ভাঙা কলস / সায়ীদ আবুবকর

অতীতের কতক অংশ মুছে ফেলা যেত যদি,
হৃদয়ের পুরোনো প্রাচীরগুলো ভেঙে ফেলা যেতো;
যদি গা ঘিনঘিন করা লজ্জা ও অনুশোচনার দিবস ও রাত্রিগুলো কোঁদাল দিয়ে উপড়ে ফেলা যেত জীবনজমিন থেকে,
জীবনের ঘড়ি থেকে ভালবাসাহীন সেকেণ্ড, মিনিট ও ঘন্টাগুলো
ভস্ম করে দেওয়া যেত,
মোবাইলের অস্বস্তিকর কোনো নম্বরের মতো
মুহূর্তে ডিলিট করে দেওয়া যেত বিবেককে কেউটে সাপের মতো দংশন করতে থাকা অতীতের যত আকাম কুকাম;
যদি ভেঙে যাওয়া মাটির কলসগুলোকে জোড়া লাগিয়ে আবার
তুলে রাখা যেত তাতে পাতকুয়োর শীতল পানি!

তিনি বললেন, যে কলস জন্মেছে ভেঙে যাওয়ার জন্যে, কী দিয়ে করবে মেরামত তার ভাঙা কপাল? যে পানি স্রোতে ভেসে মিশে গেছে অতীতের মহার্ণবে, কে তাকে ফিরিয়ে আনে যমুনার ঘাটে আর? যে সময় চলেছে ছুটে তোমাকে পিছনে ফেলে দুরন্ত দুর্বার,
সাধ্য কার রোধে তার গতি! জীবন এমনই, বৎস, তাঁর করুণা ছাড়া বৃক্ষে ধরে না ফুল, তাঁর সম্মতি ছাড়া সে ফুল যায় না ঝরে।

২৭.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

কী গেলাম তন্ময় হয়ে লিখে / সায়ীদ আবুবকর

কী দেখলাম এ চোখে, কী শুনলাম এ কানে, কী ভাবলাম এখানে
এই কদম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে অস্থির মনে একা, আর কী সমস্ত ছাইভস্ম গেলাম তন্ময় হয়ে লিখে কালের পৃষ্ঠায়! রেক্টর স্কেলের
ন মাত্রার ভূমিকম্পের পর কী কাব্য অবশিষ্ট থাকে পৃথিবীতে? যখন ধ্বংসের স্তুপ থেকে অঙ্কুরিত হয়ে ফের জেগে ওঠবে হুরের সভ্যতা, যখন রাষ্ট্র ও ভাষার দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, যখন মানুষ ভাগ হয়ে যাবে চিরতরে আলো ও অন্ধকারের মতো দুই ভাগে, তখন সে মিলনমেলায় আমার একটি পঙক্তিও কি ঠাঁই পাবে কারো হৃদয়কন্দরে? একটি পঙক্তিও কি উচ্চারিত হবে একবারও অনন্তের সেই আনন্দআড্ডায়? কেবলি কি এই কাব্য লিখে যাওয়া তবে সাগরসলিলে আর ধুধু বালুচরে?

২৭.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

অমরত্বে নেই, সুখে ও সফলতায় নেই / সায়ীদ আবুবকর

মরে গিয়ে মর্ত্যরে মানুষগুলো কত দিন বেঁচে আছে? কত দিন বেঁচে আছে সফোক্লিস, হোমার, এরিস্টোটল, প্লেটো, দান্তে ও মিল্টন? কত দিন হলো ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে আওরঙ্গজেব, জুলিয়াস সিজার, অশোক, আকবর, চেঙ্গিজ খান, মাও সেতুং ও আব্রাহাম লিংকন? কোন্ অমরত্বের অহংকার করে মানুষ নশ্বর পৃথিবীতে, যখন রহস্যময় অনন্তের একদিন = দুনিয়ার এক হাজার বছর? আমার সমস্ত বিকেল, সমস্ত সন্ধ্যা, সমস্ত রাত্রি ও সমস্ত সকাল, সমস্ত বসন্ত, সমস্ত বর্ষা, সমস্ত হেমন্ত ও সমস্ত শীত অনন্তের গহ্বরে হারিয়ে যাবে একদিন কয়েক মিনিট কয়েক সেকেণ্ড হয়ে। শাহজাহান, কোন্ তাজমহলের গল্প শোনাও আমাকে, অমর প্রস্তরে যার মোড়ানো শরীর? ফেরদৌসী, কোন্ শাহনামার কাহিনী শোনাও, প্রতিটি পঙক্তি যার পারস্যের রাজাবাদশাদের রাজত্বের চেয়েও অমর ও অক্ষয়?
পিকাসো ও ভ্যানগগ, শোনাও আমাকে কোন্ চিত্রকর্মের কথা, অবিনাশী, অনশ্বর? সমুদয় অমরত্বের মুখে ছিটিয়ে থুতু আমি আজ
গুটিয়ে নিলাম আমাকে এক বুক তওবার ভেতর, এক সমুদ্র উত্তাল ক্রন্দনের ভেতর, এক অরণ্য প্রার্থনাকুসুমের ভেতর। আর কোনো অমরত্বে নেই আমি, দুকূল উপছে পড়া সুখে ও সফলতায় নেই, আছি শুধু অন্তহীন বিস্মৃতির মহাজলে ভাসমান এক টুকরো শেওলা হয়ে, ভয়ে যার কাঁপছে শরীর, কাঁপছে হৃদয়।

