মধ্যরাতের হাওয়ায় / সাইফ আলি

‘মধ্যরাতের হাওয়ায় কেমন গন্ধ থাকে’
বললে তুমি অবাক চোখে তাকাও
কারণ তোমার জানলা তখন বন্ধ থাকে
মধ্য রাতের হাওয়ায় কিছু ছন্দ থাকে।

তা না হলে এই যে আমি রাত্রি জেগে
কাব্য লেখার নেশায় এমন বুদ হয়ে যাই,
দিনের বেলা যে রাস্তাটা বন্ধ থাকে
সে রাস্তাতেই জোছনা নামে দারুণ মায়ায়!

মধ্যরাতের হাওয়ায় কিছু দ্বন্দ্ব থাকে
খুঁজলে তাতে ছন্দ থাকে, গন্ধ থাকে।
২৭.০১.২১

প্রয়োজন মিটে গেলে বলে দিও / সাইফ আলি

প্রিয়
প্রয়োজন মিটে গেলে বলে দিও
ঝরা পাতা হবো, বহুকাল পুরোনো এ শখ
আর এই কথা জেনে রাখা তোমাদের হক।

প্রয়োজন মিটে গেলে কানে কানে ফিসফিসে স্বরে
বলে দিও- ‘আসতে পারেন’ ছোটো করে- ‘এসো’।
বহুদিন যাইনি কোথাও,
বেড়ানোর ছলে
কৌশলে সরে যাবো, জানবে না কেউ;
স্বপ্নেও আসবো না কারো
আর যদি পারো
আকারে বা ইশারায়; সবচেয়ে ভালো হয় সেই
এর থেকে সাবলিল আর কোনো বিচ্ছেদ নেই।
প্রিয়
প্রয়োজন মিটে গেলে আত্মাও রাখে না এ দেহ
তাই বলে দিও
আমি জানি, তোমাদের ভালোবাসা, স্নেহ
কোনোদিন ফুরোবে না, কমবে না একচুল মাপে;
কেবল পচন ধরে সময়ের উত্তাপে, ভাপে।
২৭.০১.২১

যখন আমার সঙ্গে চলো / সাইফ আলি

তোমার আমার গল্পগুলো কেউ না পড়ুক কি আসে যায়
কি আসে যায় সবুজ শাখায় একটু ঝড়ো দমকা হাওয়ায়
জোছনা এবং তারার আলোয় পথ চলে আর কজন বলো
স্রোতের মতো সব বয়ে যায় যখন আমার সঙ্গে চলো।
১৮.০৮.২০

বিষণ্ণ এই দিনকে কেবল তোমার জন্য বদলে দিই / সাইফ আলি

‘বিষণ্ণ এই দিনকে কেবল তোমার জন্য বদলে দিই
জান-মাল দিয়ে মাগফিরাতের চাদর শরীরে জড়িয়ে নিই,
মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে নই তোমার খুশিতে বাঁচতে চাই
শহীদি মৃত্যু জোটে যদি তবে তোমার করুণা দাও আমায়।

তোমার জন্য আমার নামাজ, আমার সাওম, আমার হাজ্জ্ব
তোমার কাছেই নিরব কান্না, তোমারই জন্য তুলি আওয়াজ,
রোগে-শোকে খুঁজি তোমার করুণা, তোমার ওয়াদা মিথ্যে নয়
তবে আর কিসে বিচলিত হবো, তুমি যদি দাও পাবো বিজয়।’

‘‘মহামারী আনে শহীদি মৃত্যু! ভয় কি মুমিন তোমার রব
যদি ডেকে নেন সে সৌভাগ্য লুফে নিতে ছেড়ে দিতে এ সব
প্রস্তুত থেকে মানুষের পাশে নিঃসঙ্কোচে দাঁড়াবো আজ;
‘তোমার খুশিতে কুরবান হতে প্রস্তুত আমি।’- তুলি আওয়াজ।’’

২৪.০৩.২০

কিভাবে কোথায় আমি দাঁড়াবো তখন / সাইফ আলি

এইসব ভাঙাচুরো চেয়ার-টেবিল, বই-খাতা, আলনা কিংবা ড্রেসিং-টেবিল যা আমরা ঘর থেকে বের করে দিলাম-
একদিন সেগুলোও সযত্নে গোছাতেন কেউ।
আমিও এমন এক ভাঙাচুরো জড় হয়ে থাকবো না তোমাদের ঘরে
আমাকেও ঘুনে খাবে, উইপোকা পাঁজরের হাড়ে
বসাবে কামড়।

গিবতের দায় নিয়ে, বেড়ে যাওয়া নাক নিয়ে
কিভাবে কোথায় আমি দাঁড়াবো তখন?

