-
আমি এক পিপীলিকা / সাইফ আলি
তোমার ঠোঁটের উঠোনে আমি এক পিপীলিকা হাটি আর হাটি… চোখের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাবি এই সমুদ্রে দেবো নাকি ডুব।। তারপর তুলতুলে গালে ভোরের রোদ এসে শুয়ে পড়ে যেই, ছুটে যেয়ে সেরে ফেলি আলোর গোসল… প্রতিদিন ভোরে এভাবেই আমি এক পিপীলিকা হই।।
-
হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে / সাইফ আলি
নীল শাড়িতে আকাশ তুমি শাদায় মেঘের ফুল, মধ্যরাতে পাহাড়ি এক ঝরনা তুমি শীতল তোমার ঢেউ খেলানো চুল হাত ছোয়াবো, ছোয়াবো না- ভাবছি যখন এই; হঠাৎ তুমি বর্ষা হয়ে ভিজিয়ে ছাড়লেই।
-
দেয়াল / সাইফ আলি
দেয়ালে বাজেনা শব্দ দেয়ালের নেই মুখ, দেয়ালে শুধুই পিঠ ঠেকে যার খেয়ালেই তার সুখ। দেয়ালে প্রেমের চিহ্ন আর ছিলো দুটো নাম, বহুদিন পর সেই দেয়ালেই আজ পিঠ ঠেকালাম।
-
ইরাদা / সাইফ আলি
তোমার বুকের গন্ধ আমায় মাতাল করে তোমার চোখের তারায় দেখি উচ্ছলতা তুমি আমার দশ আঙ্গুলের সবকটি নাও নিস্ব বানাও, ফকির বানাও… ঝর্ণা যেমন পাহাড় দাপায় তেমনি তুমি দাপিয়ে বেড়াও আমার সকল সবুজ ভূমি কেবল শুধু চাষ কোরো না অবিশ্বাসের ছোট্ট দানাও; এ নাও তুমি ভালোবাসার সবটুকু নাও, নিস্ব বানাও… শ্রাবণ যেমন বর্ষা আনে তেমন তুমি…
-
যেনো এক অন্ধকার তিল / সাইফ আলি
যেনো এক অন্ধকার তিল হয়ে বেঁচে আছি তোমার ঐ আলোর শরীরে, তুমি যেই তিল আঁকো চিবুকের ’পরে সেই তীল মুছে যায় সহজেই… আমিতো মুছি না!! আমি কোনো আলো নই, নারী; কিন্তু তোমার ঐ আলোর শরীর আরো বেশি প্রাণবন্ত করে দিতে পারি।
-
বৃষ্টি তখন শুধু ঝরাটাই বাকি / সাইফ আলি
বললেই বলা হয়ে যাবে তার চেয়ে ভালো হয় যদি আরো কিছু সময়ের হিসেব না থাকে; এ সময় ভুলে যাবে তোমাকে-আমাকে। বাঁশপাতা বাঁশি হলে তুমি হও সুর সাক্ষ্যি থাকুক এই ভরা রোদ্দুর- নদীর স্রোতের মতো তুমি যদি হও আমার দু’কূল ছুঁয়ে বও তুমি বও… বললেই বলা হয়ে যাবে তার চেয়ে ভালো হয় যদি- না বলা আকাশ…
-
চোখের বয়ান / সাইফ আলি
চোখের বয়ান শুনে থেমে যায় মেঘ ঝরে পড়ে অবিরাম জলজ আবেগ মুখ থেকে তবু তার সরলো না রা দ্বিধার দোলায় তাই দুলছে দু’পা শরীর তো থেমে গেছে তবু এই মন চুপি চুপি প্রণয়ের করে আয়োজন…
-
পাঞ্জেরী / ফররুখ আহমদ
রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে? তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে: অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরি। রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? দীঘল রাতের শ্রান্ত সফর শেষে কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা প’ড়েছি এসে? একী ঘন-সিয়া জিন্দিগানীর বা’ব তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব, অস্ফুট হ’য়ে…
