মার্চের ছড়া / আলি মেসবাহ

এই মার্চের গল্প বলি শোনো-
মার্চ মানে তো ভয় পাওয়া নয় কোনো
মুক্ত পাখি, বাঁচতে শেখা, বাঁচা
মার্চ মানে তো ভাঙতে হবে খাঁচা।

এই মার্চে রক্ত শপথ নিয়ে
লাল-সবুজের নিশান তুলে দিয়ে
এক হলো সব বীর জনতা বীর
এই মার্চে ডাক এলো মুক্তির।

এই মার্চে শত্রু হানা দিলো
বীর বাঙালি অস্ত্র তুলে নিলো
বুক পকেটে রক্ত জবা রেখে
স্বাধীনতার যাত্রা এখান থেকে।

এই মার্চে প্রতিজ্ঞা ফের করো
অত্যাচারীর কলার চেপে ধরো
এই মার্চে মুখ খোলো মুখ খোলো
প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলো।

এই মার্চে ডাক দিয়ে যাই ডাক
এই পতাকার স্বপ্ন জেগে থাক
ষোল কোটির এই জনপদ ঘিরে
এই মার্চে শান্তি আসুক ফিরে।

Advertisements

ছড়া / আলি মেসবাহ

ইনিয়ে ও বিনিয়ে
বোঝালেন তিনি এ-
রামপাল প্রকল্প আমাদেরই জন্য !!
(সুন্দরবন ইস্যু অতিই নগন্য ?)
ইনিয়ে ও বিনিয়ে
বোঝালেন যিনি এ
হা হা বলে দাও তাকে, বুঝেছি যথেষ্ট
(বুঝি এই ভূমিকার, তুমি কার কেষ্ট।)

সুন্দরবনটাকে বাঁচাতেই হবে যে / আলি মেসবাহ

:খুব বেশি বকছিস দু’দিনের ছোকরা,
দেখিস না চুপ করে আছে সব লোকরা;
বলবি তো ভালো কথা, বল কিছু কম বা-
জানিস তো, আমাদের হাত কতো লম্বা…

:কার হাত কতো বড় অতশত ভাবি না,
আমাদের দাবি তো অযৌক্তিক দাবি না;
মুখ খুললেই তাতে বেধে যাবে যুদ্ধ
অথবা হবেই সব শুদ্ধ অশুদ্ধ?
বরঞ্চ তোমাদেরই নেই কোনো যুক্তি
এক্ষুনি ছুঁড়ে ফেলো রামপাল চুক্তি।
ধ্বংসের এ আয়োজন বলো কার জন্যে ?
বলতে কি পারো তুমি, ও মানস কন্যে ?
এই নদী, এই বন, এই মা ও মাটি এই
ছল-চাতুরির নানা কৌশল খাটিয়েই
বিকাবে; তা কখখোনো না না মেনে নেবো না
সুন্দরবনটাকে ছাই হতে দেবো না।
ও মানুষ, থেকো না’ক আর হীন শয্যায়-
প্রতিবাদ বয়ে যাক অস্থি ও মজ্জায়,
শ্বাপদের ভিত নড়ে উঠবেই তবে যে
সুন্দরবনটাকে বাঁচাতেই হবে যে।

না, কোনো আপোষ নয় / আলি মেসবাহ

মুখ বুঁজে সয়ে যাবো? না না-কোনো ছাড় নেই;
সুন্দরবনে আর কারো অধিকার নেই।
এই বন আমাদের ভালোবাসা, আত্মা
এক্ষুনি ফিরে যাও বিদেশি প্রেতাত্মা।
ভেবেছ কি ? এ দেশের জনগণ অন্ধ ?
মেনে নেবো যতো সব মিথ্যে প্রবন্ধ ?
স্ট্রেইট কাট শোনো, কারো কানাকানি না
রামপাল প্রকল্প মানি না.. মানি না…।
অন্যের ঘাড়ে নুন রেখে আর কতোকাল…?
লাথি মারি তোমাদের অথর্ব জঞ্জাল।
না কোনো আপোষ নয়, আজ থেকে বৈরি
শ্বাপদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে তৈরি।
আর যারা এদেশের মাথা মোটা ‘কত্তা’,
জানিনা তো তারা কোন স্বার্থে অগত্যা
সুন্দরবনটাকে করে দিতে ধ্বংস
হলো এই হীন ষড়যন্ত্রেরই অংশ!!
কান খুলে শুনে রাখো, দাবী শুধু একটাই-
বিদ্যুৎকেন্দ্র না; সুন্দরবন চাই।

