-
নদী / মুসা আল হাফিজ
দর্শনে গন্ধকের নদীউদয়ের চর হতে ছুটন্ত অফুরন্ত টানেতরঙ্গে উচ্ছসিত সত্তার নিঃশ্বাসস্রোতের ভিতরে ঘুর্ণিরা কুÐুলিভাঙা সাপের শব্দে ফুঁসফুঁস আমি তো ওপারে যাত্রীভগ্নআশা ঝড়ের উপর ধাবমান আশার সাঁতারকবে থেকে ছুটছি মনে নেই অন্ধকারেকানে শুধু শব্দ বাজেহয়তো তীর ভাঙার ধ্বনিহয়তো বা তুফানের রোল মনে হয় পেরুচ্ছি নদীমনে হয় ডুবসাঁতারে গিলছি তুফানএই কী নদী না ঐশ্বরিক উপহাস? অস্তিত্বের এই…
-
আজ রাতে তারাগুলো / মুসা আল হাফিজ
আজ রাতে তারাগুলো ঝুলে পড়েছিলো পৃথিবীর তারার বলয়েমর্ত্যের চাঁদের টানে বেসামাল হয়ে পড়েচাঁদের হৃদয়। ধূলোর উদর ছিঁড়ে বহির্গত হয়েছিলো একঝাঁক শুচিস্নিগ্ধ চারাহরিৎ উপত্যকায় বাতাস মাতিয়েছিলো স্বপ্ননীল কস্তুরিহরিণচোখের ভেতরে তার দুলে উঠেছিলো আকুতির ঢেউ যেসব মানবশিশু জন্ম নিলো আজ রাতেতারাও কলকণ্ঠে মুখরিত করেছে পৃথিবীর পাড়া আজ রাতে বাতাসের বুকে অলৌকিক পাখিগুলোডানা মেলে দিলো। দ্রাবিড় দিগন্ত থেকে…
-
প্রশ্ন / মুসা আল হাফিজ
মেঘের কুণ্ডুলি কেউ যদি চূর্ণ করোতাহলে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মত প্রশ্নগুলোঝরে পড়বে। কেউ যদি শঙ্খের আর্তনাদেমহাশূন্যে কান পাতো, তাহলে কারাবন্দির হাসির মতোসব নির্মমতা ফাঁক করে দেবে। পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্লেদের ট্রাক হামলে পড়েছেনদী-নক্ষত্র দৌঁড়াচ্ছে কবিতার ছিন্নভিন্ন জনপদেবিবেকের বৃক্ষটিতে অবিরাম কুঠারাঘাতকেউ দেখে না ! কস্তুরিহরিণীটি শরাহততার যাতনামথিত পাশটিতেকেউ এসে দাঁড়ালো কি? রজনীগন্ধাগুলো ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ছেহননমাতাল শ্বেতাঙ্গ ফুঁৎকারে। বাণিজ্যের…
-
দুঃসহ রাত্রি এলে / মুসা আল হাফিজ
সমুদ্র বললো- না, তোমাকে ঘুমাতে দিলেউত্তেজিত মাছগুলো শুরু করবে হৈ চৈআকাশ বললো- না, তোমাকে বুকে নিয়েতারার অবাধ্য ঝড় সামলাতে পারবো নাপাহাড় বললো- ক্ষমা করো ভাই, তোমাকে ধারণ করলেআমার সুপ্ত লাভা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে অরণ্য, স্থান দেবে শুধু একটি রাতযাপনেরহরিণ বাঘের সাথে আমার মিতালীচন্দ্র তুমি তো আমার বোন,জ্যোৎস্নার পাঠি দাও একটু ঘুমাইদোহাই, উদ্যান তুমি…
-
পাঠ / মুসা আল হাফিজ
