বৃষ্টির কোনো রঙ নেই / সাইফ আলি

আমি যদি আকাশ হতাম-
বুকের মধ্যে স্তরে স্তরে জমা হতো নানা রঙের মেঘ
কিন্তু বৃষ্টির কোনো রঙ থাকতো না;
সুখ সে যে রঙেরই হোক
অনুভূতির কোনো রঙ থাকতে নেই,
দুঃখ সে যে রঙেরই হোক
কান্নার কোনো রঙ থাকতে নেই।

Advertisements

কেউতো ভালোবাসছিলো / সাইফ আলি

যখন তোমার ডানায় আমার আলো দুপুর রোদেও চমকালো
সূর্য অবাক তাকিয়ে ছিলো;
হাবার মতো বাতাস ভিষণ হাসছিলো-
দূর থেকে সুর আসলো ভেসে- কেউতো ভালোবাসছিলো!!

তুমি তখন অন্য মনে উড়ছিলে;
আকাশ জুড়ে কেবল শুধুই উড়ছিলে?

এখনো বৃষ্টি নামে / সাইফ আলি

এখনো আকাশ ভেজে মেঘের জলে
বাতাসে ছন্নছাড়া ফুলের রেণু
বোঝো কি পাখির ভাষা কিংবা পাতার
যদি সে বনপোড়া হয় শহরবাসী?

পাহাড়ের সবুজ সুখে হাত রেখেছি
ঝরনা যাচ্ছে বয়ে বুকের ভিতর
সে পাহাড় মেঘের তুলো মাথায় মাখে
শুনেছো কান পেতে তার অট্টহাসি?

এখনো আকাশ ভেজে মেঘের জলে
এখনো বৃষ্টি নামে অঝর ধারায়।

মায়া / সাইফ আলি

কেমন টলটলে মেঘলা চোখ দুটো তোর
অঝর টুপটুপ বৃষ্টি মাখছে দুপুর
অবশ অনুভুতি কাঁপছে বুকের ভিতর
বাজছে এ কেমন মরূর ঝড় তোলা সুর।

মোমের চাঁদ দূরে, আকাশ মাখা মাখা প্রেমে
তুলোর মেঘফুল ভিজছে কি দারুণ তাতে
নিরব চার চোখ নীলাভ জানলার ফ্রেমে
একটা কবিতার অলংকার নিয়ে হাতে ।

কেমন ছলছল বরষা, ভেজা হাওয়া;
চোরের মতো তোর নিরব আসা-যাওয়া!

আমার চাঁদ ভেসে যায় জলে / সাইফ আলি

আমার চাঁদ ভেসে যায় জলে
আমি সাঁতার জানি না তো,
তুমি কোথায় থাকো মায়া
কোথায় কোন আঁধারে মাতো।

আমার শব্দ ফুরোয় আমি
কেমন শুন্য পুষি বুকে,
তুমি মিথ্যে থিয়েটারে
কাকে করছো বরণ ঝুকে!?

আমি ফিরছি আমার ঘরে
নিয়ে ক্লান্তি-অবশতা,
পারো, বলতে আমায় খুনি
আমি মানছি এ ব্যর্থতা।

যখন বৃষ্টি হবে / সাইফ আলি

যখন বৃষ্টি হবে, অঝর বৃষ্টি হবে
দৃষ্টি হবে ঘোলা
মেঘের সাথে মেঘের হবে অভিমানের রুচি
তখন জানলা খুলে পর্দা তুলে দিও
হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি মেখো, কেমন-

যখন বৃষ্টি হবে গভীর অনুরাগে
বনের মাঝে ভিষণ শীতল হাওয়া
ছুটবে কেমন জল মেখে উর্বসী
রানীর মতো করবে হুকুম জারি-
আজকে কেবল বৃষ্টি হবে, ভীষণ বৃষ্টি হবে!
তখন যাও যদি সেই বনে
দেখবে কেমন সাজবে সকল পাতা
জলজ আভরণে..!!

