খস্ খস্ জুতো ক্ষয়ে যাচ্ছে / সাইফ আলি

খস্ খস্ জুতো ক্ষয়ে যাচ্ছে
রাজপথ নদী হয়ে যাচ্ছে
পূবে চাঁদ পশ্চিমে তারা
ধ্যানে বসে আছে সন্ধ্যারা।।

জীবনের ফুলগুলো বাসি হয়ে গেছে হায়
ভুলগুলো জোনাকির দল,
দিনের সকল ডানা গুটিয়ে নিয়েছি তাই
ঘাটছি রাতের সম্বল।।
আমার লুকোনো কবিতারা…

নগর নিঝুম হায়
তবু নির্ঘুম যারা
পাঠ করে ঘাতকের রোল
শুনছি তাদের কোলাহল।

কি পেয়ে জীবন তারা বিকিয়ে দিয়েছে এই
বিলাসী মদের ফোয়ারায়,
চোখ বুজতেই যদি মরণেই মোলাকাত
পুঁজির পাহাড়ে কার ঠাঁই??
কি সুখে ভুলে আছে তারা!?

০৫.০৫.২০

তোর খোলা চুলে ঝুলে যাওয়া বিকাল / সাইফ আলি

তোর খোলা চুলে ঝুলে যাওয়া বিকাল
আর চারু নখে শোভা মেহেদীর লাল
তুই ভালো থাকিস আর ভালো রাখিস তোর দিন
তোর কুড়েঘর হোক রঙিন।।

তোর ভেজা চোখে ঝুলে থাকে আকাশ নীল
আর আঙুলের ফাঁকে ঝোলে অন্তমিল!
যদি হৃদয়টা বুঝে নিয়ে দেনমোহর
তুই অনুমতি দিস হাটি সঙ্গে তোর।।
অন্তহীন…

তোর ধীর পায়ে হেটে চলা ছন্দময়
যদি আমার এই পথ ধরে বন্ধ হয়!
তবে সময়টা হবে খুব যন্ত্রনার
তুই শিখেছিস কি এমন মন্ত্র কার।।
এই রঙিন…

০৪.০৫.২০

তুমি অবাক চোখে প্রশ্ন করো / সাইফ আলি

তুমি অবাক চোখে প্রশ্ন করো
আমি খুঁজি কারে,
বলোতো কাজল ভরা চোখ দিলো কে
তোমার অধিকারে!!
আমি হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই
তোমারই স্রষ্টারে।

তোমার ঐ কোমল কপোল, কমলা ঠোঁট
মাতাল করা ঘ্রাণে,
আমি বুঁদ হয়ে যাই, ক্যামনে লুকাই!!
প্রাণ থাকে না প্রাণে।।
তাই তোমার চেয়ে ভালোবাসি তোমারই স্রষ্টারে।

তুমি বললে কথা প্রাণে বাজে
গাইলে পোড়ে মন,
তাই তোমার কথা শুনতে আমার
এতো আয়োজন!
যা কিছু তোমার সবই জেনো প্রিয়া
দান করেছেন তিনি
এই দুনিয়া আকাশ বাতাস
সব দিয়েছেন যিনি।।
তাই হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াই
আমি সে স্রষ্টারে।

০৪.০৫.২০

একটুখানি পড়বো বলে / সাইফ আলি

একটা মানুষ কাঁদছে একা কেউ দেখেনি
একটা পাখির ভাঙা বাসার মূল্য কতো কেউ বোঝেনি
একটা ফুলের খুব নিরবে চুপশে যাওয়া।

হয়তো কোথাও একটা ভাঙা পাতিল হঠাৎ
তৃষ্ণা মেটায় এমন কারো কেউ চেনে না
কেউ শোনেনা তার আকুতি, পথের ফকির
কিংবা রাজা রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও।

হয়তো এমন নষ্ট চোখের খবর শুনে
অবাক হয়ে বলবে তুমি- কেমন করে
দেখলো এমন আকাশটাকে!!?

বাস্তবে যা দেখছো তুমি তার আড়ালে
এমন হাজার গল্প থাকে কেউ জানে না,
আমি কেবল সেই জানালায় দৃষ্টি রেখে
একটুখানি পড়বো বলে পণ করেছি।

০১.০৫.২০

খুব কাছাকাছি বেঁচে আছি তবু / সাইফ আলি

কেউ জমা করে কাড়ি কাড়ি টাকা
কেউ জমা করে স্মৃতি,
আমাদের কাছে জমা হয়ে আছে
ক্ষুধা ভয়। সম্প্রীতি?

সে কেবল শুধু মুখে মুখে বাজে
বাস্তবে বহুদূর,
কথা ছিলো একসাথে লেখা গানে
একই সাথে দেবো সুর!