মর্ত্যের মুক্তমঞ্চে গ্যেটের চিঠি পাঠেদুপাশে চেয়ে দেখি আফ্রোদিতি পার্সিফোনবিমল রেশম অথবা হৃদয় বোনার তাঁতেনড়ে ওঠো চির তুমি অতল ফাগুন! তোমার রক্তিম রাগে উড়ে সুখরেণুসূর্যোদয় খোলে খিল সৃজনীধারারঅস্তাচল নুয়ে পড়ে চন্দ্র কামধেণুস্বর্গাদপী মাতৃত্বের। একী পারাবার! সুন্দরের রক্তজলে ইডিপাস ভাসেরুমীর নৃত্যে জাগে আমার সৌরলোকমত্তসাগর আর চাঁদোয়া আকাশেকুড়ালে উত্তপ্ত রাতে মুগ্ধতার শ্লোক! তোমার ক্লান্তির পাশে নৈসর্গিক তারাউর্ধশ্বাসে পাঠ…
-
তৃতীয়বিশ্ব / মুসা আল হাফিজ
আমার শয্যার পাশে আমিন রাজুএতই পাংশু কেন হাফিজ ভাই, এতই করুণমৃত্তিকার প্রজনন খুঁজে সৃজনবাযুতাই তৃণের মিছিলে ঝড়ের মতো নামছে অরুণ আমার অশ্রান্ত হাসিতে বাতাস থমকে গেলোশিউরে উঠলেন কেবিনের রড বিপন্ন হাসির তাললয়েহ্যাঁ, বস্তুতান্ত্রিকতার চাকুনৃত্যে এখন হাসপাতালে হাসিরছিন্নভিন্ন অভিধান। ডাকলাম-‘বন্ধু!’ হার্দিক তরলতায় কাতর আওয়াজ,আমরা এভাবেই হৃদয় ঝরিয়ে ডাকি বন্ধু বা মানুষকে দেখো দেখো আমার খুলিপ্রতিদিন ওরা…
-
তোমার রহস্যে / মুসা আল হাফিজ
খুঁজে পাচ্ছি না কোথাওমৃত্তিকা নক্ষত্র অরণ্যের গর্তচন্দ্র কুয়োতলা বাগানের সব ফুলপাহাড় সমুদ্র তছনছ করেকোথাও পাচ্ছি না হৃদয় আমার চিত্রপ্রদর্শনী, কবিতার শিবিরে, প্রাচীন সরলভোরজ্যোৎস্নার দারুণ ঢেউ-নেই কোথাও আয়াজের মতো আমি মাতাই মাঠের ঘাসপাখির মতো নীলিমায় ছড়াই বুকের আগুননিখোঁজ নিখোঁজ বলে হাতড়াই মেঘের নাড়ভিুড়!ি পেলাম না কোথাওহৃদয়!হৃদয়!পেলামনা। হে প্রভু আমার দওেয়ানা হৃদয়তোমারই আলোয় তবে লীন হয়ে গেছে?
-
পুঁজির অরণ্যে / মুসা আল হাফিজ
মুসা আল হাফিজের ভিতর থেকে আরেক মুসা আল হাফিজেরজাগরণ ঘটেছে আজ রাতে। এক মুসা আল হাফিজ বিশ্বাসের ঢেউসত্যের ছাদের নিচে মানবিক সত্তার নির্যাস।সে তারার ভিতর চন্দ্রের ভিতর গ্রহের ভিতরহৃদপিন্ডের ভিতর কস্তুরিগন্ধের অঙ্গীকারে মাতৃমমতা নিয়েহরিণের চোখের মতো নড়েচড়ে। কখনো বোধির নদীর মতোসবুজের স্রোত হয়ে জীবন জাগিয়ে তোলে মহামারি যুদ্ধে, প্রেমে, খরায়, জরায়। এই মুসাকে মুছে ফেলতে…
-
নমরুদের শ্বেতপত্র / মুসা আল হাফিজ
