আমরা ছিলাম কেউ ছিলো না / সাইফ আলি

হৃদয়টাকে আলতো করে হাতের মুঠোয় রাখতে পারো
রাখতে পারো ভালোবাসার সোকেজ জুড়ে পুতুল করে
কিন্তু তাতে মিলবে কিনা ভালোবাসার লাল ঘোড়াটা
একটুখানি সময় পেলে ভাবতে পারো।
 
শুকনো পাতা ডাল ছেড়েছে এখন তাকে ভুলতে পারো
একটা করে রাতের মায়ায় স্বপ্নগুলো খুলতে পারো
মাটির কাছে ফিরতে যদি খুব বেশিক্ষণ সময় লাগে
বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে থেকে পুরোনো গান তুলতে পারো
কিন্তু তাতে মিলবে কিনা ভালোবাসার সেদিনগুলো
একটুখানি সময় পেলে ভাবতে পারো।
 
তুমি আমার কথার মাঝে কাব্যসুধার ঘ্রাণ পেয়েছো
ব্যস্ততাতে বিষিয়ে ওঠা পান্তা ভাতেও প্রান পেয়েছো
কিন্তু এখন কেমন যেনো অবসরেও ডাক দিলে না
হয়তো আমার উপস্থিতি ম্লান হয়েছে ক্রমান্বয়ে
না হয় তোমার ছায়ায় ছিলো, শরীর ছিলো;
কেবল তুমিই আর ছিলে না।
 
আমার সাথে তোমার এমন অস্ত যাওয়ার দিনগুলোকে
ভুল করে কেউ রাখবে ধরে ভাবছি না আর,
কেউ ছিলো না সাক্ষ্যি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলো কথার মিনার।
Advertisements

তুমি যদি বাজাতেই জানো / সাইফ আলি

সবুজ না হতে পারি
বিবর্ণ বলোনা আমাকে,
প্রেমিক না হতে পারি
প্রেমহীন কখনোই নই।
তুমি যদি বাজাতেই জানো
নিপূন বাঁশরি হয়ে
বেজে যাবো, বাজাও হে রানী;
মিছে কেনো দূর থেকে
অযথা বাড়াও হয়রানি…

অথচ কেমন তুমি / সাইফ আলি

অথচ কেমন তুমি অচেনা আকাশ হয়ে যাও
অবারিত অক্ষরে সাজাও আপন অবয়ব
ভালোবাসি বলতেই ছুড়ে দাও বিমর্ষ মেঘ
ছুড়ে দাও মোহহীন একমুঠো জলজ আবেগ-

নদীর আচল তুমি কাশফুল পাড় জেগে জেগে
কি স্বপ্ন বুনেছিলে- ‍কি ছিলো তোমার অভিরুচি-
আমিতো বুঝিনি কিছু বোঝার জন্য বার বার
স্রোতের সুতোয় বেঁধে ভাসিয়েছি শরীর আমার।

অথচ কেমন তুমি অচেনা আকাশ হয়ে যাও
অথবা নদীর মতো কাশফুলে বুনন শেখাও!

আমার তখন চারকোল ভালোবাসা / সাইফ আলি

তুমি চেয়েছিলে পেছনের কবিতারা
সামনে আসুক আবার নতুন কোরে,
শ্রাবণের যতো ঝরে পড়া সন্ধ্যারা
আবার আসুক আমাদের হাত ধরে!

কিন্তু এখনো রাতের বাজারে চাঁদ
কেমন মলিন জোছনা ছড়ায় দেখো,
পান্ডুর এই কবিতার খাতাটাতে
শূন্য পাতারা ধুলোয় রয়েছে ভরে!

তুমি চেয়েছিলে একটা রঙিন ছবি
আমার তখন চারকোল ভালোবাসা,
শাদা ক্যানভাসে গোটা গোটা কালো দাগ
রঙিন যা ছিলো পুষে রাখা অন্তরে

কিভাবে দেখাই, উপায় ছিলোনা জানা;
দেখাতে পারিনি তাই-
তুমি চেয়েছিলে পেছনের কবিতারা!
শ্রাবণের যতো ঝরে পড়া সন্ধ্যারা!!

বহুতল ভবনের ছাদে / সাইফ আলি

তুমি কোন সাগরের তীরে
খালি পায়ে হাঁটছো এখন,
আমি আছি শহরের
বহুতল ভবনের ছাদে-
এখানে যে চাঁদ উঠে
বিষণ্ণ করে দিলো রাতের আঁধার
সেই চাঁদ ঢেউয়ে ঢেউয়ে
বসালো কি জোনাকি-আসর!?

তোমার পাদুকা জোড়া
বেওয়ারিশ নৌকা সেজেছে
শুভ হোক দু’জনার চাঁদরাতে সাগর সফর
তুমি আর খুঁজতে যেওনা।

এখানে মধ্যরাত পার হয়ে গেছে
রাস্তার মাঝখানে সারি সারি দেবদারু তবু
টহল পুলিশ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেপরোয়া!

