কালো জামা গায় কালো জুতা পায় / সাইফ আলি

কালো জামা গায় কালো জুতা পায়
আড়চোখে কালাচান কার দিকে চায়?
ফরমাল প্যান্ট অ্যাবনরমাল টাই
কালাচান বাস করে উপরতলায়।।

চকচকে কার, অস্থির কারবার
কিছুই করেনা তবু কামায় ডলার!
লিকলিকে হাত নাকি লম্বা ভীষণ
‘সমাজের উন্নতি’ এটাই মিশন।।
ভালোবেসে লোকে বলে- শোনেন মশাই,
এই যুগে তার কোনো বিকল্প নাই।

অমায়িক লোক তার পেশা যাই হোক
কালা সানগ্লাসে ঢাকা রাঙা দুটো চোখ,
জিগাইলে কেউ, ‘ভাই পেশা আপনার?’
ফিক করে হেসে বলে, ‘কন্ট্রাক্টার।।’
আবডালে লোকে বলে- শোনেন মশাই,
আসলে শালার কোনো কাম কাজ নাই!

কালাচান ভাই বসে তামাক সাজায়
মুদ্রাস্ফিতিতেও গিটার বাজায়!
কিছুই করেনা তবু ডলার কামায়
পাঁচতলা দশতলা টাওয়ার বানায়।।
বিস্ময়ে লোক করে বড়ো বড়ো চোখ
তার পিছে পিছে ঘোরে আর মরে হিংসায়।

কালাচান ভাই বেলা সাড়ে বারোটায়
ঘুম থেকে উঠে নাকি আবার ঘুমায়!
ফরমাল প্যান্ট অ্যাবনরমাল টাই
কালাচান বাস করে উপরতলায়।।

১৪/০৮/২২

চুপচাপ রাত্রির এই কারাগার / সাইফ আলি

চুপচাপ রাত্রির এই কারাগার
ভেঙে কাছে পেতে চাই তোমাকে আবার
তোমার ভালোবাসা হৃদয়ে আমার
প্রশান্তি ঢেলে দেয় ভরা জোছনার।।

অভিমানী তারাদের সঙ্গ দিতে
ক্যানো তুমি বসে আছো ব্যালকোনিতে
অনুমতি মেলে যদি তোমার পাশে
তারা হয়ে বসে পড়ি একই আকাশে।।
অনুমতি মেলে যদি গান শোনাবার…

সংসার জীবনের এইতো নিয়ম
ভালোবাসাতেই থাকে সব উপশম
জানি ‍তুমি ভালোবাসো আমারও অধিক
আমিই না হয় এক ব্যর্থ প্রেমিক।।
কাছে এসো ক্ষমা করে এ ব্যর্থতার…

১৩/১০/২২

তারা ঝলমল ঐ আকাশ অতল / সাইফ আলি

তারা ঝলমল ঐ আকাশ অতল..
কোনো দৃষ্টি আজো যার পায়নি তল!
তার দিকে তাকিয়ে ভাবতে গিয়ে
গভীর অনুরাগে দু’চোখ বুজে
নিজেকেই কখন যে হারিয়ে ফেলি;
সেজদায় পড়ে থাকি মাথা গুঁজে।।

এই ঘন সবুজ, এই নীল আসমান
প্রজাপতির পাখা, পাখিদের গান
কার দান? বলো কার দান?
কে সে মহান, রহিম রহমান?
এ প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি খুঁজে-
তাঁর সেজদায় পড়ে থাকি মাথা গুঁজে।

আল্লাহু আহাদ, আল্লাহু আহাদ
আল্লাহু আহাদ, আল্লাহু আহাদ…
কারো সন্তান নন তিনি, তাঁর সন্তান
নেই কোনো, একক, এ সব তাঁরই দান।

এই শাদা-কালো মেঘ, এই বৃষ্টির সুর,
ঘুম ঘুম রাত, এই সোনা রোদ্দুর
কার দান? বলো কার দান?
কে সে মহান, রহিম রহমান?
এ প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি খুঁজে-
তাঁর সেজদায় পড়ে থাকি মাথা গুঁজে।

আল্লাহুস সামাদ, আল্লাহুস সামাদ
আল্লাহুস সামাদ, আল্লাহুস সামাদ…
কারো সন্তান নন তিনি, তাঁর সন্তান
নেই কোনো, একক, এ সব তাঁরই দান।।
তাঁরই সেজদায় পড়ে থাকি মাথা গুঁজে।

১২/০৮/২২

চাঁদের মুখে মেঘ জমেছে / সাইফ আলি

চাঁদের মুখে মেঘ জমেছে
মেঘ জমেছে কালো কালো,
মেঘ উড়িয়ে নিচ্ছে বাতাস;
একটু আঁধার একটু আলো।।
তোমরা সবাই কেমন আছো,
দিনগুলো কি যাচ্ছে ভালো?