যখন বৃষ্টি হবে, অঝর বৃষ্টি হবে
জলের ছোঁয়ায় বীজ গলে এক চারা
জন্ম নেবে এবং তুলবে মাথা
স্বপ্ন নিয়ে আকাশ ফুঁড়ে ওঠার;
তখন জীবনটাকে ভিন্নভাবে দেখার
প্রয়াস পাবে, সত্যি বলছি; শোনো
জীবনটাকে ভিন্নভাবে প্রকাশ করাও যাবে।

যখন বৃষ্টি হবে, অঝর বৃষ্টি হবে
মেঘের সাথে মেঘের হবে অভিমানের রুচি
তখন জানলা খুলে পর্দা তুলে দিও
হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি মেখো, কেমন-

রাত্রি শেষে / সাইফ আলি

রাত্রি শেষে শিউলি বোটায় ফোটায় ফোটায় জমতে থাকা বিন্দু জলে কি টলমলে আবেগ ছিলো ভরা!
ফুল ছিলো সব ঝরা…
জন্মাবধি ঝুলতে থাকা পাতায় আঁকা স্বাধীনতার সব কবিতার চিত্রকল্প গুলো
হাওয়াতে যেই ভাসাও তুমি বৃক্ষ তোমার অবুঝ পাতা এলিয়ে পড়ে, জমতে থাকে মৃত্যু কোমল ধুলো!
ঝরা ফুলের এবং পাতার ভিন্ন কিছু গল্প থাকে;
গল্পগুলো ছড়িয়ে থাকে জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে।

রাত / সাইফ আলি

কষ্টেরা এসে বলে যায় কানে কানে
এই রাত এই জোছনা সে কথা জানে
যে কথা জানে না সকালের সোনা রোদ-
সুখ হেসে বলে কেন মিছেমিছি রাত্রিকে শুধু টানো
সেখানে আমার ঢের অধিকার সে কথা তুমি তো জানো!
রাত বলে তোরা জোড়া দুই ভাই ঝগড়া করিস খালি
আমি কি কাউকে ভুখা রেখে কারো সোনার চামচে পালি?
দু’জনায় তোরা সমানে সমান কেউ যাস কারো কম
ভাই ভাই তোরা গলাগলি করে থাকাটাই উত্তম।
আমি বলি আহা! রাত্রি জননী মমতা তোমার বড়
আমাকে শেখাও একসাথে বুকে কিভাবে লালন করো…

যাত্রি আমি এমন / সাইফ আলি

তোমার চোখের অন্তরালে জাহাজডুবির ভয়
সেই জাহাজের যাত্রি আমি, আমার পরিচয়
জানতে তোমার আগ্রহ নেই মোটে;
কারণ কি এই আমার মতো যাত্রি রোজই ওঠে?
উঠতে পারে কিন্তু জেনো যাত্রি আমি এমন
জাহাজটাকে ভীষণ ভালোবেসে
ডুবতে রাজি পাগল প্রেমিক সহজভাবে হেসে।

শহরের চৌকাঠ পেরিয়ে / সাইফ আলি

শহরের চৌকাঠ পেরিয়ে
যেখানে সবুজ বন
ঘাসের মাদুর
ঝরে যাওয়া পাতা আর
পলিমাটির নিগুড় রসায়নে
মৌ মৌ জীবনের ঘ্রাণ
নদীর শব্দ, উন্মুক্ত আকাশ
সোনালী চিলের ছায়া
ফড়িঙের ঝাক; সেখানে
আমাদের ফিরে আসা
বারবার
ছুঁতে চাওয়া শৈশব
কৈশর স্মৃতি, ফেরারী সময়
পিছলে যাওয়া সবুজ অতীত
আমাকে পাগল করে
করে তোলে শিশুর মতোন।

শহরের চৌকাঠ পেরিয়ে
যেখানে বকের ভীড়
শাপলার শফেদ শরীর
কাচা ধান, জল, আর
শমুকের অবাধ বিচরণ
সেখানে ছোট্ট এক
কলার ভেলায়
আরো কিছু স্মৃতির কবিতা
রচনা করতে চাই
আরো কিছু গল্পের ভীড়ে
নিজেকে হারাতে চাই;
যাবে?
যান্ত্রিক শহরের তাওয়ায়
আর কতো নিজেকে পোড়াবে?