তুমি কি এখন কোনো পাঁচতারা হোটেলের এসিরুমে শুয়ে?
সাগরের তীর জুড়ে জমে গেছে শফেদ প্রবাল?
অথচ এখানে আমি বহুতল ভবনের ছাদে
ভাবছি কি আকশ পাতাল!

কেউ কেউ থাকবে এমন / সাইফ আলি

কেউ কেউ থাকবে এমন
নিশ্বাস ফেলে যাবে ঘাড়ের উপর
মৃত্যুর মতো এক ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে
অথচ কখন সে যে ঝড় বয়ে যাবে
জানবে না গাছের পাতারা!

কেউ কেউ থাকবে এমন
চিবুকের তিল হয়ে একান্ত রাতে
হিংসায় চাঁদ যাবে পুড়ে
দৃষ্টির মাকড়সা জালে তবু সেই
কুচকুচে কালো তিল ছটফট করবে ভীষণ!

কেউ কেউ থাকবে এমন
ধরা যায় ছোঁয়া যায়
খিলিপানে সুগন্ধি জর্দার মতো
অনুভব করা যায় বেশ
অথচ চোখের সাথে চোখ রেখে বলা যায়
এমন কবিতা থাকবে না-

কেউ কেউ থাকবে এমন
মৃত্যুর মতো এক একান্ত সহচর হয়ে
জানবে না গাছের পাতারা কোনোদিন
প্রচন্ড ঝড় যাবে বয়ে !

অন্তরালের প্রিয়া / সাইফ আলি

অন্তরালের প্রিয়া হবি তুই?
নিরবে বলবি কথা,
দুজনার প্রেমে প্রভাবক শুধু
নিশিঘোর নিরবতা।

আমাদের কোনো আলাপচারিতা
ভাঙাবে না কারো ঘুম,
আমি তোর হবো চোর হবো খুব
সারারাত নিঝ্ঝুম।

হাতে হাত নেই,
চোখে চোখ থাকবে না
হৃদয়ে হৃদয় মিলে কোনোদিন
কোনো ছবি আঁকবে না।

তুমি ছাড়া কোন বসন্ত / সাইফ আলি

তুমি ছাড়া কোন বসন্তের কথা বলে লোকে
কৃষ্ণচুড়া ছাড়া, পলাশের রঙ ছাড়া
ভিন্ন কি বসন্ত এসেছে এখানে !!
রিকশাতে কেউ চুলে গুঁজে ফুল, দোকানের ফুল
রঙিন শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে তার বসন্ত প্রকাশ
অথচ আমার বসন্ত আসার নেই অবকাশ-
তোমাকে ছাড়াই কখনো বসন্ত আসে না নির্ভুল।
আমার বসন্ত তোমাকে ঘিরেই
ঘুরে ফিরে সেই তোমার তীরেই…

পেন্সিল দিয়ে লেখা / সাইফ আলি

মুছে দেবে দাও, পার্মানেন্ট তো নই
পেন্সিল দিয়ে লেখা;
শাদা করো পাতা ইরেজার দিয়ে ঘষে
কিন্তু যে দাগ নিখুঁত গিয়েছে বসে
গহীনে তোমার, সে তোমার চির সই
মুছে দেবে দাও প্রিয়
পার্মানেন্ট তো নই-

দৃষ্টি এড়ায় না / সাইফ আলি

ফেলে দিতে চাইলেই ফেলে দেয়া যায় না
মাঝে মাঝে কিছু কথা ভাষা খুঁজে পায় না
তাই বলে কথা নেই ভাবনাটা ঠিক না
হৃদয়ের কথাগুলো চেপে রাখা যায় না।

কিছু কথা চোখ বলে, কিছু বলে কেউ না;
ঘুমের পাড়ায় জাগে স্বপ্নের ঢেউ না?
সেই ঢেউ কোনোদিন ছুঁতে পারে হাতটা?
কিন্তু সবাই বোঝে গভীর আঘাতটা।

নিরবে যে কথা হয় চোখে চোখ রাখলে
সে কথা কি থেমে যায় শব্দকে ঢাকলে
তাহলে চাঁদের বুকে ভাবো দেখি ছায়া কার
পৃথিবী কি এড়িয়েছে এসবের দ্বায়ভার?

চাঁদ-সূর্যের এই লুকোচুরি খেলাটা
জমে ওঠে পৃথিবীকে ঘিরে ভালোবাসলেই;
এই কথা ঠিক না, কক্ষনো ঠিক না
ভালোবাসা ভাষা পাই শুধু কাছে আসলেই।

ফেলে দিতে চাইলেই ফেলে দেয়া যায় না
মাঝে মাঝে কিছু প্রেম ভাষা খুঁজে পায় না
তাই বলে নিরব সে মনের ভাষ্যটা
মন থেকে চাইলেই দৃষ্টি এড়ায় না।