২৪.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

বিকেলের সব কথা / সায়ীদ আবুবকর

জানাযায় দাঁড়িয়ে তাদের আত্মাগুলো বটের পাতার মতো কাঁপছিল।
তাদের চোখের মণির উপর শেওলার মতো ভাসছিল
গোরস্থানের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
পাপদগ্ধ দেহকারাগার থেকে লাফিয়ে পড়তে চাচ্ছিল তাদের
বন্দী আত্মাগুলো বিকেলের রুপোলি রোদ্দুরে।
মুনকার নাকিরের ভয়ে তারা যেন তাদের স্কন্ধের দু’পাশে তাকাতে
পারবে না কোনোদিন, এরকমই ভাবছিল তারা।
আর তাদের মনে হচ্ছিল, এরপর থেকে তারা ধোওয়া তুলশিপাতা
হয়ে যাবে, মনের ভুলেও কোনোদিন পা মাড়াবে না পাপপথে।
অতঃপর তারা তাদের বাড়িতে ফিরে গেল।
তাদের শরীর আবার তাদের আত্মাগুলো নিয়ে খেলতে লাগলো
অন্ধকার যত খেলা।
জানাযায় দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকা
বিকেলের সব কথা ভুলে গেল তারা কত সহজেই।

২২.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

মূর্তির শহর / সায়ীদ আবুবকর

এত মূর্তি চারদিকে-ঘরের ভেতর, অন্তরের ভেতর, নগরদ্বারে, সিংদরোজায়, অফিসে অফিসে, দেয়ালে দেয়ালে, টেবিলে ও বুকসেলফে, উত্তরে-দক্ষিণে, পূর্ব ও পশ্চিমে, মাটিতে ও শূন্যের উপর-যেন মূর্তির বন্যায় ডুবে গেছে সারা দেশ। নমরুদের উপাসনালয়ের যে-মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলেছিলেন হজরত ইব্রাহিম, কারা যেন মেরামত করে তা বসিয়ে রেখে গেছে এই শহরের অলিতে গলিতে। কাবাশরিফের ভেঙে ফেলা মূর্তিগুলো বুকের ভেতরে নিয়ে এ জনপদের নারী ও পুরুষগুলো জায়নামাজে বুঁদ হয়ে থাকে সারাদিন। কোন্ ধর্মের যে উপাসনাকারী এরা, এরা তা জানে না নিজেরাও। মানুষের চেয়ে ভাস্করের তৈরি মনুষ্যমূর্তিকে এরা বেশি ভালবাসে। নির্মিত ছবির জয় জয়কার পড়ে যায় এই ছবির শহরে প্রতিদিন অথচ সে ছবির মানুষ থেকে যায় উপেক্ষিত। বিবসনা নারীর মূর্তিতে সাজিয়ে ড্রয়িংরুম এ শহরের মানুষগুলো অভিজাত ভাবতে থাকে নিজেদেরকে। হায়, কোন্ জনপদে গেলে আমি পাবো ইব্রাহিম ও মহম্মদের অনুসারীদের দেখা? আমিও যে মুশরিক হয়ে গেলাম জাঁকালো এই মূর্তির শহরে!

