পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল / সাইফ আলি

পাখির প্রেমে পড়িসনে ফুল
তোর তো দুটো ডানা নেই,
গহীন বনে তার বিচরণ
সে খবর কি জানা নেই?

রূপের জালে আটকে যাওয়ার
গল্পটা ঠিক পাখির না,
গল্প পাখির প্রেম বিষয়ক
কিংবা মাখামাখির না।

এক ডালে তার মন বসে না
শুনছি নদীর কূলেও যায়,
অনেক সময় উড়াল দিয়ে
ঘরের কথা ভুলেও যায়।

সাবধান তাই পাখির প্রেমে
মোটেও যেনো পড়িসনে,
ফুটেই মহা ভুল করেছিস
আরেকটা ভুল করিসনে।

২৮/০৮/২২

পাখিরা কথা কয় / সাইফ আলি

পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়
পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়ে
শিকারী গুলি ছোড়ে পাখির লাশ পড়ে,
পাখির লাশ পড়ে, পাখির লাশ পড়ে…
হঠাৎ একদিন পাথর কথা কয়,
পাখিরা চুপ থাকে পাথর কথা কয়!

সবাই বিস্ময়ে লাশের চারপাশে সেদিন জড়ো হয়,
কিভাবে চুপ থাকে পাখিরা আর সব
পাথর কথা কয়!?

পাথর চুপ থাকে পাখিরা কথা কয়
পাখিরা কথা কয় শিকারী গুলি ছোড়ে…

২১/০৮/২২

এলোমেলো মেঘ ওড়ো / সাইফ আলি

এলোমেলো মেঘ ওড়ো
যেদিকে ইচ্ছে যাও
তোমার তো নেই মানা;
আকাশ তোমার বাড়ি।

আমিও তোমার মতো
যদি পারতাম উড়ে যেতে;
যদি পিছু না ডাকতো আমার
এই শূন্য ভাতের হাঁড়ি!

২০/০৮/২২

কেনো সে দিলো ফাঁকি / সাইফ আলি

মাটির ঘর ছেড়ে তুমিও বের হও আবার ঘরে ফেরো
ফেরার কথা ছিলো সেদিন ঘর ছাড়া সুবোধ বালকেরও;
শালিক তুমি এই পদ্মা বালুচরে কি সুখে বাস করো
হঠাৎ ঢেউ ভাঙে তোমার ঘরদোর তবু বিশ্বাস করো
যে নদী ঢেউ বুকে তুমুল বিত্তের বইছে সারাবেলা
মানতে হবে তার আঘাত কিছু কিছু, কিছুটা অবহেলা?
অথচ মা’র মন কেমন দেখো দেখি, কিছুই মানছে না;
নদীর স্রোত কেনো বুকের ধনটাকে ফিরিয়ে আনছে না!
কোথায় গেলো ছেলে, লুকোলো কোন বনে, শালিক জানো নাকি;
মাটির ঘরে ফের আসবে ফিরে বলে কেনো সে দিলো ফাঁকি?

২০/০৮/২২

দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত

শিউলি / সাইফ আলি

শিউলির ঘ্রাণে ‍মুগ্ধ সকাল
শিউলি পায়ের তলে,
শিউলিরা ফোটে ঝরার জন্য
বিষিয়ে জীবন-জলে।

গ্রামের শিউলি শহর সফরে
জোগাড় করতে রুটি,
নিস্ব হয়েছে ভেতরে বাইরে
ভুলে গেছে খুনসুটি।

সেলাই শিউলি জীবিকার কাছে
বিকিয়ে সকল ইচ্ছে,
সকাল বিকাল জননী তোমার
দু’হাতে যত্ন নিচ্ছে।

মেয়ে নাকি দাসী? কোন পরিচয়
প্রাপ্য, কোনটা দিচ্ছো?
কতো শিউলির স্বপ্নে তোমার
নিজেকে মিলিয়ে নিচ্ছ?

স্বদেশ জননী, এ দায় তোমার,
তোমার দুচোখে ঘুম নেই;
তোমার কণ্যা শিউলির ঠোঁটে
আজো প্রেমিকের চুম নেই।

১৩.০২.২২

যে আঁধার লুকিয়ে বেড়ায় / সাইফ আলি

যে আঁধার লুকিয়ে বেড়ায় দিনের আলোয়
তার কপালে রাত এনে দেয় বিষণ্নতা
যে জলের অন্তরালে রুক্ষতারা ভেজায় শরীর
সে কবে বুঝতে পারে নিজের মায়া।

আয়না কবে মুখ দেখেছে নিজের বুকে
বাতাস কবে নিজের সুখে মেললো ডানা
দিগন্তে যে চিল উড়েছে তার চোখে কি
মূল্য রাখে কাটাতারের ছেদ সীমানা?

আগুন পোড়ে আগুন পোড়ায় আগুন বাঁচে
ঠান্ডা জলে ভিজতে কি তার সুখের মরণ;
নিজকে তুমি পর ভেবেছো নিজের মতো,
ঝর্ণা কি আর পাহাড়পুরের রক্তক্ষরণ?

এ আঁধাার বড় কঠিন আঁধার / সাইফ আলি

দুফোটা রক্তে তৃষ্ণা মেটেনি যার
তার হাতে দাও পূর্ণ পেয়ালা
আরও তৃষ্ণা ডাকবে বান
ব্লাকহোল তার হৃদয় কখনো ভরবে না প্রিয়তম
এ আঁধাার বড় কঠিন আঁধার মৃত্যুর প্রতিসম…

একটু বাতাস এবং একটু বাতাস চাই / সাইফ আলি

একটু বাতাস এবং একটু বাতাস চাই
একটু আকাশ এবং একটু আকাশ
একটুখানি মাটির পরশ চাই আমার
একটুখানি আগুন এবং পানির ছল।

পথিক শুনছো? / সাইফ আলি

তুমি কি ফিরেছো? নাকি তুমি আর
ফিরবেনা বলে গুটিয়েছো মেঘ;
পথিক দাঁড়াও; এভাবে পথের সীমানা টেনোনা-
শুনছো?
তুমিকি এখনো ফেলে আসা ছাপ
যাপিত দ্বিধায় গুনছো?

মেঘেরা কখনো পতিত বৃষ্টি মাপেনা
যে পথিকচোখ খুঁজেছে আকাশ
সামান্য ঝড়ে কাপেনা।

তুমি কি ভাবছো?
এভাবে রাততে নিরাশ করোনা;
হতাশ করোনা চাঁদকে-
দু’হাতে ঠেলোনা স্বপ্ন এবং জোছনার অনূবাদকে।

আকাশ তোকে বললো কিছু / সাইফ আলি

সেলাই করা বুকের কাপড় ফেড়ে
বনের পাখি মেললি ভিষণ ডানা
ওড়ার সুখে আনন্দে আটখানা!
আকাশ তোকে বললো কিছু নীলচে আচল নেড়ে?
নাকি কেবল শুধু-
মিথ্যে মেঘের চতুর আনাগোনায়
ভুললি কোমল বুকের এ আর্দ্রতা?