যথার্থতা / সাইফ আলি

কথার পরে রটলে কথা
বিলুপ্ত হয় যথার্থতা,
যেমন ধরুন- আলো,
দশ কানে হয় কালো।

আর কি কি শেখাবেন / সাইফ আলি

আর কি কি শেখাবেন
দেখাবেন, শোনাবেন;
কত ধানে কত চাল
সেটাও কি গোনাবেন?
বলবেন, ডলবেন
চলবেন নিজেদের ইচ্ছায়…
আমরা খাঁচার তোতা
শেখানো বুলিতে মজে গান গাই-
এমনটা ভাববেন, ভেবে নেন
দোষ নেই,
কিন্তু ভাবেন যদি গোখরোর ফণা নেই
ফোস নেই,
তাহলেই মরবেন
দুইকান ধরবেন
উঠবস করবেন
লাভ নেই;
জনতার সাথে যার ভাব নেই।

ভরসাটা ভেঙেছেন
দুই হাত রেঙেছেন রক্তে,
স্বার্থের মোহে বড় মেতেছেন
ক্ষমতার তখতে।

ইতিহাস বার বার ঘুরে ফিরে বলে যায়
জালিমের ঠাই নাই ঠাই নাই,
তবুও জালিম যারা মিথ্যে ঘোরের পাকে
সত্যের দেখা জানি পায় নাই।

শিক্ষা / সাইফ আলি

বই কেড়ে নিস মই কেড়ে নিস
রাস্তা দেখাস ভুল,
বই পড়াতেই খুলিস আবার
নতুন এক স্কুল-
এ বই তোদের থিউরি মানে
এ বই তোদের খাস,
তাইতো দেখি এ বই পড়ে
দুর্নীতি হয় চাষ।
এ বই শেখায় পরের মাথায়
ক্যামনে মারে বাঁশ…

শিক্ষা যদি শিক্ষা দেবে
কলমের এক খুঁচায়
ক্যামনে মারে পয়সা-কড়ি
ক্যামনে ওঠে উঁচায়;
কেমন করে তেলির পাছায়
তেল দিয়ে সব ছুচায়-
তাহলে আর শিক্ষা নিয়ে
কি লাভ বারমাস?
শিক্ষিতরাই আজকে দেশের
করছে সর্বনাশ।

সে ছিলো এক গাঁয়ের চাষা / সাইফ আলি

একটা বাশের বাঁশির বুকে
বাজলো নানান সুর,
একটা পাতার শরীর জুড়ে
ঝলমলে রোদ্দুর-

সেই বাঁশি সেই পাতার সাথে
সখ্য ছিলো যার
সে ছিলো এক গাঁয়ের চাষা
চিনতো না কেউ তার।

কিন্তু যখন তার ফলানো
প্রেমের ফসল ওঠে,
সেই জিতে যায় ভালোবাসার
মুচকি হাসি ঠোঁটে।

আলেপ্পোর জন্য / সাইফ আলি

আমার মতে
আলেপ্পোতে
হচ্ছে মিঠাই বিতরণ
শান্তিবাদী
হারামজাদী
শান্তি পাবি কতক্ষণ…

শান্তি কি আর এসব করে মেলে
গোলাপ রেখে রক্ত নিয়ে খেলে??

বুদ্ধিজীবি / সাইফ আলি

মেজাজ বুঝে চলছে যারা বলছে কথা তেলতেলে
বুদ্ধিজীবি খেতাব নিয়ে তুলছে বিরাট সুখের ঢেক
তাদের কি আর লজ্জা আছে মিথ্যে কেনো ভয় দেখান
কাউকে তারা ভয় করে না, বীরের বেশে নাম লেখান
স্বদেশপ্রেমী লিস্টিতে;
কান ভিজে যায় শুনলে কথা রসগোল্লার মিষ্টিতে…

টকশোতে যান, পয়শা কামান মুখ বেচে
গোফের ডগায় তা লাগান
বিবেকে দুই ঘাঁ লাগান
তারপরে গান- ফেললি কিরে দেশ থেকে সব সুখ বেচে!!
অথচ সব সুখের মাছি ভনভনিয়ে দুধের ’পর
স্বপ্ন দেখেন মুখের জোরেই দুঃখ যাবে তেপান্তর।

পয়সা পেলে উল্টে যান
ভেলকি দেখান, পল্টি খান
তারপরে গান- বাপরে বাপ,
কেন্ন তো নয়; গোখরো সাপ…!!

