শিকড় / সাইফ আলি

চোখ বুজে যে কাটছো শিকড়; শিকড়টা কার?
পড়বে যখন নিজেই ধ্বসে তখন তোমার
ফিরবে চেতন-
বিজয় কেতন থাকবে তখন ধুলায় লুটায়।

Advertisements

আপনারা আছেন বলেই / সাইফ আলি

আসুন
(এক টুকরো প্রশংসার রুটি ঝুলিয়ে দিয়ে)
আপনারা আছেন বলেই…

এই যে দেখুন, ভালো করে দেখুন এখানে;
আপনাদের বদান্যতায় বেঁচে আছে কোনোমতে!
(স্বপ্নেরা; মুমূর্ষু)

দেশের মঙ্গল! ওটা নিয়ে আপনারা ভাবেন,
আমাদের ছোটো মাথা-

সেকি উঠলেন?
চা না খেয়েই! (চারপায়ে) একটু দাঁড়ান;
এর চেয়ে বেশি আর পারবো না।

স্লামালেকুম স্যার (শুয়োরের বাচ্চা)
আবার আসবেন।

অন্ধকারে মিশে যাও / সাইফ আলি

অন্ধকারে মিশে যাও বন্ধু
তোমার কোনো ছায়া নেই
তোমাকে অনুসরণ করে আর কখনোই ছুঁতে পারবে না কেউ;
তোমাকে পেছন থেকে ডেকে বলতে পারবে না-
মাত্র দু’টো মিনিট…
অন্ধকারে মিশে যাও বন্ধু,
অন্ধকারে মিশে যাও…

তুমি হয়তো জানতেই পারবে না, তোমাকে উৎসর্গ করে কতোগুলো চায়ের কাপ টি এস সির মোড়ে ছুঁয়ে দেবে কম্পিত ঠোঁট,
কতোগুলো দৃষ্টি নিছক ভুলবসত ঘুরে আসবে অপরিচিত মুখের উপর থেকে; আর
কতগুলো গাঢ় দীর্ঘশ্বাস মিশে যাবে নিরবে বাতাসে…

মেধাবী ছেলে তুমি,
কতবার বললাম ওসব ছাড়ো; পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো চাকরি, আর কি চাও!?
তোমার উত্তর আমাকে স্বার্থপর বানিয়ে ছাড়তো, তুমি বলতে-
‘কলিম চাচার শেষ সম্বলটাও হারিয়ে গেলো,
সবাই দেখলো চেয়ে চেয়ে; একটা প্রতিবাদ অন্তত…
শকুনের মতো দৃষ্টি জানিস; কিছু একটা করতে হবে…
কিছু একটা করতে হবে…’
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতাম,
তোমার চোখের দিকে, নীল; অফুরন্তু নীলের মধ্যে সমুদ্রের ফেনার মত
চিক চিক করছে এক রাশ দ্রোহ; তারপর-
তারপর তোমাকে দেখলাম মিছিলে, ভয় হতো যদি…
এখন আর ওগুলো ভাবি না বন্ধু,
এখন তো আমিও মিছিলে যেতে পারি;
বুলেটের সামনে বুক চেতিয়ে বলতে পারি-
অন্ধকারে যাবো; এটা তো নতুন কিছু নয়!
সে আমার একান্ত ঘর ! বন্ধুর ঘর!!

পাল্টে ফেলুন ভাবনাগুলো / সাইফ আলি

পাল্টে ফেলুন ভাবনাগুলো
পথের ধুলো মাথায় করে আর কতোকাল মিথ্যে মায়ায়-
জীবনটা কি বিকেল বেলার আগুন মেঘে দৃশ্য আঁকা
কিংবা রাতে নীলাভ তারায় ঝুলতে থাকা
কাব্য শুধু!?
জীবন ধুধু মরূর মতো বললে সেটাও ভ্রান্ত হবে
ভ্রান্ত হবে তাজমহলের গহীনতর বিষন্নতা;
জীবন নদীর স্রোতের মতো পাহাড় চুয়ে সাগরমুখী
এবং মেঘের উড়াল জীবন, বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকা।
ভাবনা গুলো কাছাকাছি কিন্তু দুটো গল্প আছে-

অন্ধকারের সান্নিধ্য / সাইফ আলি

বাড়ন্ত কষ্টের ছায়াটাকে মুছে ফেলো; নেভাও প্রদীপ-
কে তুমি প্রদীপ জ্বেলে দেখে নিলে সবটুকু ব্যথা?
পানপাত্রে অধরের নিংড়ানো বীষ
নীল,
সমুদ্র অথৈই;
আকাশের চিরচেনা নীল নয়
লাশের মিছিল
আর শূন্য বাড়িটার পড়ে থাকা দরজার খিল।
সবকিছু বুঝে নিলে, নাও;
তবু প্রদীপ নেভাও।
মাঝে মাঝে অন্ধকার বন্ধু হয় ভালো
শুষে নেয় দুঃখ
আর কষ্টের সমস্ত দাগ;
অন্ধকারে ভয় তবু!?
কেনো?
বাড়ন্ত কষ্টের ছায়াটাকে আর বেশি বাড়তে দিও না,
নেভাও প্রদীপ।
ধারালো বটিতে রেখে ছিড়ে ফেলা
ইলিশের কানকোর শোক আর
বেওয়ারিশ লাশের গন্ধ
মিলেমিশে একাকার রাতের বাতাস
অন্ধকারে মোছা যায়,
মোছা যায় কান্নার সমস্ত দাগ।
আজ প্রদীপ জ্বেলোনা, শোনো মায়া;
অন্ধকার মুছে দিক বাড়ন্ত কষ্টের ছায়া।