আল হাফিজকে হত্যা করোআমি ঈশ্বর বলছি দাঁড়িয়ে গেলো আরেক আল হাফিজআরেক, আরেক, দাঁড়ালো ক্রমাগত ‘কী দোষ তার?’ আমি হাসলাম। হাসি থেকে ঔদ্ধত্য ঝরে, ঝরুকহাওয়ার ধমনী শিউরে ওঠে উঠুকআমি ঈশ্বর তাই, হে নগণ্য আল হাফিজেরা!হে দুর্ভিক্ষের কলশ্বন মিত্রজোট! শতাব্দীর কল্লোল থেকে কিষাণদেহের গন্ধেআকাশ-পৃথিবীতে ছড়াও স্বপ্নদানাতোমাদের সামার টানে আমার শিকল ছিঁড়েমানুষ মানুষ রবে উড়ছে দোয়েল অধিনস্ত সৌরলোকে…
-
কাকগীতি / মুসা আল হাফিজ
সূর্যাস্ত মাথায় নিয়ে পথে নামছে সূর্যোদয়আকাশ হয়ে আছে থমথমে রাগীবৃষ্টির নামে সে ঝরাবে আর্তনাদগোলাগুলি আর কালো কাদা ভূতুড়ে উপত্যকায় মৃত্যুর সঙ্গে শুয়ে আছে নিদ্রালয়তোমরা তাকে বিদ্যালয় বলো নাঅরণ্য থেকে পালিয়ে এসেছে পিছু ধাওয়া, ছোবল ও হুংকারতাকে তোমরা যৌবন বলো না মানুষের দিন-রাত্রি সাপের নিশ্বাস আর বিষে হয় লীনএদিকে ঝিমুনির বাজারে চলছে ভাবের দোকানদারী? কবিতে ধরেছে…
-
শ্রমিক / মুসা আল হাফিজ
মেশিনে গুড়ানো হয় প্যাকেটে মোড়ানো হয়পানিতে চুবানো হয়, পরেআগুনে পোড়ানো হয় অনেক আদরে! তাওয়া থেকে যেই মুক্তি পাই,সকলের খাদ্য হয়ে যাই! শ্রমিকের রুটি নেই,শ্রমিকই রুটিরুটি খাওয়ার এক তরিকার নাম আমেরিকা!আরো মজাদার নাম শিল্পবিপ্লবকালো-ধলো কারখানা ও মস্ত মস্ত মাস্তির শহর! বিশ্বায়ন সুন্দরীর সুতনুর তেজে ওগো উতলা সময়!এ রূপসী শুধু রুটি খায়! তার রুটির খনির নাম প্রাচ্য,…
-
অন্বেষণ / মুসা আল হাফিজ
মুসা আল হাফিজকে দেখেছেন কোথাও?না কোনো মহাজাগতিক উৎসবে যায়নি যে হারিয়ে ফেলবে প্রত্যাবর্তনের ব্যাকরণ না কোনো আকাশ তাকে ডেকে বলেনি ‘আয় গল্প করি’নদীগুলো শুকনো দড়ির মতো রুদ্ধবাক, এমন তো নয় যে, তরঙ্গেরাঝাঁক বেধে স্বাগত জানাচ্ছে তাকে! যেখানে সবগুলো মাঠে সাপ, সেখানে আনন্দের বালিকারাওনেই শতাব্দীর মাঠে। কোথাও কি বাঁশির কান্না শুনা যায়?না যন্ত্রের সন্ত্রাসে সে আওয়াজও…
-
মদকাব্য / মুসা আল হাফিজ
আমি তো পেয়ালা দেখিনিশুধু তার সুবাস পেয়ে হয়েছি বেহুঁশ যে সেই পেয়ালা পেলোসুমধুর আগুনে সে ভস্ম হলো চিরতরে নিজেকে খনন করে ভেতরে একটি উনুন আবিষ্কার করেছিহাজার বছর ধরে সে তৈরি হচ্ছেতোমার আগুনে তপ্ত হবে বলে এসো, দগ্ধ করো, জানাও নিজেকে তুমি ছাড়া কে তোমাকে দেবে হে প্রকাশ ? আমি শব্দ দিয়ে তোমাকে প্রকাশ করছিপ্রকৃত তোমাকে…
-
তিনি / মুসা আল হাফিজ
