সুন্দর কাকে বলে / সাইফ আলি

সুন্দর কাকে বলে জানো?
সুন্দর শিশুটির মুখ, হাতের আঙুল; যখন সে শরীরের সমস্ত শক্তির জোরে ধরে রাখে মায়ের জগত…
কিংবা পিতার বুকে খুঁজে নেয় আদরের ভুঁই।
সুন্দর পাখিদের বাসা, পাতায় জড়ানো তার ছানার আওয়াজ,
প্রথম উড়তে শেখা, উড়ে যাওয়া প্রথম প্রহর; সুন্দর সবই।
সুন্দর মাছেদের চোখ, লেজ আর শরীরের যাবতীয় কৌশল সব-
সুন্দর ফুল, যখন ওলিরা আসে; ছুয়ে দেয়, সারাগায় পারাগের গুড়ো মাখে, তারপর অন্য কোনো ফুলে ঘুরে ঘুরে রেখে আসে জীবনের সুপ্ত রসদ-
সুন্দর যুবতীর বাহু, যুবকের উদোম শরীর; কর্ষিত জমিনের পাড়,
বোপনের সুখ, ব্যথা সব।
সুন্দর প্রেয়সীর চুল, বর্ষায় ভেজা; কদমের ঘ্রাণ-
সুন্দর কাকে বলে জানো?
মাঝে মাঝে মৃত্যুও হয়ে ওঠে তুখড় উপমা…

Advertisements

আহত / সাইফ আলি

আহত চোখ তার দেখেনা নীলাকাশ
যতই বড় হোক বুকের পাটাতন
আহত হাত তার ছোঁয় না শাদাকাশ
যতই অনাবিল হোক সে কাশবন।

আহত ঠোঁট তার বলেনা কথা আর
বুকের অন্দরে দ্বন্দ্ব সংঘাত,
আহত আঙ্গুলে ব্যথার সংসার
ফুলের পাপড়িও ছোঁয় না ভীরু হাত।

আসলে আহত সে মনের হীনতায়
তাইতো কেঁদে মরে অশেষ দীনতায়।

বেপোরোয়া প্রজাপতি / সাইফ আলি

যদি ডাকো
বৃষ্টিতো আসবেই
মেঘমালা হুড়মুড় লুটোপুটি খাবে
এমনটা ভেবে আছো বসে;
এদিকে তোমার সব ভিটেমাটি
সামান্য স্রোতে যায় ধ্বসে!

ওগো মহারানী…
দাসেরা তোমার রূপে বিগলিত হয়;
বেপোরোয়া প্রজাপতি কোনোদিন ফিরেও দেখেনা!

ভুল / সাইফ আলি

এ হাতে রঙ ছিলো না তোমায় দিতাম,
যা ছিলো পাংশু কেবল বিষন্নতা;
কি ভুলে বলতে গেলাম মনের কথা
কেনো যে ডুবতে গেলাম পুশকনিতে,
যদি তা সাগর হতো, তাও মানাতো।

কেমনতর প্রেমিক তুমি / সাইফ আলি

কেমনতর প্রেমিক তুমি পাতার বাঁশি বাজাও না
স্বপ্নগুলো সুতোয় গেঁথে প্রিয়ার জন্য সাজাও না
বাস্তবতার গুল্লি মেরে সাহস নিয়ে আগাও না;
অনুভূতির শিকড়টাকে একটুখানি জাগাও না!

খাম্বা তুমি, পাথর তুমি, স্বর্থটাকে খুব বোঝো;
শকুন চোখে কেবল শুধু আমার চোখে প্রেম খোঁজো!
নইলে সেদিন শপিংমলে হীরার ছোটো আংটিটা
কিনতে গেলাম, বললে চেকের হয়নি আজো ভাংতি টা!

ভালোবেসে ভুল করেছি তোমার মতো বেকারকে
সত্যি বলছি কালকে থেকে চিনবো না আর কে কার কে।

ঘুসখোর / সাইফ আলি

তোর ঘুষের চর্বি নিলামে উঠলে
বিনে পয়সায়ও কিনতাম না,
ঘুষখোর বিনে কোনো পরিচয়ে
কোনোদিন তোকে চিনতাম না।

অফিসার তুই লজ্জা চিনিস?
চোর নস বেটা জোচ্চর-
উল্টাপাল্টা ভূগোল পড়ায়ে
পরিচিতি মিঠে ঘুসখোর।

বারান্দা নির্বাক / সাইফ আলি

বারান্দা নির্বাক
গোলাবের টবে এক ফুটেছিলো জুঁই
গামছাটা ভেজা ছিলো
আর ছিলো মেঘেদের শাদাশিদে ভুঁই।
ঠান্ডা বাতাস ছিলো
দুটো কাক বসে ছিলো সামনের ছাদে
হঠাৎ কোকিল এলো কিছুক্ষন বাদে।
কাকের যে বাসা ছিলো
এটাওটা ঠাসা ছিলো
আর ছিলো বেওয়ারিশ কোকিলের ছাও;
পারো যদি এর সোজা সমাধান দাও।
ফল ছিলো জল ছিলো,
চেতনার তল ছিলো? না না না…
ব্যবসার খাতা খুলে
দু’লাইন দিই তুলে
হিসাবটা কষে ফের জানা না,
গোলাবের টবে কেনো ফুটেছিলো জুই;
বারান্দা জুড়ে কোনো শুন্যতা তুই?