সুখী মানুষ / সাইফ আলি

সুখী কাগজের ভূমিকায় তুমি নানা রঙে ওঠো সেজে,
মৃদু বাতাসেই কণ্ঠ তোমার নানা সুরে ওঠে বেজে।
সুখী মানুষের তকমাটা তবু কপালে জুটলো না;
আহা! বসন্ত ফুটবে ফুটবে কিছুই ফুটলো না।।

সুখী মানুষের দশ তলা বাড়ি, এসি গাড়ি নাকি থাকে
কোলের ভেতরে জাপটিয়ে নাকি টাকার বালিশটাকে
তারা ঘুমোয়; তাদের ঘুম হয়!? সেকি জেগেই উঠলো; না!?
আহা! বসন্ত ফুটবে ফুটবে কিছুই ফুটলো না-

সুখী মনুষের ডাইনিং জোড়া বাহারি খাবার ঢাকা
তার পাশে ওটা ওষুধের ঝুড়ি যত্নেই আছে রাখা
প্রেসক্রিপশান খুলে খেতে বসে; এটা নয়, ওটা মানা;
দুটো রুটি ছাড়া জুটবে না কিছু আগে কি ছিলো না জানা?
তড়িঘড়ি করে এরপর সে কি অফিসে ছুটলো; না!?
আহা! বসন্ত ফুটবে ফুটবে কিছুই ফুটলো না।।

Advertisements

আভা / সাইফ আলি

বিকেলের ঝুলে পড়া আভা
লেগে ছিলো পাতাটার গায়
গভীর অন্ধকার রাতে
যখন সে মেলেছিলো নিজেকে হলুদ জোছনায়।

হাত দিয়ে ঐ চোখ ঢেকো না / সাইফ আলি

হাত দিয়ে ঐ চোখ ঢেকো না
জোছনা এসে দাঁড়ায় যাবে,
হিসেব নিকেষ শেষ হবে না
অন্ধকারে হারায় যাবে।

অন্ধ হওয়ার ভান করো না
স্বপ্ন দেখার মিটবে খায়েস,
জীবন কি আর দুধের বাটি
কিংবা দুধেল মিষ্টি পায়েস?

অভিজ্ঞতার তিক্ততা তো
আমলকি ফল খানিক বাদে,
মিষ্টি অনেক স্মৃতির পাতা
আপনি যেচে জড়ায় ফাঁদে।

হতাশ হওয়ার কারখানাতে
সকাল সন্ধ্যা শ্রম দিও না,
সত্যটাকে সঙ্গি করো
দুচোখ ভরে ভ্রম নিও না।

নিজেকে জাগাও / সাইফ আলি

যা কিছু তোমার নয় তার পিছে ছুটে
কি পেয়েছো মন বলো, বৃথাই পাগল
ছুটেছো নেশার ঘোরে; শুধু লুটেপুটে
খেয়েছে জীবনতরু কালের ছাগল।

যা কিছু তোমার নয় দৃষ্টি রেখে তার
ইলিশ পেটের ’পরে নিচ থেকে নিচে
নিজেকে ছুড়েছো তুমি, অপ্রাপ্তি আঁধার
তোমাকে করেছে গ্রাস, লাভের পিরিচে

আলোর আহার নেই, হতাশার মেঘে
ছেয়ে গেছে আকাশের উদার জমিন;
এবার থামতে পারো, নিজগুণে জেগে
প্রমাণ করতে পারো- তুমিও স্বাধীন।
যা কিছু তোমার তাতে তালাশ লাগাও;
নিজেকে জাগাও মন, নিজেকে জাগাও।

ভিত / সাইফ আলি

:কে তুমি?
স্বঘোষিত রাষ্ট্রদ্রোহী; হাসছো!?
মুখে লাগাম দাও, না হলে ঐ মুখ
নিজেকে দেখে চমকে উঠতে বাধ্য হবে।
তোমার করুণ পরিণতির কথা চিন্তা করো,
কাঁদো, ক্ষমা চাও, পরাজিত সৈনিকের মতো
দু’হাত উপরে তুলে দাঁড়িয়ে যাও
সাধারণের কাতারে…

