• তোমার দয়া আছে খোদা / ফররুখ আহমদ

    তোমার দয়া আছে খোদা জানি সকল দিকেতোমার দয়া দাও ছড়িয়ে মাগরিবে মাশরিকে।। স্রষ্টা তুমি সৃষ্টি করোমহান- কৃপা দৃষ্টি করোদাও সাজিয়ে আলোর ফুলেআকাশ পৃথিবীকে।। মহিমা আর শক্তি তোমার কেউ জানে না কততোমার দয়ার প্রকাশ দেখি আমরা অবিরত। প্রভু তুমি লালন করোস্নেহের নীড়ে পালন করোফুল, পাখি আর পতঙ্গ, কীটসকল প্রাণীকে।। সুর: আবদুল লতিফ


  • তোমার দয়ায় জাহান সারা / ফররুখ আহমদ

    তোমার দয়ায় জাহান সারাআলোক পেল চাঁদ সিতারাজাগলো নদী, ঝর্ণাধারা,ইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।। জীবন জাগে তোমার দয়ায়জীবন বাঁচে তোমার মায়ায়সবুজ ঘাসে, লতায় পাতায়ফুল হেসে চায় পলকহারাইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।। ফুলে মধু ভরাও তুমিবিপদ থেকে তরাও তুমিসকল বাধা সরাও তুমি,মিটাও আঁধার পাষাণ কারাইয়া রাহমানো, ইয়া রাহীমো।। তোমার দয়া আকাশ নীলেতোমার দয়া এই নিখিলেবুদ্ধি বিবেক তুমি দিলেরাসূল দিলে…


  • মুহূর্তের কবিতা / ফররুখ আহমদ

    সময়-শাশ্বত, স্থির। শুধু এই খঞ্জন চপল গতিমান মুহূর্তেরা খর স্রোতে উদ্দাম, অধীর মৌসুমী পাখীর মতো দেখে এসে সমুদ্রের তীর, সফেদ, জরদ, নীল বর্ণালিতে ভরে পৃথ্বীতল। সন্ধ্যাগোধূলির রঙে জান্নাতের এই পাখী দল জীবনের তপ্ত শ্বাসে, হৃদয়ের সান্নিধ্যে নিবিড়, অচেনা আকাশ ছেড়ে পৃথিবীতে করে আসে ভীড়; গেয়ে যায় মুক্তকণ্ঠে মৃত্যুহীন সঙ্গীত উচ্ছল। মুহূর্তের এ কবিতা, মুহূর্তের এই…


  • উৎসর্গ পাতা / মুহুর্তের কবিতা / ফররুখ আহমদ

    পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির শ্রদ্ধেয় কর্মী ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে(কয়েকটি আদর্শ-দীপ্ত দিনের স্মরণে) সে-সব উজ্জ্বল দিন আজ শুধু স্মৃতির সঞ্চয়, শেষ মঞ্জিলের পথে যাওয়া সে সুতীব্র প্রয়াস, প্রতি পায়ে সংগ্রামের সে দুর্বার চেতনা, বিশ্বাস উন্মুক্ত দিনের সেনা ভুলেছে সে কাহিনী দুর্জয়। এখন মন্থর স্রোতে জেগে ওঠে ক্লান্তি ও সংশয়, দূরান্তে নহর দেখে আজ প্রাণ খোঁজে না…


  • সাত সাগরের মাঝি / ফররুখ আহমদ

    কত যে আঁধার পর্দা পারায়ে ভোর হ’ল জানি না তা’।নারঙ্গি বনে কাঁপছে সবুজ পাতা ।দুয়ারে তোমার সাত সাগরের জোয়ার এনেছে ফেনা।তবু জাগলে না? তবু, তুমি জাগলে না?সাত সাগরের মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে ডাকে জাহাজ,অচল ছবি সে, তসবির যেন দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ।হালে পানি নাই, পাল তার ওড়ে নাকো,হে নাবিক! তুমি মিনতি আমার রাখো;তুমি উঠে এসো, তুমি…


  • ছড়ার আসর ১৩ / ফররুখ আহমদ

    আয়রে ঘোড়া পরেনদা পাখনা মেলে উড়ে যা, কিসসা শুনি রোজ আমি করি যে তোর খোঁজ আমি,- জোসনা যখন ফুটফুটে মনে মনে যাই ছুটে, সাঁঝের পরী রয় পীছে; মাটির ধরা রয় নিচে।।


  • ছড়ার আসর ১২ / ফররুখ আহমদ

    চেরাগটাতে জ্বালো আঘণ মাসের আলো; নীহার-ভেজা মাঠে নামে রাতের ছায়া কাল, মাগো তোমার কিসসা কথা লাগবে এখন ভাল।।


  • ছড়ার আসর ১১ / ফররুখ আহমদ

    বাদা বনে বসত করে বাইরে এসে শিকার ধরে, হলদে কোটে কাল ডোরা বাঘ দেখে যা আজকে তোরা।।


  • ছড়ার আসর ১০ / ফররুখ আহমদ

    বনের রাজা সিংহ ভাই, ভয় ভাবনা কিছুই নাই, চওড়া যে তার বুকের ছাতি ডরায় না সে দেখলে হাতি।।


