর ঢেউয়ের মতো উপচে পড়ে জীবনের তীরে পাখিদের মতো অভিমানী হয় বাতাসের মতো হয় বহমান… সর্বপরি আমাকে একটা গল্প…


  • তুমি যখন ঘুড়ি ওড়াও / সাইফ আলি

    ঐ দূর মেঘেদের দেশে তুমি যখন ঘুড়ি ওড়াও তোমার হাতের নাটায়ে টান পড়ে, তুমি কি ভাবো- ঘুড়িগুলো খুব বেশি স্বাধীনতা প্রিয়, বিচ্ছেদ প্রিয় হয়? তুমি কি ভাবো তারা বন্ধন কাকে বলে বুঝতে শেখেনি? অথচ তুমিই, বাতাসে ভাসিয়ে দিলে তাকে উড়ে যেতে বললে সর্বচ্চ উচ্চতায়; আর চেয়ে চেয়ে নিচ থেকে তামাশা দেখলে- কিভাবে লাট খায়, উলোট…


  • ঝড়ের রাতটাতে / সাইফ আলি

    ঝড়ের রাতটাতে জমেনি ধুলোময় প্রাচীন গল্প জমেছে শংকিত চোখের বন্দরে প্রতিকী মৃত্যু জমেছে চৌকাঠে পুরোনো পাতাদের লাশের স্তুপ তবুও সীমাহীন আশার বুকে জমা শিশির অল্প। ঘরের মাঝখানে দাড়িয়ে ভাবনায় ভেবেছি কেউ নেই, ভেবেছি এই ঝড়ে শুধুই মৃত্যু; জীবন ঢেউ নেই। অথচ রাতভর ঝড়ের তান্ডবে নেচেছে বৃক্ষ, বলেছে- রাত শেষে ভোরের কোল জুড়ে সূর্য হাসবেই। আহা…


  • তুমি আসলে সেদিন আমজনতার মঞ্চে / সাইফ আলি

    তুমি আসলে সেদিন আমজনতার মঞ্চে বললে অনেক প্রিয়-কথা প্রিয় বাক্য, বললে তোমার উন্নয়নের গল্প; আজ ভুলে গেলে সব? নেতাজী!! দেখলেনা ঐ মঞ্চের খুটি ধরে আছে কোন দৈন্য ভাবলেনা ঐ সমাবেশ কার জন্য রাখলে না মনে ওয়াদা যা তুমি করেছো; এ কি ভন্ডের বেশ ধরেছো! সম্পদ আর বিলাসী জীবন তোমাকে পেয়েছে আজকে ভুলেছো তোমার করণীয় সব…


  • এই বিমূর্ত সব সন্ধ্যা

    এই বিমূর্ত সব সন্ধ্যা এই জোনাক পাড়ার ব্যস্ততা, এই চাঁদরাত এই পাহাড় চরানো ঝর্নার হাওয়া ভৌতিক, এই আঙ্গুল, এই আশ্রয়… সব তোমার জন্য কবিতায় বেধে রাখলাম। খোলাচুলে তুমি মেঘ নিয়ে এলে রাত্রে এলোমেলো কিছু বৃষ্টির মতো ভালোবাসা ঝরে পড়লো ডিমলাইটের আবছা আলোতে তোমাকে দেখিবা দেখি না কবিতার মতো তোমাকে লেখি বা লেখি না আমার গোপণ…


  • হায়! নিয়তি…

    শরীরে জমেছে মেদ ভারী হয়ে গেছে পা, গচ্ছিত সব মালামাল নিয়ে পথ চলা যাবে না। ছিলো ঝাড়বাতি জ্বলা বেডরুম ছিলো বিশাল কক্ষ ডাইনিং তবু রাত আনলোনা সুখ-ঘুম হায়! নিয়তি… ছিলো ভান্ডার ভরা খাদ্য ছিলো সঙ্গীত ছিলো বাদ্য শুধু তোমাকে নিলোনা মহাকাল হায়! নিয়তি… ছিল প্রাসাদ ফটোকে দারোয়ান ছিলো পাহারাদারেরা পালোয়ান তবু খাঁচার পাখিটা উড়লো হায়!…


  • আলোকিত অন্ধকারে তুমি

    আলোকিত অন্ধকারে তুমি নতজানু তোমার দু’চোখ আমি শুধু দেখি আর ভাবি এই দেখা শেষ দেখা হোক। মৃদু মৃদু দুলছিলো চুল ফুটেছিলো গোধুলির ফুল, আলো ছিলো আঁধারের চোখে নাকি ছিলো অযাচিত ভুল। তুমি ছিলে ক্যানভাস জুড়ে আর ছিলো থোকা থোকা রং, সেই রঙে অন্ধ হলো চোখ; আমি শুধু দেখি আর ভাবি- এই দেখা শেষ দেখা হোক।


