এ কেমন দুলুনি? / আল মাহমুদ

যখন কেউ বলে লেখো,
আমার হাত কাঁপতে থাকে। বুঝতে পারি না
এ কোনো অভিজ্ঞতার দুলুনি কি-না। তবে হলফ করে বলতে পারি
এটা বয়সের ভারে কম্পমান অবস্থা নয়।
অভিজ্ঞতা বলতে আমিতো বুঝি একটা যুদ্ধক্ষেত্র
সামনে খোলারাখা চোখ, ট্রিগারে আঙুল
তারপর শুধু ধাতব শব্দের একটানা ঝঙ্কার
তবে কি সত্যিই আমার অভিজ্ঞতায় কেবল গুলির শব্দ?
আমি ফিরে আসতে চাই সর্বপ্রকার হিংস্রতা থেকে
মুছে ফেলতে চাই অতীত মৃত্যুর জানা ও অজানা ইতিহাস
এ জন্যেই মানুষকে আর বন্ধু করতে পারি না।

এইতো এখন আমি বৃক্ষের সাথে কথা বলতে শিখেছি
পাখি ও পতঙ্গের সাথে। অথচ যারা জবাব দেয় না
কিন্তু যাদের জীবন আছে তাদের প্রতি আমার মায়া
ও মমতার তরঙ্গ আমি বইয়ে দিয়েছি প্রকৃতিতে,
নিসর্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাকে ভেতর থেকে বিধ্বস্ত করে চলেছে।
সেই ভাঙা টুকরো আর জোড়া দিতে পারবো না।
আমিতো আর গাছপালার মধ্যে দিনযাপন করতে পারি না।
আমাকে ফিরে আসতে হয় এমন এক নারীর কাছে
যে আমাকে চেনে বলে দাবি করে। আমাকে চেনে?
এটাতো এক ভয়াবহ কথা। আমাকে চেনা মানে তো হলো
হিংস্রতাকে চেনা। অমানুষকে চেনা। অপরাধীকে চেনা।

আমি তার পাশে শুয়ে পড়ি, তার গন্ধ শুঁকি, তাকে বীজ বোনার
ক্ষেত্রের মতো ভাবি। কিন্তু তার দৃষ্টি উদাসী। মনে হয় আমার ভেতর দিয়ে
সে অন্য কাউকে দেখছে। এমন মানুষকে, যে সত্যিই একদা কবি ছিল।
আহা আমি যদি তার ওই উদাসীন দৃষ্টির
লক্ষ্যস্থল না হতাম, কতই না ভালো হতো।
কী ক্ষমাহীন সেই চাওনি।