১৭.৪.২০১২ মিলনমোড় সিরাজগঞ্জ

চোখ / সায়ীদ আবুবকর

রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে হায়েনার চোখ জ্বলে; বাঘ তার
চোখের আলোয় পথ দেখে দেখে চলে অন্ধকারে মোড়া
রাতের অরণ্যে চুপচাপ; সাপ ও বৃশ্চিক হারায় না পথ,
অন্ধকার মাড়িয়ে মাড়িয়ে পৌঁছে যায় ঠিকঠিকই লক্ষ্যস্থলে;
কেবল মানুষই চলতে পারে না এক পাও ধার করা আলো ছাড়া;
বিদ্যুতের ব্যবহার, টর্চ লাইটের ব্যবহার মানুষই কেবল করে।
হায়, এই চোখ যদি বিড়ালের চোখও হতো,
অন্ধকারে দেখতে পেতাম তাঁকে;
ইঁদুরের চোখও হতো,
অন্ধকার গর্তের ভেতরও দেখতে পেতাম তাঁকে।
কিন্তু আমি তো দিনের আলোতেও দেখতে পাইনে,
সে বুঝি চোখেরই দোষ?
আমার হৃদয় যদি গোলাপবাগান হতো,
পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তো আমার সুঘ্রাণ।
আমার এ কণ্ঠ যদি কোকিলের কণ্ঠ হতো,
পৃথিবী উৎফুল্ল হতো বসন্তের গানে।
আমার দুচোখ যদি চাঁদ আর সূর্য হতো,
দিন আর রাত্রি এসে বিভ্রান্ত করতে পারতো না আমাকে।
হায়, জলজ্যান্ত দুটি চোখ থাকতেও যে দেখতে পায় না, তার কী উপায় বলুন?

তিনি বললেন, কোন্ চোখ দিয়ে বলো অরণ্যের ফুল
দ্যাখে তার স্রষ্টাকে? সাগর কোন্ চোখ দিয়ে,
ঝর্ণা কোন্ চোখ দিয়ে,
চাঁদ কোন্ চোখ দিয়ে করে স্রষ্টাকে দর্শন?
হৃদয়কন্দরই যার অমাবশ্যার অন্ধকারে ভরা, তাঁর
দুচোখে ভাদ্রের ভরা চাঁদ উঠলেও,
মনে রেখো,
দেখতে পাবে না তাঁকে।
বৎস, ইব্রাহিমের মতো অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত না হলে তুমি
দেখতে পাবে না তাঁর জ্যোতি;
জাকারিয়ার মতো করাত দিয়ে না কাটলে তোমাকে,
দেখতে পাবে না তাঁর রূপ;
ইউনুসের মতো গিলে না ফেললে কোনো মাছ,
ঘুচবে না তোমার দুচোখের নিশি।
তুমি তো, বৎস, পড়ে আছো শুধু মানবচক্ষুর গোলক ধাঁধায়।

১২.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

এক দেশ এক পৃথিবী / সায়ীদ আবুবকর

মানুষ আমাকে বিপ্লবের কথা বলে।
আমি বলি মানুষের প্রথম বিপ্লব হোক
দেশের দেয়াল ভেঙে ফেলা। সীমান্তের সব
কাঁটাতার ছিঁড়ে ফ্যালো। অতঃপর বিহঙ্গের মতো
পাসপোর্ট ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ো পৃথিবীর দিগ্বিদিকে। মানুষকে
হৃদয়ে আঁকড়ে ধরে বলো, আমি মানুষের ভাই। যারা দেয়ালের কথা
বলে, যারা সীমান্তে সীমান্তে
কাঁটাতারের উপকারিতার কথা বলে,
যারা নদীদের বুকের উপর সীসার বাঁধের
প্রয়োজনীয়তার কথা বলে, যারা গণতন্ত্রের কথা
বলতে বলতে মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হায়েনার
মতো, আর যারা বুকপকেটে পারমাণবিক বোমা নিয়ে দেশে দেশে
শান্তির কোরাস গায়, বন্দুকের
নল দিয়ে তাদের মাথার খুলি উল্টিয়ে দেয়াই
হোক মানুষের প্রথম বিপ্লব আজ। চীনের বিলের ধানে
সোমালিয়ার শিশুরা ফিরে পাক অধিকার, আমেরিকার গমখেতে
এশিয়ার বুভুক্ষুরা ফিরে পাক
অধিকার, ইউরোপের ঐশ্বর্যে আফ্রিকার
নিঃস্বরা ফিরে পাক অধিকার, পৃথিবীর মাঠে ফলা
সমুদয় ফল ও ফসলে প্রতিষ্ঠিত হোক মানবশিশুর মানবিক
অধিকার। মানুষ আমাকে বিপ্লবের কথা বলে। আমি
মানুষকে এক দেশ এক পৃথিবীর কথা বলি।
আমি মানুষকে মানববিশ্বের
কথা বলি।

৮.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

তাদের ভূতুড়ে চোখগুলো / সায়ীদ আবুবকর

যেন গোরস্থান থেকে উঠে এসে
হাটাহাটি করছে তারা অফিসে অফিসে, রাস্তায় রাস্তায়।
তাদের ভূতুড়ে চোখগুলো দেখে রাস্তার কুকুরগুলো থ হয়ে গেছে,
বিদ্যুতের তারের উপর বসা রঙচটা কাকগুলো কা-কা ডাক ভুলে
দার্শনিক হয়ে গিয়ে কী যেন ভাবছে একমনে।

