কুঁড়ি টাকা কেজি / সাইফ আলি

: চাচামিয়া শাঁক যদি ভালো না হয় টাকা ফেরত দিতে হবে কিন্তু…
: ঠিক আছে বাপু নিয়ে যাও…টাকা দিয়া লাগবে না, খায়ে যদি তিতে লাগে তালি আর টাকা দিয়া লাগবে না; নিয়ে যাও।
: তালি দেন হাফ কেজি, টাকা দিয়েই দিলাম… আপনার কথায়
: না না বাপু তুমি নিয়ে যাও তো… গরিবির টাকা না দিলিউ হয়।
: না রাখেন।
চাচামিয়া দশ টাকার নোটটা পকেটে ঢুকিয়ে ঘাম মুছলেন। বাজারের রাস্তার উপরের ঝুড়ি ফেলে দাঁড়িয়ে আছেন চাচামিয়া। রোদে তার তেলতেলে মাথাটা চক চক করছে। ঝুড়িতে পালং আর মটরের শাঁক।
: শাঁক কত করে কাকা?
: কুঁড়ি টাকা কেজি। দেবো… খুব ভালো হবেনে…
: দেন এক কেজি। আর পালং..?
: নেও তিন আটি দশ টাকা দিয়েনে… পাঁচ টাকা আটি বেচছি…
: দেন। কিন্তু চাচা আটি তো ব্যগে ধরবে না, আরো কিছু বাজার করতি হবে। আপনার কাছেই রাখেন আমি ঘুরে এসে নিচ্ছি।
: ঠিক আছে যাও।
এরপর কিছুক্ষণ এটা ওটা কেনাকাটা করে যখন চাচামিয়ার কাছে পালঙের আটি নেওয়ার জন্য ফিরে এলাম তখন তার পাশে এক যুবক। যুবকের কথায় কান পেতে যা জানতে পারলাম তা হচ্ছে বাড়িতে চাচি বেশ অসুস্থ। টিউমারটা কাটতে না পারলে ক্যান্সার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাচামিয়া মাথা ঘাম আর চোখের পানি এক করতে করতে বললেন… দেখি আল্লায় কি করে।
: চাচা, শাঁক কত করে…
: কুড়ি টাকা কেজি… নেও বাপু ভালো হবেনে… খুব কচি শাঁক… ইটটুউ তিতে হবে না…
Advertisements