-
আঁধারে এসেছো আঁধারে মিলিয়ে যাবে / সাইফ আলি
আঁধারে এসেছো আঁধারে মিলিয়ে যাবে হয়তো কিছুটা জোছনা ছড়িয়ে চাঁদ জানবে না এই সাগরের বুকে হায় কতটা প্রেমের জোয়ার তুলবে ঢেউ… এখন মধ্যরাত- শিশিরে কিছুটা শিক্ত আমার চুল, দুচোখে নদীর মৃদু ঢেউ তাতে তুমি অথবা তোমার রূপালি প্রতিচ্ছবি। ভোর হবে আর কিছুটা সময় পর তুমি চলে যাবে গুটিয়ে তোমার রূপ, জানবে না কতো শূন্য বুকের…
-
শিল্পীর রাত / সাইফ আলি
যেটুকু আঁধার ছিলো চায়ের চুমুকে যেটুকু বিষাদ ছিলো রাতের শরীরে সবটুকু তুলিতে মলিন সারা ক্যানভাস ছিলো ভীষণ রঙিন- দৃষ্টিরা দেখেছিলো শুধু সেই রং পারেনি আঁধার ছুতে ঠোঁট সারাটা রাতের ব্যথা এক নিমিষেই কেউ যেনো করে দিলো উলোট-পালোট…
-
এবার পাহাড়ে গেলে / সাইফ আলি
এবার পাহাড়ে গেলে মেঘগুলো ছুয়ে দেবো শাদা শাদা মেঘেরা কি আনমনে হয়ে যাবে নীল; আকাশের গায়ে যাবে মিশে হঠাৎ নিমিষে…? এবার পাহাড়ে গেলে ঝরনায় ধুয়ে নেবো ব্যথার চাদর ঝরনা কি থেমে যাবে তাতে; নাকি ফের ছুটে যাবে সমতলে রোদ্দুরে নিজেকে পোঁড়াতে…? এবার পাহাড়ে গেলে পাহাড়ের মতো করে নিজেকে সাজাবো…
-
ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি
লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ। তোমার দু’চোখ বুজবে যখন ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম। ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে উঠবে যখন গল্পে মেতে তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে…
-
অচিনপুরের যাত্রী
বল না মা আজ সত্যি করে মাথায় রেখে হাত আমি কি আর দেখতে পাবো জোনাক জ্বলা রাত; পূব আকাশে এক থালা চাঁদ উঠবে যখন হেসে নদীর জলে ভাসবে সে চাঁদ ঝলমলিয়ে হেসে তখন কি আর ঘুরতে যাবো ছোট্ট নদীর তীরে নাকি শুধুই হারিয়ে যাবো অন্ধকারের ভীড়ে? কাঁদিসনে মা বল না আমায় সত্যি করে বল বর্ষা…
-
পাখিদের চেনা পথ
ঝাপটে ডানা যাচ্ছ কোথায় পাখি কোন সুদূরে হচ্ছো নিরুদ্দেশ কোথায় তোমার যাত্রা হবে শেষ মেঘের ধোয়া পালক জুড়ে মাখি? এই সীমানা খুব কি তোমার চেনা আকাশ ছোয়া গাছপালাদের শাখা এই মেঠো পথ ছোট্ট আঁকা-বাঁকা খড়ের গাদায় ছোট্ট ফোকর খানা? কেমন করে সন্ধ্যা বেলায় নীড়ে আসবে তুমি পথটা চিনে ঠিক পালকগুলো ছড়িয়ে চতুর্দিক চিনবে এ পথ…
-
আমার ঘর