আমি ভয় পেয়ে ছুটে গেলাম গোরস্থানের দিকে।
মনে হচ্ছিল কবর থেকে উঠে গিয়ে
মৃত মানুষেরা হাঁটাহাঁটি করছে এভাবে সমস্ত শহরে।
কিন্তু সবগুলো কবরের মধ্যে উঁকি মেরে দেখতে পেলাম
কবরবাসীরা কেমন নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে প্রাণবন্ত মানুষের মতো।
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম তা দেখে।
অতঃপর কোনো কুলকিনারা না পেয়ে ভো-দৌঁড় দিলাম
সোজা বেডরুমের দিকে।
ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই
আমি চমকে উঠলাম নিজের চেহারা দেখে আয়নায়।
হায়, এ মুখটি কি আমার, না কোনো কবরবাসীর? ভাবতে ভাবতে
সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে রইলাম একা ঘরের মেঝেয়।

৪.৪.২০১২ মিলনমোড়, সিরাজগঞ্জ

সত্য / সায়ীদ আবুবকর

যখন ফিরিয়ে দেয় আদালত, শূন্যহাতে;
যখন মুখের উপর ডাক্তার বলে দেয় সারবে না, তাতে
কাঁচের গ্লাসের মতো ভেঙে খানখান হয়ে যায় বুক;
যখন কেবলি স্বাস্থ্য ভাঙে খাদ্য, পূর্ব ও পশ্চিম তাবৎ মুলুক
চলে যায় সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে;
যখন একের পর এক পরাজয় নেমে আসে যুদ্ধে-
যখন বিষণ্ন দুলদুল, দিশেহারা,
ইমাম হোসেন ছাড়া
ফিরে চলে ঘরে;
তখন নির্বাক, বিধ্বস্ত অন্তরে,
ফিরে আসা শুধু তোমার কাছেই
এই সত্য নিয়ে- তোমার ওপার কেউ নেই।

৩.৩.২০১ মুকতারপাড়া, সিরাজগঞ্জ

একটি পাতার কাহিনী / সায়ীদ আবুবকর

পাতাটি গাছের মগডালে জন্মেছিল। যখন সে
কচি শিশুটি ছিলো, তাকে দেখলেই
যে-কারোর দুচোখ জুড়িয়ে যেতো। যখন সে
যৌবনে পা দিলো, বাতাসরা এসে তাকে
প্রণয় নিবেদন করতো। সে বাতাসদের মৃদুস্পর্শে
থরথর করে কাঁপতো সারাদিন। একটি কোকিল এসে
তার পাশে চুপটি করে বসে থাকতো; তারপর কণ্ঠ ছেড়ে
একসময় জুড়ে দিতো বসন্তের গান। প্রকৃতির নিয়মে
পাতাটি একদিন হলুদ হয়ে গেল। যখন
ঝরার সময় এসে গেল তার, সে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে
শেষ প্রার্থনা নিবেদন করে টুপ করে ঝরে পড়লো মাটিতে। আমি
তার পতনদৃশ্যের দিকে তাকিয়ে ছিলাম একদৃষ্টে। শূন্যে
কয়েকটা চক্কর দিয়ে সে আস্তে করে নেমে পড়লো ধুলোয়। তাতে
বাতাসে কোনো তরঙ্গ সৃষ্টি হলো না, পৃথিবী টেরও পেলো না
কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে কোথাও। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,
মাটিতে পড়ার আগে সে বাতাসে কয়টা পাক খেয়েছিল,
তা স্মরণ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অদ্ভুত লোকটা এসে
আমার সমগ্র সত্তা ধরে নাড়া দিয়ে যখন বললো, পাতাটি কবে
কোন্ মুহূর্তে জন্মেছিল, সারাজীবন মগডালে মোট কতবার
বাতাসে দোল খেয়েছিল সে, মোট কতবার তার বুকের উপর
সূর্যের রোদ আর চাঁদের আলো ঠিকরে এসে পড়েছিল
এবং কতক্ষণ তা স্থায়ী হয়েছিল, আর মোট কয় ফোঁটা
বৃষ্টির পানি ও রাতের শিশির ঝরে পড়েছিল তার গায়ে,
সবকিছুই তার স্রষ্টার আছে জানা; তখন আমার সারা গা
কেঁপে উঠলো ভয়ে, আমার অন্তর র‌্যাবের হাতে ধরা পড়া
দাগী আসামীর মতো ধড়ফড় করতে লাগলো
আমার বুকের ভেতর, মনে হলো আমিই যেন সে হলুদ পাতা
যে এইমাত্র কাঁপতে কাঁপতে ঝরে পড়েছে
পৃথিবীর বিস্মৃতির অন্ধকারে, তিনি যার দিন ও রাত্রির
সমস্ত খবর রাখেনÑ এখন উপায়?

২৮.১.২০১২ মুকতারপাড়া, সিরাজগঞ্জ