প্রচ্ছদ: এই কবিতা পাখির জন্য লেখা / সাইফ আলি

এই-কবিতা-পাখির-জন্য-লেখা

Advertisements

আকাশ তোকে বললো কিছু / সাইফ আলি

সেলাই করা বুকের কাপড় ফেড়ে
বনের পাখি মেললি ভিষণ ডানা
ওড়ার সুখে আনন্দে আটখানা!
আকাশ তোকে বললো কিছু নীলচে আচল নেড়ে?
নাকি কেবল শুধু-
মিথ্যে মেঘের চতুর আনাগোনায়
ভুললি কোমল বুকের এ আর্দ্রতা?

প্রেরণা / সাইফ আলি

এমন কি কবিতার ছবক
আচলের গিট খুলে দিয়েছিলে পায়রার ঝাকে
একসাথে ডানা মেলে উড়ে গেলো
কিছুতেই ফেরানো গেলোনা-

তবুও নিছক সখে / সাইফ আলি

তোমারও চোখের দিকে
তাকিয়ে বলবে এ রাত
কি ভারে আলোর জোনাক
নিভে যায় অন্ধকারে-
বলবে, সকল তারা
দেয়না এক ইশারা;
তাতে কিছু ভিন্ন রকম
জ্যামিতিক গল্প থাকে।

কবিতার চাষ করে যে
সে বোঝে রূপক তোমায়
তবুও নিছক সখে
হেরে যায় তোমার কাছে-

বুঝে নাও এক জীবনের
সাবলিল সকল ভাষা,
বুঝে নাও প্রেম ও সুখে
সৌখিন পান্তা ইলিশ;
তবুও দেখবে কিছু
পাখিরা ঝাপটে ডানা
ভাঙবে মধ্যরাতের
রচিত নিষেধ-মানা।

হয়তো বলবে তুমি
ভুলেছি বাস্তবতা,
মজেছি নষ্ট প্রেমে;
কবিতার আদিখ্যেতা-
সে আমার দুঃখ এবং
অনাবিল সুখের খাতা।

হৃদয় মানেনি তাকে / সাইফ আলি

হৃদয় মানেনি তাকে
তাই আজ বিদ্রোহী চোখ
মুখ নোখ
বিদ্রোহী হাত,
হৃদয় মানেনি তাকে
তাই আজ উড়ু উড়ু পক্ষির জাত।

কেউ কেউ মেনেছিলো-
ক্ষুধার্ত পেট
কাঙাল দু’চোখ
নির্বোধ হাত আর পা
মস্তিষ্কের কিছু লোভী চেতনা।

কিন্তু হৃদয় শুধু বেয়াড়া বালক
হঠাৎ হঠাৎ বসে বেঁকে,
ক্রমেই সে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে যেই
বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সমগ্র কোষ।

জানলে না শুধু / সাইফ আলি

তুমি দেখেছিলে কিভাবে একটা তারা
জ্বলতে জ্বলতে নিষ্প্রভ হয়ে যায়,
কিভাবে আহত পাখিটা হঠাৎমাটিতে পড়লো শুয়ে
কিন্তু দেখনি কিভাবে কৃষক ঘাম ছুড়ে ফেলে নরম মাটিতে
জীবনের বীজ রুয়ে।

তুমি দেখেছিলে ছত্রভঙ্গ মিছিলের ছুটোছুটি
কিন্তু দেখনি আহত গোলাব বুলেটে-বারুদে মাখামাখি করে
কিভাবে মাতায় কালো পিচঢালা পথ
আর খুন সেই গোলাবের বুক চুয়ে
কিভাবে রাঙায় আগামীর ফেস্টুন।

তুমি দেখেছিলে শীতের কাঁপন
পাতাদের ঝরে যাওয়া,
দেখলে না শুধু এই বসন্ত; শুকনো বাকলে
সবুজ আগামী ডাকে,
জানলে না শুধু প্রতিটি বিজয়
কোন রঙ ঢেলে আঁকে!

অদ্ভুত কথাগুলো তোর / সাইফ আলি

অদ্ভুত কথাগুলো তোর
শান্তির কপোতেরা পতপত উড়ে যাবে
শাদাশিদে বুকের ভিতর
আর কিছু স্বপ্নের অনুদানে বড় হবে
আমাদের তকতকে আশার চারাটা!

তোর চোখে বোকা বোকা চাহনির ভীড়ে
স্বাধীন যে পাখিগুলো ডানা ঝাপটাতো
তাদের প্রতিটা নীড়ে
নতুন ছায়ের কিচিরমিচির ডাক
আমাদের মুগ্ধতা গিলে খায়;
অদুভুত চোখ তোর, নীলাকাশ,
ঝাওবন, কখনো নদীর মতো চঞ্চল জলাধার!