বাবুই পাখির মতো করে বাধবো আমি বাসা, সুখের খড়ে-স্বর্ণলতায় থাকবে সে ঘর ঠাসা। সূর্য্য মামার চিঠি নিয়ে ভোরের বাতাস এসে, বলবে আমায় ওঠ্ না খোকা মধুর ভালোবেসে। আমার ঘরে আসবে আলো আসবে বাতাস পানি, ওাতের বেলা চাঁদ ও তারা করবে কানাকানি- ‘ওইখানে ওই খড়ের ঘরে এক যে থাকে ভালো আমরা এসো সবাই মিলে তাকেই দেবো…
-
মনের কথা
চাঁদ কেনো মা রাতে ওঠে সূর্য কেনো দিনে, শুকতারাকে কেমন করে ফেললে তুমি চিনে? রাতের বেলা আকাশ অমন বেজায় কেনো কালো, দিনের বেলা কোত্থেকে পায় নীল তারাদের আলো? রংধনুটা সেই হারালো মেঘের আড়াল নিয়ে, বৃষ্টি ভেজা রোদের দিনে খেকশেয়ালের বিয়ে- সেই যে হলো, কোথায় হলো; বনের মাঝে বুঝি? পালিয়ে যাওয়া ময়নাটাকে চলো মা আজ খুঁজি।…
-
আবার বুঝি পূর্ণ হবে
আবার বুঝি পূর্ণ হবে শুন্য খেলাঘর মিলবে সবাই ভুলবে বিভেদ কে বা আপন পর। আবার বুঝি ফুটবে কুসুম গাইবে পাখি গান ভুলবে সবাই সকল ব্যথা সকল অপমান। ফুল-পাখিদের গানে গানে ভরবে আসর এই বাগানে মুক্ত পাখি মেলবে ডানা দূর হতে দূর আকাশ পানে। মনে মনে ঘটবে মিলন ভুলবে অভিমান দিকে দিকে নতুন দিনের চলবে অভিযান।…
-
যত দেখি আমি বাংলার মুখ
যত দেখি আমি বাংলার মুখ তত সাধ জাগে মনে, চির শয্যায় শুতে পারি যেনো এ মাটির আবরণে। কতো মনোহর কতো মায়াময় কতো স্নেহজালে মুড়ে, রেখেছে বাংলা ফুল ও ফসলে দশ দিগন্ত জুড়ে। খালে-বিলে-ঝিলে শাপলা, শালুক, কলমি, পদ্ম ফোটে, রাত জাগা পাখি করে ডাকাডাকি রাতের ক্লান্টি টোটে। রাখালিয়া বাঁশি ভাটিয়ালি গান পুথি পাঠ সুরে সুরে, এসব…
-
আগামীর প্রাণ / সাইফ আলি
হৃদয়ের যত গান মন খুলে গাও, বাগানের ফুল হয়ে সুবাস ছড়াও। পাখিদের মতো দূর আকাশের গায়, ভ্রমরের মতো সুর তোলো বাগিচায় আঁধারের বুকে চাঁদ জোছনা ছড়াও, উদয়ের রবি আলো বিলি করে দাও। তোমাদের আঙিনায় উদয়ের গান, তোমরাই এ জাতির আগামীর প্রাণ।
-
বর্ষা এলো
গাছের পাতা উঠলো দুলে নাচলো ময়ূর পেখম তুলে মেঘের ভেলা আসলো ভেসে বর্ষা এলো ভাটির দেশে। বর্ষা এলো মেঘের জালে রিমঝিমিয়ে টিনের চালে, জাগলো কদম ডালে ডালে বর্ষা এলো মধুর তালে। বর্ষা এলো ডাকলো ব্যাঙ রাতদুপুরে ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ।
-
জোনাকি
একদিন রাত্রে দেখলাম জানো কি? মিটিমিটি জ্বলছে ছোটো এক জোনাকি। আমি তাকে বললাম- দেবে আলো আমাকে? রাতভর জ্বলবো সাথি করে তোমাকে। আমাদের বাশবন ঝাউবন যেখানে, মিটিমিটি জ্বলবো দুইজন সেখানে। আব্বু ও আম্মুরা খোকাদের বলবে- তোমরাও সমাজের আলো হয়ে জ্বলবে। আঁধারের বুকে মোরা ছোটো দুই জোনাকি মানুষেরা বলবে- মায়াজাল বোনা কি?