  • সব পাতায় বাঁশি হয়না

    শুনেছিলাম, তোমার নাকি পাতার বাঁশিতে শখ বস্তা বস্তা পাতা এনে জড়ো করলাম তোমার উঠোনে তুমি অবহেলায় মুখ ফিরিয়ে বললে – সব পাতায় বাঁশি হয়না। কবিতায় অনুরাগ শুনে শত শহস্র শব্দের ভান্ডার ঘেটে লিখে আনলাম কবিতা; তুমি তাতে রস পেলে না! বৃষ্টিতে কবে কার পিপাশা মিটেছে জানি না, তবু অসংখ্যবার মেঘ হয়ে বৃষ্টি ঝরালাম তোমার উঠোনে,…


  • বা’র দরিয়ার / ফররুখ আহমদ

    সমুদ্র থেকে সমুদ্রে ঘোরে দরিয়ায় সাদা তাজী! খুরের হলকা,- ধারালো দাঁড়ের আঘাতে ফুলকি জ্বলে সমুদ্র থেকে সমুদ্রে ঘোরে দরিয়ায় সাদা তাজী…. কেশর ফোলানো পালে লাগে হাওয়া, মাস্তুলে দোলে চাঁদ, তারার আগুনে পথ বেছে নেয় স্বপ্নেরা সারারাত, তাজী ছুটে চলে দুরন্ত গতি দুর্বার উচ্ছল; সারারাত ভরি তোলপাড় করি দরিয়ার নোনাজল। আদমসুরাত মুছে যায়, জ্বলে দিগন্তে শুকতারা,…


  • শিরোনামহীন / আলি মেসবাহ

    আমার বুকে শুভ্রতা কই অতো, তোমায় দেবো? শুষেই নেবো সব ব্যাথা সব ক্ষত ! ও মানবী, শোনো- আমি কি আর ব্লটিং পেপার; হেলাল হাফিজ কোনো ?


  • হঠাৎ এক জোছনায় ভিজে

    একটি আলোক পোকার মৃত্যু সংবাদ এবং একটি জোনাকির নিভে যাওয়া শোক চাপা ছিলো কবিতার খাতায়… এলোমেলো অক্ষরে ব্যথা শব্দের ব্যথা ব্যথাদেরও ব্যথা ছিলো ভরা হঠাৎ এক জোছনায় ভিজে কি যে হলো কি- অক্ষরে হান গায়, শব্দেরা হাসে; কবিতারা সুখে আছে শুনেছি। কবি তাই কবিতার খাতা প্রতিদিন জোছনায় রাখে, যদিও সেখানে আজো আলোপোকা-জোনাকির মৃতদেহ থাকে।


  • ফাইল-বন্দি সংসার

    তোমার আমার সন্ধি আজ ফাইল চাপায় বন্দি ভালোবাসি বলে আসলেই আর মেটেনা সকল দন্দ মাঝখানে থাকে কাঁচা পয়শার গন্ধ। তুমি অফিস-টফিসে যাওনা তাই ওসব খবর পাওনা; তবু দুষছো! আমার জন্য ঘৃণায় কেবল পুষছো! …………………………………………. তোর হাতে পা’য় ধরি অফিসার তুই ভাঙিস না এই সংসার…


  • মুখটা চেপে ধরে বলছো কথা বল / সাইফ আলি

    মুখটা চেপে ধরে বলছো কথা বল কি এক উপহাসে কাটছে দিনগুলো! বহুদিনের ধুলো জমেছে ইতিহাসে পাখিরা উড়ছেনা মুক্ত নীলাকাশে ইটটা চাপা দিয়ে বলছো সাদাঘাস এদিকে ঘাসগুলো করছে হাস-ফাস। এভাবে চলবেনা পৃথিবী বেশিদিন পাখিরা বলবেনা শেখানো কথা আর বুনো এ মনজুড়ে ফুলের সৌরভ আবারো পেতে চায় হারানো গৌরব। বয়সী বটগাছ কালের সাক্ষ্যিরা হয়তো বেশিদিন দেবেনা সুবাতাস…


