তুমি / সাইফ আলি

কে জানে কতটা ভাসালে তা হয় নদী
কে জানে কতটা মৌনতা আনে নীলে
কত ঢেউ বুকে ধারণ করলে সাগর
তোমাতে মানায়; যেমনটা তুমি ছিলে।

কতটা গভীর রাতের আকাশ হলে
তোমার চোখের তারার উপমা হয়,
কত জোনাকির হেয়ালি আলোর ভিড়ে
খোয়াবো তোমাকে হারানোর সংশয়?

কত বর্ষার ছন্দে চলেছো তুমি
আমার বুকের মেঠো পথ ধরে ধরে,
কত শিশিরের কণায় হাসলে রোদ
তোমার হাসির কিছুটা পড়তো ঝরে?

কত গভীরের খবর রাখলে বলো
পাঠ করা যেতো তোমার চোখের ভাষা,
কি তুমি বোঝালে ইশারায় ইঙ্গিতে
এরই নাম প্রেম, এই কি সে ভালোবাসা?

Advertisements

বন্ধ আমার জানালার সাথে / সাইফ আলি

বলি বলি করি বলা হয় না তো
তবু কান পাতো
বাতাসের গায়;
দেখাই দেখাই দেখানো হয়না
চাঁদ ভেসে থাকে মেঘের পাড়ায়।

তুমি কি আমাকে এতো ভালোবাসো
পাখিদের মতো
ফুলেদের মতো
কিংবা আকাশে নীল দিগন্তে মুছে যাওয়া সব
ভুলেদের মতো!!

বন্ধ আমার জানালার সাথে
তোমার পিরিত কেমন করে ঘটলো বলো
চটলো শুধু একটু দূরেই দাড়িয়ে থাকা অন্যমানুষ।

ক্ষমা করে দিও / সাইফ আলি

ভুল করে কিছু ভুল হয়ে গেছে
ক্ষমা করে দিও
জোছনাতে কিছু শুকনো পাতার বাসর সাজিয়ো-

আসর শেষের বিদায় পর্বে
কিছুটাতো ব্যথা জমেছে মর্মে
তবু সে ব্যথার আলো-ছায়া মেখে নিজেকে সাজিয়ে নিও
আজকে ভেঙেছে কালকে আবার নতুন করে জমিয়ো…

আমার এবেলা নিওনা তোমার করে / সাইফ আলি

আমার এবেলা নিওনা তোমার করে
বেধোনা ওরনা জালে,
আমার এবেলা সন্ধ্যার কোরিডোরে
কিছুটা হাটুক আজ।

কিছু সুরে আজ কিছুটা দ্রোহের বীষে
নীল থেকে আরো নীল হয়ে যাক মন
তবু, আর মাড়াবোনা পরিপাটি বড়ো
তোমার প্রিয় উঠোন।

তুমি, উড়াও তোমার ঘুড়ি
করে রাজ্যের আয়োজন
আমার নাটাই গুটিয়ে নিয়েছি
নেই তার প্রয়োজন।

আমার রাত্রি পার হয়ে যাক একা-
আমি, চাইনা তোমার দেখা।

আচমকা তুমি ভেঙে দিলে সেই শৃঙ্খল / সাইফ আলি

এখানে পাখিরা কিছু কথা বলে চলে গিয়েছিলো একদিন
এখানে পাতারা কোনো এক শীতে ঝরে গিয়েছিলো অবেলায়
সেই থেকে মেঘ কাঁদেনি কখনো ঝরেনি অঝোরে বরষা
আজ তবে কেনো আচমকা তুমি ভেঙে দিলে সেই শৃঙ্খল
আমি আবার নতুন স্বপ্নে ভেসেছি, হৃদয় হয়েছে চঞ্চল।

পুরোনো দিনের গান ফিরে পেলো সুর
না বলা কবিতা বাজলো নতুন ছন্দে
থেমে যাওয়া কিছু দমকা বাতাস এসে
ছুয়ে দিয়ে গেলো এ মন পরম আনন্দে
নিভৃতচারী এ আমাকে করলো উচ্ছল।

আমি যে পাতায় লেখে যাবো নাম / সাইফ আলি

আমি যে পাতায় লেখে যাবো নাম
তুমি সে পাতায় নিরব দৃষ্টি মেলে
জানতে চাবে কি কতোটা কাছের মানুষ হলে সে
আঁধারে দু’চোখ জ্বেলে
রাত করে দেয় পার;
বুঝতে চাবে কি সেই পাতাটিতে কতোখানি হাহাকার?

এবার না হয় ঝরবো খানিক / সাইফ আলি

এবার না হয় ঝরবো খানিক বৃষ্টি হয়ে;
শিউলি ফুলের শুভ্র বুকে শিশির হয়ে
ঝরবো খানিক রাত্রি শেষে…

এবার না হয় ভাসবো খানিক বাষ্প হয়ে
বাতাস হয়ে আলতো তোমার ওষ্ঠো ছুয়ে
না হয় তোমার চোখের পাতায় শিশির হলাম খুব সকালে-
একটু না হয় বৃষ্টি হলাম ঝরবো বলে
একটু তোমার নরম গালে!

না হয় হলাম ঘর ছাড়া এক শুভ্র শিলা মেঘের কুচি
উষ্ণ তোমার হাতের ছোয়ায় বরফ ভেঙে বাষ্প হলাম!

সংলাপ / সাইফ আলি

: যেদিন তুমি বীজ বুনেছো
সেদিন থেকেই শুরু,
আজকে আমার হৃদয় জমিন কাঁপছে দুরু দুরু।
একটু পরেই প্রেম লতিকা শিকড় দেবে গেড়ে,
তখন বলো কেমন করে থাকবো তোমায় ছেড়ে!

: উপড়ে ফেলো অঙ্কুরনেই
উপড়ে ফেলো বীজ,
উর্বরা ঐ হৃদয় জমিন অন্যকে দাও লিজ।

: কেমন করে অন্য চাষা করবে বলো চাষ;
সমস্ত এই হৃদয় জুড়ে তোমার বসবাস।

: হায়রে অবুঝ পেমীক আমার
ক্যামনে বোঝাই তোর;
একটু পরেই কাটবে মোহ
ভাঙলে ঘুমের ঘোর।

: হয়তো আমি ঘুমিয়ে আছি-
অচেতন এই দেহ,
তবুও আমার চেতন মনে তুই ছাড়া নেই কেহ।

তোমার চোখে চাঁদ নেমেছে / সাইফ আলি

তোমার চোখে চাঁদ নেমেছে জোছনা ছলো ছল
ওষ্ঠে তোমার হৃদ কম্পন ভীরু মনাঞ্চল
তবুও তুমি বললে, বধু- হাতটি আমার ধরো
আমার তখন সব অচেতন কাঁপছে থরো থরো।

সেইতো প্রথম প্রেম শেখালে সেইতো প্রথমবার
সেই থেকে এই প্রেমীক হৃদয় শুন্য হাহাকার…

পূর্ণ করো হৃদয় খাঁচা; প্রেম পাখি দাও ধরা
তা না হলে দাও খুলে এই প্রেমেরই হাতকড়া।

আজকে তোমার চোখ জুড়ে নাই চাঁদ,
আজকে তোমার ওষ্ঠে ভীষন খরা;
আমার মুখে রা সরে না- এই কি তোমার রূপ!
সেদিন কেনো প্রেম শেখালে, আজ কেনো নিশ্চুপ?