কি যেনো বলছিলে বেয়াদব?
তুমি এই মরা খালে জোয়ার আনতে চাও!?
চেয়ে দেখো, শুকনো মাটি আর মৃত্যু ছাড়া
আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এখানে।

তুমি তো এমন এক অলিক স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছো
যে স্বপ্ন শুধু তোমারই রাতের ঘুম হারাম করেছে,
তুমি তো এমন এক মরীচিকার মায়ায় ভুলেছো
সে শুধু তোমাকে মরূভূমির তপ্ত বালিয়াড়ি ছাড়া
আর কিছুই দিতে পারবে না।
অনুতপ্ত হও, নতজানু হও নালায়েক…

:জনাব, শান্ত হোন; আমি তো এমন কোনো শক্তি নই যে
আপনি বিচলিত হয়ে পড়বেন!
তবে, আমার জানামতে; অত্যাচারি শাসকের কোনো ভিত থাকে না…

সমান মৃত্যু / সাইফ আলি

কেবল চাঁদের মিথ্যে মায়ায় চকোর হয়েছি এমনটা নয়
কেবল ফুলের কোমল শরীর হাতড়ে ফিরেছি এমনটা নয়
একটা রাতের নিকষ আঁধার জমিয়ে বুকের মধ্যখানে
চাঁদকে বলেছি এ নীড় তোমার আপন ভেবেই জোছনা ছড়াও
ফুলকে বলেছি এ শূন্যতায় পূর্ণতা দেবে তোমার সুবাস।

শুকনো পাতার মর্মরতায় বনের যে পথ মুখোর হলো
সে পথ ধরে কেবল শুধুই খুঁজিনি ঝরার স্বার্থকতা
মাটির সঙ্গে সন্ধি করেছি আবার নতুন বীজ বপনের
বনের নিখুঁত স্বচ্ছলতায় খুঁজেছি নিবীড় কাব্যকথা।

কেবল নদীর স্রোতের মায়ায় ফসলডুবির মর্ম ভুলিনি
দু’ধার জুড়ে সবুজ ঘাসের চাদর মাড়িয়ে বুঝতে চেয়েছি,
এক জীবনের অহংকারের পাড় ভেঙে সে কি সুখ পেলো
নতুন পলির নরম কাদায় স্বপ্নগুলোকে খুঁজতে চেয়েছি।

কেবল জীবনে জীবন আনে না মর্ম কোনো
সমান মৃত্যু মেনে নিতে হয়, এটাই ধর্ম এখানে এখনো।

আত্মার কথা/ সাইফ আলি

আবার নতুন করে লেখা হোক ইতিহাস
চাপা পড়া সত্যের ধুলোজমা পিঠ লোকে আবার দেখুক
অন্ধের চোখ ফের দৃষ্টির ঘ্রাণ পাক
আত্মার কথা কবি আবার লেখুক।

দরজাটা খুলে যাক
জনালাটা খুলে যাক
আজানের সুরে সুরে জেগে যাক মানবতা
সুবহে সাদিক লোকে আবার দেখুক…

আবার নতুন করে লেখা হোক ইতিহাস
আত্মার কথা কবি আবার লেখুক।

এই কবিতা নতুন দিনের গানা-০৪ / সাইফ আলি

(ধারাবাহিক কবিতা)

পাচ তারকা সাত তারকায় তোমার যাতায়াত
সকাল বিকাল গুণীজনের রাখছো মাথায় হাত
গুণী-মুণি-মুন্সি ওরা অসারণ বটে
সাধারণের ভাগ্যে কি আর ওসব কিছু ঘটে!
সাধারণের ভাতের হাড়ি ডাল-খিচুড়ি পাকায়
ঘ্যাচর ঘ্যাচর শব্দ-দূষণ ব্যর্থ জীবন-চাকায়-
পাচতারকার বাইজি ছাড়া ডাকবো তোমায় কি
ওটাই তোমার মূল পরিচয় নয় কি নেতাজি?

