তালুবন্দি ভাবুকেরা / সাইফ আলি

তালুবন্দি ভাবুকেরা গোল হোন
টকশোতে ঝড় তুলুন
আপনাদের মুখ আর বুকের দূরত্ব আমাদের ভাবায়
আমরা ভাবতে শিখি।

তালুবন্দি ভাবুকেরা গোল হোন
আপনাদের মগজের ধোঁয়ায়
আমাদের দৃষ্টি বিভ্রান্ত হোক
আমরা সুশিল হই।

পেয়ালায় গরম চা পাতি
নিশ্বাসে অবিশ্বাসের মন্ত্র
আর চোখে জমে থাকা ঘুমের ময়লা নিয়ে
আমরা অপেক্ষায় থাকি-
টকশোর কতক্ষণ বাকি?

21/10/18

Advertisements

কবির জবান আজ / সাইফ আলি

কবির জবান আজ বন্ধকি জমির লাহান
কথা কয় রয়েসয়ে একূল ওকূল ভেবে
পাছে কেউ বলে ফেলে, ভান্ডারে নেই কোনো জ্ঞান!
মহা-চাটুকার শুধু বিকৃত মানসের পয়ার মিলাবে।

কবি কণ্ঠে আকুতি- সুরা চাই, সাকি চাই দেবে?
বিনিময়ে শব্দের যাবতীয় কৌশল নিয়ে
দাঁড়াবো তোমার পাশে, আপোসের এটাই সুযোগ।
বিশ্বাসী কবি ছাড়া ইতিহাস দেখো আওড়িয়ে

অহরহ মিলবে সহজে। কবিতা খোদার বাণী নয়,
কবিতা এমন কিছু নয় চিরকাল সত্যকে নেবে।
তাই বলে বলবো না কেবলই আপোসে বাঁচে কবি
বরং তারাই যারা চাটুকারি পথ নেয় বেছে
হারায় অতল তলে, মানুষেরা মনেও রাখেনা।

কবির কবিতা থাক বিবেকের করাতের নিচে…

চক্ষু শীতল হোক / সাইফ আলি

চক্ষু শীতল হোক
পোষমানা বুকের বোতাম
ছিড়ে গেলে বের হোক বুনো কবুতর
হৃদয় শীতল হোক
লতানো সুখেরা সব তরতর
উঠে যাক মজবুত জাংলার পিঠে।
খোলসের ঝিকমিক রঙ
রুপালী পুটির যত তেলতেলে পেট
সাতবেলা আহার্য্য নাই হোক
জল আর শাদা ভাত মুখে
হালাল টাকার সাদ
পাক তবু কেউ।
আর যদি রোদহীন দুর্বার পিঠ
বিপ্লবী হয় কোনোদিন
সেও যেনো ছুঁতে পারে
লোনা ঘামে স্বার্থক ভেজা আস্তিন।

বোধের মধ্যে বোধের মৃত্যু / সাইফ আলি

বোধের মধ্যে বোধের মৃত্যু নির্বোধে তাই খেলছে তাস
বোদ্ধা তোমার ঘরেই আগুন, করছো তবু কার তালাশ?
খুব পেকেছো, পাকার বালায় জানতে আগেই; জানতে না?
হুস থাকে যার বেহুস হওয়ার সম্ভাবনা কেবল তার,
মানতে তুমি; মানতে না?
বোদ্ধা তোমার বোধের মধ্যে গলদ কোথায় তাই খোঁজো
তোমার মতের বিরুদ্ধে ঝড় উঠলে কেনো মুখ গোঁজো?
মরুভূমির উটপাখি হও; বলবে তোমার নিয়ত কি,
বোধের আলোয় পথ না পাওয়ার ভাববে না কৈফিয়ৎ কি?

তবু মানুষ কেনো যে ভুলে যায় / সাইফ আলি

এই ঝড় এই বৃষ্টির কোনো চোখ নেই
এই রাত এই জোছনার কোনো হাত নেই
চাঁদ তারা ভরা আকাশের বুক শূন্য
আহা! মানুষের আছে চোখ আর আছে স্বপ্ন
আছে হাতে হাত রেখে দাঁড়ানোর ঐষর্য্য
আছে বুকের গভীরে মমতার সৌন্দর্য।

তবু মানুষ কেনো যে ভুলে যায় তার পরিচয়
মানুষ কেনো যে প্রেমে ও মিলনে নষ্ট শিল্পে মাতে
ভেবে ডাকি- আয় ঝড়, লন্ডভন্ডে মেতে ওঠ;
আয় রাত আয়, এসে ছেয়ে যা আর
জোছনার কাছে সপি মন।
ভাবি আকাশের মতো শূন্যতা এনে ভরি এই মিছে জনপদ।

কৃষক / সাইফ আলি

মন্ত্রমুগ্ধ আমি পাঠ করি তোমার কবিতা
ওগো কবি, তোমার কপাল চুয়ে নেমে আসে কবিতার ঘাম
তোমার পেশিতে খেলে যাদু
মাঠে মাঠে কবিতার বীজ দাও বুনে
সবুজের অঙ্কুরে আগামীর স্বপ্ন দেখাও
তোমার দু’হাত ভরে সোনার কবিতা হাসে
তুমি তাতে গোলা ভরো; আহা!

আমরা কবিতা পড়ি, মুখে মুখে আওড়াই
তুমি করো চাষ!
তোমার কবিতা শুনে, দেখে, খেয়ে, মেখে বারমাস
আমরা গুজোবে মাতি- কবিতা হলোনা আর
বৃথা গেলো জীবন গোটাই!

এই কবিতা / সাইফ আলি

এই কবিতার কণ্ঠ চাপুন কঠোর হাতে
এই কবিতার কারখানাতে আগুন জ্বালান
এই কবিতা বিষ্ফোরণে আগুন জ্বলে
এই কবিতা বসত বাধে বুকের ভীতর অতল তলে।

এই কবিতা বক্তৃতা দেয় মঞ্চে উঠে
বেফাঁস কথা ফাঁস কোরে দেয় যখন তখন
এই কবিতা মন বোঝে না এ সরকারের
হর-হামেশা নানান ছুতোয় মগজ কলে
আগুন লাগায়!
এই কবিতা ঘুমিয়ে থাকা বিবেক জাগায়।

এই কবিতার কণ্ঠ চাপুন কঠোর হাতে
আর না হলে গুম করে দেন মধ্য রাতে
ক্রসফায়ারের চিপায় শালার ঝাঝরা কোরে
বলুন, ‘বেটা ডাকাত ছিলো’ গায়ের জোরে।

কিন্তু বাবু খুব সাবধান পিছলে গেলে
দিতেও পারে মগজ কলে আগুন জ্বেলে।