কথার কথা! সে ভুলেছে সবাই
মেপেছে আপন রাস্তা,
মানুষে মানুষ মিলতে পারেনি
টাকায় রেখেছে আস্থা।

তারপর থেকে দালানবাড়ির
ফটকের তালা টেকসই,
খুব কাছাকাছি বেঁচে আছি তবু
কেউ কারো সাথে এক নই।

০১.০৫.২০

এই ছেড়া পালে / সাইফ আলি

এই ছেড়া পালে
বাতাস লাগে না
এই ভাঙা হালে
জাগে নাতো ঢেউ
তবু কেউ
যেনো যাচ্ছে নিয়ে
আমার তরী ঠেলে;
বসে আছি
একা ঝেড়ে ফেলে
সব ভার,
সংসার।

সব দায় দেনা মিটিয়ে দিয়ে
সবটাই সুখ দুঃখ নিয়ে
অবসর অবশেষে,
অবসর আমার।

কতো স্বপ্ন ছিলো
আমি বাঁধবো বাসা
বাবুই পাখির মতো নীপূণ ফোঁড়ে
সেই স্বপ্নের খড়
আজ হাওয়াই ওড়ে।

কেউ নেই কিছু নেই
যেতে হবে আমাকেই
তাই যাচ্ছি চলে ।
এখানে কেউ থাকবে না,
কেনো জমি বাঁধো ঘর
তারপর সময় হলে
আমার মতো
সব দায়
পুরোটাই ছেড়ে উঠবে এই নৌকায়…
ভাঙা হাল ছেড়া পাল
তবুও কেউ নিচ্ছে ঠেলে।
বসে তুমি
একা ঝেড়ে ফেলে
সব ভার,
সংসার।।

২৭.০৪.২০

এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে / সাইফ আলি

এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে
প্রখর রোদে খাক হয়ে যায় মাটি
শহরবাসির সহজ কবিতারা
বারুদ-গোলায় ফুসতে থাকা ঘাটি!
এই শহরে বৃষ্টি নামার আগে
মৃতের প্রেমে বুদ হয়ে যায় হাওয়া।

ভোরের বেলা তীব্র মোরগ বাগে
কেবল কিছু গাছগাছালিই জাগে
শহর তখন মৃত সাপের দেহ
ঠান্ডা এবং বিষণ্ন স্যাতসেতে।

এই শহরে সূর্য করে দেরি
বাতাস কেবল দুঃখ ফেরি করে
শহরবাসি জাগবে বলে ঘুমোয়
ঘুমের ঘোরে শহস্রবার মরে।

হঠাৎ শুনি একটা নতুন শোর-
খুব সকালে বৃষ্টি মেখে কারা
দিচ্ছে পুতে সব দালানের পিঠে
একটা করে জাগরণের চারা।

২৭.০৪.২০

এলো রমজান এলো বৃষ্টি নিয়ে / সাইফ আলি

এলো রমজান এলো বৃষ্টি নিয়ে
রহমের সে ধারায় নেয়েছি,
রহম করো যেনো বলতে পারি-
‘পেয়েছি তোমাকে পেয়েছি।’

তোমার রহম ছাড়া কি চেয়েছি আর
মাগফিরাতও যদি পাই উপহার
ভেজা চোখে সেজদায় লুটিয়ে রবো
ডেকে নিও খুলে দিয়ে নাজাতের দ্বার।।
কেঁদে কেঁদে এটুকুই চেয়েছি…

অন্ধ যারা তারা দেখেনা তোমার
ক্রোধের আগুন প্রভূ কিংবা দয়ার
অমীয় ধারা তাই তাদের সাথে
আমাকেও দূরে ঠেলে দিও না…

অনেকটা পথ শুধু হেঁটেছি একা
যে আশায় আজো তার পাইনি দেখা
মিলেছে অনেক কিছু ভরেনি এ মন
ভরবে না জানি আজ না পেলে তোমার।।
রহম ধারা তাই গেয়েছি
আজ এই গান…

২৫.০৪.২০

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান / সাইফ আলি

মানুষ সেধেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান
কোনো বিজ্ঞান সাধেনি মন,
সাধিত সে জ্ঞান সহজ করেছে
কঠিনতর এ নর-জীবন।

কবে কোন কালে প্রমান করেছে
বিজ্ঞান বলো স্রষ্টা নাই?
স্রষ্টার দেয়া বিধান ধর্ম
বর্ম পরেই মেলে রেহায়।

যদি এ যাত্রা বেঁচে যাও প্রিয়
যদি এ যাত্রা মুক্তি পাও,
ধর্মের কাছে পথ চেয়ে নিও
বিজ্ঞান দিয়ে জুতা সেলাও।

২৩.০৪.২০

এক শহরেই থাকতো দু’জন / সাইফ আলি

এক শহরেই থাকতো দু’জন দু’দিক তাদের মুখ
এক বাজারেই দুঃখ কিনে এক বাজারেই সুখ,
দুই দালানের দুই জানালা কিন্তু মুখোমুখি
খুলতো না কেউ খুললে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ার ঝুকি।

কপাল তাদের পুড়লো নাকি মহামারীর ঘায়ে
এক জানাজায় উঠলো দু’জন এক ইমামের নায়ে,
একই গোরস্থানে তাদের মুখোমুখি কবর
এক শহরের নামেই তাদের প্রচার হলো খবর।

২২.০৪.২০