বেগুন গাছের দুইটি পাতা, টুনটুনি তার ফাঁকে
শুনতে তুমি পাওনা এখন কেমন করে ডাকে
সাপের মতো ইদুরঘরে করছো বসবাস
টাকার সাথে, নামের সাথে তোমার সহবাস-
কিন্তু ওসব থাকবে কাছে গ্যারান্টি কার্ড আছে?
উড়াল দেওয়া খাঁচার পাখি ঘেষবে খাঁচার কাছে?

নতুন দিনের ইসতেহারে কি গান ছিলো লেখা
একটু যদি সময় মেলে উচিত তোমার দেখা
তা না হলে এসব কথা বাধতে পারেই দানা
এই কবিতা আর কিছু না নতুন দিনের গানা

এই কবিতা নতুন দিনের গানা- ০৩ / সাইফ আলি

(ধারাবাহিক কবিতা)

দেখুন জনাব লাট-সাহেবের নাতি
দোষের কথা উঠলে দোষী জাতি
কিন্তু যদি গুণের কথা বলেন
আম্রিকা মেড তৈলে গতর ডলেন;
এদেশ নাকি দুর্নীতিতে সেরা
এদেশ নাকি কুলাঙ্গারের ডেরা
আপনি তবে চোরের ঘরের নাতি
ক্যামনে দেখান সাধুর তেলেসমাতি!

ঘিঞ্জি এদেশ বস্তি বলাই ভালো
সে বস্তিতে দালান তুলেই থাকেন,
হাজার রকম সমস্যাতে তবু
বছর ব্যপি অমুক-তমুক হাকেন
অর্থ-কড়ি খুব প্রয়োজন হলে
বউরে পাঠান অন্যজনের কোলে;
এটাই নাকি তাল মিলিয়ে চলা
এটাই নাকি মডার্ন হওয়ার কলা!

বলছি শোনো লাট-সাহেবের জামাই
অল্প হলেও হালাল যাদের কামাই
সেই কৃষক-শ্রমিক-মজুর-মুটের ঘরে
যে সুখ আছে সে সুখ তুমি আম্রিকাতে খুঁজো,
সোজা হয়ে শোয়ার আয়েশ পাই কখনো কুঁজো?

এই কবিতা নতুন দিনের গানা- ০২ / সাইফ আলি

(ধারাবাহিক কবিতা)

মেহেরবানি করুন জনাব, একটুখানি শুনুন
দু’দিন ধরে জ্বলছে না যেই উনুন
সেই উনুনের নীরব শীতলতা
লাগতে পারে হয়তো প্রগলভতা
কিন্তু যদি সত্যি ওঠে জ্বলে
এই কবিতা বাধতে পারে দানা-

মুট-মুজুরি করছে যারা মুটে
এদিক সেদিক খাচ্ছে খুটে খুটে
রিকশা-ভ্যানে কঠিন জীবন চাকা
ঘুরছে যাদের, তাদের যদি লুটে
শান্তি খোঁজেন; শান্তি কি আর মোয়া?
ভাবতে পারেন কিন্তু মোটেই তা না।

এই যে যারা রেল লাইনের ধারে
বস্তিঘরে হাতড়ে ফেরে আশা,
ফুটপথে যে শিশুর বেড়ে ওঠা
তাদের কি আর শিখিয়ে দেয়া লাগে
কোনটা ঘৃণা- কোনটা ভালোবাসা!

শুনুন জনাব, জীবন থেকেই নেয়া
ঝড়ের মুখে তীর খোঁজে সব খেয়া।