একটা কথা শুনুন মশাই কান দিয়ে-
ভাগ্য কি আর ফিরবে এসব ফান দিয়ে?

আসছে সময় / সাইফ আলি

তোমরা যারা খুব সহজেই বদলে ফেলো দেশটাকে
মুখের কথাই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখে রাত কাটাও
আসছে সময় ওসব ছাড়ো পাল্টে ফেলো বেশটাকে
নয়তো এবার পোলাও কেনো জুটবে না হাড়-টুকরাটাও

তন্ত্রমন্ত আওড়েছো খুব কাটছে এখন চোখের ঘোর
পেটের খিদে ডিপ-ফিরিজের মর্ম ভুলে ধর্মে ফের
আসছে ফিরে। এবার ঠিকই রাত পোহাতেই  নতুন ভোর-
এবার ঠিকই মজুর চাষা সত্যিকারের কর্মে ফের

হাত লাগাবে। ভুলবে না আর চাটুকারের বোল শুনে।
তোমরা যারা বলদ ভেবে মানুষ করো তুচ্ছ জ্ঞান
পাল্টে ফেলো মর্জি-মেজাজ, পাল্টে ফেলো নিজ গুণে
নয়তো ঠিকই খুব সকালে ভাঙবে সকল মধুর ধ্যান।

ভিন্ন পথে / সাইফ আলি

শেষ বেঞ্চেই মিলতো দেখা সব সময়
লেখাপড়ায় চলতো লড়াই পাশ নিয়ে-
কিন্তু যখন মিছিল হতো
সবার আগে সেই দাঁড়াতো
বাঁশ নিয়ে।

বেতের ভয়ে মাটির সাথে
চোখ দুটোকে আটতো সে,
কিন্তু সোনার ধান ফলাতে
ভিষণ রকম খাটতো সে,-
সেই ধানে যে চোখ দিয়েছে তার বেলা
একটুও সে ছাড় দিতো না, লেও ঠ্যালা…

সবাই কি আর কলম হাতে যুদ্ধে যায়
হয়তো বা কেউ ভিন্ন পথেই শুদ্ধে যায়।

ফেলায় দেবো / সাইফ আলি

: ফেলায় দেবো-
: ক্যান ফেলাবি! এইভাবে কেউ ফেলায়?

: ফেলাবো না? দিলাম ফেলায়…
: লক্ষী-সোনা, পিতলে-ঘুঘু আমার,
এই যে দুটো নতুন নতুন জামার
একটা দেবো তোকে;
এমন করে ফেলাসনে ভাই, বলবে কি বল লোকে?!

: যে যায় বলুক, শুনবো কেনো
লোকে আমার কি হয়,
ফেলায় দেবো;
ফেলায় দিতে আজ অবধি কাওকে করিনি ভয়…

: আচ্ছা ঠিক আছ, তার চে আগে কি ফেলাবি বল-
: ভাঙা একখান মালসা আছে, ফেলায় আসি চল।

: কি??!!!!
: ক’দিন আগে আরেকখানাও ফেলায়ে আইছি…

মেঘের দেশে মেললো চিলে ডানা / সাইফ আলি

মেঘের দেশে মেললো চিলে ডানা
পাতার ঘরে কিচির-মিচির ডাকলো পাখির ছানা
আকাশ শুধু ইচ্ছে হলো বাধলো না সীমানা
বাতাস পাড়ায় বাজলো ভীষন স্বাধীনতার গানা;
তানা নানা নানা…
পাতার বাঁশি যেমন তেমন পাতার বাঁশি বাজে
একটি রাখাল একলা বসে পুষলো বুকের ভাজে
মেঘলা দিনের সুর
একটুখানি বৃষ্টি হলো আরেকটু রোদ্দুর;
হঠাৎ তখন ঢাউশ ঘুড়ি মেললো বিশাল ডানা
বাজলো তাতে স্বধীনতার সেইতো প্রাচীন গানা-
তানা নানা নানা রে ভাই, তানা নানা নানা…