  • এসো বৃষ্টি তুমুল বৃষ্টি / সাইফ আলি

    গাছের পাতায় ধুলো জমে গেছে ধুয়ে দিয়ে যাও বৃষ্টি ধুয়ে দিয়ে যাও পথ-ঘাট-পাড়া-জজ্ঞাল ধুয়ে দিয়ে যাও দৃষ্টি। এলাকায় বড়ো অপরাধ গেছে বেড়ে পথে-প্রান্তরে বেওয়ারিশ লাশ জমে আছে, খুব গন্ধ ধুয়ে দিয়ে যাও তুমুল বৃষ্টি নামো নালা নর্দমা পলি জমে জমে বন্ধ মস্তিষ্কের সংসদে তাই পৌছায়না এ সংবাদ বেড়ে গেছে খুব অপরাধ। যেই বস্তিতে দিনের বেলায়…


  • আমাদের স্বদেশটা চোরেরাই নেবে / সাইফ আলি

    ঘাসের শরীর জোড়া তামাটে রোদ্দুর পাখির পালক জোড়া ভয়ের কাপুনি, তোমরা যা বলে যাও বলো; কান পেতে শুনি। তোমরা বলতে থাকো- এটা ওটা, চায়ের চুমুক থেকে গরম পরোটা সব নাকি তেমাদের দান; আমরা ফিরেই দেখি পকেটটা কাটা ক্ষুধার পাড়ায় জমে কাঙালের গান। ব্যাংক পাড়া সাফ করে ঘরের চালার খড় ধরে ঝুলে থাকো, বাড়া ভাতে হাত…


  • ঝড়

    ঝড়, পাশ দিয়ে চলে গেল সাঁই- আশা ছিলো, বাসা ছিলো, সব ছিলো; নাই। ঝড়, কড়মড়-মড়মড় ভাঙে বুঝি ডাল চুপচাপ ভয় ভয় গায়ে মোড়া শাল। ঝড়, ঝাপি খালি চোরাবালি পথ- যদি থাকে বুকে হিম্মত আবার নতুন করে গড়।


  • না কবিতা; বাস্তবতা / সাইফ আলি

    -আর দু’চামচ ঘি দে না ভাই গরম গরম ভাতটা মাখায়। -তোরা তো সব হাড়-হাভাতে অমন করে ঘি খায় ভাতে? ……………………………………………………………….. চোখটা বন্ধ করুন এবং ডুকে পড়ুন দৈত চরিত্রে এবার একটিবার অভিনেতা হয়ে যান; হাত তুলুন, আত্মসমর্পন করুন এবং হারিয়ে যান। বলুন কম্পিত গলায়- দু’চামচ করুনার ঘি… পাবো কি?? এবং উত্তর দিন- তোদের মতো হাড় হাভাতে…


  • আজ শুধু বেঁচে আছে

    রাত্রির ঘাড়ে চেপে মেঘেদের কাঁথা গায়ে যখন ভিজতে যাবো স্বপ্নের সৈকতে প্রিয়, তারাদের ফুল নিয়ে তুমি এসে বাসর সাজিও। তুমি এসো জানালাতে মৃদু আলো জোছনাতে বাতাসে ছাড়িয়ে দিয়ে চুল, সে চুলের মেঘগুলো হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে ভালোবাসা খুঁজে নেবে আমার আঙুল। এরকমই ছিল সব চিন্তার আগা থেকে গোড়া আজ শুধু বেঁচে আছে যুদ্ধের ধোঁয়াটে মহড়া।


  • এই কবিতা পাখির জন্য লেখা / সাইফ আলি

    এই কবিতা পাখির জন্য লেখা এই কবিতা উড়বে বলেই লেখা এই কবিতা তোমার এবং আমার জন্য লেখা। মাঠ পেরুলেই বনের শুরু বুক কাপে তাই দুরু দুরু; মাঠ পেরুলেই শহর এবং শুধুই কালো ধুঁয়া মাঠ পেরুলেই বনের শুরু ওসব এখন ভুয়া মাঠ পেরুলেই অনেক মানুষ মানুষগুলো একা এই কবিতা পাখির জন্য লেখা। এই কবিতা বৃষ্টি এবং…


  • সে দিনের সে সিঙ্গাড়া / জাহিদুল ইসলাম

    [প্রথম যৌবনের কবিতা] সে দিনের সে সিঙ্গাড়া, যা তুমি আমাকে দিয়েছিলে আর বানরের মত পুরোটা আমি একা খেলাম। তার সমস্ত শরীর জুড়ে কামিনীর মত গন্ধ ছিল কি যে স্বাদ ছিল মাংসে। সিন্ধু অববাহীকার সেই হরপ্পা মহেঞ্জদারো নগরীর মত তার রূপ, রাজপ্রাসাদের মত পরিচ্ছন্ন পরিপাটি বেশ। আল্পনা আঁকা কপাট যেন তার সারা বুক ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় ঝকমকে…