-
কামাল পাশা / কাজী নজরুল ইসলাম
[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আশমানের আঙিনা তখন কারবালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রিক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইয়া গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল পাশা মহাহর্ষে রণস্থল হইতে তাম্বুতে ফিরিতেছেন। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদল মহাকল্লোলে অম্বর ধরণি কাঁপাইয়া তুলিতেছে। তাহাদের প্রত্যেকের বুকে পিঠে…
-
আনোয়ার / কাজী নজরুল ইসলাম
স্থান – প্রহরী-বেষ্টিত অন্ধকার কারাগৃহ, কনস্ট্যান্টিনোপল। কাল – অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি। চারিদিক নিস্তব্ধ নির্বাক। সেই মৌনা নিশীথিনীকে ব্যথা দিতেছিল শুধু কাফ্রি-সান্ত্রির পায়চারির বিশ্রী খটখট শব্দ। ওই জিন্দানখানায় মহাবাহু আনোয়ারের জাতীয় সৈন্যদলের সহকারী এক তরুণ সেনানী বন্দি। তাহার কুঞ্চিত দীর্ঘ কেশ, ডাগর চোখ, সুন্দর গঠন – সমস্ত কিছুতে যেন একটা ব্যথিত-বিদ্রোহের তিক্ত ক্রন্দন ছল-ছল করিতেছিল। তরুণ…
-
জবানবন্দি / সাইফ আলি
:সত্যি করে বলেন দেখি- অন্ধকারে আর কে ছিলো, ঝোপের আড়ে, পুকুর পাড়ে; অথবা যেই খড়ের গাদা, তার আড়ালে? :আমি কি আর ওসব জানি, আমি তখন ঘুমের ঘোরে… :তা ঠিক, তা ঠিক, কিন্তু ভোরে…. :বলছি তো ভাই, ভোরের বেলা যখন কেবল দোর খুলেছি… :বলুন, বলুন, তারপরে কি? :ঝলসে গেলো… :কি ঝলসালো… :চোখ দুটো ছাই, কি যে…
-
বৃক্ষরোপন / সাইফ আলি
চরিত্র: খুকু, গাছ, পাখি খুকু: উহ! কি যে রোদ, পুড়ছে গা গাছপালা কই পাখির ছা- (এদিক-ওদিক তাকিয়ে) ঐতো দূরে গাছ দেখা যায় একটু যদি প্রাণটা জুড়ায়। (গাছের কাছে যেয়ে) খুকু: ও গাছ বাবু, কোথায় তোমার পাতা, ফুল পাখি কই; ফল ধরে নাই কোনো? কি হলো ভাই, কও না কেনো কথা? আমার কিন্তু ভাল্লাগে না এমন…