নিঃসঙ্গ নির্জনে দার্শনিক / ফজলুল হক তুহিন

আমি এখন কঠিন ব্যধিগ্রস্তের মতন ভীষণ আতঙ্কগ্রস্থ, অস্তিত্বের প্রশ্নে
উদ্বিগ্ন! হতাশা, ব্যথা, হাহাকার, মনস্তাপ, উদ্বেগ আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে
শূন্যতায় অগ্নিকুন্ডে ফেলে দিচ্ছে! সাংঘাতিক অসহায়
আমি জীবনের এ প্রহরে।
এক অজানা ভীতির তরঙ্গে জীবন কেঁপে কেঁপে উঠছে ক্রমেই ধীরে,
সংগপনে।

সূক্ষ্ম এ ভীতির শেকড় খুঁজতে খুঁজতে অদৃশ্য অন্ধকারময় ও রহস্যময়
এক দৈত্যের সমুখে হয়েছি হাজির! যাকে কাছে পাওয়া যায় না
যার সঙ্গে এই
মুহূর্তে হয় না আলিঙ্গন; কিন্তু বুঝতে পারছি ঠিক সে আসবে আমার কাছেই
ভিক্ষে নিতে নয়, সরাসরি আমার অস্তিত্ব কেড়ে নিতে
আসবে সে কঠিন সময়।

মৃত্যু! সত্যিই ভয়াল মৃত্যু! আসবে সে দুয়ারে ছিনতাই করতে আমাকে!
কল্পনার দু চোখে দেখছি মৃত্যুর ওপারে রহস্যময় প্রতিটি সিঁড়ির প্রান্তর
এখানে নিজেকে সঙ্গীহারা কঠিন বিপদেপড়া মুসাফির মনে হচ্ছে
লক্ষ ডাকে
কাউকে যাচ্ছে না পাওয়া কিছুতেই- ভাবতেই এইসব
ঘেমে যাচ্ছে শরীর অন্তর।

নিঃসঙ্গ নির্জন এ দুপুরে যন্ত্রণার কাঁটাতারে আটকে যেয়ে এ বুকে রুদ্ধশ্বাস
আর তাই হে মানবী, চেতনার এই অবিশ্রাম যুদ্ধ থেকে বাঁচাতে, তোমাকে
নিয়ে আসি কল্পনায়- আমার পাশে উজ্জ্বল হয়ে উপস্থিত তুমি জীবন্ত সুবাস
অতঃপর আমাদের নিজস্ব জগতে ভালোবাসা মেখে আলোকিত করি বিশ্বটাকে।