অগ্রহায়ণ / আল মাহমুদ

আমি এই মধ্য অগ্রহায়ণের আকাশে মেঘের গম্বুজ ভেঙ্গে পড়তে দেখেছি
কেউ তো আমার মতো অকাজের কারিগর নয়
যে মাটির উপর বিছানো মানবিক শত সমস্যা
মেলে রেখে আকাশের দিকে তাকাবে? ও অগ্রহায়ণের আকাশ
ঝরাও বৃষ্টি, এখন ঘরে ঘরে নবান্ন চলছে
মাঠগুলোতে উদগমের কাজ অবসন্ন কিন্তু আমার এখন বৃষ্টি দরকার
উদ্ভেদ ও উদগম দরকার।

যে নারী আমাকে পরিশ্রান্ত ভেবে, যার মাতৃদ্বার
রুদ্ধ করে দিয়েছিলো, তার মুখে প্রসন্নতা ছিটিয়ে দিয়ে
বর্ষাও বৃষ্টি কিংবা নামিয়ে দাও
মেঘের ভেতর থেকে মানব বা দানবের অংকুর। আমি,
হে অগ্রহায়ণের আকাশ
সত্তর বছরের এক পুরনো পানসিতে বৈঠা বেঁধেছি
নাওয়ের গলুইয়ের নিচে অংকিত করেছি
আমার প্রিয়তমা নারীর আয়ত দু’টি চোখ।
ঝরাও বৃষ্টি-অনবরত, অবিশ্রান্ত; অবিরাম।

হে অগ্রহায়ণের আকাশ, বাংলাদেশের মেয়েরা যখন
মানব না দানব জন্ম দেবার ভয়ে-মাতৃদ্বার
হাত দিয়ে চেপে ধরেছে তখন তাদের কানে এই বার্তা
পৌঁছে দাও এক কবির, এক অব্যর্থ কথার কারিগরের-
হে ব্যর্থস্তনী জননীরা আমার, তোমরা না হয়
গাছেরই জন্ম দাও, শত শত বনস্পতি-
ডালপালা মেলে দিক বাংলার আকাশে। কিন্তু
জন্ম বন্ধ করে দিও না, নিষ্ফলা করে দিও না
মাতৃত্বের বৈভকে। গাছ চাই। বৃক্ষের
ডালপালায় আচ্ছাদিত হোক মাটি ও মাতৃজঠর।

০১ ডিসেম্বর, ২০০৪

Advertisements