কেউ কারো নয় / আলি মেসবাহ

দুঃখ কোথায় রাখি !
নিজের ঘরে নিজেই যেন
বন্দী খাঁচার পাখি

আপন ভাবি কারে ?
মুখোশ পরা মুখগুলো সব
দেখছি বারে বারে

নানান ছলে বলে-
এক এক করে সবাই গ্যাছে
স্বার্থপরের দলে

কেউ কারো নয়, আহা !
‘সবার তরে সবাই’ এসব
মিথ্যা কথা ডাহা।

দুই দশ আট / আলি মেসবাহ

যেদিকেই যাই
যেখানে হারাই
থাকে সেই ডাকে সেই
চেনা পথ-ঘাট।
হাতছানি দিয়ে ডাকে
দুই-দশ-আট।
খোলা থাক খুলে রাখ
স্মৃতির কপাট।
চেতনায় ভাস্বর
দুই-দশ-আট।

২৮.১০.১৬

পাখির মতো মন / আলি মেসবাহ

মনটা আমার এমন কেনো? পাখির মতো
উড়ু উড়ু , যখন তখন যায় সে উড়ে
দেশ হতে কোন দেশান্তরে,বন-বনানী,
তের নদী আরো যে সাত সমুদ্দুরে !

মনটা আমার এমন কেনো, বলতে পারো?
কচি ধানের চারার মতো সবুজ সবুজ-
হাত ছোঁয়ালেই শিশির কণা দেয় ভরিয়ে
মন কি কচি ঘাসের ঢগার মতোই অবুঝ?

মনটা আমার এমন কেনো, কেউ কি জানো?
আমার মতোই এমন কারো হয় কখনো?
মন যে আমার প্রবাহমান নদীর মতো
ভাসিয়ে রাখে ইচ্ছে এবং স্বপ্ন যতো।

খোদার ইশারায় / আলি মেসবাহ

এইযে সবুজ
ঘাসের চাদর
মা’য়ের কোলে-
শিশুর আদর
পাখির কুহু তান,
খোদার সেরা দান।।

দূর আকাশে
চাঁদ যে হাসে
ফুল ভরিয়ে-
দেয় সুবাসে
যার হুকুমে তিনি,
রাব্বুল আলামিনই।।

নিত্য প্রাতে
সূর্য  ওঠে
সাগর পানে-
নদী ছোটে
পথ হারিয়ে যায়,
খোদার ইশারায়।।

লাশ লাগে লাশ? / আলি মেসবাহ

লাশ লাগে লাশ?
বলো চাই কতো-
আরো চাই? আরো আছে
লাশ শত শত…

সাদা লাশ কালো লাশ
মন্দ ও ভালো লাশ
নামী লাশ দামী লাশ
স্বাধীনতাকামী লাশ
সস্তায় কেনা লাশ
বেওয়ারিশ, চেনা লাশ
লাশ আছে ঢের…
এই পথে যায় রোজ
মিছিল লাশের ।

কনক্রিটে চাপা লাশ
আর ফুলে ফাঁপা লাশ
ঠিকঠাক পোড়া লাশ
পলিপ্যাকে মোড়া লাশ
পিছ করে কাটা লাশ
কাঁটাতারে আঁটা লাশ
লাশ আছে ঢের…
সবচেয়ে বেশি আছে
লাশ স্বপ্নের।

গোলমেলে / আলি মেসবাহ

বলবো কি ভাই-
হিসেব নিকেশ করে
ফলটা যা পাই
গোলমেলে তাই…

যেই দ্যাখে তাক করা
মিডিয়া ও ক্যামরা
চেতনার ঢিল ছোঁড়ে
কতিপয় গ্যাঙরা

তারপরে রাত-
আসলে হঠাৎ
নিরবে হাজার তনু
হয় কুপোকাত
তাহাদেরই হাতে;
কখনো কি সে খবর
আসে মিডিয়াতে?
আসবে না ভাই,
আমরাতো ঘুঘু দেখি,
ফাঁদ দেখি নাই।