পথিক শুনছো? / সাইফ আলি

তুমি কি ফিরেছো? নাকি তুমি আর
ফিরবেনা বলে গুটিয়েছো মেঘ;
পথিক দাঁড়াও; এভাবে পথের সীমানা টেনোনা-
শুনছো?
তুমিকি এখনো ফেলে আসা ছাপ
যাপিত দ্বিধায় গুনছো?

মেঘেরা কখনো পতিত বৃষ্টি মাপেনা
যে পথিকচোখ খুঁজেছে আকাশ
সামান্য ঝড়ে কাপেনা।

তুমি কি ভাবছো?
এভাবে রাততে নিরাশ করোনা;
হতাশ করোনা চাঁদকে-
দু’হাতে ঠেলোনা স্বপ্ন এবং জোছনার অনূবাদকে।

Advertisements

কবি / সাইফ আলি

ফেরি করি সুখ
সাজানো অসুখ
বাঁধা পোট্রেট
প্রেমিক শামুক
এবং কিছুটা নীল ফেরি করি
কিছুটা সাগর
প্রজাপতি ঘোর-

আমি
ফেরি করি ফুল
প্রিয় তুলতুল
পুতুলের হাত
কিছুটা আঘাত
প্রিয় শাসনের-

ঝরে যাওয়া ফুল
এবং ডালের
কুয়াশায় ভেজা
খুব সকালের;
এবং পালক
রঙিন বালক
ছুঁয়ে দেয় যারে
ভালোবেসে খুব।

আমি
ফেরি করি সব
অনুভুতিদের
তোমরা যাদের
করো অনুভব।

আমি
ফেরিওয়ালা এক
স্বপ্নের আর শব্দের-

পারো যদি তুমি ভুলে যাও / সাইফ আলি

ভুলে যাওয়া খুব সহজ ভাবছো বন্ধু!
পারো যদি তুমি ভুলে যাও;
ভুলতে দেবোনা আমাকে
যেভাবে কখনো ভুলতে দেয়না পাখিরা
এবং ফুলেরা যদিও তাদের সময় গিয়েছে ফুরিয়ে-

ভুলে যাওয়া খুব সহজ হবেনা রাতকে
এবং বিপদে পাশে থাকা প্রিয় হাতকে;
ভুলে যাবে তবু? যাও দেখি যদি পারো-
বাতাসের মতো ভালোবেসে আমি অপচয় হবো আরো।

ভুলে যাবে তুমি মাটির গন্ধ
বৃষ্টি মাখানো ‍দিন!?
আমিতো ক্রমেই রোদ্রের মতো
বাড়িয়েই যাবো ঋণ।

ভুলে যাওয়া খুব সহজ ভাবছো বন্ধু!
পারো যদি তুমি ভুলে যাও;
আমি হয়ে যাবো প্রেমের চিহ্ন
পরিচিত ইশারাও।

মৃত্যু / সাইফ আলি

যখনই
নিসঙ্গ ছাদে দাঁড়িয়ে যুবক
ভুলে যায় সব পিছুটান
ভুলে যায় সব সম্পরর্কের মায়াজাল
মুছে ফেলে তার লালিত স্বপ্ন এবং আশার সব দাগ
তখনই তো তার মৃত্যু ঘটেছে
মানুক বা কেউ না মানুক।

সে ভালোবাসার অর্থ ভুলেছে
জানুক বা কেউ না জানুক।

work-11

ওগো অন্তরালের পাখি / সাইফ আলি

ওগো অন্তরালের পাখি
তুমি ঘুমাও কেমন কোরে!
জাগো দোহায় লাগে তোমার
আমি জাগবো তোমায় ধরে।

দেখো আকাশ কেমন কালো
আর বইছে বাতাস ভারি-
তুমি ঘুমাও কেমন কোরে
ওগো অবুঝ স্বপ্নচারী!

জানি অন্তরালের পাখি
তুমি মেললে তোমার ডানা
এই আকাশ হবে তোমার
আর বাতাস চলার সাথী।

আহা! সুখ নেই / সাইফ আলি

হাতের মুঠোয় জোনাক
আহা! সুখ নেই-
করো তদবির, ভেজা ঝাওবন দোলা বাতাসের শোনো গল্প;
পাশে লাউফুল আর কুমড়োর মাচা রসায়ন ঘেরা দ্বন্দে, শোনো গল্প
চোখে ইমারত ঠেলা আকাশের ছেঁড়া আচলের কিছু গল্প
ঠোঁটে হীম হীম কিছু কুয়াশার মরা অনুভুতি নেয় নিশ্বাস।

