আমাকে বোলোনা / সাইফ আলি

মাটিকে দিওনা পুষ্পাধারের দায়িত্ব থেকে অবসর
মেঘকে বোলোনা এবেলা বৃষ্টি বন্ধ হলেও চলবে
গাছকে কোরোনা পরাধীন এক রাষ্ট্রের অধিবাসী
আমাকে বোলোনা মিথ্যে কখোনো- ভালোবাসি, ভালোবাসি…

ফুলকে বোলোনা জাতিসংঘের মিছে অনুদান কুড়াতে
জ্বেলোনা অমন ছলনার ধুপ শান্তিচুক্তি পুড়াতে
বাতাস কেনোবা অমন অসুখ বয়ে নিয়ে যাবে বলো?
যে অসুখ পারে কান্না থামাতে বানিয়ে লাশ আর বোবা!
বলোনা- সাগর, তুমি নাও শুধু দুঃখ; আমরা হাসি
আমাকে বোলোনা মিথ্যে কখোনো- ভালোবাসি, ভালোবাসি…

Advertisements

আবেগ / সাইফ আলি

আবেগ তোমার গন্ধ কেমন? ছন্দ কেমন?
বেগের সঙ্গে দন্দ্ব কেমন?

সেদিন কে যে বললো ডেকে
রাতের আবেগ বড্ড খারাপ;
জাগলে তখন খ্যাল থাকে না
পূণ্য কিসে, কোনটা বা পাপ-
তাই বলে কি দিনের বেলা
বন্ধ থাকে তোমার খেলা?
সেটাও তো না।
কিন্তু তুমি কোথায় থাকো
কেমন কোরে কোন বা ভাষায় অমন ডাকো
যায় না ফেরা;
আবেগ তোমার আস্তানাটা কোথায় বলো,
কোথায় ডেরা?

আমি ভালো আছি / সাইফ আলি

‘মামা একটা চা’

চিনির পরিমান কিংবা আদা হবে কিনা কিছুই বলা লাগেনা এখন-
মামা জানে আমার অনুপাত-

‘ভালো আছি’ বলতে এরকম এককাপ চাই বোঝায় এখন
কতটুকু কিংবা কেমন ভালো আছি এটা আর বলতে হয়না।
সবাই বোঝে কিংবা এটাই অভ্যাস-

ভালো থাকা কাকে বলে?
ধরুণ পকেটে পয়সা নেই কিংবা চুলায় আগুন;
ভালো আছি তবু-
বেকার বন্ধুদের মুখে যেনো খই ফোটে, চলছে ভালোই।
অসুস্থ মা? সেও নাকি ভালো আছে!
ভালো থাকে কিংবা থাকতে হয়-
ভালোথাকা এমন এক অভ্যাসের নাম।

হাসপাতালের বেডে যে কিনা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
তার কাছে জানতে চান-
একগাল হেসে কি দারুণ বলে দেবে- আগের চে ভালো!

:কেমন আছো ভাই?
:এইতো যাচ্ছে দিন; খারাপ কি, ভালোই… আপনি?
:আমি ভালো আছি।

পথিক শুনছো? / সাইফ আলি

তুমি কি ফিরেছো? নাকি তুমি আর
ফিরবেনা বলে গুটিয়েছো মেঘ;
পথিক দাঁড়াও; এভাবে পথের সীমানা টেনোনা-
শুনছো?
তুমিকি এখনো ফেলে আসা ছাপ
যাপিত দ্বিধায় গুনছো?

মেঘেরা কখনো পতিত বৃষ্টি মাপেনা
যে পথিকচোখ খুঁজেছে আকাশ
সামান্য ঝড়ে কাপেনা।

তুমি কি ভাবছো?
এভাবে রাততে নিরাশ করোনা;
হতাশ করোনা চাঁদকে-
দু’হাতে ঠেলোনা স্বপ্ন এবং জোছনার অনূবাদকে।

কবি / সাইফ আলি

ফেরি করি সুখ
সাজানো অসুখ
বাঁধা পোট্রেট
প্রেমিক শামুক
এবং কিছুটা নীল ফেরি করি
কিছুটা সাগর
প্রজাপতি ঘোর-