-
ভোর হলে / সাইফ আলি
ভোর হলে ছোটো পাখি বলে যায় শিওরে- সকালের ঘুম নাকি আলসের প্রিয় রে। বাগানের ফোঁটা ফুল মধু তার বাসনা, বলে খোকা আখি খুল এখন ঘুমাস না। ঝিরঝিরে বাতাসেরা বলে যায় উঠতে, সকালের সোনা রোদে প্রাণ খুলে ছুটতে। দরজাটা খুলে দেখি ফুলকুঁড়ি ফুটেছে, প্রজাপতি ভ্রমরেরা দলে দলে জুটেছে।
-
খোকন এবং প্রকৃতির সংলাপ
– এইতো কেবল শীতের হাওয়া বইছে এলোমেলো তুমিও তোমার খামখেয়ালী পোশাক বদলে ফেলো শুকিয়ে যাওয়া সকল স্মৃতি-মলিন কাপড় গুলো বদলে ফেলো; তোমার জন্য বসন্তরাজ দরজা দেবে খুলে তুমি তোমার ইচ্ছে মতো সবটা নিও তুলে। আচ্ছা শোনো তোমার কাছে একটা খবর আছে? নতুন পাতা আসবে যখন সকল গাছে গাছে গাছের নিচে যেই ছেলেটা রোদ পোহাতে আসে…
-
কালকে ভোরবেলা পৃথিবী বদলালে / সাইফ আলি
কালকে ভোরবেলা পৃথিবী বদলালে তোমাকে দেখব কি? মনের প্রশ্নটা মনেই চেপে রেখে দুচোখ বুজলাম তোমাকে খুঁজলাম… তুমিতো আসলেনা আলতো উঁকি দিয়ে জোছনা চাঁদ হয়ে; তবে কি সারারাত এভাবে কেটে যাবে এ অবসাদ বয়ে! বর্ষা কেটে গেছে বৃষ্টি নামবে না তবু এ মেঘেদের ঝগড়া থামবে না দমকা বাতাসেরা ওড়ায় কার চুল মনের জনোলার কাঁপছে পর্দাটা না…
-
তোমার জন্য লিখতে গিয়ে / সাইফ আলি
তোমার জন্য অনেক কিছুই লিখতে গেলাম কলম সরলো না অনেক অনেক আওয়াজ এসে কণ্ঠটাকেই রোধ করলো তোমার চোখের প্রশ্ন নিয়ে লাইব্রেরিতে কাটিয়ে দিলাম অনেকটা কাল দু’চোখ ভরলো না লক্ষ-কোটি বর্ণমালা চোখের সামনে হারিয়ে গেলো… তোমার জন্য লিখতে গিয়ে নিলদাড়াটায় ঘুন ধরেছে চোখের আলো ঝাপশা হয়ে দৃষ্টিসীমায় ভীড় করেছে ইচ্ছে হলেই কলম সরে বই হয়ে যায়…
-
শেষ পাতা থেকে শুরু / সাইফ আলি
আগুনে পুড়েছে উপসংহার সূচনাতে কিছু সংশোধনের বড়ো প্রয়োজন উপন্যাসটা লেখা হয়ে গেছে শেষ পাতা শুধু বাকী। শেষ পাতা শেষ আগুনে পুড়েছে মাঝ থেকে কিছু পাতা না না সব ঠিক সাজানো গোছানো সূচনাতে কিছু ভুল। অক্ষরে নয় শব্দেও নয় সূচনাতে তবু ভুল দাড়ি কমা সব ঠিকঠাক আছে ভুল নেই এক চুল; তবু ডায়রির শেষ পাতাটাতে লেখা-…
-
চলে যাবো বলেই তো / সাইফ আলি
চলে যাবো বলেই তো এসেছি এখানে নিশ্চয় চলে যাবো দেখো- কাঁচাধান-পাটশাক-কলমির ফুলে হয়তো এ মন যাবে ঝুলে মাটির গন্ধ শুঁকে, সুখে, দুখে কাটিয়ে কয়েক বেলা শেষ হলে খেলা ঠিক ঠিক চলে যাবো দেখো… নদীর চরের মতো অন্য কোনোখানে যেয়ে কোনো লাভ নেই আমার সন্ধানে- সময় যাচ্ছে চলে হয়তো নদীর মতো হয়তো বা না; বাঁধ দিয়ে…
-
দেখা / সাইফ আলি
দেখলে শাদা বক দাঁড়িয়ে চুপচাপ গভীর মনযোগে কি যেনো খুঁজছে ভাবলে হয়তো বা ধ্যানি সে ধ্যানে-জ্ঞানে পৃথিবী বুঝছে। অথচ পুঁটিমাছ স্বার্থ সন্ধানে ধ্যানি সে বকটা, মাছেরা কোনোদিন বোঝেনা ধূর্ত সে বকের ছকটা। হয়তো ভাবো তুমি সুবাস বিলানোই ফুলের লক্ষ্য, অথচ বৃক্ষেরা বংশ বিস্তারে সমান দক্ষ । জন্ম মৃত্যুতে সবটা শেষ হলে তুমিও ফুল হবে, বাহির…