০২.০৮.১৯

কবি ও কবিতা / সাইফ আলি

আমার সঙ্গে কিছু শব্দের মেলামেশা ছিলো
যখন তখন তারা ঢুকে যেতো মনের গভীরে
এ বিষয়ে অভিযোগ সবথেকে বেশি ছিলো যার
সে আমার প্রিয়তমা চেয়েছিলো পুরো অধিকার।

অথচ কবির মন ফেড়ে কবে কোন ডাক্তার
পেয়েছে কেবল নারী, গাড়ি, বাড়ি আর সংসার?
শব্দের আনাগোনা কবির শ্বাসের মতো,
প্রিয়তমা সেও এক রূপ কবিতার।

০৪.১০.১৯

আবোল তাবোল / সাইফ আলি

তোমায় যখন খুঁজছি আমি বুকের কাছে বাহুর কারাগারে
তুমি তখন অন্য কোথাও, অন্য কারো দিন যাপনের ঘর
ভাবছি আমি জরিন সুতায় সলমা আঁকা তোমার বিকেল
এবং সকল সন্ধ্যাতারার আলাপরাশি তোমার সাথে…

খুব বেশি কি স্বপ্ন দেখার রাত পেয়েছো আমার মতো
এইযে এখন বারান্দাতে দোল চেয়ারে যেমন আমি 
আমার হাতে কাব্য আছে, চশমা ছুঁয়ে জোসনা নামে!
অনুভুতির চেরাগ জ্বেলে ভাবছি বসে- তোমার হাতে 
আমার লেখা নতুন বইয়ের একটা কপি, পৃষ্ঠা খোলো;
পাতায় পাতায় এই আনাড়ির ফালতু প্রেমের গল্পগুলো
কেমন হলো?

আচ্ছা, তুমি একাই নাকি অন্য কারো বুকের কাছে 
ঠেকিয়ে মাথা বলছো- এসব 
আবোল তাবোল পড়তে আমার ভাল্লাগে না?
তবুও তুমি নতুন বইয়ের সন্ধানে যাও বইমেলাতে
আমার লেখা একটা প্রেমের কাব্য নিয়ে বাসায় ফেরো।

10.02.19

আমি এই রাতের শরীর / সাইফ আলি

গলিত চাঁদের পাশে ধ্যানমগ্ন বৃক্ষের ছায়া,
শব্দের তার ধরে গাঁটছাড়া রাতের পেয়াদা;
আমাকে পোড়ায় তারা অগণিত সারাক্ষণ-
আমি এই রাতের শরীর 
আমি এই মুগ্ধতা বুকে লেপে নিশ্চুপ জেগে থাকা নিঃসঙ্গ রাতের শরীর।

আমাকে ছুঁয়োনা প্রিয়তমা
নির্ঘাত প্রেমে পড়ে যাবে,
নীলাভ শূন্যতায় নিজেকে খোয়াবে।

04.12.18

অন্য কোথাও একা / সাইফ আলি

এই শহরে লক্ষ কোটি মানুষ
সবাই বাঁচে নিজের মতো করে,
হয়তো আমিই পরজীবি এক প্রাণী
টানতে থাকি তোমার সুতো ধরে।

নিজেই নিজের হাত ধরে যে হাঁটে
তার মতো নয় আমার ফিলোছফি,
জীবন কি আর দেয়াল পলেস্তারা
কিংবা কেবল চা চিনি আর কফি?

ভাবতে পারো এই শহরে আমি
বিষণ্ণ এক গাছের নিচে বসে,
এবং তুমি অন্য কোথাও একা
দিনযাপনের অঙ্ক মিলাও কষে।

19.11.18

আর কতদূর রাত্রি নামার / সাইফ আলি

বেশতো আমি যাচ্ছি হেঁটে
আমার সাথে তোমার ছায়া,
হাত বাড়ালেই গল্প হবে
অল্প কিছু বাড়বে মায়া।

বেশতো তুমি হাসতে জানো
হাসতে জানে তোমার কথা,
কেমন দেখো যাচ্ছে ডুবে
সন্ধ্যাবেলার বিষণ্নতা!

আমার ছায়া তোমার আগে
তাই কি তুমি হাঁটছো জোরে,
এ নাও আমি দাঁড়িয়ে গেলাম
হারিয়ে গেলাম তোমার ঘোরে।

এখন তুমি আঁকতে পারো
তোমার চুলে সন্ধ্যা আমার,
এবার তারার বোতাম খোলো
আর কতদূর রাত্রি নামার।

19.11.18