হাতের মুঠোয় গুগোল
আহা! সুখ নেই
দাও সার্স দাও গোটা পৃথিবীর সব আনাচে কানাচে গলিতে
আছে ফুটপাত আছে সড়কের মোড়া কালোপিচ সে কি ব্যস্ত!
আছে মনুমেন্ট আর দিবসের সব রঙিন ব্যনার ফেস্টুন-
আছে মনুষের এক শুকনো জীবন কাগজের নোটে মোড়ানো।

হয়তো আমিই / সাইফ আলি

পথভোলা কেউ, হয়তো আমিই
মনভোলা কেউ, হয়তো বাতাস
কিংবা বাতাস পথ ভুলেছে
নয়তো আমিই মনভোলা হই

মনের মতো পথের ধুলো
হয়তো বুকে ঘুরছে বাতাস-
কিংবা আমি বাতাস ছিলাম
পথ ভুলেছি ধুলোর মায়ায়।

মিলছে না ঠিক
কোনটা সঠিক
বাতাস নাকি ধুলোর মায়া
ভুল করে কি লেপ্টে আছে
পথের বুকে আমার ছায়া?

তারুণ্য / সাইফ আলি

work-02

তোমার অন্তরালে বেড়ে ওঠে সবুজ পৃথিবী
তোমার শরীর ছুঁয়ে নীড় পায় অবুঝ পাখিরা
তোমার জোয়ার এলে বদলায় কালের লিখন
অথচ তোমার কোনো সাড়া নেই;
তুমি জাগো,
তুমি জাগো পাঁজরের গহীন ভিতর-
রক্তে রন্ধ্রে তুমি জাগো,
মগজে মননে তুমি জাগো।

ভালোবাসি / সাইফ আলি

শাদা খাম
বেওয়ারিশ চিঠিটার মালিক নিয়ে সন্দেহ থাকতো যদি আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকতো এখানে,
একক সংসারে অন্য কোনো প্রাণের উপস্থিতি না থাকায় ওটা এখন আমার সম্পত্তি-
সম্পত্তি না বিপত্তি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, আজকাল তো আর চিঠির চল নেই, ওটা শুনেছি বাপ-দাদার আমলে ভীষণ আকাঙ্খার বস্তু ছিলো-
খামের মধ্যে চারুকরে চারভাঁজ করা একটা নীল চিঠি-
এটাকে কি চিঠি বলা উচিত হবে? বুঝতে পারছি না, কারণ-
ভাঁজ খুলে যা পেলাম তা হচ্ছে- শূন্যতা,
কিছুই লেখা নেই, একদম শাদা কাগজ; দুঃখিত, ভুল বলে ফেললাম- নীল কাগজ!
আচ্ছা, ভুল করে হলেও শাদা কাগজ কেনো বললাম? লাল, হলুদ বা অন্য কোনো রঙ কেনো নয়?
তাহলে কি শাদাকে শূন্যতার প্রতিক বলা যায়?
এজন্যই কি আমরা নিজেদের শাদাশিদে মানুষ বলতে পছন্দ করি,
অথবা শাদা মনের মানুষ?
কেউ উত্তরটা জানলে জানাবেন…
আর হ্যা, চিঠিটার কোনো অর্থ খুঁজে পেলে সেটাও-

আমি চিঠিটার একটা জবাব ঠিক করে ফেলেছি-
‘ভালোবাসি’

মুখোশ / সাইফ আলি

মুখোশ খুলে বললে- নাও, এবার হলো;
আমি দেখলাম আরেকটা মুখোশ একটু আলগা হয়ে ঝুলে আছে-
তুমি হয়তো আমার চোখের ভাষা বুঝতে পেরেই ঝুলে পড়া মুখোশটা সরিয়ে বললে-
সত্যি বলছি, এবার অরজিনাল একদম, দেখো…

আমি মুগ্ধ চোখে দেখলাম, তুমি কেমন নির্লজ্জের মতো একের পর এক মিথ্যে বলে চলেছো!
নিজেকে আড়াল করতে এতগুলো মুখোশের আশ্রয়!?
তারপর দেখলাম, তুমিও কেমন অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছো, কিছু একটা বুঝতে চেষ্টা করছো হয়তো; কি সেটা? আমাকে বলো-
তুমি আমার দিকে এগিয়ে এলে, তারপর আমার মুখে হাত রাখতেই আমি সরে দাঁড়ালাম- কি করছো?
তুমি বললে- মুখোশ…