আসিফা / সাইফ আলি

আসিফারা শান্তিবাদী হতে দেয় না
আসিফারা বারবার গভীর ঘুম থেকে টেনে তোলে
আসিফারা বারবার বদলার আগুন জ্বালায়
অথচ আমরা কত শান্তির গান শুনি
কপোত উড়াই;
শামুকের মতো খুব নিজেকে গুটিয়ে রাখি
পাছে কেউ বলে ফেলে- ‘যবনের জাত,
কাফেরের বুকে পিঠে ছুরি মেরে খায়!’

আমরা ঢাকের তালে নাচতে শিখেছি
আমরা উরুর ভাঁজ খুলতে শিখেছি;
আমরা শুনেছি বীর খালিদের ঘোড়ার আওয়াজ
সে ঘোড়ার পিঠে চড়ে দেখবার জাগেনি খায়েস!!

Advertisements

তুমি কি সুস্থ আছো / সাইফ আলি

প্রিয় দেশ
তোমার উত্তরোত্তর উন্নয়নের যাত্রাপথে
কখনোই কাটা হতে চাইনি
তোমাকে বিব্রত করতে চাওয়ার মধ্যে কোনো বাহাদুরী নেই
তবে কিনা মাঝে মাঝে কটুক্তি করে বসি…
তুমি কি সত্যিই বিব্রত হও?
ধর্ষীতার লাশ তোমার সবুজ আচলে
অধিকার আদায়ের লড়ায়ে আহত যুবক
অর্থনৈতিক মুক্তির নামে লুটের মহড়া কিংবা
সংস্কৃতির নেংটা বহিঃপ্রকাশ তোমাকে বিব্রত করে?
প্রিয় দেশ,
তোমার যদি রক্ত মাংশের চোখ থাকতো
তাহলে বর্ষা ছাড়া আর কোনো ঋতুই থাকতো না,
তোমার যদি প্রতিবাদ করার নিজস্ব ভাষা থাকতো
তবে শুধু আষাঢ়ের তুমুল গর্জণ ছাড়া আর কোনো শব্দের রেশ থাকতো না।
তোমার মনের কথা কবির কলমে যদি অক্ষর পেতো
চারিদিকে নজরুল জাগতোই …
আমাদের দুর্বল হাত তবু বার বার
তোমার নাড়িতে রাখি-
তুমি কি সুস্থ আছো?

পরগাছাদের রাজত্যে বৃষ্টি / সাইফ আলি

সত্যি বলতে, একটা অপারগতার অপরাধবোধ প্রচন্ড মেঘ তৈরি করছে
আমি জানি এই মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামলেও তাতে
ফলদ বৃক্ষরাজির কোন লাভ নেই
লাভ নেই কারণ, পরগাছাদের রাজত্যে এ বৃষ্টি
বরং হিতে বিপরীত হবে সন্দেহ নেই।

চাষাবাদ ভুলে গেছি,
লাগল না দিয়েই
আগাছা না উপড়েই চলছে সেচ;
আগাছা আর পরজীবির বাম্পার ফলনে অতিষ্ট কৃষক হৃদয়।

অপেক্ষা / সাইফ আলি

বেলাশেষে একবার এ উঠোনে রাখিও দু,পা
জোছনার দুধে দেবো ধুয়ে
শরীরের ঘাম চুয়ে
ধুলোবালি লেগে যদি থাকে
স্বচ্ছ কলের জলে করাবো গোসল।

বেলাশেষে কতো পাখি আসে এই নীড়ে
তুমিতো আসোনা,
আগের মতোন সেই খোপা খোলা আন্ধার রাত
ভালো কি বাসো না প্রিয়তম?
বাতাসের ভাজে ভাজে খুঁজে ফিরি পরিচিত ঘ্রাণ
মাঝে মাঝে বিচ্ছিরি ভেসে আসে লাশের খবর,
কবর না পেয়ে বুঝি কেউ কেউ বাগানেও মরে?
ডর হয়, বুক কাঁপে ভয়ে
তুমিওতো জানাওনা কিছু…

প্রশ্নবিদ্ধ স্বাধীনতা / সাইফ আলি

এমনকি পাখিদের ঘরেও
শেষমেশ স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
যার কোনো জবাব থাকেনা
মা পাখির মুখে।

এ কেমন স্বাধীনতা শকুনের চোখে-নোখে
খামচায়, ছিড়ে খায়; ফেলে যায় সবুুজের বুকে
নরম কোমল লাশ!

বিচারের ভার তবে তোমরাই নাও হে পুরুষ!
শেয়ালের ঘর থেকে বের করে আনো সেই
বিষাক্ত কিটের শরীর, নারীর শরীর যার চোখে
জন্মের পয়ার রচেনা;
লালসার লাল জীভ বের হয় সাপের মতোন।

চেতনার আসমানে মেঘেরাও ঘুরে ফিরে
হতাশার বৃষ্টি নামায়…

ফের তুমি ভেবে দেখো / সাইফ আলি

ফের তুমি ভেবে দেখো
ফের তুমি একবার ভেবে দেখো মা
প্রসব বেদনা শেষে দেখতে হবে কি কোনো ধর্ষক আচলে তোমার-
ফের তুমি একবার ভেবে দেখো মা;
তোমার মেয়ের লাশ সবুজের বুকে
এঁকে দেয় পতাকা তোমার।

আমাদের চেতনারা উলঙ্গ নর্তকী, নাচে;
টকশোর ফুটো দিয়ে চোখ রাখি হতাশার অসুস্থ বুকে।
ধুকে ধুকে শেষমেশ আবার নতুন কোনো ধর্ষক আসবে কি না-
একবার ভেবে দেখো মা।

যা দেখাও তাই দেখি / সাইফ আলি

যা দেখাও তাই দেখি
চোখ আছে তাই
যা শোনাও তাই শুনি
কানের বালাই

নিজ থেকে বিচারিবো
এতো জোর কই?
মগজ ঘাড়েতে ছিলো!
মাথা ভরা (মিডিয়ার) খই।

নিজেরে চিনিনে শুধু
ছোট ছোট লাগে,
মিলেও মেলেনা তাই
অভাগার ভাগে।

আমরা করেছি ছোট
নিজ সন্তান,
ভেবে-
‘লাটের ব্যাটার ধড়ে
দু’টো কোরে জান!’