  • ছড়ার আসর ০৯ / ফররুখ আহমদ

    ভয়ে পালায় বোকা, ভয় পায় না খোকা! খোকন সোনার সাহস ছিল, বুদ্ধি ছিল চোখা; ভয় না পেয়ে ভেঙে দিল হুতোম পেঁচার ধোঁকা।।


  • ছড়ার আসর ০৮ / ফররুখ আহমদ

    “আলফা ডাঙায় যাবি কে? আমটা পেড়ে খাবি কে?” “আলফা ডাঙার মাঠে ধুতুম, ধুতুম ডাকে; আলফা ডাঙায় যাব না আমটা আমি খাব না।”


  • ছড়ার আসর ০৭ / ফররুখ আহমদ

    বড় হ’লে যাবো আমি ‘হলদি কোটা’র দেশে, তা’রা- সাঁঝ সকালে ডাকে, তা’রা- ফুল কুড়িয়ে রাখে, তা’রা- মেহেদী পাতায় হাত রাঙিয়ে বেড়ায় খেলে হেসে।।


  • ছড়ার আসর ০৬ / ফররুখ আহমদ

    টোনা, টুনি, ময়না, কেউ তো বসে রয় না টুনটুনি যায় বেড়াতে বুলবুলি যায় পাড়াতে, বুলবুলি বন ছাড়িয়ে ময়নাকে যায় নাড়িয়ে, ময়না পাখায় ভর দিয়ে যায় সেখানে বন-টিয়ে।।


  • ছড়ার আসর ০৫ / ফররুখ আহমদ

    খোকন যাবে কার বাড়ি? খোকন যাবে তার বাড়ি নাই জামা যার; নাই গাড়ি। খোকন যাবে কার না’য়ে খোকন যাবে তার না’য়ে নাইরে মাঝি যার না’য়ে।।


  • ছড়ার আসর ০৪ / ফররুখ আহমদ

    গাঁয়ের ধারে আট-চালা সেখানে এক পাঠশালা পাঠশালাটায় খোড়ো ঘর সেখানেই ভাই এল ঝড়, ঝড় এসে ভাই হুড়মুড়িয়ে নিলরে সব গাছ উড়িয়ে উড়িয়ে নিল চাল খুঁটি সাত সকালে তাই ছুটি।।


  • ছড়ার আসর ০৩ / ফররুখ আহমদ

    সাত সাগরের মাঝি জাহাজটা তার তাজী সোনার কাঠি, রূপার কাঠি নিয়ে সে যায় দূরে দেশ বিদেশের ঘুম ভাঙাবে সাতটা সাগর ঘুরে।।


  • ছড়ার আসর ০২

    সবার আগে জাগলো কে? জাগলো খোকা, খুকু যে! তারপরে ভাই জাগলো কে? ভোরের আলোয় রাঙলো যে, মৌমাছি আর টুনটুনি রোজ ভোরে যার গান শুনি, রোজ ভোরে যার পাই দেখা জাগলো রে সেই পিঁপড়েটা।।


  • ছড়ার আসর ০১ / ফররুখ আহমদ

    গড়গড়িয়ে গড়িয়ে যায় রে ছড়া ছড়িয়ে, আওয়াজ ওঠে ঝুনঝুন টুনটুনি গায় টুনটুন, দেখতে এসে বুলবুল করে কেবল চুলবুল, ছড়া ছবির রাজজে তাই চলেছি আজ যে।।


  • মন / ফররুখ আহমদ

    মন মোর আসন্ন সন্ধ্যার তিমি মাছ- ডুব দিল রাত্রির সাগরে। তবু শুনি দূর হ’তে ভেসে আসে-যে আওয়াজ অবরুদ্ধ খাকের সিনায়। সূর্য মুছিয়াছে বর্ণ গোধুলি মেঘের ক্লান্ত মিনারের গায়, গতি আজ নাইকো হাওয়ায় নিবিড় সুপ্তির আগে বোঝে না সে শান্তি নাই তমিস্রা পাথারে। তবু পরিশ্রান্ত ম্লান স্নায়ুর বিবশ সঞ্চরণে আতপ্ত গতির স্বপ্ন জমা হয় মনে, বুঝি…


  • বৈশাখী / ফররুখ আহমদ

    বৈশাখের মরা মাঠ পড়ে থাকে নিস্পন্দ যখন নিষ্প্রাণ, যখন ঘাস বিবর্ণ, নিষ্প্রভ ময়দান, যোজন যোজন পথ ধূলি-রুক্ষ, প্রান্তর, বিরান; শুকনো খড়কুটো নিয়ে ঘূর্ণী ওঠে মৃত্যুর মতন; সে আসে তখনি। তখনি তো ঘিরে ফেলে উপবন, বন;-চোখের পলকে, মুছে ফেলে ঘুমন্ত নিখিল সে আসে বিপুল বেগে। কণ্ঠে তার সুরে ইস্রাফিল বজ্রস্বরে কথা কয়, জানে না সে গম্ভীর…