যে দিন হলাম আমি সিনাইয়ের তূরদগ্ধ হয়ে হই সেই মুগ্ধ উদ্ভাসসত্ত্বায় জেগে উঠলো নিখিলের সুরজীবনের নদী হলো তোমার উচ্ছাস যে দিন পেলাম সেই হৃদয়ের স্বাদআহা সে কী দীপ্ত মুগ্ধ স্নিগ্ধ শিহরণপ্রকৃতির রক্তজলে তারই ঐকনাদবৃষ্টির হরফ লেখে সেই বিবরণ বিগত প্রহরে ছিলো মহাকাল কাছেবুকে তার নদীর মতো গীতিকার ঢেউমাতামাতি করে চির ব্রীড়াতুর মাছেঅনন্তের চিত্রকর তিনি ছাড়া…
-
নিবেদনের কবিতা / মুসা আল হাফিজ
এভাবে না হয়, ওভাবেই হোকদূরে ঠেলেও ভালোবাসো অন্তত তুমি যখন প্রত্যাখান দিয়ে স্মরণ করো, আমি খুশিতুমি যখন যন্ত্রণা দিয়ে খুশি হও, আমি খুশি তুমি যখন তিলে তিলে পিষে ফেলোতখন আমার আনন্দকে বিকাশের বিভূতি দাও হত্যা করো যেভাবেই চাও শুধু অমার চিৎকারকে করো শুদ্ধশুধু আমার রোদনকে করো প্রেম
-
তোমার আচরণ / মুসা আল হাফিজ
তোমার দেয়া বিষই আমার বিষনাশকতোমার তীব্রআঘাতগুলো আমাকে আগুন বানালো বলেকোনো আগুন আমাকে আর পুড়াতে পারছে না! নেকড়ের অরণ্যে আমাকে ফেলে দিলে বলেইনেকড়েরা হয়ে গেলো আমার খাবার! তুমি আমার সাথে কোনোদিন মন্দ আচরণ করোনি অসুখে মরতে মরতে মরি নাকতো নিপুণ কুদাল আমার কবর খুড়ে চলছে!কিন্তু বেলা শেষে দেখা গেলো অসুখই করে দিলোআমাকে অজেয়! এই যে আমাকে…
-
তখনও লিখব প্রেমের কবিতা? / মুসা আল হাফিজ
অস্তমিত সূর্য আমার থালায়মাথার ওপর দিগন্তের ছেড়া ছেড়া মেঘআমার ডানে বর্ণহীন দিন বামে ভয়াল কালোবিবরদূরে,সভ্যতার গোলাঘরে ডাকাতি চলছে প্রহরব্যাপীবেলাশেষের হু হু হাওয়া সেই সংবাদ জানিয়ে গেলো যখনতখনও লিখবো প্রেমের কবিতা? বধির সাপের মতো দিবসের ঘরে নেমে এসেছে প্রলয়ফসল তোলার স্বপ্নকে ঘিরে ধেই ধেই করে নাচছে বিনাশি প্লাবনউঠানে প্রত্যাশার পায়চারী আর নেই,সেখানে অগ্নিবৃষ্টি নিয়ে যখন ধেয়ে…
-
তোমার প্রতি / মুসা আল হাফিজ
এই সুহাসিনী চাঁদ তোমার মুখের চেয়ে মোহনীয় নয়এই অমাবস্যার বন তোমার কেশের চেয়ে অন্ধকার নয় তোমার আচলের মেঘে জ্বলজ্বল করছে দশটি অঙ্গুলির শূভ্রশিখাতোমার দৃষ্টিতে আছে পৃথিবীর সেরা মৌচাকভ্রুলতার গোপন তরবারি তাকে পাহারা দিচ্ছে! তোমার হাসির ভেতর তিন লক্ষ গোপন তিরন্দাজধনুক ছাড়াই তারা বিদ্ধ করে বীরের হৃদয়! তোমার বুকের ভেতর নিখিলের জীবন জমে আছেতোমার দুগ্ধে আছে…
-
দার্শনিকের প্রতি / মুসা আল হাফিজ
হে দার্শনিক তোমার কথায়মর্ম আছে সূক্ষ্মকিন্তু জগত এখন ভয়ালজটিলতায় রুক্ষ ফুলের চাষে লাগুক সবাইএটাই তোমার মুখ্যকিন্তু কীটের বিনাশ সাধনজানো না হায় , দুঃখ !