এখন কেবল রাত দশটা বাজে
ব্যস্ত ভীষণ তুমি হয়তো কাজে
দুষ্টু পাখি দুটো খেলছে বুঝি
ঘুম পাড়িয়ে যেও জায়নামাজে।।
আল্লাহ তোমাদের রাখুক ভালো…

মায়ের খবরটা হয়নি নেওয়া,
বাবার কাছে ফোন করবো নাকি?
একরাশ জড়তার অন্ধকারে
হারিয়ে ফেলি শব্দের জোনাকি।।
নিশ্চিত জানি আমি, মাগো তোমরাও
আমাকে প্রাণের চেয়ে বাসো ভালো…

১০/০৮/২২

কোথায় তোমার ঘর ছিলো গো / সাইফ আলি

কোথায় তোমার ঘর ছিলো গো
কোথায় তুমি যাও
সকাল থেকে দেখছি শুধু পথেরই গান গাও!
ও মুসাফির,
পথ কি তোমার ঠাঁই?
ছেড়েছেন তোমায় যিনি তাঁর হাতেই নাটাই।।

কি কথা বলছো তুমি, ভাবছো মনে মনে
কোন রঙে রঙিন হলে একা নির্জনে।।
ও মুসাফির ভেবেছো কি? পথ কি তোমার ঠাঁই?
ছেড়েছেন তোমায় যিনি তাঁর হাতেই নাটাই।

গরম শরীর শীতল হলে
ধরবে ঘিরে অন্ধকার
রাখবে না ছন্দ মনে
ও মুসাফির কেউ তোমার।।
মিটিয়ে ফিরতে হবে পথের দেনা, পথের দায়।

১০/০৮/২২

বহুদূর ‍তুমি চলে গেছো / সাইফ আলি

বহুদূর ‍তুমি চলে গেছো
যতদূর গেলে আর হয়না ফেরা
তবুওতো মন আমার মানে না
মন কি সত্য জানে না?
তবু ক্যানো মন আমার মানে না?

তোমার শাদা কাফনে আমার
ঢেকে গেছে সোনালী আকাশ,
গোধুলি বেলায় পথ চেয়ে আর
থেকে থেকে হবো না নিরাশ।।
মনকে বোঝাতে তবু পারি না?

তোমার পড়ার চেয়ার টেবিল
ঘুনের দখলে আজ বহুদিন,
লেখার খাতা বইয়ের পাতা
ধুলো জমে হয়েছে মলিন।।
মনের দখল কেনো ছাড়োনা?

০৭/০৮/২২

কোন সুন্দরে চোখ ডুবিয়ে / সাইফ আলি

কোন সুন্দরে চোখ ডুবিয়ে
মজেছো পাপের আসরে?
সে সুন্দর নয় কভূ সুন্দর নয়
যদি মুক্তি না মেলে রোজ হাশরে।।

ওগো মুসাফির একটু দাঁড়াও
একটু থেমে পথ বুঝে নাও,
ভুল পথে মঞ্জিল পাবে না
পড়বে অথৈ সাগরে।।

পথের মাঝে নামলে আঁধার
নিয়েছো কি প্রস্তুতি তার?
কার উপরে ভরসা তোমার,
করবে কে পার হাত ধরে??

০৫/০৮/২২

শাদা পাতায় রঙ ছিটিয়ে / সাইফ আলি

শাদা পাতায় রঙ ছিটিয়ে বললে, ‘আমি শিল্পী নই!’
এখন আমি আঁকতে ছবি কারে কই? কারে কই?
তালে তালে মন মজিয়ে বললে, ‘আমি শিল্পী নই!’
এখন আমি গান শুনাতে কারে কই? কারে কই?

তবে কি কবি তুমি? মানো না ছেদ, যতি!
আমি বুঝিনা তোমার ভাব-গতি।

শুনেছি প্রেমিক লোকের এক পলকে
ক্যানভাসে ফুল ফুটিয়ে তোলে,
আর তার কণ্ঠ ভরা মধুর কথায় হৃদয় দোলে!
না হলে প্রেমের কাঙাল ক্যামনে কবি, শিল্পী হই?

০৩/০৮/২২

কতো সহজেই ওরা হাসতে পারে / সাইফ আলি

কতো সহজেই ওরা হাসতে পারে
ভাসতে পারে স্বপ্নের ডানা মেলে
কতো সহজেই ওরা বাঁচতে পারে
অন্ধকারে একটু আলো পেলে।।

এই ঝলমলে আলোর শহর
এই সারি সারি গাড়ির বহর
এই রাজপথ, খোলা ময়দান
তুমি-আমি, আমরা কেউ
আজও বলতে পারিনি-
এসো একসাথে বড়ো হই আমরা হেসে খেলে।।

পাথুরে এই সভ্যতা
হতে পারে না
কোনো সত্য সভ্যতা,
এই রোবোটিক দুনিয়া সবই দিচ্ছে
মনুষ্যত্ব ঝেড়ে ফেলে।।

০২/০৮/২২

চল চল চল / কাজী নজরুল ইসলাম

চল চল চল!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।

ঊষার দুয়ারে হানি’ আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।

নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল!
চল রে নও-জোয়ান,
শোন রে পাতিয়া কান
মৃত্যু-তরণ-দুয়ারে দুয়ারে
জীবনের আহবান।
ভাঙ রে ভাঙ আগল,
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।

ঊর্ধ্ব আদেশ হানিছে বাজ,
শহীদী-ঈদের সেনারা সাজ,
দিকে দিকে চলে কুচ-কাওয়াজ—
খোল রে নিদ-মহল!

কবে সে খেয়ালী বাদশাহী,
সেই সে অতীতে আজো চাহি’
যাস মুসাফির গান গাহি’
ফেলিস অশ্রুজল।

যাক রে তখত-তাউস
জাগ রে জাগ বেহুঁশ।
ডুবিল রে দেখ কত পারস্য
কত রোম গ্রিক রুশ,
জাগিল তা’রা সকল,
জেগে ওঠ হীনবল!
আমরা গড়িব নতুন করিয়া
ধুলায় তাজমহল!
চল্‌ চল্‌ চল্।