আমি
ফেরি করি ফুল
প্রিয় তুলতুল
পুতুলের হাত
কিছুটা আঘাত
প্রিয় শাসনের-

ঝরে যাওয়া ফুল
এবং ডালের
কুয়াশায় ভেজা
খুব সকালের;
এবং পালক
রঙিন বালক
ছুঁয়ে দেয় যারে
ভালোবেসে খুব।

আমি
ফেরি করি সব
অনুভুতিদের
তোমরা যাদের
করো অনুভব।

আমি
ফেরিওয়ালা এক
স্বপ্নের আর শব্দের-

পারো যদি তুমি ভুলে যাও / সাইফ আলি

ভুলে যাওয়া খুব সহজ ভাবছো বন্ধু!
পারো যদি তুমি ভুলে যাও;
ভুলতে দেবোনা আমাকে
যেভাবে কখনো ভুলতে দেয়না পাখিরা
এবং ফুলেরা যদিও তাদের সময় গিয়েছে ফুরিয়ে-

ভুলে যাওয়া খুব সহজ হবেনা রাতকে
এবং বিপদে পাশে থাকা প্রিয় হাতকে;
ভুলে যাবে তবু? যাও দেখি যদি পারো-
বাতাসের মতো ভালোবেসে আমি অপচয় হবো আরো।

ভুলে যাবে তুমি মাটির গন্ধ
বৃষ্টি মাখানো ‍দিন!?
আমিতো ক্রমেই রোদ্রের মতো
বাড়িয়েই যাবো ঋণ।

ভুলে যাওয়া খুব সহজ ভাবছো বন্ধু!
পারো যদি তুমি ভুলে যাও;
আমি হয়ে যাবো প্রেমের চিহ্ন
পরিচিত ইশারাও।

মৃত্যু / সাইফ আলি

যখনই
নিসঙ্গ ছাদে দাঁড়িয়ে যুবক
ভুলে যায় সব পিছুটান
ভুলে যায় সব সম্পরর্কের মায়াজাল
মুছে ফেলে তার লালিত স্বপ্ন এবং আশার সব দাগ
তখনই তো তার মৃত্যু ঘটেছে
মানুক বা কেউ না মানুক।

সে ভালোবাসার অর্থ ভুলেছে
জানুক বা কেউ না জানুক।

work-11

ওগো অন্তরালের পাখি / সাইফ আলি

ওগো অন্তরালের পাখি
তুমি ঘুমাও কেমন কোরে!
জাগো দোহায় লাগে তোমার
আমি জাগবো তোমায় ধরে।

দেখো আকাশ কেমন কালো
আর বইছে বাতাস ভারি-
তুমি ঘুমাও কেমন কোরে
ওগো অবুঝ স্বপ্নচারী!

জানি অন্তরালের পাখি
তুমি মেললে তোমার ডানা
এই আকাশ হবে তোমার
আর বাতাস চলার সাথী।

আহা! সুখ নেই / সাইফ আলি

হাতের মুঠোয় জোনাক
আহা! সুখ নেই-
করো তদবির, ভেজা ঝাওবন দোলা বাতাসের শোনো গল্প;
পাশে লাউফুল আর কুমড়োর মাচা রসায়ন ঘেরা দ্বন্দে, শোনো গল্প
চোখে ইমারত ঠেলা আকাশের ছেঁড়া আচলের কিছু গল্প
ঠোঁটে হীম হীম কিছু কুয়াশার মরা অনুভুতি নেয় নিশ্বাস।

হাতের মুঠোয় গুগোল
আহা! সুখ নেই
দাও সার্স দাও গোটা পৃথিবীর সব আনাচে কানাচে গলিতে
আছে ফুটপাত আছে সড়কের মোড়া কালোপিচ সে কি ব্যস্ত!
আছে মনুমেন্ট আর দিবসের সব রঙিন ব্যনার ফেস্টুন-
আছে মনুষের এক শুকনো জীবন কাগজের নোটে মোড়ানো।

হে চোখ / সাইফ আলি

হে চোখ,
ভালোবেসে অশ্রু ঝরাও
আমার বিশ্বাস, তোমার উর্বর স্পর্শ
হৃদয়কে আরো বেশি আবাদযোগ্য করে তুলবে-
তবে তোমার অশ্রু যাদি দূর্বলতার প্রতিক হয়ে থাকে 
তাকে রুখে দাও।
মনে রেখো-
জালিমের কারাগারের উর্বরতায় বলে দেয়
বিপ্লব কতোদূর।