-

সিন্দবাদ / ফররুখ আহমদ
কেটেছে রঙিন মখমল দিন, নতুন সফর আজ, শুনছি আবার নোনা দরিয়ার ডাক, ভাসে জোরওয়ার মউজের শিরে সফেদ চাঁদির তাজ, পাহাড়-বুলন্দ ঢেউ বয়ে আনে নোনা দরিয়ার ডাক; নতুন পানিতে সফর এবার, হে মাঝি সিন্দবাদ! আহা, সে নিকষ আকীক বিছানো কতদিন পরে ফিরে ডেকেছে আমাকে নীল আকাশের তীরে, ডেকেছে আমাকে জিন্দিগী আর মওতের মাঝখানে এবার সফর টানবে…
-
ঘুম পাড়ানোর কবিতা / সাইফ আলি
লক্ষী সোনা ঘুমিয়ে পড়ো রাত হয়েছে বেশ স্বপ্নে তবে দেখতে পাবে লাল পরীদের দেশ। তোমার দু’চোখ বুজবে যখন ঝিঝিরা সব ডাকবে তখন চুপি চুপি চাঁদটা এসে লাগিয়ে দেবে চুম ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি পাড়িয়ে দেবে ঘুম। ঘুম এসে এই দু’চোখ পেতে উঠবে যখন গল্পে মেতে তুমিও তখন কল্পে যাবে নীল পরীদের বাগে ভোমরা যেথায় গুন গুনিয়ে…
-
ভোর হলে / সাইফ আলি
ভোর হলে ছোটো পাখি বলে যায় শিওরে- সকালের ঘুম নাকি আলসের প্রিয় রে। বাগানের ফোঁটা ফুল মধু তার বাসনা, বলে খোকা আখি খুল এখন ঘুমাস না। ঝিরঝিরে বাতাসেরা বলে যায় উঠতে, সকালের সোনা রোদে প্রাণ খুলে ছুটতে। দরজাটা খুলে দেখি ফুলকুঁড়ি ফুটেছে, প্রজাপতি ভ্রমরেরা দলে দলে জুটেছে।
-
মায়ের মতো দেশ / সাইফ আলি
সবাই বলে এই মাটিতে মা গিয়েছে মিশে, আমি দেখি মায়ের হাসি একটি ধানের শীষে। সবুজ পাতায় মুখ লুকিয়ে টুনটুনিটা ডাকে’ ঘাসের বুকে শিশির জমে নদীর বাঁকে বাঁকে। সেই শিশিরে ভোর না হতেই হীরে মানিক জ্বলে, রূপ যেনো তার মায়ের মতো টুনটুনি তাই বলে। নীল শাড়িটা আকাশ নিলো সবুজ নিলো বন, মাটির সাথে মিশলো আমার বাংলা…
-
ইচ্ছে ঘুড়ি / সাইফ আলি
ইচ্ছে ঘুড়ি ইচ্ছে ঘুড়ি কোথায় তুমি উড়বে; সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে কোন সুদূরে ঘুরবে? তুমি কি ওই পাখির মতো আকাশ পানে ছুটবে; চাঁদের মতো জোছনা দিয়ে হৃদয়টাকে লুটবে? তুমি কি ওই নাওয়ের মতো নদীর জলে ভাসবে; ভোরের রাঙা সূর্য হয়ে মিটমিটিয়ে হাসবে? ইচ্ছে ঘুড়ি ইচ্ছে ঘুড়ি হৃদয় তীরে ভীড়বে; দেশ বিদেশে ভ্রমন শেষে আপন নীড়ে…
-
মেঘের কাছে খোকার চিঠি / সাইফ আলি
দাদুর ছাতা গাছের পাতা দুলছে বাতাসে, সাদা সাদা মেঘেরা ফুল তুলছে আকাশে। তার মাঝে এক রঙিন ঘুড়ি উড়ছে আহা! বেশ, নাটাই হতে ছুটছে খোকা দুলছে কালো কেশ। মেঘের কাছে রঙিন ঘুড়ি খোকার চিঠি সে- আমার প্রিয় বাগানটাকে ভেজাও নিমিষে। সবুজ পাতার মাঝে যখন ফুঁটবে রঙিন ফুল, একটা ঘুড়ি তোমায় দিতে হবে না আর ভুল।
