আমি ইচ্ছে পুরণের মাটি নই / আল মাহমুদ

যারা আমাকে পরামর্শ দিতো মানুষ একা থাকতে
পারে না। তারা হয়তো সত্যিই বলতো। কিন্তু আমি
ছিলাম অনমনীয়। ছিলাম একটা পোড়ামাটির
পাত্রের মতো। কারো ক্রোধ হলে পাত্রটিকে
পাথরে আছড়িয়ে চূর্ণ করতে পারবে। কিন্তু
দুমড়ে মুচড়ে আবার কাদার মতো ইচ্ছে
পুরণের মাটিতে পরিবর্তন করতে পারবে না।

প্রকৃত পক্ষে আমি অর্ধেক মানুষ আর বাকি
অর্ধেক তো কবিতা। সম্পূর্ণ মানুষ বলেতো
কখনও গণ্য হইনি, কেউ মানে নি।
বলো, এজন্যই কি আমি এতো একা?
ইতিহাসের তীর্যক গতির মধ্যে যারা এই
বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে চেয়ে দেখি
তাদের বয়স খুবই কম। তারা জানেও না
পতাকার ওই সূর্য কাদের রক্তে ভিজে
আছে। তারা লাল রঙটা দেখে আর
খলখলিয়ে হাসে। কিন্তু আমি তো জানি
সেখানে জমাট বেঁধে আছে মানুষের
রক্ত। যারা যোদ্ধা ছিলো।

যাদের নাম শহীদের তালিকায় নেই।
অথচ আমি তাদের নাম জানি।
কেউ জিজ্ঞাসা করুক? আমি তাদের নাম
একের পর এক বলে দিতে পারি। তোমরা
তাদের নামের পরে কোনো যতি চিহ্ন
ব্যবহার কোরো না। না কমা, না দাড়ি।
তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা নিয়ে মাথা
ঘামায়নি। কারণ তাদের চেতনার চেয়ে তাদের রক্তই
ওই পতাকায় জমাট বেঁধে আছে বেশী। অসহ্য
লালে রঞ্জিত। আমি কি উচ্চারণ করবো
তাদের নাম?

আমি জানি কেউ তাদের নাম শ্রবণেন্দ্রিয়ে
ধারণ করতে পারবে না। তাদের সব পর্দা ফেটে
যাবে। তারা পালাবে লেজ গুটিয়ে। যেমন চির
পরাজিতেরা গর্তে লুকোয়। তেমনি।

সাবধান আমার প্রতিটি কাব্যে বাক্যে উপমায়
অলংকারে আমি লুকিয়ে রেখেছি তাদের নাম।
এক একটা শতাব্দী এসে সে সব নাম উচ্চারণ
করতেই থাকবে।
পালাও হারামজাদারা। কোথায় পালাবে?
এক একটি শতাব্দীতে এক একটি নামের
পৃষ্ঠা বাতাসে উল্টে যাবে। পালাও
হারামজাদারা। কোথায় পালাবে?

১২ ডিসেম্বর ২০০৪