এতোসব শীতল ফোয়ারা বুকের মধ্যে পুষে
কি এমন স্বপ্নের তাড়া খেয়ে তুই,
গরম রক্ত ঢেলে পিচ্ছিল করে দিলি বল
আমাদের লুণ্ঠিত কবিতার ভুঁই!

কথাদের পেছনেও কথার বসতভিটে থাকে / সাইফ আলি

কথাদের পেছনেও কথার বসতভিটে থাকে
দৃষ্টির ঘোলাজলে যেমন বসত করে অসংখ্য জলজ আকুতি
পাখিদের নীড়ে ফেরা এমন কি কবিতার খোরাক বলোতো
তার চেয়ে ঢের বেশি কবিতারা বাস করে না বলা কথায়
তার চেয়ে ঢের বেশি গল্পের পটভূমি খুঁজে পাবে চোখের চাওয়ায়…

এমন অনেক কথা আছে-
মুখ বলে- না না; চোখ বলে- বুঝলে না? তুমি কি অবুঝ…

কখনো আকাশ যদি কেঁদে ওঠে তবে
তুমি কোন কান দিয়ে শোনো,
নদীর বহন করা পাললিক ব্যথাগুলো কে তোমাকে শোনাবে বলোতো…
পাখির কণ্ঠ থেকে বের হওয়া শব্দের সমাধান কে দিয়েছে কবে?
খাঁচার রঙিন টিয়ে রংহীন যে জীবন যাপন করেছে তার ব্যথা,
ময়নার মুখস্থ বুলির অন্তরালে লুকানো যে কথা,
জানালার বাইরে যে কাকের বিকট স্বর শুনে তুমি বিকৃত মুখে
বলছো- আজব এই কাকেদের যন্ত্রনা কার ভালো লাগে?
অথচ সে শব্দের অর্থটা যদি
কোনোদিন বুঝতে হে অবুঝ মানুষ…
পাখিদের পৃথিবীতে থাকতো না খাঁচার অসুখ,
নগরের মুখ দেখে বসতো না কাকেদের সমাবেশ কোনো;
নদীদের গতিপথে জমতো না কৃত্রিম বাঁধ…

কথাদের পেছনেও কথার বসতভিটে থাকে
দৃষ্টির ঘোলাজলে বাস করে মনের কথারা…

কবিতা শুনতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন…

তারার পতন হলে / সাইফ আলি

মাত্রই যে তারার পতন হলো
আগামীকালের পত্রিকায় তাকে নিয়ে লেখা হতে পারে
বেশকিছু তরতাজা নতুন কবিতা…
অথবা গল্প এক ‘তারার পতন’।
একুশের বইমেলায় তাকে নিয়ে মিলতে পারে গোটা দুই ঝাঁঝালো উপন্যাস।
এছাড়াও সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল-মিটিং অথবা প্রেসক্লাব পাড়ায় বুদ্ধিজীবী মহলের নিরিহ মানববন্ধন!!
তবে যাই হোক তারাটির আর কোনো উদয় হবে না।

আজকাল এরকমই হয়, কবিরা কবিতা লেখে কবি হতে চায়,
আর যারা বুদ্ধিজীবী দাবি করে নিজেদের তারা সব পেশাজীবী ভাড়াটে পুতুল…
তারা চায় মানুষেরা হাততালি দিক,
চোখগুলো গোল করে বলুক- সাবাস, তারকার কোল থেকে খসে পড়া এরা সব তারকাই হবে!!

আশার বিষয় হলো, তারার পতন হলে আরো বেশি তারাদের আনাগোনা বাড়ছে এখানে;
যদিও এসব নিয়ে টকশোতে আলাপ জমে না-

মরে মরে যারা বাঁচতে শিখেছে / সাইফ আলি

মরে মরে যারা বাঁচতে শিখেছে তাদের কিসের ভয়?
তারাতো নিরবে দলে যেতে পারে সব বাধা সংশয়।
যারা কারাভোগে বীরের তৃপ্তি পায়
যারা ঠিক ঠিক চিনে নিতে পারে ন্যায় আর অন্যায়
তাদের জন্য কাটার এ পথ কঠিন কিছুতো নয়-
মরে মরে যারা বাঁচতে শিখেছে তাদের কিসের ভয়?

যে মন পেয়েছে মধ্যরাতের গোপন মিরাজে সুখ
যে চোখ খুঁজেছে আলো-আঁধারের মালিকের আশ্রয়
যে হাত কেঁপেছে বুকের দমকে তাহাজ্জুদের পর
যে জন দেখেছে প্রার্থনারত নতুন সূর্যদয়
তার কিসে আর মোহ থাকে বলো
তার কি সে থাকে লোভ…
সত্যের পথে চলে অবিরাম তার চির বিক্ষোভ…।
যে মাথা নুয়েছে সেজদায় সে কি জালিমের করে ভয়?
বুলেটে বারুদে মিশে যাবে তবু মাথা নুয়াবার নয়।