-
আজকে যদি / সাইফ আলি
আজকে যদি মেঘের ভেলা বৃষ্টি হয়ে ঝরে বাগান মাঝে ফুলের মেলা সুবাস বিলি করে। প্রজাপতির রঙিন ডানা দেখায় যদি তার লাল-সবুজ আর নাম না জানা রঙের সমাহার। দোয়েল যদি শিস বাজায় আর কোকিল যদি গায় রংধনুকের রঙের বাহার নীলের সীমানায় ভাসে; তবে আমার হৃদয় আকুল হয়ে চাবে, আনন্দের ঐ বাদল ধারায় সকাল-বিকাল নাবে।
-
আমার পণ / সাইফ আলি
শিউলি চারার প্রথম ফোঁটা ফুল শুকনো শেষের বীজ একটা হলো খুকুর কানে দুল একটা হলো নতুন চারা নিজ। আমি হবো প্রথম থেকে শেষ ফুটবো, যাবো ঝরে ফুটলে লোকে বলবে আহা! বেশ ঝরলে হবো চারাই রুপান্তরে। আমার মতো তুমিও করো পণ উর্ধ্বে তোলো হাত তোমার থেকে নতুন অগনণ সৃষ্টি হবে সারাটা দিনরাত। ফুলের মত গাঁথেও যদি…
-
বেগুন গাছের টুনটুনি / সাইফ আলি
বেগুন গাছের পাতার ফাঁকে টুনটুনিটা লুকিয়ে থাকে আমি যদি যাই টুনটুনিটা কোত্থেকে মা অমনি খবর পায়? আমি তো ওর কষ্ট দেবো না এই কথাটা টুনটুনিকে বোঝাও তুমি মা। টুনটুনিটা কোন ভাষাতে কথা বলে বাঁশির মতো শব্দ করে কি কৌশলে কেমন করে পাতার ফাঁকে বাধে ওরা বাসা মাগো, টুনটুনিদের অমন কেনো ভাষা? আমি টুনটুনিকে বলবো ডেকে-…
-
ভালোবাসার প্রথম পাঠ / সাইফ আলি
‘খোকন সোনা তুমি কি ঐ চাঁদকে ভালোবাসো ফুলকে ভালোবাসো পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট পাখিটাকে কিংবা রাতের আঁধারে যেই জোনাক জ্বলে থাকে? খোকন সোনা তুমি কি ঐ সাগর ভালোবাসো ঝর্ণা ভালোবাসো একে-বেঁকে বয়ে চলা ছোট্ট নদীটাকে কিংবা সবুজ মাঠের ফসল নদীর বাঁকে বাঁকে?’ ‘ফুলকে আমি ভালোবাসি ভালোবাসি চাঁদকে, পাখি ডাকা সকাল আরো জোনাক জ্বলা রাতকে।…
-
এই যে পাখি / সাইফ আলি
এই যে পাখি, শুনছো না কি মিষ্টি তোমার গান, কে করেছে সুরেলা ঐ কণ্ঠ তোমার দান? রোজ সকালে পূব আকাশে সূর্য যখন ওঠে, বনে বনে মিষ্টি বাসের ফুলকলিরা ফোটে; তখন তুমি কোত্থেকে ভাই গান শোনাতে আসো, মিষ্টি সুরে গান শোনাতে খুব কি ভালোবাস?
-
মুক্ত ডানা / সাইফ আলি
একটি পাখি উড়বে বলেদূর আকাশে মেললো ডানা,ছোট্ট বুকে খোদাই করাজীবন পথে হার না মানা। পালকগুলো বাতাস মাঝেএই আলোড়ন তুলতে থাকে-তোমরা যারা দাওনি সাড়াআজকে জাগো আমার ডাকে। স্বপ্নগুলো পালক হবেইচ্ছে হবে মুক্ত ডানা,যখন খুশি আসবে ছুয়েস্বাধীনতার নীল সীমানা। একটি পাখি উড়বে বলেমেলল ডানা দূর আকাশে,দুই চোখে তার স্বাধীনতাররঙিন-আভা সূর্য হাসে।