সমস্ত সেজদার কসম / সাইফ আলি

আমাদের যতোকথা ধুলোপিঠে পরিত্যক্ত জমে আছে;
জমে আছে রাতের ঘোলাটে অন্ধকারে
রাজপথ ছুঁয়ে, মুখ গুঁজে রক্তের পুরোনো দাগে;
আমাদের যতোকথা আজো ফেলে গরম নিশ্বাস
কামারের হাপড়ের মতো; একদিন জ্বলে উঠে বলবেই-
এ আমার মৃত্যু নয়; পরাজয় নয়; ক্ষয় নয়; জয়।

তোমরা উল্লাস করো, সুখী হও; পান করো রক্তিম শরাব!
নাচো-গাও-ঢেকুর ওঠাও যত খুশি আজ;
তোমাদের সময় এখন।
তোমরা যা জীবনের সবকিছু ভাবো, সেই স্বার্থ
বুঝে নাও, ভরে নাও ঝুলি; তোমাদের উদরের তাপে
যত খুশি ঢালতে থাকো ঘিঁ; মিটবেনা ক্ষুধা।
ক্ষুধার্ত জিভের জল খসাও যতোটা পারো
তোমাদের সময় এখন; তোমাদের রাজ।

আমাদের অক্টোবর কিংবা মে’র শোক
জিয়োল মাছের মতো তড়পায় আজো,
ফিরে ফিরে আসে; আমরা স্মরণ করি
নিষিদ্ধ রাতের অবিরাম বুলেট কথন;
ঝুলে পড়া কপালের সমস্ত সেজদার কসম
ঘুমাতে দেয়না আজো, বার বার ডেকে তোলে-
আজান শুনছো? বাইরে আলোর রেখা; ওঠো…
বের হও, কতো আর ঘুমাবে বলোতো!?

যেখানেই দৃষ্টি রাখি / সাইফ আলি

যেখানেই দৃষ্টি রাখি পুড়ে যায়
ভেঙেচুড়ে খান খান হয়ে যায়, রোদেলা দুপুর
হঠাৎ বিমর্ষ মেঘে ঢেকে যায়;
অন্ধকারে ডুবে যায় সকালের মিঠে আলো।
যেখানেই চোখ রাখি, যেখানেই রাখি এই
স্বপ্নালু দৃষ্টি আমার-
কবুতর ঘর ছেড়ে পাড়ি দেয় বহুদূর বনে,
তছনছ হয়ে যায় ভিটেমাটি চিরায়ত শান্ত এ নদীর
হঠাৎ ভাঙনে!
ধানখেত পুড়ে যায়, ভেসে যায় হাওড়ের পরিচিত মাছ,
বানভাসা মানুষের কান্না ঘিরে রাখে নিমগ্ন রাত্রিকে, আর
কেমন বিষন্ন চাঁদ ঝুলে থাকে ঘন কালো মেঘের পাড়ায়!
যেখানেই দৃষ্টি রাখি পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের ছাই
বাতাসে উড়তে থাকে এখন কেবল,
হৃদয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে স্বার্থ-শকুনগুলো ঘুরতে থাকে
আমাদের পরিচিত লোকালয়ে, সহজ সরল
তবু আমাদের দৃষ্টির গোচরে
ওরা সব নির্ভয়ে সংসার পাতে!!

মর্তবা খুঁজি / সাইফ আলি

অতীতকে ভুলে যেতে বর্তমানের মিঠে খাঁস চুমু দরকার ছিলো-
পূনঃরায় মুখোমুখী দাঁড়িয়েছে ভাই আর ভাই,
দূর দেশে বসে আছে কঠিন দাবাড়ু এক ধ্যানে,
সন্দেহ জাগে-
আবেগ উথলে ওঠা ভায়েদের এইসব কুলাবে কি জ্ঞানে!

আমি এক অধম এখানে
কপচিয়ে লেবু-জ্ঞান একা,
তিতা করে ফেললাম বুঝি!!?
কি করবো বলো-
আমি শুধু রাজপথে পুতুলের মতো শত
শহীদের মর্তবা খুঁজি!!

শেয়াল / সাইফ আলি

অবশেষে সকলেই চিনে ফেলে আপোষের পথ
চিনতে পারেনা শুধু কতিপয় গাড়ল বিশেষ,
এইসব গাড়লেরা জীবনের মূল্য বোঝেনা
শুধু বোঝে- দুর্বল নুয়ে পড়া মনোভাব নিয়ে
বাঁচার চাইতে ভালো শহীদী সোপান!!

ক্ষমতার মসনদে বসতে চাওনি তুমি
অথচ চেয়েছো যেনো সব হয় তোমার কথায়!
ময়লা থালায় বেড়ে ভাত খাওয়া বেয়াকুফি তাই
ডাস্টবিনে বসে গেলে অবশেষে মহোদয়! বাহ!!
অথচ থালাটা যদি ধুয়ে নিতে তাকওয়ার জলে!

হয়তো আমার ভুল, ঠিকমতো করিনি খেয়াল-
রাতের আঁধারে যারা বের হয় নিভৃতে
জীবিকার তালাশ লাগায়;
তারা বড় ধূর্ত শেয়াল।

তিস্তার জল / সাইফ আলি

তিস্তার জল পাবো
সেই জলে করবো গোসল
কাটবো সাঁতার,
চুক্তি কি হয়ে গেছে;
জল খসলো না তবু
ভারত মাতার!!?